নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ত্রয়োদশ জাকাত ফেয়ার শুরু শনিবার

  • এক লাখ কোটি টাকার যাকাতে ১৩% মানুষের ক্ষুধা নিবারণ সম্ভব
  • ৪ কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন : ইউএনডিপি
  • এক লাখ কোটি টাকা যাকাত সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে কেউ অভুক্ত থাকবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ত্রয়োদশ জাকাত ফেয়ার শুরু শনিবার
সংগৃহীত ছবি

‘সমৃদ্ধ আগামীর জন্য সচেতনভাবে জাকাত দিন-দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখুন’ স্লোগন সামনে রেখে শুরু হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাকাত ফেয়ার। এবারের প্রতিপাদ্য ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে  জাকাত’। আগামী শনিবার রাজধানীর গুলশানে এই অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দিন।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্ট (সিজেটএম) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

প্রতিবছরের মতো এবারও দুই দিনব্যাপী জাকাত ফেয়ার আয়োজন করতে যাচ্ছে সংস্থাটি। আগামী ২২-২৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর তেজগাঁওয়ের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে এই জাকাত মেলা অনুষ্ঠিত হবে। জাকাত ফেয়ার সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ, ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, দ্য ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার, যুক্তরাজ্যের ম্যাক্রোইকোনমিক্স-র সহযোগী অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ইউসুফ মাহবুবুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

এ সময় এক লাখ কোটি টাকার জাকাত উত্তোলন করা গেলে দেশের ১৩% মানুষের ক্ষুধা নিবারণ সম্ভব বলে জানায় সিজেডএম। সংস্থাটি জানায়, জাকাত হচ্ছে একটি আন্দোলন, যা দিয়ে দেশ থেকে পুরোপুরি দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্ভব, আর এটি করতে গেলে দরকার সিজেডএম-এর মতো আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনার এই আন্দোলন ছড়িয়ে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে সিজেডএম।

সংবাদ সম্মেলনে জাকাত ফেয়ার অর্গানাইজিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, আমরা মনে করি, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা রূপায়ণে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

 

তিনি বলেন, সঠিকভাবে জাকাত প্রদান মানে শুধু অভাবীদের সহায়তা করা নয়, বরং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা, যাতে তারা ভবিষ্যতে দাতা হতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে এক লাখ কোটি টাকার জাকাত আদায় ও বিতরণ সম্ভব। 

ইউএনডিপির সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি ১৭ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছেন। পাশাপাশি এক কোটি ৮৭ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। প্রায় ১৩% মানুষ পেটে ক্ষুধা নিয়ে ঘুমাতে যান।

 

যদি এক লাখ কোটি টাকার জাকাত সঠিকভাবে ব্যবহৃত হতো। তাহলে বাংলাদেশে কেউ অভুক্ত থাকত না। এক লাখ কোটি টাকা যদি এক কোটি ৮৭ লাখ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীন মানুষের মাঝে বণ্টন করা হয়, তাহলে জনপ্রতি ৫৩ হাজার ৪৭৫ টাকা করে পড়ে, যা একটি মানুষের বছরব্যাপী খাদ্য জোগানের জন্য যথেষ্ট। 

বাংলাদেশে সিজেডএমের মতো প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থাপনায় এক হাজার কোটি টাকার জাকাত বিতরণ করলে ৫৩ লাখ মানুষের মৌলিক চাহিদা, খাদ্য, বস্ত্র,  বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বক্তারা জানান, এবারের প্রতিপাদ্য ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জাকাত’ ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশের জনগণের মধ্যে একটি বৈষম্যহীন, দারিদ্র্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের যে স্বপ্ন তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে জাকাত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জাকাত দান নয়, এটি ধনীদের সম্পদে দরিদ্রের অধিকার। জাকাত একটি সামাজিক আন্দোলন, বৈষম্য দূর করে একটি মর্যাদাপূর্ণ সমাজ গঠন করতে সাহায্য করে। এই আয়োজনে, আমরা সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি, ‘সমৃদ্ধ আগামীর জন্য সচেতনভাবে জাকাত দিন দারিদ্র্য হ্রাস, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানে ভূমিকা রাখুন।

এবারের জাকাত ফেয়ারে স্পন্সর হিসেবে রয়েছে রহিম-আফরোজ, খাদিম সিরামিকস, কোহিনুর কেমিক্যাল, রহিম চিল, সাউথ ব্রিজ, হজ ফিন্যান্স কম্পানি, আইডিএলসি ইসলামিক, এসএমসিসহ দেশের স্বনামধন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ফেয়ারে বিভিন্ন আর্থিক ও জাকাত প্রতিষ্ঠানের স্টলসহ জাকাত কনসালটেশন ডেস্ক ও বিভিন্ন ইসলামিক বইয়ের স্টল থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন— সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টের নির্বাহী পরিষদের কনভেনার এবং রহিম-আফরোজ গ্রুপের গ্রুপ পরিচালক মুনওয়ার মিসবাহ মঈন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া ও সিজেডএম-এর হেড অব করপোরেট অ্যাফেয়ার্স কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ জাকারিয়া হোসেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, ওয়ার্ল্ড জাকাত অ্যান্ড ওয়াকফ ফোরামের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মোহাম্মদ গাজালি নূর, লে জে (অব.) এম নুরুদ্দীন খান, উদ্বোধনী সেমিনারে সভাপতিত্ব করবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
মহান স্বাধীনতা দিবস আজ
ফাইল ছবি

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে বর্বর সামরিক অভিযান চালিয়ে ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের নির্মমভাবে হত্যায় মেতে ওঠে। গ্রেপ্তার করে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। প্রথমে নিজের, পরে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন মেজর জিয়াউর রহমান (পরে রাষ্ট্রপতি)।

পাকিস্তানি বাহিনীর কাপুরুষোচিত আক্রমণ ও গণহত্যার পর দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া বাঙালিদের অভিন্ন অভিপ্রায় হয়ে ওঠে স্বাধীনতা অর্জন। সশস্ত্র লড়াই ও প্রতিরোধে আগুয়ান হয় এ দেশের মুক্তিকামী জনতা। শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। 

৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় আসে।

বিশ্বের বুকে জন্ম নেয় এক নতুন মানচিত্র—স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে শোষিত ও বঞ্চিত বাঙালিরা পায় পরম আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার স্বাদ।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘স্বাধীনতার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি পরমতসহিষ্ণুতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসন সুসংহত করতে হবে।

রাষ্ট্র ও সমাজের সব ক্ষেত্রে সাম্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্ম আমাদের স্বাধীনতার অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণে আবারও বুকের তাজা রক্ত দিয়ে গেছে। নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, সুখী, সুন্দর ও উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা আমাদের পবিত্র কর্তব্য।’

দেশে ও প্রবাসে বসবাসকারী সব বাংলাদেশি নাগরিককে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘গত ১৬ বছর দেশের মানুষ এই স্বাধীনতার সুফল ভোগ করতে পারেনি। স্বৈরাচারী শাসক জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের ঘাড়ে চেপে বসে তাদের স্বাধীনতা ও মৌলিক সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।

ছাত্র-শ্রমিক-জনতার সফল গণ-অভ্যুত্থান দেশের মানুষকে স্বৈরাচারের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত করেছে। অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে আরো উন্নত ও শক্তিশালী করতে এবং স্বাধীনতার পূর্ণ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর।’

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন ঢাকাসহ সারা দেশে প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

আজ সরকারি ছুটির দিন। সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে এবং ঢাকা শহরে সহজে দৃশ্যমান ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে।

দিবসের তাত্পর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র, নিবন্ধ ও সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াগুলো মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করছে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের বাইরেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আজ নানা কর্মসূচি পালন করবে।

প্রতীকী ব্ল্যাক-আউটে গণহত্যা দিবস স্মরণ
এক মিনিট আলো নিভিয়ে ২৫ মার্চের গণহত্যা ও গণহত্যার শিকার শহীদদের স্মরণ করল জাতি। গণহত্যা দিবস উপলক্ষ গতকাল রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিট প্রতীকী ‘ব্ল্যাক-আউট’ পালন করা হয়েছে দেশজুড়ে। ঘড়িতে সাড়ে ১০টা বাজতেই বিভিন্ন সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন ও স্থাপনাগুলোতে আলো নিভিয়ে দেওয়া হয়। তবে কেপিআই এবং জরুরি স্থাপনা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত ছিল। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ কর্মসূচি পালন করেছে।

এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাক-আউট ছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি নানা সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি পালন করেছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে গণহত্যা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠান ও সেমিনার। 

মন্তব্য

স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রত্যেক সদস্য প্রস্তুত রয়েছে : সেনাপ্রধান

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে প্রত্যেক সদস্য প্রস্তুত রয়েছে : সেনাপ্রধান
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। ছবি : সংগৃহীত

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াই যেদিন শুরু হয়েছিল, সেই স্মৃতিময় দিন ২৬ মার্চ। এই দিন জাতির জন্য গৌরবময় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।

এই মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বাণীতে তিনি বলেছেন, ‘আজ ২৬ মার্চ (২০২৫) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস।

আমাদের জাতীয় জীবনে এই দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ১৯৭১ সালের এই দিনে এ দেশের মুক্তিকামী আপামর জনতা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্ত করার লক্ষ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের চূড়ান্ত বিজয় এবং বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্থান করে নেয় আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। এ কারণেই ‘২৬ মার্চ’ আমাদের জাতীয় জীবনে গৌরব ও অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবে।
স্বাধীনতা দিবসের এই শুভলগ্নে আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব সদস্যকে জানাচ্ছি আমার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও প্রাণঢালা অভিনন্দন।’

‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেসব অকুতোভয় বীর শহীদকে, যাদের সুমহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বাধীনতা। আমি আরো স্মরণ করছি, সেনাবাহিনীর সব শহীদকে, যারা শুধু স্বাধীনতা যুদ্ধেই নয়, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়েও দেশের স্বার্থে দেশে এবং বিদেশে দায়িত্বরত অবস্থায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। আমি মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সব শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

‘বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী তথা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের গর্ব ও আস্থার প্রতীক। দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার নিমিত্তে সেনাবাহিনীর প্রত্যেক সদস্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের জন্য সদা প্রস্তুত রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মতো সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামে সন্ত্রাস দমন ও আর্থসামাজিক উন্নয়ন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আর্তমানবতার সেবা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তিরক্ষাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে আত্মনিয়োগের মাধ্যমে অনন্য ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে আমি প্রত্যাশা করি।’

‘স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও সুসংগঠিত বাহিনীরূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশমাতৃকার প্রয়োজনে যেকোনো অর্পিত দায়িত্ব পালনে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন ও সমর সক্ষমতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিকল্পিতভাবে এবং পর্যায়ক্রমে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র সংযোজন এবং উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন বাস্তবায়িত হচ্ছে।’

‘একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাববেলার জন্য আমাদের সেনাবাহিনী এখন সুপ্রশিক্ষিত, দক্ষ এবং সদা প্রস্তুত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্য আগামী দিনগুলোতে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে দেশ এবং দেশের মানুষের সেবায় নিবেদিতভাবে কাজ করে যাবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

‘পরিশেষে আমি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উত্তরোত্তর উন্নতি ও সাফল্য কামনা করছি। মহান ‘স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৫’ এর এই শুভলগ্নে দেশের আপামর মানুষের সুস্থ জীবন এবং সমৃদ্ধি কামনা করছি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলের সহায় হোন। আমিন।’

মন্তব্য

আলোচিত-১০ (২৫ মার্চ)

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার

স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ

সাভার প্রতিনিধি
সাভার প্রতিনিধি
শেয়ার
স্বাধীনতা দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত জাতীয় স্মৃতিসৌধ
সংগৃহীত ছবি

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রস্তুত করা হয়েছে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ। ইতোমধ্যে কঠোর নিরাপত্তাবলয় তৈরি করেছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী।  

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) স্মৃতিসৌধ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, সবুজে ঘেরা ১০৮ হেক্টর জমির ওপর নির্মিত স্মৃতিসৌধকে ধুয়ে মুছে পরিপাটি করে রেখেছে।

সৌন্দর্যবর্ধনসহ নানা কাজ এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছেন সাভার গণপূর্ত বিভাগ। নানা রঙের বাহারি ফুলে ঢেকে ফেলা হয়েছে স্মৃতিসৌধের সবুজ চত্বর। 

স্বাধীনতা দিবসে দেশের সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর সেনারা। চলছে রং-তুলি ও সিসিটিভি স্থাপনার কাজ ও ইলেকট্রনিক সব সেটিং এর কাজ।

গত সোমবার থেকে বহিরাগত দর্শনার্থীদের প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। 

আরো পড়ুন
সুযোগ পেয়েও ২২ বছরের জয়খরা কাটানো হলো না বাংলাদেশের

সুযোগ পেয়েও ২২ বছরের জয়খরা কাটানো হলো না বাংলাদেশের

 

গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছে, প্রায় ১০০ পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্মৃতিসৌধের ফটক থেকে মিনার পর্যন্ত পুরো এলাকা ধুয়ে-মুছে চকচকে করে তুলেছে। পরিষ্কার করা হয়েছে সৌধচূড়া থেকে হেঁটে যাওয়ার পথগুলোও। শোভাবর্ধনের জন্য লাগানো গাছগুলো ছেঁটে পরিপাটি করে তোলা হয়েছে।

বসানো হয়েছে বাহারি রঙের ফুলের টব। লেকগুলোকে পরিষ্কার করে লাগানো হয়েছে রক্তিম বর্ণের শাপলা। সাদা রঙের শুভ্রতায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পুরো সৌধ এলাকা। শেষ হয়েছে আলোকসজ্জার কাজও।

এ ছাড়া ওয়াচ টাওয়ার ও সিসিটিভি কন্ট্রোলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হবে পুরো সৌধ এলাকা।

ভোরের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও  প্রধান উপদেষ্টাসহ দেশের সব মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন জাতীয় স্মৃতিসৌধে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ