স্লোভাকিয়ার মন্ত্রিসভা দেশের মোট বাদামি ভালুকের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে হত্যার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। মধ্য স্লোভাকিয়ায় এক ব্যক্তি বনাঞ্চলে হাঁটার সময় ভালুকের হামলায় নিহত হওয়ার পর বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয়তাবাদী-জাতীয়তাবাদী সরকার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ঘোষণা দেয়, আনুমানিক এক হাজার ৩০০ বাদামি ভালুকের মধ্যে ৩৫০টি হত্যা করা হবে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার কারণে মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এখন দেশটির ৭৯টি জেলার মধ্যে ৫৫টিতে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশটির অধিকাংশ এলাকায় ভালুক নিধনের অনুমতি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ফিকো সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশে বাস করতে পারি না, যেখানে মানুষ বনাঞ্চলে যেতে ভয় পায়।’
এর আগেও ব্রাতিস্লাভার সরকার ভালুকদের আইনি সুরক্ষা শিথিল করেছিল, যাতে তারা মানব বসতির কাছাকাছি চলে এলে হত্যা করা যায়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৯৩টি ভালুক গুলি করে মারা হয়েছিল।
বনাঞ্চলে মৃতদেহ
এদিকে স্লোভাক পুলিশ বুধবার নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় রবিবার রাতে মধ্য স্লোভাকিয়ার দেতভা শহরের কাছে বনাঞ্চলে পাওয়া মৃতদেহটি ভালুকের হামলায় নিহত এক ব্যক্তির। তার শরীরে ভালুকের আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।
৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শনিবার বনাঞ্চলে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে তাকে মাথায় ভয়াবহ আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
কাছেই একটি ভালুকের গুহার অস্তিত্বও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় একটি এনজিও স্লোভাক পত্রিকা নোভি কাসকে জানায়।
সমালোচনা
তবে আরো ভালুক হত্যার পরিকল্পনাকে পরিবেশবিদরা কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন ও আইনত অবৈধ হতে পারে।
পরিবেশবিদ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিরোধী দল প্রগ্রেসিভ স্লোভাকিয়ার সদস্য মিখাল ভিয়েজেক বলেন, ‘এটি একেবারেই অযৌক্তিক। পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সুরক্ষিত প্রজাতির নজিরবিহীন নিধনের মাধ্যমে ভালুকের হামলা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে।
তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার এখন আরো বেশি ভালুক হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ভিয়েজেক যুক্তি দেন, প্রতিবছর হাজার হাজার ভালুকের সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ ঘটে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সমস্যা হয় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় কমিশন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্লোভাকিয়ায় ভালুকের সংখ্যা ও মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় এটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সালের মার্চে ৩১ বছর বয়সী এক বেলারুশীয় নারী উত্তর স্লোভাকিয়ায় এক ভালুকের ধাওয়া খেয়ে পাহাড়ি খাদে পড়ে মারা যান।
কয়েক সপ্তাহ পর একটি বিশাল বাদামি ভালুক দিনের আলোয় লিপটোভস্কি মিকুলাস শহরের কেন্দ্র দিয়ে দৌড়ানোর ভিডিও প্রকাশ হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ভালুকটি গাড়ির পাশ দিয়ে ছুটছে এবং পথচারীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ভালুকটিকে শিকার করে মেরে ফেলেছে। তবে সংরক্ষণবাদীরা দাবি করেন, যে ভালুককে হত্যা করা হয়েছে, সেটি আসল হামলাকারী ভালুক ছিল না।
পরিবেশমন্ত্রী টমাস তারাবা বুধবার বলেন, স্লোভাকিয়ায় বর্তমানে এক হাজার ৩০০-এর বেশি ভালুক রয়েছে, কিন্তু ৮০০ ভালুকই ‘যথেষ্ট সংখ্যা’, কারণ ভালুকের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালুকের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল, যা আনুমানিক এক হাজার ২৭০টির কাছাকাছি।
বাদামি ভালুকরা কার্পাথিয়ান পর্বতমালা জুড়ে বিস্তৃত, যা রুমানিয়া থেকে পশ্চিম ইউক্রেন হয়ে স্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।