৩৫০ বাদামি ভালুক হত্যার অনুমোদন স্লোভাক মন্ত্রিসভার

বিবিসি
বিবিসি
শেয়ার
৩৫০ বাদামি ভালুক হত্যার অনুমোদন স্লোভাক মন্ত্রিসভার
বাদামি ভালুক। ফাইল ছবি : এএফপি

স্লোভাকিয়ার মন্ত্রিসভা দেশের মোট বাদামি ভালুকের প্রায় এক-চতুর্থাংশকে হত্যার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। মধ্য স্লোভাকিয়ায় এক ব্যক্তি বনাঞ্চলে হাঁটার সময় ভালুকের হামলায় নিহত হওয়ার পর বুধবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

স্লোভাক প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর নেতৃত্বাধীন জনপ্রিয়তাবাদী-জাতীয়তাবাদী সরকার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর ঘোষণা দেয়, আনুমানিক এক হাজার ৩০০ বাদামি ভালুকের মধ্যে ৩৫০টি হত্যা করা হবে। সাম্প্রতিক কয়েকটি হামলার কারণে মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এখন দেশটির ৭৯টি জেলার মধ্যে ৫৫টিতে বিশেষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশটির অধিকাংশ এলাকায় ভালুক নিধনের অনুমতি দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ফিকো সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশে বাস করতে পারি না, যেখানে মানুষ বনাঞ্চলে যেতে ভয় পায়।’

এর আগেও ব্রাতিস্লাভার সরকার ভালুকদের আইনি সুরক্ষা শিথিল করেছিল, যাতে তারা মানব বসতির কাছাকাছি চলে এলে হত্যা করা যায়। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ ৯৩টি ভালুক গুলি করে মারা হয়েছিল।

বনাঞ্চলে মৃতদেহ
এদিকে স্লোভাক পুলিশ বুধবার নিশ্চিত করেছে, স্থানীয় সময় রবিবার রাতে মধ্য স্লোভাকিয়ার দেতভা শহরের কাছে বনাঞ্চলে পাওয়া মৃতদেহটি ভালুকের হামলায় নিহত এক ব্যক্তির। তার শরীরে ভালুকের আক্রমণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে।

৫৯ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি শনিবার বনাঞ্চলে হাঁটতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে তাকে মাথায় ভয়াবহ আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।

কাছেই একটি ভালুকের গুহার অস্তিত্বও পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় একটি এনজিও স্লোভাক পত্রিকা নোভি কাসকে জানায়।

সমালোচনা
তবে আরো ভালুক হত্যার পরিকল্পনাকে পরিবেশবিদরা কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, এটি আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘন ও আইনত অবৈধ হতে পারে।

পরিবেশবিদ ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টে বিরোধী দল প্রগ্রেসিভ স্লোভাকিয়ার সদস্য মিখাল ভিয়েজেক বলেন, ‘এটি একেবারেই অযৌক্তিক। পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সুরক্ষিত প্রজাতির নজিরবিহীন নিধনের মাধ্যমে ভালুকের হামলা কমাতে ব্যর্থ হয়েছে।

তাদের ব্যর্থতা ঢাকতে সরকার এখন আরো বেশি ভালুক হত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

ভিয়েজেক যুক্তি দেন, প্রতিবছর হাজার হাজার ভালুকের সঙ্গে মানুষের সাক্ষাৎ ঘটে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোনো সমস্যা হয় না। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইউরোপীয় কমিশন এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্লোভাকিয়ায় ভালুকের সংখ্যা ও মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ বেড়ে যাওয়ায় এটি রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে।  ২০২৪ সালের মার্চে ৩১ বছর বয়সী এক বেলারুশীয় নারী উত্তর স্লোভাকিয়ায় এক ভালুকের ধাওয়া খেয়ে পাহাড়ি খাদে পড়ে মারা যান।

কয়েক সপ্তাহ পর একটি বিশাল বাদামি ভালুক দিনের আলোয় লিপটোভস্কি মিকুলাস শহরের কেন্দ্র দিয়ে দৌড়ানোর ভিডিও প্রকাশ হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, ভালুকটি গাড়ির পাশ দিয়ে ছুটছে এবং পথচারীদের দিকে তেড়ে যাচ্ছে। পরে কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা ভালুকটিকে শিকার করে মেরে ফেলেছে। তবে সংরক্ষণবাদীরা দাবি করেন, যে ভালুককে হত্যা করা হয়েছে, সেটি আসল হামলাকারী ভালুক ছিল না।

পরিবেশমন্ত্রী টমাস তারাবা বুধবার বলেন, স্লোভাকিয়ায় বর্তমানে এক হাজার ৩০০-এর বেশি ভালুক রয়েছে, কিন্তু ৮০০ ভালুকই ‘যথেষ্ট সংখ্যা’, কারণ ভালুকের সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালুকের সংখ্যা প্রায় স্থিতিশীল, যা আনুমানিক এক হাজার ২৭০টির কাছাকাছি।

বাদামি ভালুকরা কার্পাথিয়ান পর্বতমালা জুড়ে বিস্তৃত, যা রুমানিয়া থেকে পশ্চিম ইউক্রেন হয়ে স্লোভাকিয়া ও পোল্যান্ড পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার জার্মানির বার্লিন ও ফ্রাঙ্কফুর্ট, ফ্রান্সের প্যারিস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একত্র হন বিক্ষোভকারীরা। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিক্ষোভ হয়।

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে একদিনে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ওয়াশিংটনের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং হালকা বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেয় বেশ কিছু সংগঠন। ওয়াশিংটন ছাড়াও নিউইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয় অসংখ্য মানুষ।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শুল্কনীতির আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কর্তৃত্ববাদী রূপের বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছিলেন বিজ্ঞানী, শিল্পী, শিক্ষক, এমনকি সাধারণ গৃহিণীও। তাদের মতে, এই শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, খাদ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানির দামকেও প্রভাবিত করছে।

শনিবারের এই বিক্ষোভের নাম দেয়া হয়েছে ‘হ্যান্ডস অফ’।

এর একটি অর্থ হতে পারে,‘আমাদের নিজের মতো চলতে দাও’। এসব বিক্ষোভে ১৫০টির মতো গোষ্ঠী অংশ নিয়েছে।

আরো পড়ুন
সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

সরকারি সফরে রাশিয়া ও ক্রোয়েশিয়া গেলেন সেনাপ্রধান

 

ট্রাম্পবিরোধী এ বিক্ষোভের জোয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্যানার হাতে জড়ো হয়েছেন প্রায় ২০০ প্রতিবাদকারী, যাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর একতরফা হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা।

মন্তব্য

আমরা সারা বিশ্বের সরকার নই যে মানবিক সহায়তা দেব : রুবিও

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
আমরা সারা বিশ্বের সরকার নই যে মানবিক সহায়তা দেব : রুবিও

বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার বেশির ভাগ দেওয়ার ভার যুক্তরাষ্ট্র আর বহন করবে না জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আমরা সারা বিশ্বের সরকার নই যে মানবিক সহায়তা দেব; অন্যরা যেমন দেয় তেমনই দেব, যথাসাধ্য দেব। আমাদের অন্য প্রয়োজনও রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ভার একা বহন করতে পারবে না। এ কাজে চীন, ভারতের মতো বিশ্বের অন্য ধনী দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ভূমিকম্পবিধ্বস্ত মায়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠায়নি বলে সমালোচনার মধ্যে গত শুক্রবার রুবিও এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ৯০ দিনের জন্য সব রকম বিদেশি সাহায্য স্থগিত ঘোষণা করেন। ফলে বিশ্বব্যাপী জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াসহ বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পৌঁছানোর দায়িত্বে থাকা প্রধান সংস্থা ইউএসএআইডির বহু কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

আরো পড়ুন
ঘুম ভাঙলেই মা-বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আরাধ্য

ঘুম ভাঙলেই মা-বাবাকে খুঁজছে ছোট্ট আরাধ্য

 

ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ফেডারেল সরকার ছোট করার যে চেষ্টা চলছে, তাতে ইউএসএআইডি কার্যত ভেঙে পড়েছে। 

মন্তব্য

ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ট্রাম্পবিরোধীদের

রয়টার্স
রয়টার্স
শেয়ার
ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ট্রাম্পবিরোধীদের
বিক্ষোভকারীরা ৫ এপ্রিল প্যারিসে ‘হ্যান্ডস অফ!’ শীর্ষক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ও তার উপদেষ্টা টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার প্রায় এক হাজার ২০০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ধনকুবের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে এক দিনে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হবে।

এদিকে ‘হ্যান্ডস অফ!’ শিরোনামের এ বিক্ষোভ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপে বসবাসকারী শত শত ট্রাম্পবিরোধী মার্কিন নাগরিক বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট, প্যারিস ও লন্ডনের রাস্তায় জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে ট্রাম্পের ব্যাপক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। প্যারিসের রিপাবলিক স্কয়ারে প্রায় ২০০ মানুষ নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে জড়ো হন, যাদের অধিকাংশই মার্কিন।

ব্যানারগুলোর মধ্যে ছিল, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করো’, ‘আইনের শাসন চাই’, ‘ফ্যাসিবাদ নয়, স্বাধীনতার পক্ষে নারীবাদী’ এবং ‘গণতন্ত্র রক্ষা করো’।

ফ্রাংকফুর্টে ডেমোক্র্যাটস অ্যাব্রড সংগঠনের মুখপাত্র টিমোথি কাউটজ বলেন, ‘আমাদের আজ যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই হবে।’

বিক্ষোভকারী হোসে সানচেজ বলেন, ‘ট্রাম্প একজন প্রতারক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন।’

এই আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে একের পর এক রক্ষণশীল পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গণ-অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ পাবেন বিরোধীরা।

আন্দোলন সংগঠন ইনডিভিসিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা আজরা লেভিন বলেন, ‘এটি একটি বিশাল প্রতিবাদ, যা ট্রাম্প, মাস্ক, কংগ্রেসের রিপাবলিকান সদস্য ও মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (ম্যাগা) ঘরানার সব অনুসারীদের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—আমরা চাই না তারা আমাদের গণতন্ত্র, সমাজ, শিক্ষা ও জীবনে হস্তক্ষেপ করুক।’

হোয়াইট হাউস ট্রাম্প বা মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১৫০টি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ নিবন্ধন করেছে। প্রতিবাদগুলো ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো ও পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হবে।

সবচেয়ে বড় প্রতিবাদটি ওয়াশিংটন ন্যাশনাল মলে অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ফের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর নির্বাহী আদেশ ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন, যাকে অনেক সমালোচক ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ নামে গভীর রক্ষণশীল রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যার লক্ষ্য সরকারকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শক্তিশালী করা। তবে বিভিন্ন মামলা ও আইনি বাধায় তার অনেক উদ্যোগই আটকে আছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের বরখাস্ত করা, অভিবাসীদের বিতাড়নের চেষ্টা এবং রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার প্রত্যাহার।

প্রতিবাদকারীরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তিনি সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি কাটছাঁট করতে চাইছেন। তবে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেসসচিব লিজ হিউস্টন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি সব সময় উপযুক্ত নাগরিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখবেন।

বরং ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান হলো অবৈধ অভিবাসীদের এসব সুবিধা দেওয়া, যা এই কর্মসূচিগুলোকে দেউলিয়া করে তুলবে এবং প্রবীণ মার্কিনদের মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ দমন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। তারা ওয়াশিংটনে পৃথক মিছিলের পরিকল্পনা করছেন।

২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নারীদের বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। এবারের প্রতিবাদ কিছুটা ছোট হলেও সংগঠকরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বড় পরিসরে একটি অভিন্ন প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের পর গঠিত ইনডিভিজিবল এবার আরো কয়েকটি প্রগতিশীল সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে মুভঅন, ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি, সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (যা প্রায় ২০ লাখ কর্মীকে প্রতিনিধিত্ব করে), মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন ও পরিবেশবাদী গ্রিনপিস।

মন্তব্য

পিরিয়ডের কারণে নবরাত্রি পালন করতে না পেরে নারীর আত্মহনন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
পিরিয়ডের কারণে নবরাত্রি পালন করতে না পেরে নারীর আত্মহনন

ঋতুস্রাব বা পিরিয়ড নারীর বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। কিন্তু এটি পরিবার বা সমাজে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে জায়গা করে নিতে পারেনি। ঋতুস্রাবের কারণে নবরাত্রি পালন না করতে পেরে ভারতের এক নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরো পড়ুন
বিএনপি ক্ষমতার পাগল নয়, ক্ষমতা বিএনপির প্রাপ্য : ফজলুর রহমান

বিএনপি ক্ষমতার পাগল নয়, ক্ষমতা বিএনপির প্রাপ্য : ফজলুর রহমান

 

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির ৩৬ বছর বয়সী প্রিয়াংশা সোনি নবরাত্রি ও দেবী দুর্গারপূজার পরিকল্পনা করেছিলেন।

নবরাত্রির ৯০ দিনের অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে স্বামী মুকেশ সোনিকে দিয়ে পূজার জন্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্রও আনিয়ে নেন তিনি।

ফুল, ফল, মিষ্টি, প্রদীপ ও শস্য—সব কিছু নিয়ে পূজা করতে প্রস্তুত ছিলেন প্রিয়াংশা। কিন্তু নবরাত্রির প্রথম দিন গত ৩০ মার্চ ঋতুস্রাব শুরু হয় তাঁর। এক বছর ধরে এদিনের অপেক্ষায় থাকা প্রিয়াংশা কষ্টে ভেঙে পড়েন।

আরো পড়ুন
আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মানবো না: আখতার

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন মানব না : আখতার

 

প্রিয়াংশার স্বামী মুকেশ সোনি বলেন, ‘প্রিয়াংশা এক বছর ধরে নবরাত্রির জন্য অপেক্ষা করছিল। এখন যখন সব কিছু গুছিয়ে নিল, সে সময় ঋতুস্রাবের কারণে পূজা বা উপবাস করা সম্ভব হলো না। এ নিয়ে সে খুব চিন্তায় পড়ে যায়, কিভাবে সব কিছু করা যাবে। তাঁকে বোঝালেও সে বুঝতে চায়নি।

তাঁর হয়ে আমি সব পূজা-অর্চনা করে দিতে চেয়েছিলাম তাও সে মন খারাপ করে ছিল।’

মুকেশ কাজের জন্য বের হলে প্রিয়াংশা আবার কান্নাকাটি শুরু করেন। খবর পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন মুকেশ। পরে বুঝিয়ে শান্ত করে আবার কর্মক্ষেত্রে গেলে সেসময় প্রিয়াংশা বিষপান করেন। অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অবস্থার উন্নতি হলে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মুকেশ সোনি বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে প্রিয়াংশার বমি শুরু হয়। পিঠে ব্যথা হচ্ছে বলতে থাকে। ভেবেছিলাম পিরিয়ডের কারণে। হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। পরদিন দুপুরেও ভালো ছিল। দেড়টার কিছু সময় পর তাঁর জন্য জুস নিয়ে এসে দেখি অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। এর ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে সে মারা যায়।’

প্রিয়াংশা—মুকেশ দম্পতির ৩ বছর বয়সী ও ২ বছর বয়সী দুটি কন্যাশিশু রয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ