জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরা ব্রিজের সামনে গত ১৮ জুলাই পায়ে গুলিবিদ্ধ হন হাসান সরদার। ওই সময় পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে তেমন চিকিৎসা করাতে পারেননি। তবু গত ৫ আগস্ট ফের আন্দোলনে যান। ওই দিন আন্দোলনে গিয়ে বাড্ডা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে পুলিশের ছোড়া কয়েক শত গুলি তার ডান হাত, পাঁজর ও মুখমণ্ডলে লাগে।
অভ্যুত্থানে আহত হাসানের পরিবারকে বসুন্ধরা শুভসংঘের খাদ্যসামগ্রী ও অর্থ সহায়তা
আগৈলঝাড়া(বরিশাল) প্রতিনিধি

ওই অবস্থায় পঙ্গু হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর বরিশাল আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈল ইউনিয়নের পতিহার গ্রামের মৃত মানিক সরদারের ছেলে হাসান সরদার বাড়িতে ফেরেন। তবে বাবা না থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে হাসানের পরিবার।
ভুক্তভোগী হাসান বলেন, ‘আমার শরীরে যে গুলি রয়েছে তা বাংলাদেশে অপারেশন করে বের করা সম্ভব হবে না। আমার হাতে ও শরীরে প্রায় ৪০০টি গুলি রয়েছে।
এই বিষয়টি জানতে পেরে আহত হাসান সরদারের পাশে দাঁড়িয়েছে বসুন্ধরা শুভসংঘ আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখা । আজ শনিবার ২৫ কেজি চাল, ৫ কেজি আটা, ২ কেজি ডাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি আলু ও নগদ ৪ হাজার টাকা হাসান সরদার ও তার মা নূরজাহান বেগমের হাতে তুলে দেন বসুন্ধরা শুভসংঘ আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার উপদেষ্টা এস এম ওমর আলী সানি ও আগৈলঝাড়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মো. মাহবুবুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ভিপি মো. আনোয়ার জাহিদ আলো, সমাজসেবক মো. ফরহাদ হোসেন, বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্য রোবট আবিষ্কারক মো. ইরান সরদার, ছাত্রনেতা মো.সাইফুর রহমান টিটু, কাওছার খলিফা, আজাদ এলাহি, তুহিন শিকদার, মেহেদি হাসান তানজিল,আরিফ হাসান মৃধা প্রমুখ।
খাদ্যসামগ্রী ও টাকা পেয়ে হাসান ও তার পরিবারের সদস্যদের মুখে ফুটেছে হাসি। রমজান মাসে তাদের আর খাবার নিয়ে চিন্তা করতে হবে না।
আহত মো.হাসান সরদারের মা নূরজাহান বেগম অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘আমাদের ঘরে খাবার নেই। ছেলে-মেয়ের কলেজের লেখাপড়ার খরচ নেই। তাদের লেখাপড়া বন্ধের পথে। হাসানের শরীরে অনেক গুলি রয়েছে, যন্ত্রণায় রাতে ঘুমাতে পারে না। ডাক্তার বলেছেন তাকে ভালো খাবার খাওয়াতে, কিন্তু তাকে একটি ডিমও খাওয়াতে পারি না। আজ আমার বাড়ি বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা এসে চাল, ডাল, আটা, তেলসহ খাবার ও টাকা দিয়েছেন। আমি এই টাকা দিয়ে ভালো কিছু খাওয়াতে পারব আমার ছেলেকে। রমজান মাসে ওই খাবার খেয়ে রোজা রাখতে পারবে। আমরা না খেয়ে থাকছি কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। বসুন্ধরা শুভসংঘ আমাদের খোঁজ নিয়েছে। আমরা বসুন্ধরা শুভসংঘের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করি । বসুন্ধরা শুভসংঘ সব সময় অসহায় মানুষের পাশে থেকে যেন তাদের সাহায্য করতে পারে।’
বসুন্ধরা শুভসংঘর আগৈলঝাড়া শাখার উপদেষ্টা এস এম ওমর আলী সানি বলেন, ‘যাদের জন্য আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি বসুন্ধরা শুভসংঘ তাদের পাশে সব সময় থাকবে।’
সম্পর্কিত খবর

নরসিংদীতে পথশিশুদের মাঝে বসুন্ধরা শুভসংঘের ঈদ উপহার বিতরণ
সুজন বর্মণ, নরসিংদী

নরসিংদীতে পথশিশুদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে শহরের পৌর পার্কে বসুন্ধরা শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখার উদ্যোগে এ উপহার বিতরণ করা হয়। এ সময় ১৫ জন অসহায় পথশিশুদের মাঝে ঈদের রঙিন জামা ও খাবার উপহার দেওয়া হয়। এ ছাড়া অসহায় নারীদের মাঝে ঈদের শাড়ি উপহার দেওয়া হয়।
সারা দেশে বসুন্ধরা শুভসংঘ সমাজের অসহায় ও দরিদ্রদের সহযোগিতায় কাজ করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় বসুন্ধরা শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখা অসহায়দের স্বাবলম্বীকরণ, আর্থিক সহযোগিতা, পুনর্বাসনসহ একাধিক মানবিক কাজ করে আসছে। ঈদে সমাজের বিত্তবান ও মধ্যবিত্তদের নতুন পোশাক কেনার সামর্থ্য থাকলেও রেলওয়ে স্টেশনের পথশিশুদের সেই সামর্থ্য নেই।
ঈদ উপহার বিতরণকালে বসুন্ধরা শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মনিরসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
রঙিন কাঁপড় পেয়ে চোখে-মুখে খুব উচ্ছ্বাস দেখা যায় কেয়া নামের এক পথশিশুর। সে বলে, ‘ঈদে নতুন কাঁপড় পড়তে পারব তা ভাবিনি। কিন্তু আজকে আমার হাতের ব্যাগে নতুন কাপড়। এটা পড়ে আমি এবার ঈদে ঘুরে বেড়াব।
পারভেজ নামে আরেক পথশিশু বলে, ‘আমাকে গেঞ্জি দিয়েছে। দেখতে খুব সুন্দর। এটা এখন রেখে দেব। ঈদে পরে বন্ধুদের সাথে ঘুরব। আর গেঞ্জি দেওয়ায় ভাইদের জন্য দোয়া করি।’
বসুন্ধরা শুভসংঘ নরসিংদী জেলা শাখার সভাপতি মাহবুবুর রহমান মনির বলেন, ‘অসহায় পথশিশু ও দরিদ্রদের মুখে যখন আমাদের উপহারে হাসি ফুটে ওঠে তখন আমাদের আয়োজনটা স্বার্থক হয়। আমরা অসহায় ও হতদরিদ্রদের আনন্দের মাঝেই আমাদের ঈদের আনন্দ খোঁজে পাই। বসুন্ধরা শুভসংঘের এই শুভ কাজগুলো শহর ছাড়িয়ে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। ভবিষ্যতেও আমরা মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য সহযোগিতা অব্যহত রাখব।’

মানবতার আলো ছড়াল বসুন্ধরা শুভসংঘের ঈদ উপহার
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদ মানে আনন্দ। কিন্তু সমাজের এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের মধ্যে ঈদ আনন্দের বদলে বয়ে আনে দীর্ঘশ্বাস। সেসব অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে, ঈদের আনন্দকে তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এগিয়ে এসেছে বসুন্ধরা শুভসংঘ মিরপুর থানা শাখা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বসুন্ধরা শুভসংঘ মিরপুর থানা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) ১১টি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
ঈদ উপহার পেয়ে এক বৃদ্ধা কাঁপা কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী মারা গেছেন অনেক বছর হলো।
বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা বলেন, ‘ঈদ কেবল আনন্দের উৎসব নয়, এটি একে অপরের পাশে দাঁড়ানোরও উৎসব।

মেহেরপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
মেহেরপুর প্রতিনিধি

মেহেরপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় মেহেরপুর সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজ শিক্ষক ও বসুন্ধরা শুভসংঘ মেহেরপুর জেলা শাখার সভাপতি এস এম রফিকুল আলম বকুল।
ইফতারের পূর্বে ফিলিস্তিনের জনগণসহ পুরো মুসলিম উম্মাহ, দেশবাসী ও বসুন্ধরা গ্রুপের জন্য দোয়া ও শান্তি কামনা করা হয়।

দরিদ্র ও এতিম মাদরাসাছাত্রদের জন্য শুভসংঘের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলার জিয়াবাড়ি এলাকার জামিয়াতুস সুন্নাহ আল ইসলামিয়া মাদরাসার দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছেন পঞ্চগড় জেলা বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা। ঈদ উপলক্ষে গতকাল (২৬ মার্চ) শিক্ষার্থীদের চুল কাটাসহ শ্যাম্পু, সাবান ও টুপি উপহার দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংগঠনটি।
ঈদের আগমনী আনন্দ যখন চারদিকে, তখন অনেক দরিদ্র ও এতিম শিশুরা সেই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়। তাদের মুখে হাসি ফোটাতে পঞ্চগড় বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা উদ্যোগ নেন।
মাদরাসার ছাত্র লাবিব হোসেন জানায়, আমাদের অনেকের বাড়িতে ঈদের নতুন জামা কেনার সামর্থ্য নেই। শুভসংঘ আমাদের জন্য উপহার এনেছে, এতে আমরা খুব খুশি। চুল কাটার ব্যবস্থাও করেছে, এটা আমাদের জন্য বিশেষ আনন্দের।
পঞ্চগড় বসুন্ধরা শুভসংঘের সভাপতি ফিরোজ আলম রাজিব বলেন, আমাদের লক্ষ্য সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দরিদ্র ও এতিম শিশুদের ঈদের আনন্দে শামিল করতে পেরেছি, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মুফতি লুৎফর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে যারা এগিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।
মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাহারুল ইসলাম বলেন, এভাবে একটু একটু করে বিত্তবানসহ বিভিন্ন সংগঠন যদি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাহলে আমাদের সমাজ আরো সুন্দর হয়ে উঠবে।