ঢাকায় একটি স্থায়ী ঠিকানা হবে—এমন স্বপ্ন সবারই থাকে। তাই সাধ আর সাধ্যমতো পছন্দের ফ্ল্যাট খুঁজতে অনেকেই ভিড় করেছেন রিহ্যাব আয়োজিত আবাসন মেলায়। এই মেলা একই ছাতার নিচে প্লট-ফ্ল্যাট, নির্মাণসামগ্রী এবং ঋণ সুবিধার এক অপূর্ব সুযোগ তৈরি করেছে। মেলায় বেশির ভাগ ক্রেতাই ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্ল্যাট খুঁজছেন, বিশেষ করে এক হাজার ১০০ থেকে এক হাজার ৫০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট।
ঢাকায় রিহ্যাব আবাসন মেলা
ফ্ল্যাটে আকর্ষণ মধ্যবিত্তের
- ♦ ক্রেতারা ১১০০ থেকে ১৫০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট বেশি খুঁজছেন, দাম ৭০ লাখ থেকে দেড় কোটি টাকা
- ♦ চাহিদা বেশি থাকায় আবাসন প্রতিষ্ঠানের কাছেও ছোট-মাঝারি ফ্ল্যাটের সংখ্যাই বেশি
সজীব আহমেদ

সরেজমিনে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘রিহ্যাব ফেয়ার ২০২১’ ঘুরে দেখা যায়, গত শুক্রবার ছুটির দিনে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড়ে মেলা ছিল জমজমাট।
মেলায় শুধু প্লট বা ফ্ল্যাটে মূল্যছাড় নয়, ঋণের ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা মিলছে। বাড়ি নির্মাণ, ফ্ল্যাট ও প্লট কিনতে গৃহঋণে বিশেষ অফার দিচ্ছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
এদিকে মেলার সময় যত বাড়ছে আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিক্রিও তত বাড়ছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, অনেক ক্রেতাই মেলায় এসে ফ্ল্যাটের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং পছন্দ হলে সরেজমিনে প্রকল্প দেখতে যাচ্ছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই বুকিং দিচ্ছেন।
রিহ্যাবের মেলায় সাধ্যের মধ্যে ফ্ল্যাট খুঁজতে এসেছেন হুমায়ুন কবীর। রাজধানীতে তাঁর একটি ফ্ল্যাট থাকবে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
মিরপুর এলাকায় এক হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি ছোট ফ্ল্যাট কেনার জন্য খোঁজ নিতে এসেছেন আবুল কালাম আজাদ। তিনি ইলেকট্রিক ঠিকাদারি করেন। আবুল কালাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মিরপুরে আমার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, একই এলাকায় ছেলের জন্য ৬০ লাখ টাকার মধ্যে ছোট ফ্ল্যাট খুঁজছি।’
হুমায়ুন কবীর ও আবুল কালামের মতো অনেকেই মেলায় ঘুরে বিভিন্ন প্লট ও ফ্ল্যাটের খোঁজ নিচ্ছেন। কেউ বা এসেছেন পছন্দ অনুযায়ী জায়গা কিনতে।
মেলায় বিভিন্ন আকারের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে ‘এনা প্রোপারটিজ’। এই আবাসন প্রতিষ্ঠানের এক হাজার ১০০ থেকে দুই হাজার ৭০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে এক হাজার ১০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট ৬৫ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরে এক হাজার ৪০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এক কোটি টাকায় বিক্রি করছে। দক্ষিণ বাড্ডায় এক হাজার ৬৬৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এক কোটি ৫৫ লাখ টাকায় বিক্রি করছে। সেন্ট্রাল রোডে দুই হাজার ৭০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট দুই কোটি টাকায় বিক্রি করছে। এ ছাড়া দুই হাজার থেকে ১৩ হাজার ২৭৫ বর্গফুটের কমার্শিয়াল ফ্ল্যাট বিক্রি করছে এনা প্রোপারটিজ।
এনা প্রোপারটিজের সহকারী ব্যবস্থাপক লুত্ফুর রহমান আরিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গ্রাহকরা মেলায় ছোট ও মাঝারি ফ্ল্যাটগুলোর বেশি খোঁজ নিচ্ছে। আমাদের গাড়ি প্রস্তুত আছে, যাদের পছন্দ হচ্ছে তাদের তাৎক্ষণিক ফ্ল্যাট দেখাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’
মেলায় রেডি প্লট নিয়ে কো-স্পন্সর (সিএস) ব্লকের ১৭ নম্বরে রয়েছে বসুন্ধরা হাউজিং স্টল। বসুন্ধরার এই স্টলে ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভিড় সব সময় লেগেই থাকছে। ইস্ট ওয়েস্ট প্রপার্টিজ ডেভেলপমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) মো. জহিরুজ্জামান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবাসন খাতে বসুন্ধরার ব্যাপক সুনাম থাকায় যারা প্লটের খোঁজ নিতে এসেছে, তারা বিশেষ করে বসুন্ধরা হাউজিংয়ের স্টলে খোঁজ নিচ্ছে। আমরা এখন এন, এম ও এল ব্লকে কিছু প্লট বিক্রি করছি। প্রতি কাঠা ৫৫ লাখ থেকে ৮৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আমাদের প্লটের সাইজগুলোর মধ্যে রয়েছে তিন, চার ও পাঁচ কাঠা।’
মেলায় বিভিন্ন আকারের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে নাভানা রিয়েল এস্টেট। প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৩২৮ বর্গফুট থেকে পাঁচ হাজার ৭০০ বর্গফুট আয়তনের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে। মিরপুরে তারা এক হাজার ৩২৮ বর্গফুটের ছোট আকারের ফ্ল্যাট বিক্রি করছে ৮৫ লাখ টাকায়। এ ছাড়া মাঝারি ফ্ল্যাটের দাম দেড় কোটি টাকা।
নাভানা রিয়েল এস্টেটের সিনিয়র এজিএম জাকির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এবার মূলত মধ্যবিত্তদের ফোকাস করেই মেলায় অংশগ্রহণ করেছি। তাই মেলা উপলক্ষে আমাদের ছোট ও মাঝারি আকারের ফ্ল্যাটে দেড় লাখ টাকার নাভানা ফার্নিচার গিফট অফার রয়েছে।’
সম্পর্কিত খবর

শূন্য করের রিটার্ন কমাতে হবে : অর্থ উপদেষ্টা
অনলাইন ডেস্ক

অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘অনেকেই শূন্য করের রিটার্ন দেয়, তাদের আয় আছে কিন্তু তারা রিটার্ন দেয় না। এটা কমাতে হবে। ভ্যাটের ক্ষেত্রে আমরা একবারে সিঙ্গেল রেটে আসতে পারব না।’
আজ রবিবার সচিবালয়ে আইএমএফের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘আইএমএফের মূল কনসার্ন হলো রেভিনিউ জেনারেট ও বাজেটের আকার কত হবে, ডেফিসিট কত হবে, আপাতত এসব নিয়ে আলাপ হয়েছে। এসব নিয়ে সামনে আরো আলাপ হবে। বাংলাদেশের লোন রেভল্যুশন নিয়ে কথা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আইএমএফ বলেছে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। তবে সঠিক দিকেই আছে। সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, ‘রেভিনিউতে আমাদের লিকেজ আছে। সেটা কমাতে হবে। জিডিপির রেশিও কমাতে হবে।

দেশে রিজার্ভ বেড়ে ২৫.৬২ বিলিয়ন ডলার
অনলাইন ডেস্ক

দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫.৬২ বিলিয়ন ডলারে। রবিবার (৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি মাসের ৬ তারিখ পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৫৬২৫.৩৮ মিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২০৪৬০.৫২ মিলিয়ন বা ২ হাজার ৪৬ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার।
এর আগে মার্চ মাসের ২৭ তারিখ কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল, সেদিন পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৫৪৪০.৮৮ মিলিয়ন বা ২ হাজার ৫৪৪ কোটি ৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২০২৯৬.৯৩ মিলিয়ন বা ২ হাজার ২৯ কোটি ৬৯ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার।
এদিকে গত মার্চ মাসে দেশে এসেছে ৩২৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। যা দেশের ইতিহাসে কোনে এক মাসে সর্বোচ্চ।

সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়নি বৈঠকে
অনলাইন ডেস্ক

বোতলজাত সয়াবিনের দাম একলাফে লিটারে ১৮ টাকা বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা; আর খোলা সয়াবিনের দাম বাড়াতে চান লিটারে ১৩ টাকা। গত ২৭ মার্চ এই সিদ্ধান্তের কথা সরকারকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
আজ রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য (আইআইটি) দপ্তরের অতিরিক্ত সচিব আব্দুর রাজ্জাক গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা আজকের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি। তবে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে আরেকটি বৈঠক হবে।’
আগামী মঙ্গলবার আবারও ভোজ্য তেল পরিশোধন কারখানার মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে জানা গেছে।

বাংলাদেশে ব্যবসার অনুমোদন পেয়েছে স্টারলিংক
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম উপগ্রহভিত্তিক ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংককে বাংলাদেশে ব্যবসা করার জন্য অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)।
রবিবার (৬ এপ্রিল) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট সামিট-২০২৫’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এ কথা জানান।
বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কাজ করতে হলে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা) থেকে নিবন্ধন নিতে হয়।
তিনি বলেন, ‘গত মাসের ২৯ তারিখ আমরা অনুমোদন দিয়েছি।