ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

ঘরে ইবাদতের জায়গা থাকার সুবিধা

জাওয়াদ তাহের
জাওয়াদ তাহের
শেয়ার
ঘরে ইবাদতের জায়গা থাকার সুবিধা

পরিবেশ শিশুদের পরিবর্তনে অসামান্য ভূমিকা রাখে। তাদের প্রথম পাঠ শুরু হয় মায়ের কোল থেকে। তাঁর ঘরের আঙ্গিনা ও চৌহদ্দিতে। যে ঘরে দ্বিনি পরিবেশ আছে সে ঘরের পরবর্তী প্রজন্ম স্বভাবত দ্বিনদার হিসেবেই বেড়ে ওঠে।

এ জন্য আমাদের ঘরের মধ্যে যদি এমন একটি সুনির্দিষ্ট জায়গা থাকে, যেখানে গিয়ে আমরা নামাজ আদায় করব। নির্জনে আল্লাহকে ডাকতে পারব, তাহাজ্জুদ ও তিলাওয়াত করব; তাহলে শিশুরাও এটা দেখে দেখে আমাদের থেকে শিখবে এবং এর প্রভাব শিশুদের মনে প্রবলভাবে গেঁথে যাবে। এভাবে নামাজের জায়গা করার জন্য বিশেষ আহামরি কোনো কিছু করার প্রয়োজন নেই, বরং একটু জায়গাকে ভিন্নভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখলেই তা ঘরোয়া মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। প্রিয় নবী (সা.) এ ধরনের মসজিদ নির্মাণের কথা বলেছেন।
আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘরে ঘরে, পাড়া-মহল্লায় মসজিদ নির্মাণ করার এবং তা পরিচ্ছন্ন ও সুগন্ধিময় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৫৫)

আবদুল্লাহ ইবনে শাদ্দাদ (রা.) বলেন, আমি আমার খালা নবী (সা.)-এর স্ত্রী মাইমুনা (রা.) থেকে শুনেছি যে তিনি হায়েজ অবস্থায় নামাজ আদায় করতেন না; তখন তিনি আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর নামাজের জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী (সা.) তাঁর চাটাইয়ে নামাজ আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তাঁর কাপড়ের অংশ আমার (মাইমুনার) শরীর স্পর্শ করত।

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩৩৩)

হাদিসে নামাজের জায়গা থেকে ঘরে নামাজের নির্ধারিত স্থান উদ্দেশ্য। (ফাতহুল বারি : ১/৫৫০)

ঘরোয়া মসজিদের আরেকটি লাভ হচ্ছে, কোনো বেনামাজি মেহমান যদি বাড়িতে আসে তাহলে তার ওপরও নামাজের বিশেষ প্রভাব পড়বে। এ জন্য সাহাবায়ে কিরামও ঘরোয়া মসজিদ বানানোর আদেশ গুরুত্বের সঙ্গে তামিল করেছেন। মাহমুদ ইবনে রাবি (রা.) বলেন, আমি ইতবান ইবনে মালিক আনসারি (রা.), যিনি বনু সালিম গোত্রের একজন, তাঁকে বলতে শুনেছি, আমি নবী (সা.)-এর কাছে গিয়ে বললাম, আমার দৃষ্টি ক্ষীণ হয়ে গেছে এবং আমার বাড়ি থেকে আমার গোত্রের মসজিদ পর্যন্ত পানি আমার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার একান্ত ইচ্ছা আপনি আমার বাড়িতে এসে এক জায়গায় নামাজ আদায় করবেন, যেটা আমি নামাজ আদায় করার জন্য নির্দিষ্ট করে নেব।

নবী (সা.) বললেন, ইনশাআল্লাহ আমি তা করব। পরদিন রোদের তেজ বৃদ্ধি পেলে আল্লাহর রাসুল (সা.) এবং আবু বকর (রা.) আমার বাড়িতে এলেন। নবী (সা.) প্রবেশের অনুমতি চাইলে আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি না বসেই বললেন, তোমার ঘরের কোন স্থানে তুমি আমার নামাজ আদায় পছন্দ করো? তিনি পছন্দমতো একটি স্থান নবী (সা.)-কে নামাজ আদায়ের জন্য ইঙ্গিত করে দেখালেন। অতঃপর তিনি দাঁড়ালেন, আমরাও তাঁর পেছনে কাতারে দাঁড়ালাম। অবশেষে তিনি সালাম ফিরালেন, আমরাও তাঁর সালামের সময় সালাম ফেরালাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৮৪০)

আমরা অনেক সময় ছেলেশিশুদের মসজিদে সঙ্গে নিয়ে যাই; কিন্তু মেয়েশিশুদের সঙ্গে নিই না। যদি আমাদের এ রকম ঘরোয়া মসজিদ থাকে তাহলে মেয়েশিশুরাও সেখানে গিয়ে নামাজ পড়তে অভ্যস্ত হবে। খুব অল্প সময়েই সে সেখানে গিয়ে ইবাদত করতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। আর এই ইবাদতের আবহে ঘরে তৈরি হবে মধুময় পরিবেশ।

তা ছাড়া ঘরের মধ্যে এসব নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গার বরকতে আল্লাহ তাআলা ঘরকে সব অনিষ্টতা থেকেও মুক্ত রাখবেন।

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ভ্রমণের সুন্নতগুলো

শেয়ার

কোরআন থেকে শিক্ষা

    পর্ব, ৭৩৩
শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ : ‘যারা কুফরি করে তাদের কাজ মরুভূমির মরীচিকাসদৃশ, পিপাসার্ত যাকে পানি মনে করে, কিন্তু সে তার কাছে উপস্থিত হলে দেখবে তা কিছু নয় এবং সে পাবে সেখানে আল্লাহকে, অতঃপর তিনি তার কর্মফল পূর্ণ মাত্রায় দেবেন। আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর। অথবা তাদের কাজ গভীর সমুদ্রতলের অন্ধকারসদৃশ, যাকে আচ্ছন্ন করে তরঙ্গের ওপর তরঙ্গ, যার ঊর্ধ্বে মেঘপুঞ্জ, অন্ধকারপুঞ্জ স্তরের ওপর স্তর...।’

(সুরা : নুর, আয়াত : ৩৯-৪০)

আয়াতদ্বয়ে পরকালের ব্যাপারে অবিশ্বাসীদের অসারতা তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. উপদেশ প্রদানে কোরআনের রীতি হলো সুসংবাদ ও হুঁশিয়ারি পাশাপাশি নিয়ে আসা। যেন মানুষের ভেতর আশা বা ভয় কোনোটাই প্রবল না হয়।

২. পরকালের ব্যাপারে অবিশ্বাসীদের প্রত্যাশা মিথ্যা ও মূল্যহীন। পরকালে তাদের কোনো প্রাপ্য নেই।

৩. অবিশ্বাসীদের ভালো কাজগুলো মরীচিকার মতো নিষ্ফল ও বিভ্রম মাত্র, যা দূর থেকে পানি মনে হলেও প্রকৃত পক্ষে পানি নয়। (আত-তাহরির ওয়াত তানভির : ৩৯-৪০)

৪. তিন জিনিসের অভাবে মানুষের আমল নিষ্ফল হয় : ক. ঈমান, খ. ইখলাস বা নিষ্ঠা, গ. শরিয়তের অনুসরণ।

৫. ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘তরঙ্গ আচ্ছন্ন করে’ বাক্য দ্বারা অবিশ্বাসীদের অন্তর, চোখ ও কানের ওপর বিরাজমান পর্দা উদ্দেশ্য।

  (তাফসিরে ইবনে কাসির : ৮/১৩৪)

 

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

শবেকদরে পড়ার দোয়া

শেয়ার
শবেকদরে পড়ার দোয়া

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন কারিম, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা‘ফু আন্নি।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! তুমি সম্মানিত ক্ষমাকারী, তুমি ক্ষমা করতেই পছন্দ করো। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও।

সূত্র : আয়েশা (রা.) বলেন, আমি একদিন আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি আমি ‘লাইলাতুল কদর’ জানতে পারি তাহলে সে রাতে কী বলব? তখন তিনি তাঁকে এই দোয়া শিক্ষা দেন।

(তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১৩)

 

হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনায় এসেছে,

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা‘ফু আন্নি।

অনুবাদ : হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, তুমি ক্ষমা করতেই ভালোবাসো, অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দাও। (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৩৮৫০)

 

 

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
পর্ব : ২৬

তারাবিতে কোরআনের বার্তা

শেয়ার
তারাবিতে কোরআনের বার্তা

সুরা ফাতাহ

আলোচ্য সুরায় প্রধানত হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। মক্কার কুরাইশদের সঙ্গে মুসলমানদের ঐতিহাসিক এই সন্ধি হয়েছিল। এরপর কাফিরদের জন্য জাহান্নামের এবং ঈমানদারদের জন্য জান্নাতের ওয়াদা করা হয়েছে। পরে বাইআতে রিদওয়ান সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

তিনটি কথার মাধ্যমে সুরাটি শেষ হয়েছে : এক. ইসলাম এসেছে বিজয়ী হওয়ার জন্য, দুই. ঈমানদাররা পরস্পরের ওপর সদয়, তিন. ঈমানদারদের জন্য আছে ক্ষমা ও উত্তম প্রতিদান।

 

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. বিজয় আল্লাহর অনুগ্রহ। (আয়াত : ১-২)

২. আল্লাহর ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ কোরো না। (আয়াত : ৬)

৩. সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো।

(আয়াত : ৯)

৪. দ্বিনের কাজে পিছিয়ে থেকো না। (আয়াত : ১১)

৫. আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করো।

(আয়াত : ১৭)

৬. মানুষকে মসজিদে যেতে বাধা দিয়ো না।

(আয়াত : ২৫)

৭. যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে মানুষকে রক্ষা করো।

(আয়াত : ২৫)

৮. গোত্রীয় অহমিকা পরিহারযোগ্য। (আয়াত : ২৬)

৯. পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল হও। (আয়াত : ২৯)

১০. সিজদার চিহ্ন মুমিনের গৌরব। (আয়াত : ২৯)

 

সুরা হুজুরাত

এ সুরায় মুসলমানদের আদব-কায়দা, শিষ্টাচার ও আচরণ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংবাদ যাচাই-বাছাই করেই গ্রহণ করতে হবে।

মুসলমানদের একে অপরকে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা, বদনাম ও উপহাস করা, খারাপ নামে আখ্যায়িত করা, খারাপ ধারণা পোষণ করা, অন্যের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করা ইত্যাদি গুনাহের কাজ থেকে বেঁচে থাকতে বলা হয়েছে। এগুলো সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করে।

 

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. দ্বিনের পথে অগ্রগামীরাই সিদ্ধান্ত নেবে।

(আয়াত : ১)

২. বড়দের সামনে উচ্চকণ্ঠ হয়ো না। (আয়াত : ২)

৩. সাহাবায়ে কিরাম (রা.) ক্ষমাপ্রাপ্ত। (আয়াত : ৩)

৪. প্রচারের আগে সংবাদ যাচাই করো। (আয়াত : ৬)

৫. মানুষের বিবাদ মিটিয়ে দাও। (আয়াত : ৯)

৬. কাউকে নিয়ে উপহাস কোরো না। (আয়াত : ১১)

৭. কাউকে মন্দ নামে ডেকো না। (আয়াত : ১১)

৮. খারাপ ধারণা ও গিবত থেকে বেঁচে থেকো।

(আয়াত : ১২)

৯. আল্লাহভীতি সম্মানের মাপকাঠি। (আয়াত : ১৩)

১০. মৌখিক দাবি ঈমান গ্রহণযোগ্য হওয়ার পক্ষে যথেষ্ট নয়। (আয়াত : ১৪)

 

সুরা কাফ

আলোচ্য সুরায় কাফিরদের ঈমানবিমুখতা সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের কথা খণ্ডন করা হয়েছে, যারা পুনরুত্থানে বিশ্বাস করে না। পরে সৃষ্টিজগতের বিভিন্ন বস্তুর কথা তুলে ধরে আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ দেওয়া হয়েছে। অতীতের পাপীদের কিছু উদাহরণ আনা হয়েছে। যারা আল্লাহর আজাবকে ভয় করে, তাদের কোরআনের মাধ্যমে সতর্ক করার নির্দেশ দিয়ে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

 

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. সত্য স্পষ্ট হওয়ার পর তা প্রত্যাখ্যান কোরো না। (আয়াত : ৫)

২. আল্লাহ মানুষের সন্নিকটে উপস্থিত। (আয়াত : ১৬)

৩. মানুষের সব কথাই লিপিবদ্ধ হয়। (আয়াত : ১৮)

৪. মৃত্যু অবধারিত। (আয়াত : ১৯)

৫. অতৃপ্তি জাহান্নামের বৈশিষ্ট্য। (আয়াত : ৩০)

৬. আল্লাহমুখী মানুষের জন্য জান্নাত। (আয়াত : ৩২)

৭. আল্লাহকে ভয় করো। (আয়াত : ৩৩-৩৪)

 

সুরা জারিয়াত

আলোচ্য সুরায় আল্লাহর ওয়াদা সত্য হওয়ার কিছু নজির তুলে ধরা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন নবীর ঘটনা বর্ণনা করে দেখানো হয়েছে যে যুগে যুগে আল্লাহর আজাবের ওয়াদা সত্য হয়েছে। কিয়ামতের বর্ণনার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। সুরার শেষের দিকে বলা হয়েছে, মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর পরিচয় লাভের জন্য, তাঁর ইবাদতের জন্য।

 

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. মিথ্যাচারীরা আল্লাহর দরবারে অভিশপ্ত।

(আয়াত : ১০-১১)

২. তাহাজ্জুদ আল্লাহর প্রিয় আমল। (আয়াত : ১৭-১৮)

৩. ধনীর সম্পদে গরিবের অধিকার রয়েছে।

(আয়াত : ১৯)

৪. সালাম দ্বারা পরস্পরকে অভিনন্দিত করো।

(আয়াত : ২৫)

৫. আল্লাহ বন্ধ্যা নারীকেও সন্তান দিতে পারেন।

(আয়াত : ২৯-৩০)

৬. অভিশপ্ত জাতিদের দেখে শিক্ষা নাও। (আয়াত : ৩৭)

৭. ক্ষমতার দম্ভে সত্যবিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ৩৯)

৮. দ্বিন প্রচারকরা সমালোচনা উপেক্ষা করবে।

(আয়াত : ৫৪-৫৫)

 

সুরা তুর

আলোচ্য সুরায় বিভিন্ন বিষয়ের কসম খেয়ে সেই ওয়াদার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর প্রতি দ্বীন প্রচারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। কাফিরদের অপপ্রচারে কান দিতে নিষেধ করা হয়েছে। মহানবী (সা.)-এর প্রতি ধৈর্যের উপদেশ দিয়ে সুরাটি শেষ হয়েছে।

 

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. অর্থহীন কথা ও কাজ পরিহার করো।

(আয়াত : ১১-১২)

২. জাহান্নামিদের অপমানের সঙ্গে হাজির করা হবে। (আয়াত : ১৩-১৪)

৩. কোরআন সব সংশয়ের ঊর্ধ্বে। (আয়াত : ৩৩-৩৪)

 

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ