একেবারেই কাকতালীয়। আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির গোল গড় ০.৫৬। পোল্যান্ডের হয়ে রবার্ত লেভানদোস্কিরও ঠিক ০.৫৬! দুজনই নিজেদের দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা। আজ আর্জেন্টিনা-পোল্যান্ড ম্যাচের ভাগ্য নিয়ন্তাও তাঁরা।
মেসির জাদু, নাকি লেভানদোস্কির দ্যুতি
ক্রীড়া প্রতিবেদক

দুজনের অর্জনই আকাশছোঁয়া। লিওনেল মেসি ৯৯৮ ম্যাচে গোল করেছেন ৭৮৮টি, অ্যাসিস্ট ৩৪৬টি। তাঁর ক্যারিয়ার শিরোপা ৪১ আর ব্যক্তিগত শিরোপা ৭৮টি।
ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে লিওনেল মেসির লড়াই যে উচ্চতায় পৌঁছে, লেভানদোস্কির সঙ্গে অবশ্য সেটা কখনো হয়নি আর্জেন্টাইন জাদুকরের। প্রথম কারণ তাঁরা একই লিগে খেলেননি। দ্বিতীয়ত ব্যালন ডি’অর বা ফিফার দ্য বেস্ট নিয়ে লড়াইটাও ছিল মেসি-রোনালদোকে ঘিরে। ২০১৫-১৬ থেকে টানা আট মৌসুম ৪০টির বেশি গোল করলেও এই দুজনের দ্যুতিতে আড়ালে ছিলেন লেভানদোস্কি। তিনি আলোয় আসেন ২০১৯-২০ মৌসুমে ৫৫ গোল করে।
২০২০-২১ মৌসুমেও ৪৮ গোল করে ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার ছিলেন লেভানদোস্কি। কিন্তু ২৮ বছর পর আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জেতানোয় পুরস্কারটা পান মেসি। তখন থেকেই দুজনের শ্রদ্ধার সম্পর্কে আঁচ আসতে শুরু করে কিছুটা। মেসি সান্ত্বনা জানিয়ে বলেছিলেন, ‘আগের বছরের ব্যালন ডি’অর অবশ্যই লেভানদোস্কি পেত। এটা ওর বাড়িতে দিয়ে আসা উচিত আয়োজকদের। অসাধারণ এক খেলোয়াড় লেভা। ’ এর জবাবে লেভা যা বলেছিলেন সেটা ভিন্নভাবে আসে সংবাদমাধ্যমে। পরে ভুলটা ভাঙেন লেভানদোস্কিই, ‘মেসিকে নিয়ে কোনো বাজে মন্তব্য করিনি আমি। ওর কথা আমার ভালো লেগেছে। ব্যালন ডি’অর পাওয়ায় মেসিকে অভিনন্দনও জানিয়েছি। ’
মেসি ব্যালন ডি’অর পেলেও টানা দুইবার ফিফার দ্য বেস্ট পুরস্কার জেতেন লেভানদোস্কি। জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে এতে ভোট দিয়েছেন মেসি, লেভা দুজনই। তবে লেভার ভোট মেসি পেলেও আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সেরা তিনে রাখেননি লেভাকে! পোল্যান্ডের এই তারকা তাতে ক্ষুব্ধ হয়ে সমালোচনা করেছিলেন মেসির, ‘আমি মেসিকে ভোট দিয়েছিলাম, কারণ ও বছরজুড়ে দারুণ খেলেছে। ও বলেছিল ব্যালন ডি’অরের সমর্থন নাকি আমাকে দিয়েছে। কিন্তু ফিফার ভোটের সময় হয়তো সিদ্ধান্ত বদল করেছে। যা হোক ব্যালন ডি’অরের চেয়ে দ্য বেস্ট অনেক বড় পুরস্কার। কারণ কোচ, অধিনায়ক, সমর্থকদের ভোট দিয়ে এটা নির্বাচন করা হয়। ’ তখন থেকেই উত্তেজনার শুরু দুজনের। সেটা অবশ্য মাত্রা ছাড়ায়নি। বরং বার্সেলোনায় মেসির বিকল্প হিসেবেই নিয়ে আসা হয়েছে লেভাকে।
এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছেন মেসি ও লেভানদোস্কি। সবগুলো ম্যাচই বার্সেলোনা ও বায়ার্নের হয়ে। লেভা জিতেছেন দুটি, মেসি একটিতে। লেভার একটি জয় আবার ২০২০ চ্যাম্পিয়নস লিগ কোয়ার্টার ফাইনালের সেই ৮-২ ব্যবধানে বার্সাকে বিধ্বস্ত করা ম্যাচে। তবে মুখোমুখি দেখায় দুজনেরই গোল সমান দুটি করে। জাতীয় দলের হয়ে আজই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছেন দুজন। মঞ্চটাও বড়, বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসি প্রথম দুই ম্যাচে দুই গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করেছেন একটি। লেভাও সৌদি আরবের বিপক্ষে করেছেন বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোল। সেই গোলের পর তো আবেগে কেঁদেই ফেলেছিলেন রীতিমতো। আজ আর কান্না নয়, মেসিকেই বরং কাঁদাতে চাইবেন লেভা। আর মেসি কী চাইবেন, সেটি কারোর বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়—জীবনে একবার বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখতে কাতারে এসেছেন তিনি!

প্রতিপক্ষ কোচের নাক টিপে নিষিদ্ধ মরিনিও
ক্রীড়া ডেস্ক

তুর্কি কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে গত বুধবার গালাতাসারাইয়ের কাছে ২-১ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ে ফেনারবাচে। ম্যাচের পর মেজাজ হারান ফেনারবাচে কোচ জোসে মরিনিও। ম্যাচ শেষে তেড়ে গিয়ে গালাতাসারাই কোচ ওকান বুরুকের নাক দুই আঙুল দিয়ে টিপে দেন মরিনিও। আঘাত পেয়ে বুরুক সঙ্গে সঙ্গে হাত দিয়ে নাক ঢেকে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
এমন কান্ডের পর তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে জোসে মরিনিওকে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে তাকে। ৬২ বছর বয়সী এই কোচকে জরিমানা গুনতে হবে ২ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ তুর্কি লিরা (প্রায় ৭ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার)।
তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘জোসে মরিনিও পরবর্তী তিন প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে দলের ড্রেসিংরুমে ও ডাগ আউটে থাকতে পারবেন না।
বুধবার রাতে ম্যাচ শেষে মরিনিওর বিরুদ্ধে বুরুককে শারীরিকভাবে আক্রমণের অভিযোগ এনেছিল গালাতাসারাই। ফেনেরবাচেও পাল্টা অভিযোগ আনে। ক্লাবটি দাবি করে, মরিনিও বুরুকের নাক টিপে দেওয়ার পর তিনি এমনভাবে অভিনয় করেছেন, যেন কেউ তাঁকে গুলি করেছেন। মরিনিওকে উত্তেজিত করতে বুরুক হাত দিয়ে অশোভন ইঙ্গিত করেন বলেও দাবি ফেনেরবাচ কর্তৃপক্ষের।
বুরুকের প্ররোচিত করার ব্যাপারটিও বিবেচনা করেছেন তুরস্কের প্রফেশনাল ফুটবল ডিসিপ্লিনারি বোর্ড। এজন্য মরিনিয়োর শাস্তি তুলনামূলক কম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
গালাতাসারাইয়ের এক খেলোয়াড়কে অপমান করার দায়ে মরিনিওর সহকারী সালভাতোর ফোতিকে চার ম্যাচ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

বড় ম্যাচে বিকল্প ভাবনা কিংসের
ক্রীড়া প্রতিবেদক

ফেডারেশন কাপে ফাইনালে যাওয়ার পথে প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৮ এপ্রিল আবাহনীর মুখোমুখি বসুন্ধরা কিংস। এর তিন দিন পর লিগ ম্যাচে কিংসকে খেলতে হবে টেবিলের শীর্ষে থাকা মোহামেডানের বিপক্ষে। লম্বা বিরতি থেকে ফিরেই দুটি বড় ম্যাচ। তাই জোরেশোরে প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে ভ্যালেরিও তিতা ও তাঁর দলকে।
কিন্তু একাধিক তারকা খেলোয়াড়ের ইনজুরি ও দলের অধিনায়ক মিগেল ফিগেইরা এখনো না ফেরায় ভীষণ ভাবাচ্ছে রোমানিয়ান কোচকে। তবে বাকিদের ওপর ভরসা রাখছেন তিনি। তাতে দুটি ম্যাচেই উতরে যাওয়ার আশা এই কোচের।
‘শুরুর দুটি ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই ডিফেন্ডার এখনো ম্যাচ খেলার জন্য ফিট হয়ে ওঠেননি। কাঁধের চোটে পড়েছেন আরেক সেন্টার ব্যাক তারিক কাজী। প্রায় তিন মাসের মতো তাঁকে মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। গোলখরা কাটাতে মধ্যবর্তী দলবদলে স্ট্রাইকার পজিশনে আর্জেন্টিনার হুয়ান লেসকানোকে দলে ভেড়ায় কিংস। কিন্তু চোটের কারণে আবাহনী ও মোহামেডানের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না তিনি।
কিংসের মধ্যমাঠের প্রাণ মিগেল কবে ফিরবেন—সেটাও অনিশ্চিত। ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ দুটি ম্যাচের আগে তাই ভিন্ন পথ খুঁজছেন তিতা। তাতে রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন, ফয়সাল ফাহিমদের বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। তাঁদের সঙ্গে আক্রমণভাগে থাকছেন ঘানার উইঙ্গার ইভান্স ইত্তি। আবারও কিংসে ফেরা উজবেকিস্তানের মিডফিল্ডার আসরর গফুরভের সঙ্গে মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে আক্রমণে সুর গেঁথে দেওয়ার কাজটা করতে হবে ব্রাজিলিয়ান জোনাথন ফের্নান্দেসকে। সেন্টারব্যাকে দেখা যাবে ব্রাজিলিয়ান ডেসিয়েলকে। কিংসের রোমানিয়ান কোচ তাই বলেছেন, ‘চারজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাচ্ছি না। ওদের বিকল্প পাওয়া খুবই কঠিন, এটা সবাই জানে। কিন্তু সর্বোচ্চ সমাধানের পথ খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। আশা করি তাদের বোঝাতে পারব যে মর্যাদা এবং সাফল্যের সঙ্গে এই দলের প্রতিনিধিত্ব করার সময় এখন ওদের।’
কাপ টুর্নামেন্টে শিরোপাস্বপ্ন উজ্জ্বল হলেও লিগে সেই পথ অনেকটা কঠিন কিংসের সামনে। শীর্ষে থাকা মোহামেডানের সঙ্গে পয়েন্টের ব্যবধান ৭। দুইয়ে থাকা আবাহনীর চেয়ে পিছিয়ে তিন পয়েন্টে। ফিরতি লেগে ১২ এপ্রিল কিংস অ্যারেনায় মোহামেডানকে হারাতে পারলে ব্যবধান চারে নামিয়ে আনার সুযোগ থাকছে কিংসের সামনে। শিরোপা জিততে হলে নিজেদের সব ম্যাচ তো জিততেই হবে, প্রতিপক্ষের ফলও কিংসের অনুকূলে আসতে হবে। সেই চ্যালেঞ্জ মেনেই প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়ে তিতা বলেছেন, ‘আমি জানি এটা খুবই কঠিন। ৭ পয়েন্টের ব্যবধান খুবই সুবিধাজনক অবস্থান। বিশেষ করে যখন মাত্র আট ম্যাচ বাকি থাকে। কিন্তু শেষ আশা হিসেবে সব ম্যাচই জিততে হবে আমাদের।’

সবার আগে শিরোপা উদযাপন পিএসজির
ক্রীড়া ডেস্ক

৬টি ম্যাচ বাকি থাকতেই ফরাসি লিগ ‘আঁ’ এর শিরোপা জিতে নিয়েছে পিএসজি। এতে ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে প্রথম ক্লাব হিসেবে শিরোপা নিশ্চিত করেছে ফরাসি এই দলটি। লিগে ১৩তম এবং টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের পথে পুরো মৌসুমে অপরাজিত থাকে ফরাসি জায়ান্টরা।
গত রাতে অঁজের বিপক্ষে ড্র করলেই শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যেত পিএসজির।
লিগে এই মৌসুমে এখনো কোনো ম্যাচ হারেনি পিএসজি। ২৮ ম্যাচে ২৩ জয় ও পাঁচ ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট ৭৪।
লিগে সর্বশেষ ১৩ আসরে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ১১ বার। মধ্যে ২০১৬-১৭ ও ২০২০-২১ মৌসুমে রানার্স-আপ হয়েছে দলটি।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন ডিজায়ার ডউ।
পিএসজির সামনে সুযোগ আছে এই মৌসুমে ট্রেবল জেতার। লিগ জয়ের আগে ফরাসি কাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে। ওদিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে দারুণ ফর্মে থাকা লিভারপুলকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

পেস বোলিং কোচের আলোচনায় ডোনাল্ডের সঙ্গে গিবসনও
ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামসের কাজে খুশি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ জন্য নতুন কোচ খুঁজছে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের সাবেক দুই কোচ অ্যালান ডোনাল্ড এবং ওটিস গিবসনের মধ্যে একজনকে আবার ফেরানো যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিসিবির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়েন ডোনাল্ড।
বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বাংলাদেশি পেসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। ডোনাল্ডের আগে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানদের সঙ্গে কাজ করেছেন গিবসন। তাঁর কোচিংয়ের প্রশংসা এখনো শোনা যায় বাংলাদেশি পেসারদের মুখে।
এ জন্য নতুন কাউকে কোচ হিসেবে না এনে পরীক্ষিতদের ফেরাতে চাচ্ছে বিসিবি।
গতকাল বিসিবির একজন কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘ডোনাল্ডের সঙ্গে গিবসনের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। তাঁরা দুজনই ভালো কাজ করে গেছেন। কোচ হিসেবেও দুজন বেশ ভালো। তবে আগের বোর্ডের কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের পছন্দ ছিল না।