মঙ্গলের নেছা শেষবার ছেলের মুখটা দেখেছিলেন ১৯৫০ সালের দিকে। এখন তিনি শতবর্ষী। সন্তানের বয়সও ৮০ পার। দীর্ঘ ৭০ বছর পর গতকাল শনিবার যখন সন্তানকে স্পর্শ করলেন, তখন মঙ্গলের নেছার বুকের ভেতরের অনুভূতিটা কেমন ছিল, তা বাইরে থেকে অনুভব করা অসম্ভব; অনুমান করাও কঠিন।
মায়ের বিশ্বাস মিথ্যা ছিল না
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

গতকাল সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাফবাদ গ্রামে মা-ছেলের ‘অপ্রত্যাশিত’ এই পুনঃস্পর্শের সময় আশপাশে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তাঁরাও যেন বহুকাল আগে হারিয়ে যাওয়া প্রিয় বস্তু ফিরে পাওয়ার আনন্দ অনুভব করছিলেন।
একটা সময় পর আনন্দাশ্রু সামলে নিয়ে মা মঙ্গলের নেছা বলেন, ‘কুদ্দুছ, আমার বিশ্বাস ছিল, তুই একদিন ফিরে আসবি।
আশ্রাফবাদ গ্রামে কুদ্দুছের বোন ঝরনা বেগমের বাড়ি। কুদ্দুছের পৈতৃক ভিটা পাশের নবীনগর উপজেলার বাড্ডা গ্রামে।
সাত বছর বয়সে কুদ্দুছ মুন্সির বাবা কালু মুন্সি মারা যান। এরপর মঙ্গলের নেছা লেখাপড়ার জন্য ১০ বছর বয়সী কুদ্দুছকে পাশের বাড়ির এক ব্যক্তির সঙ্গে রাজশাহী পাঠিয়ে দেন। সেখানে গিয়েই কুদ্দুছ হারিয়ে যান।
বাড্ডা গ্রামের সফিকুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি সিংশাইর গ্রামের এম কে আইয়ুব নামের এক ব্যক্তি ফেসবুকে কুদ্দুছ মিয়ার হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে একটি ভিডিও পোস্ট করেন। ওই ভিডিওর সূত্র ধরে নবীনগর গ্রামের কয়েকজন আইয়ুবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর তাঁরা গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে যান এবং ভিডিও কলে মায়ের সঙ্গে কুদ্দুছ মিয়ার কথা বলিয়ে দেন। তখন হাতের কাটা চিহ্ন দেখে ছেলেকে শনাক্ত করেন মা।
এম কে আইয়ুব বলেন, ‘আমার একটি ফেসবুক পোস্টের কারণে ৭০ বছর পর মা তাঁর ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন, এতেই আমার অনেক আনন্দ লাগছে।’
কুদ্দুছ মিয়ার ছেলে সোহেল মুন্সি বলেন, ‘কোনো দিন ভাবিনি আমার দাদিকে দেখতে পাব। আমার বাবা তাঁর মাকে ফিরে পাবেন।’
কুদ্দুছ মিয়া বলেন, ‘নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হচ্ছে। বাকি জীবনটা আমি মায়ের সঙ্গেই থাকব।’

শিশু ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে বৃদ্ধ আটক
ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে জামাল উদ্দিন (৫০) নামের এক বৃদ্ধকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ এপ্রিল) তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার দোকানে কিছু কিনতে গেলে ওই শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন জামাল। পরে ওই ছাত্রী ঘটনাটি তার পরিবারকে জানালে বিষয়টি স্থানীয় সমাজপতিদের অবগত করা হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে চার্জশিট এ মাসেই
তারা আরো জানায়, শনিবার রাতে এক সামাজিক বৈঠকে সমঝোতার চেষ্টা করে অভিযুক্তকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ বলেন, ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। রবিবার ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় মামলা করেন।

কুমিল্লায় নিখোঁজ ২ শিশুর লাশ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার

গলায় ফাঁস নিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে রিয়া বেগম (২৪) নামে এক গৃহবধূর গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মাফুজুর রহমান সজলকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ধর্মহাটি দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত গৃহবধূ রিয়া বেগম ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চিলারকান্দী গ্রামে মো. আরজু মল্লিকের মেয়ে।
থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের চিলারকান্দী গ্রামে মো. আরজুল মল্লিকের মেয়ে রিয়া বেগম (২৪) ও একই জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের ধর্মহাটি দক্ষিণপাড়া গ্রামের মো. নজরুল মোল্যার ছেলে মাহফুজুর রহমান সজলের (৩০) সাথে দুই বছর আগে বিয়ে হয়। রিয়ার স্বামী মাহফুজুর রহমান নারায়ণগঞ্জ জেলায় একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। সেই সুবাদে ছয় মাস আগে তার স্ত্রী রিয়াকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস শুরু করেন।
জানা গেছে, স্বামী মাহফুজুর নারায়নগঞ্জ না নিয়ে গ্রামের বাড়িতে স্ত্রী রিয়াকে রেখে যাবেন বলে জানায়। স্বামীর সাথে নারায়ণগঞ্জের বাসায় যাওয়া নিয়ে রবিবার দুপুরে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যে হয়। এ ঘটনার জের ধরে ওই দিন দুপুরে বসতঘরের আড়ার সাথে গলায় ফাঁস নেয়।
তবে নিহত গৃহবধুর মামা হাসান জানান, আমার ভাগনীর সাথে জামাইয়ের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে তাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখে গলায় ফাঁস দেওয়ার নাটক করেছে। আমাদের মেয়েকে ওরা মেরে ফেলেছে।
এ ব্যাপারে বোয়ালমারী থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, নিহত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞেসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

মায়ানমারের মাইন বিস্ফোরণে বাংলাদেশি জেলের পা বিচ্ছিন্ন
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদের মায়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে তোতার দ্বীপ নামক এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশি এক জেলের ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আহত জেলে উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আমতলী এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোহাম্মদ ফিরোজ (৩০)।
রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মাইন বিস্ফোরণে পা হারানো জেলে নাফ নদে মাছ শিকারে গিয়ে ভুলক্রমে মায়ানমার সীমান্তে ঢুকে পড়েন।
উখিয়ার ৬৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন জানান, রবিবার দুপুর ১টার দিকে ব্যাটালিয়নের আওতাধীন হোয়াইক্যং বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বিআরএম ১৮ হতে দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্বে শূন্য লাইন হতে আনুমানিক ১০০ গজ মায়ানমারের অভ্যন্তরে তোতার দ্বীপ নামক স্থানে জেলে মোহাম্মদ ফিরোজ মাছ শিকারে যান। এ সময় সেখানে আগে থেকে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে তার ডান বিচ্ছিন্ন হয়। পরে আশপাশের লোকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে আহত জেলে উখিয়া কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, ‘মাইন বিস্ফোরণে আহত ফিরোজ আমার এলাকার বাসিন্দা। তিনি নাফ নদে মাছ শিকার করতে গিয়ে এক পর্যায়ে মায়ানমারের অভ্যন্তরে তোতার দ্বীপ নামক এলাকায় ঢুকে পড়েন। এতে মাইন বিস্ফোরণে তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনে।

কুমিল্লায় নিখোঁজ ২ শিশুর লাশ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার
কুমিল্লা (উত্তর) প্রতিনিধি

কুমিল্লার হোমনায় তিতাস নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ মাহবুব (৯) ও মারিয়া আক্তার (১১) নামের দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে হোমনা পৌরসভার শ্রীমদ্দি গাঙ্গুলবাড়ী এলাকার তিতাস নদীর ঘাটের পাশে থাকা ড্রেজার ও ভাল্কহেডের পাশে কচুরিপানার নিচ থেকে নিখোঁজ মারিয়ার লাশ ও একই গ্রামের চরেরগাঁও এলাকা থেকে মাহবুবের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলো নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকার আলী নেওয়াজের মেয়ে মারিয়া আক্তার (১১) এবং গাজীপুর টঙ্গীর এলাকার মো. বিল্লাল হোসেনের ছেলে মাহবুব হোসেন (৯)।
মাহবুব গত শনিবার হোমনার শ্রীমদ্দী গ্রামে তার নানার বাড়ি ও মারিয়া আক্তার ঈদের দুই দিন পর ফুফাতো বোনের বাড়িতে বেড়াতে আসে।
স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানায়, মাহবুব শনিবার দিন নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে আত্মীয়-স্বজনরা ভেবেছিল মাহবুব হারিয়ে গেছে। সকালে মাটি কাটার লোক খালি নৌকা নিয়ে মাটি আনতে গেলে কচুরিপানার নিচে মাহবুবকে দেখতে পেয়ে তার মরদেহ ওপরে তোলে।
অন্যদিকে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মারিয়া আক্তারের মরদেহ তিতাস নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
হোমনা ফায়ার সার্ভিসের হাবিলদার দিদারুল আলম বলেন, ‘শনিবার খবর পেয়ে আমরা নদীতে খোঁজাখুঁজি করেছি। এরপর চাঁদপুর থেকে ডুবুরিদল এনে মারিয়াকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ডুবুরিদল চেষ্টা করে পায়নি। আমরা আশপাশে ৩ কিলোমিটার এলাকায় নৌকা দিয়ে খোঁজাখুঁজি করি, এক পর্যায়ে ঘাটের পাশে থাকা ড্রেজার ও ভাল্কহেডের এখানে কচুরিপানা পাশে মারিয়ার মরদেহ পাওয়া যায়।’
মাটি কাটার নৌকার আহম্মেদ নবী বলেন, ‘সকালে আমরা খালি নৌকা নিয়ে মাটি ভরাট করতে যাচ্ছিলাম।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ‘শনিবার দুই শিশু নিখোঁজ খবর পেয়ে আমাদের পুলিশ সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে গিয়েছিলেন। পরিবারে কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। শিশু দুটির মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’