ঈদের ছুটিতে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি
শেয়ার
ঈদের ছুটিতে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড়
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে পর্যটকের ভিড়

মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখা উপজেলার প্রকৃতিকন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, চা-বাগান, হাকালুকি হাওর আর হাকালুকি হাওরপারের হাল্লা পাখিবাড়ি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। সারা বছরই এ উপজেলার পর্যটন স্পটগুলোতে কমবেশি পর্যটকের আনাগোনা থাকে। আর বড় কোনো উৎসবের ছুটি হলে তো কথাই নেই! এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি মিলেছে।

দীর্ঘ ছুটিতে পর্যটকরা ছুটে গিয়েছেন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, চা-বাগান, হাকালুকি হাওর আর হাকালুকি হাওরপারের হাল্লা পাখিবাড়িতে। তবে এবার ঈদের উৎসবে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে প্রকৃতিকন্যা মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতে। ফলে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও জলপ্রপাত এলাকার পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, ইজারাদারসহ সবার মুখে ফিরেছে তৃপ্তির হাসি।

আরো পড়ুন
সেচ দেওয়াকে কেন্দ্র করে চা বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

সেচ দেওয়াকে কেন্দ্র করে চা বিক্রেতাকে পিটিয়ে হত্যা, আটক ২

 

সরেজমিনে আজ বুধবার (২ এপ্রিল) বিকেলে দেখা যায়, মৌলভীবাজার-বড়লেখা আঞ্চলিক মহাসড়কের কাঁঠালতলী বাজার থেকে মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত পর্যটনকেন্দ্রের সড়কটি ভীষণ ব্যস্ত।

পর্যটকরা বাস, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট কার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান ও মোটরসাইকেলে হৈ-হুল্লোড় করে ছুটে চলেছেন প্রকৃতিকন্যা মাধবকুণ্ডের দিকে। জলপ্রপাতের প্রবেশ ফটকের সামনের টিকিট কাউন্টারে পর্যটকের উপচে পড়া ভিড় ছিল। বিভিন্ন পণ্যের দোকান, খাবার হোটেলগুলোতেও পর্যটকের ভিড় দেখা গেছে। হৈ-হুল্লোড়ে মেতে উঠেছেন পর্যটকরা।
কেউ কেউ জলপ্রপাতের ঝরনার পানিতে গোসল করছেন। কেউ বা ছবি তুলছেন প্রিয়জনের সাথে। জলপ্রপাতের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কেউ কেউ সেলফি তুলছেন। স্থানীয় আলোকচিত্রীরাও পর্যটকদের ছবি তুলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।  

বরিশাল বিভাগের ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে বেড়াতে আসেন শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, এই প্রথম মাধকুণ্ডে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুবই সুন্দর। অন্য এলাকার চেয়ে সিলেট ও মৌলভীবাজারে অনেক সুন্দর সুন্দর পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে।

আরো পড়ুন
ধানক্ষেতে ছিন্নভিন্ন দেহ, স্বজনের দাবি নিখোঁজ জব্বারের লাশ

ধানক্ষেতে ছিন্নভিন্ন দেহ, স্বজনের দাবি নিখোঁজ জব্বারের লাশ

 

মাধবকুণ্ড জলপ্রপাতের প্রধান ফটকের কাউন্টারে থাকা জলপ্রপাত ইজারাদার কর্তৃপক্ষের কর্মচারী সাজু আহমদ বলেন, এবার পর্যটক কিছুটা কম। ঈদের দিন ২ হাজার ৫০০ জন, পরদিন মঙ্গলবার আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ জন আর বুধবার ২ হাজারের একটু বেশি পর্যটক হতে পারেন। তবে ছুটি আরও আছে। তাই পর্যটক সমাগম বাড়বে বলে আশা করছি।

বন বিভাগের বড়লেখা রেঞ্জের সহযোগী রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিন্দ্র কুমার সিংহ বলেন, পর্যটকরা নির্বিঘ্নে মাধবকুণ্ডে আনন্দ উপভোগ করছেন। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য পর্যটন পুলিশ কাজ করছে। পাশাপাশি বন বিভাগ ও ইজারাদার পক্ষের লোকজন সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কুমিল্লায় নিখোঁজ দুই শিশুর লাশ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার

কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি
শেয়ার
কুমিল্লায় নিখোঁজ দুই শিশুর লাশ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

কুমিল্লার হোমনায় তিতাস নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ মাহবুব (৯) ও মারিয়া আক্তার (১১) নামের দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গাঙ্গুলবাড়ি এলাকার তিতাস নদীর ঘাটের পাশে থাকা ড্রেজার ও ভলগেটের পাশে কচুরি পানার নীচ থেকে নিখোঁজ মারিয়ার মরদেহ ও একই গ্রামের চরেরগাঁও এলাকা থেকে মাহবুবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলো, নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার আলী নেওয়াজের মেয়ে মারিয়া আক্তার (১১) এবং গাজীপুর টঙ্গীর এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন (৯)। 

মাহবুব গত শনিবার হোমনার শ্রীমদ্দী গ্রামে তার নানার বাড়ি ও মারিয়া আক্তার ঈদের দুইদিন পর ফুফাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে।

স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানায়, মাহবুব শনিবার দিন নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরা ভেবেছিলেন মাহবুব হারিয়ে গেছে। সকালে মাটি কাটার লোক খালি নৌকা নিয়ে মাটি আনতে গেলে কচুরি পানার নিচে মাহবুবকে দেখতে পেয়ে তার মরদেহ ওপরে তোলেন।

অপরদিকে, একইদিন বিকেল সাড়ে ৪ টার দিকে মারিয়া আক্তারের মরদেহ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।

মারিয়ার পরিবার নারায়নগঞ্জে থাকেন। তার মরদেহ উদ্ধারের পর হোমনা উপজেলার হুজুরকান্দিতে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার দুপুরে মারিরায় ফুফাত বোনের তিতাস নদীতে সঙ্গে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়। পরে বিকালে চাঁদপুরের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান করেও মারিয়াকে উদ্ধার করা যায়নি।

হোমনা ফায়ার সার্ভিসের হাবিলদার দিদারুল আলম বলেন, শনিবার খবর পেয়ে আমরা নদীতে খোঁজাখুঁজি করেছি। এরপর চাঁদপুর থেকে ডুবুরি দল এনে মারিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ডুবুরি দল চেষ্টা করে পায়নি। আমরা আশপাশে ৩ কিলোমিটার এলাকায় নৌকা দিয়ে খোঁজাখুঁজি করি, এক পর্যায়ে ঘাটের পাশে থাকা ড্রেজার ও ভলগেট গুলোর এখানে কচুরিপানা পাশে মারিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়।

মাটি কাটার নৌকার আহম্মেদ নবী বলেন, সকালে আমরা খালি নৌকা নিয়ে মাটি ভরাট করতে যাচ্ছিলাম।

চরেরগাওয়ের কাছে গেলে সকাল পৌনে ৭ টার দিকে লোকজন মাহবুবের মরদেহ দেখতে পেয়ে আমাদের জানালে আমরা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, শনিবার দুই শিশু নিখোঁজ খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে গিয়েছিলেন। পরিবারে কাছ থেকে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিশু দুটির মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

আনোয়ারায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, আনােয়ারা
নিজস্ব সংবাদদাতা, আনােয়ারা
শেয়ার
আনোয়ারায় পুকুরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পুকুরের পানিতে ডুবে তাওহীদুল ইসলাম নামের দেড় বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের পুজিলির বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তাওহীদ স্থানীয় মো. জসিমের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বিকেলে পরিবারের অজান্তেই পুকুরে পড়ে যায় তাওহীদুল ইসলাম।

পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে পুকুর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় তাকে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘হাসপাতালে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়, ডাক্তার তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।’

মন্তব্য

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, ২ রেস্তোরাঁকে জরিমানা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
শেয়ার
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি, ২ রেস্তোরাঁকে জরিমানা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজার এলাকায় বিলাসবহুল দুটি রেস্তোরাঁয় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না ও পরিবেশন করার অভিযোগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে আদালতটি পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।

জানা গেছে, মহাড়সকের চৌদ্দগ্রামের মিয়া বাজারের হোটেল টাইম স্কয়ার ও তাজমহল রেস্তোরাঁয় বিলাসবহুল যাত্রীবাহী বাস যাত্রাবিরতি করে। রেস্তোরাঁগুলোতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না, ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণ করা এবং কোনো প্রকার লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে দীর্ঘদিন যাবৎ।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত রবিবার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করেন। এতে করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে হোটেল তাজমহলকে ১ লাখ টাকা ও টাইম স্কয়ার হোটেলকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরো পড়ুন
জায়গা খালি করতে দিনমজুরের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

জায়গা খালি করতে দিনমজুরের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে

 

ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা বলেন, এ হোটেলগুলোতে ঢাকা-চট্টগ্রাম যাতায়াতকারী বিলাসবহুল যাত্রীবাহী গাড়ি যাত্রাবিরতি করে। অথচ হোটেলগুলোতে খাবার প্রস্তুতের স্থান অপরিচ্ছন্ন পাওয়া যায়, ফ্রিজে বাসি খাবার সংরক্ষণ করা হয় ও হোটেলের নিজস্ব কারখানায় দই, রসমালাইসহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন তৈরি করা হলেও এই ধরনের খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের কোনো লাইসেন্স তাদের নেই।

প্রস্তুতকৃত এসব খাদ্যদ্রব্যের গায়ে উৎপাদন এবং মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পাওয়া যায়নি।

এসব বিষয়ে প্রমাণ পাওয়াতে ভোক্তা অধিকার আইনে দুই হোটেলকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়

মন্তব্য

জায়গা খালি করতে দিনমজুরের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর প্রতিনিধি
শেয়ার
জায়গা খালি করতে দিনমজুরের বসতবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে
ছবি : কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে জায়গা খালি করতে সামেলা বেগম (৪৫) নামের এক হতদরিদ্রের ঘর পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। ওই আওয়ামী লীগ নেতার নাম সুভাষ সাহা। তিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের সাতৈর বাজারসংলগ্ন বড়নগর গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।

এ বিষয়ে আজ রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে হতদরিদ্র সামেলা বেগম বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষ সাহা (৬৮) ও তার ম্যানেজার গোবিন্দ্রের (৫৫) নাম উল্লেখ করে আরো ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

ভুক্তভোগী সামেলা বেগম (৪৫) উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শেলাহাটি গ্রামে রেলের জায়গায় বসবাস করেন এবং সাতৈর বাজারের একটি বেসরকারি ব্যাংকে রান্নার কাজ করেন বলে জানা গেছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সামেলা বেগম স্বামী সন্তান নিয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর শেলাহাটি গ্রামের রেলওয়ের একটি জমিতে টিনের একটি ছাপরা ঘর তুলে বসবাস করে আসছিলেন। পাশেই আওয়ামী লীগ নেতা সুভাষ সাহার জমি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জমি রয়েছে।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, হতদরিদ্র সামেলা বেগম যেখানে বসত করেন সেই জমি পাওয়ার জন্য সুভাষ সাহা মরিয়া হয়ে উঠেছেন। বেশ কিছুদিন ধরে সুভাষ সাহা ও তার লোকজন বিভিন্ন সময় বসতবাড়ি ভেঙে দেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলেন। শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে তার বসতঘরটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি গ্রামে ঘোষপুর মৌজায় আওয়ামী লীগ নেতা সুবাষ সাহার নিজস্ব ও পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লীজ নেওয়া জমি রয়েছে।

সেই জমির দক্ষিণ পাশের চন্দনা-বারাশিয়া নদের পাড়ে সুবাষ সাহার কাছ থেকে কিনে ৬-৭টি পরিবার ঘর তুলে বসবাস করছে। আর উত্তরে রেলওয়ের জায়গায় সামেলা বেগমসহ তিনটি পরিবার বসবাস করেন। সবমিলে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রেলওয়ের জমিতে ভূমিহীনসহ ওই এলাকায় ২৯-৩৫টি পরিবার বসবাস করছে।

ভুক্তভোগী সামেলা বেগম বলেন, আমি তো বাড়ি দুইদিন যাবত রান্না করি না, তাহলে আগুন লাগবে কীভাবে? তারা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। 

তিনি বলেন, সুবাষ সাহার জায়গার সামনে আমরা রেলের জায়গা থাকি।

আমি একটি ব্যাংকে পাহারা দেওয়ার কাজ করার জন্য বাড়ি থেকে চলে আসি। রাতে মানুষের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাড়ি আগুন লেগেছে। 

তিনি আরো বলেন, ঈদের সময় মানুষের কাছ থেকে আনা যাকাতের টাকা, মানুষের কাছ থেকে চেয়ে আনা চাল সব পুড়ে গেছে। আগুনে ঘরে থাকা যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এখন আমি সর্ব হারিয়ে পথে বসে গেলাম।

রেলের জায়গায় বসবাসকারী সামেলা বেগমের মেয়ে সেলিনা বেগম বলেন, সুভাষ সাহার লোকজন বিভিন্ন সময় এসে বসত বাড়ি ভেঙে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল। তারা জায়গা খালি করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। হঠাৎ আগুনে আমাদের ঘর পুড়ে গেছে।

একই গ্রামের বাসিন্দা পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় বসবাসকারী হাবিল বিশ্বাস বলেন, সুভাষ সাহার লোকজন বিভিন্ন সময় তার ঘর বাড়ি ভেঙে নেওয়ার হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।

এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুভাষ সাহা বলেন, আমার ব্যক্তিগত জায়গার সামনে আমার লিজ নেওয়া রেলের জায়গায় ওই মহিলা থাকে। তিনি স্থানীয় জিয়া মেম্বারের ভাইয়ের স্ত্রী। ওই মেম্বারের মাধ্যমে কিছু টাকা দিয়ে আমি তাকে (সামেলা বেগম) ঘর করার জন্য সহযোগিতা করেছি। তিনি সেখানে ঘর উঠিয়ে বসবাস করেন। 

দিনমজুর সামেলা বেগমের বাড়িতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সুবাষ সাহা বলেন, আমি টাকা দিয়ে তাকে সহযোগিতা করলাম, তাহলে আমি ঘর পুড়াবো কেন? আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য কিছু লোকজন ঘর পুড়িয়ে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমি ওসি সাহেবকে বলেছি, আসল ঘটনা বের করার জন্য।

ঘোষপুর ইউনিয়নের শেলাহাটি সাবেক ইউপি সদস্য খরিলুর রহমান বলেন, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত লোকজন নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভাতে সহায়তা করি। সামেলা বেগম কারো ব্যক্তিগত জায়গায় নয়, রেলের মালিকানাধীন জায়গায় বসবাস করে আসছিলেন।

অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, বাড়ি পোড়ানোর বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ