শুকনো মৌসুমে পানি সংগ্রহে যেতে হয় মাইল খানেক দূরে। সেখানে পাহাড় থেকে নেমে আসা ছড়ার ময়লাযুক্ত ঘোলা পানি, কিংবা টিলার নিচে তিন চাকের (চাক্কি) তৈরি অগভীর কূপের ময়লা পানিই তাদের একমাত্র ভরসা। এমন চিত্রের দেখা মিলবে সীমান্তবর্তী নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার পাহাড়ি গ্রামগুলোতে।
পাহাড় ও টিলা অধ্যুষিত এই উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দুর্গাপুর সদর ইউনিয়ন ও কুল্লাগড়া ইউনিয়ন ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা পাহাড়ি অঞ্চল।
এখানকার বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি মিলিয়ে হাজারো মানুষের বসবাস। কিন্তু এর মাঝে অনেকেই সুপেয় পানির তীব্র সংকটে ভুগছে। বিশেষ করে নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে এসব এলাকায় অগভীর নলকূপে পানি মেলে না। তখন তাদের ভরসা হয়ে দাঁড়ায় ছড়া ও গর্তের জমা পানি।
আরো পড়ুন
সংস্কারের পরেও উঁচু-নিচু গর্তে ভরা সড়ক
জানা গেছে, দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের গোপালপুর, ভবানীপুর, ফান্দা, বারমারী, ভরতপুর, গাজিকোনাসহ ২০-২৫টি পাহাড়ি গ্রামে শুকনো মৌসুমে সাধারণ নলকূপ দিয়ে পানি আসে না। পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ২০-৫০ ফুট নিচে পাথর থাকায় নলকূপ বা বৈদ্যুতিক পাম্প স্থাপন বেশ ব্যয়বহুল। স্থানীয়ভাবে রিং টিউবওয়েল বসানো হলেও শুকনো মৌসুমে আয়রনের কারণে তাও পানের অযোগ্য হয়ে যায়। বাধ্য হয়ে খেতেও হচ্ছে সেই পানি।
এতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে স্থানীয়রা।
রবিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সীমান্তবর্তী ভারত ঘেঁষা গ্রাম বাদামবাড়ী। সেখানে দিন আনে দিন খায় এমন হতদরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। তাদের পক্ষে গভীর নলকূপ বসানো কিংবা গভীর কুয়া তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই বাড়ি থেকে অনেক দূরের পাহাড়ি ছড়া থেকে পানি নিতে যান তাদের বাড়ির নারীরা।
সেই পানি দিয়েই করতে হচ্ছে রান্না-বান্না, গোসলসহ সব ধরনের কাজ।
আরো পড়ুন
ছেলের অপরাধের শাস্তি বাবার ওপর, হত্যা চেষ্টার পর মেডিক্যালে ভর্তি
গ্রামগুলোতে গিয়ে বিশুদ্ধ পানির অভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে পরিবারগুলো জানায়, তাদের পানির কষ্ট করতে হচ্ছে। পাহাড়ি ছড়ার পানি আর গর্তে জমা ঘোলা পানিই এখন খেতে হচ্ছে। তা-ও এক-দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। সরকারিভাবেও কোনো রকম সহযোগিতা পাচ্ছে না তারা।
দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের বাদাম বাড়ি গ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর নারী লেমিতা তাজেল বলেন, পানি সংগ্রহের কষ্ট তার প্রায় ৪৮ বছরের। দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে পাহাড়ের নিচে গর্ত করে দিনে কয়েকবার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বয়সের ভারে শরীর সায় না দিলেও দিনে কয়েকবার পাহাড় বেয়ে উঠানামা নামতে হয়।
গোপালপুর গ্রামের তৃষ্ণা নকরেক বলেন, 'আমরা দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ছড়ার পানি ব্যবহার করছি। ওই পানি ছাঁকন করে তা দিয়েই রান্না-বান্না, খাবারসহ সব চলে। পানির জন্য খুবই কষ্ট করতে হচ্ছে।'
আরো পড়ুন
‘ক্ষমা চান’, সুশান্তের মৃত্যু মামলায় রিয়ার পক্ষে বললেন দিয়া মির্জা
বাংলাদেশ জাতীয় হাজংয়ের সংগঠন সভাপতি পল্টন হাজং বলেন, এই ব্যাপারে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাজ হয়নি। ফলে অস্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার করার ফলে তারা বিভিন্ন স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. কাজী আমান উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, 'ইতিমধ্যে ওই গ্রামগুলোর বিষয়ে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন। পাহাড়ি এলাকায় পানিসংকট নিরসনে আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের চেষ্টা করা হচ্ছে।'
আরো পড়ুন
রিং পরানোর পর তামিমের অবস্থা অনুকূলে, বলছেন হাসপাতালের ডিরেক্টর