‘সমৃদ্ধ আগামীর জন্য সচেতনভাবে জাকাত দিন-দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখুন’ স্লোগন সামনে রেখে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাকাত ফেয়ার। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাকাত’। আগামী শনিবার রাজধানীর গুলশানে এই অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেটএম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবছরের মতো এবারও দুই দিনব্যাপী জাকাত ফেয়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। আগামী ২২-২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে এই জাকাত মেলা অনুষ্ঠিত হবে। জাকাত ফেয়ার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্যের ম্যাক্রোইকোনমিক্স-র সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামসহ আরো অনেকে।
এ সময় এক লাখ কোটি টাকার জাকাত উত্তোলন করা গেলে দেশের ১৩% মানুষের ক্ষুধা নিবারণ সম্ভব বলে জানায় সিজেডএম। সংস্থাটি জানায়, জাকাত হচ্ছে একটি আন্দোলন, যা দিয়ে দেশ থেকে পুরোপুরি দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব, আর এটি করতে গেলে দরকার সিজেডএম-এর মতো আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনার এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে সিজেডএম।
সংবাদ সম্মেলনে জাকাত ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আমরা মনে করি, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা রূপায়ণে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সঠিকভাবে জাকাত প্রদান মানে শুধু অভাবীদের সহায়তা করা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকার জাকাত আদায় ও বিতরণ সম্ভব।
ইউএনডিপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। পাশাপাশি এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। প্রায় ১৩% মানুষ পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যান।
যদি এক লাখ কোটি টাকার জাকাত সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতো। তাহলে বাংলাদেশে কেউ অভুক্ত থাকত না। এক লাখ কোটি টাকা যদি এক কোটি ৮৭ লাখ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষের মাঝে বণ্টন করা হয়, তাহলে জনপ্রতি ৫৩ হাজার ৪৭৫ টাকা করে পড়ে, যা একটি মানুষের বছরব্যাপী খাদ্য জোগানের জন্য যথেষ্ট।
বাংলাদেশে সিজেডএমের মতো প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনায় এক হাজার কোটি টাকার জাকাত বিতরণ করলে ৫৩ লাখ মানুষের মৌলিক চাহিদা, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।
বক্তারা জানান, এবারের প্রতিপাদ্য ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাকাত’ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাকাত দান নয়, এটি ধনীদের সম্পদে দরিদ্রের অধিকার। জাকাত একটি সামাজিক আন্দোলন, বৈষম্য দূর করে একটি মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠন করতে সাহায্য করে। এই আয়োজনে, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, ‘সমৃদ্ধ আগামীর জন্য সচেতনভাবে জাকাত দিন দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখুন।
এবারের জাকাত ফেয়ারে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে রহিম-আফরোজ, খাদিম সিরামিকস, কোহিনুর কেমিক্যাল, রহিম চিল, সাউথ ব্রিজ, হজ ফিন্যান্স কম্পানি, আইডিএলসি ইসলামিক, এসএমসিসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফেয়ারে বিভিন্ন আর্থিক ও জাকাত প্রতিষ্ঠানের স্টলসহ জাকাত কনসালটেশন ডেস্ক ও বিভিন্ন ইসলামিক বইয়ের স্টল থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন— সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিষদের কনভেনার এবং রহিম-আফরোজ গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মুনওয়ার মিসবাহ মঈন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া ও সিজেডএম-এর হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, ওয়ার্ল্ড জাকাত অ্যান্ড ওয়াকফ ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোহাম্মদ গাজালি নূর, লে জে (অব.) এম নুরুদ্দীন খান, উদ্বোধনী সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।