ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

শিশুকে যেভাবে নিজের কাজে অভ্যস্ত করে তুলবেন

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
শিশুকে যেভাবে নিজের কাজে অভ্যস্ত করে তুলবেন

শিশুর বড় হওয়ার সময় তার নিজের কাজ নিজেকে করতে শেখাতে হবে। ঘরের নানা কাজেও তাকে সম্পৃক্ত করা গেলে সে স্বাবলম্বী হতে শিখবে। সানশাইন চাইল্ড ডে কেয়ার সেন্টারের পরিচালক ফারহানা আহমেদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন আতিফ আতাউর

মিরপুর থেকে উত্তরায় ননদের বাসায় বেড়াতে এসেছিলেন জাকিয়া পারভীন। সকালে ননদের তিন বছর বয়সী মেয়েকে একা ব্রাশ করতে দেখে ভালো লাগে তাঁর।

ননদকে বলেন, ‘এইটুকু মেয়ে তোমার, আর নিজ থেকেই দাঁত ব্রাশ করছে। আমার ছেলেকে তো এখনো আমাদের দাঁত ব্রাশ করিয়ে দিতে হয়।

অথচ দুজনের বয়স সমান।’ ভাবির মুখে মেয়ের প্রশংসা শুনে হাসি ফোটে ননদের মুখে।

অনেক পরিবারেই শিশুদের নিয়ে জাকিয়ার মতো অভিজ্ঞতা হয়। বয়স বাড়লেও অনেক কিছু নিজ থেকে করতে পারে না বা করতে চায়ও না। অনেক মাকে আদিখ্যেতা করে বলতে শোনা যায়, আমার মেয়েকে এখনো মুখে তুলে খাওয়াতে হয়! ও নিজের হাতে খেতেই চায় না। এগুলো সন্তানের জন্য মোটেও ভালো অভ্যাস নয়।

বরং সন্তান বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলাটা মা-বাবার কর্তব্য। সন্তান যত তাড়াতাড়ি স্বাবলম্বী হবে তা তার জন্য যেমন ভালো, তেমনি মা-বাবারও বাড়তি কাজ থেকে মুক্তি মিলবে। এ জন্য ছোট থেকেই শিশুকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

শিশু বসতে, হাঁটতে ও ধরতে পারা শেখার পর খেলনা দিয়েই শুরু হতে পারে শিশুর স্বাবলম্বী হওয়ার প্রথম পাঠ। চাকাযুক্ত খেলনা নিজ থেকে ঠেলে খেলা, সাইকেলে নিজে উঠে বসা, বাক্স থেকে পছন্দের খেলনা নিজে বের করে নেওয়া, পানির বোতল বা গ্লাস নিজে ধরে পান করা, নিজে নিজে ব্রাশ করা—এ রকম ছোট ছোট কাজ দিয়েই শিশুকে নিজের কাজ নিজে করতে শেখাতে হবে।

কোনো কিছু একবার করতে না চাইলে তাকে বারবার তা করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

শিশুর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টা করতে হবে। শিশুরা সাধারণত অনুকরণপ্রিয় হয়। বড়রা কী করছে, কিভাবে করছে সেটা তারা নিজেরাও করতে চায়। এ জন্য সন্তান নিজ থেকে কিছু করতে চাইলে তা যদি ক্ষতিকর না হয় তবে তাতে বাধা দেওয়া যাবে না।

শিশুর নিজের খাবার নিজে খাওয়া শেখাতে পরিবারের সবাই একসঙ্গে বসে খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। শিশুকে ডাইনিং টেবিলে বসতে উৎসাহিত করতে তার জন্য একটু উঁচু চেয়ার বানিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে সবার সঙ্গে বসে নিজেই নিজের খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে উঠবে তার মধ্যে।

শিশুর সঙ্গে গল্প করা, খেলাধুলা ও ভাবের আদান-প্রদান করতে হবে। এগুলো শিশুর সঠিক বিকাশে সাহায্য করবে। আপনি কোনো কাজে ব্যস্ত থাকলেও শিশুকে সঙ্গে নিতে পারেন। ঘরের কাজের সময় এটা-ওটা এগিয়ে দিতে বলুন। করতে করতে, দেখতে দেখতে একসময় নিজেও শিখে যাবে আপনার করা কাজ।

শিশু তার বয়স উপযোগী কোনো সমস্যার মুখোমুখি হলে নিজ থেকে সমাধান করে দেবেন না। আপনি যদি তার সমস্যা সমাধান করে দেন, তাহলে তার স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে দেরি হবে। তাই যেকোনো বিষয় সমস্যার মুখোমুখি হলে নিজ থেকে সমাধান করতে অনুপ্রেরণা দিতে হবে।

অনেক অভিভাবক শিশুকে টিভি বা মুঠোফোনে গেমস, কার্টুন ধরিয়ে দিয়ে নিশ্চিন্তে থাকেন, এমনটা করা যাবে না। শিশু কোনো প্রশ্ন করলে বা কোনো কিছু করতে চাইলে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেবেন না। প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।  

অনেক মা সন্তানকে এতটাই ভালোবাসেন ও প্রশ্রয় দেন যে তাকে সব কাজ থেকেই বিরত রাখেন। সন্তানের গোসল, দাঁত ব্রাশ, জামা-প্যান্ট পরানো, চুল আঁচড়ে দেওয়া থেকে শুরু করে স্কুলব্যাগ বহনের জন্য আলাদা লোক রাখেন। এগুলো শিশুর স্বাবলম্বী হয়ে গড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা। দৈনন্দিন কাজকর্ম যেমন—গোসল, দাঁত ব্রাশ, খাওয়াদাওয়া, পোশাক পরা, জুতা পরা, জুতার ফিতা বাঁধা, ব্যাগ গোছানোর মতো কাজে শিশুকে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু পুরোটাই করে দেবেন না। এতে তার মধ্যে স্বাবলম্বী হওয়ার প্রবণতা তৈরিতে দেরি হবে।  

কেউ কেউ খুব ছোট বয়স থেকেই শিশুকে বই পড়া, নাচ-গান, ছবি আঁকা, আবৃত্তিতে পারদর্শী করে তুলতে অস্থির হয়ে পড়েন। অনেক মা-বাবা একেবারে কম বয়সেই শিশুকে স্বাবলম্বী করে তুলতে চান। এটাও উচিত নয়। শিশুকে সময় দিতে হবে। কোনো কিছুতে জোরাজুরি করা যাবে না। ধৈর্য সহকারে শিশুকে সময় দিয়ে সব কিছু শেখাতে হবে। শিশু কোনো কিছু নিজ থেকে করতে পারলে তার স্বীকৃতি চায়। তার কাজের প্রশংসা করতে হবে। পুরস্কৃত করতে হবে। তাহলেই শিশু সহজে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে।

 

মন্তব্য

গরমে বিছানা ঠাণ্ডা রাখবেন যেভাবে

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
গরমে বিছানা ঠাণ্ডা রাখবেন যেভাবে
সংগৃহীত ছবি

গ্রীষ্ম না আসতেই তীব্র গরম পড়তে শুরু করেছে। রোদের তাপে তেতে থাকছে বাড়িঘর। ফলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তেতে থাকছে ঘরের বিছানাও। অনেকের বাড়িতে এসি থাকলেও এখনো সবার এসি কেনার সামর্থ্য হয়নি।

তার ওপর লোডশেডিং তো আছেই। তাহলে উপায়? এই চরম গরমে বিছানা ঠাণ্ডা রাখার উপায় নিয়েই আজকের প্রতিবেদন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক।

গরমে বিছানাকে ঠাণ্ডা করে রাখবেন যেভাবে

কুলিং কম্বল

বিছানা ঠাণ্ডা রাখতে ভরসা রাখতে পারেন কুলিং কম্বলে।

পাতলা কম্বলের একপাশে শীতলীকরণ অংশ, অন্যপাশে সুতির কাপড়। এই কম্বল ঘুমানোর সময় শরীরের তাপমাত্রা অনেকটা কমিয়ে আনতে পারে। বিছানার অতিরিক্ত তাপ শুষে নেয়। অনলাইনে পেয়ে যাবেন এসব কুলিং কম্বল।

আরো পড়ুন
গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কী খাবেন

গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কী খাবেন

 

কুলিং ম্যাট্রেস প্যাড

খুব হালকা কাপড়ে তৈরি, বিছানা ঠাণ্ডা করতে ব্যবহৃত হয় কুলিং ম্যাট্রেস প্যাড। এটি সহজেই বিছানায় সেট করা যায়। দরকার মতো ওয়াশিং মেশিনেও পরিষ্কার করা যায়। রাতভর এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রা বুঝে বিছানা শীতল করবে, এমনকি এটি ‘ময়েশ্চার উইকেনি’ পদ্ধতিতে ঘামও শুষে নেয়।

পর্দা বন্ধ রাখুন

ঘরের মধ্যে সহজে যাতে রোদ প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ঘর দিনের বেলা ঘরের পর্দাগুলো বন্ধ রাখুন।

বিছানায় তোশকের ওপর শীতলপাটি পেতে রাখতে পারেন। গরমের দিনে সাদা, হলুদ, আকাশি, হালকা সবুজ রঙের সুতির চাদর বিছানায় রাখুন।

আরো পড়ুন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

 

সূত্র : টিভি ৯ বাংলা

মন্তব্য

গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কী খাবেন

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কী খাবেন
সংগৃহীত ছবি

ঋতুর হিসেব মতো এখনো বসন্তকাল চলছে। কিন্তু বাইরের রোদ দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। গরমে একদিকে যেমন পানিশূন্যতা কিংবা ত্বকের ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনই বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাও। তাই গরমকালে এমন কিছু খাবার খাওয়া বাঞ্ছনীয়, যেগুলো হার্টকে ভালো রাখবে।

তেমনই একটি খাবার হলো টমেটো। গরমকালে টমেটো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া আর কী উপকারে আসে এই টমেটো, চলুন জেনে নেওয়া যাক।

শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে

গরমকালে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়, যার ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।

টমেটোর মধ্যে প্রায় ৯৫% পানি থাকে। তাই গরমকালে টমেটো খেলে শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি কমে। এটি শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

 

ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে

গরমকালে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি হয়।

দেখা দিতে পারে সানবার্ন, ট্যানিং ও ত্বকের কোষ নষ্ট হওয়ার মতো সমস্যাও। টমেটোর মধ্যে লাইকোপিন নামক একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে। এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বকের কোষকে সূর্যের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখে। নিয়মিত টমেটো খেলে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা যেমন ব্রণ ও কালো দাগ কমে যায়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

গরমকালে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও রোগের প্রকোপ বাড়ে।

টমেটো ভিটামিন সি ও অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। ভিটামিন সি আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরকে বিভিন্ন সংক্রমণ ও রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সক্ষম করে তোলে। নিয়মিত টমেটো খেলে শরীর দুর্বল হওয়া বা ক্লান্ত লাগার মতো সমস্যাও কমে।

আরো পড়ুন
ঈদ আপ্যায়নে রাখুন ভিন্ন স্বাদের স্ন্যাকস

ঈদ আপ্যায়নে রাখুন ভিন্ন স্বাদের স্ন্যাকস

 

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়

টমেটোর মধ্যে পটাশিয়াম ও লাইকোপিন থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লাইকোপিন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। অনেকের অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।

হজমক্ষমতা বাড়ায়

গরমকালে অনেক সময় হজমের সমস্যা দেখা দেয়। টমেটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া টমেটোর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক এসিড খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।

আরো পড়ুন
চোখের যে সমস্যা বলে দেবে ডায়াবেটিসের লক্ষণ

চোখের যে সমস্যা বলে দেবে ডায়াবেটিসের লক্ষণ

 

সূত্র : আজকাল

মন্তব্য

পুরনো বন্ধুত্ব ভাঙা কখন ইতিবাচক? কখন আবার বন্ধুত্বে ফিরবেন

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
পুরনো বন্ধুত্ব ভাঙা কখন ইতিবাচক? কখন আবার বন্ধুত্বে ফিরবেন
সংগৃহীত ছবি

সিনেমা, গান, আর বইয়ের মাধ্যমে প্রেমের বিচ্ছেদ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই দেখি বা শুনি। কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদ নিয়ে আমরা খুব কিছু দেখি না। প্রেমের সম্পর্কের সমাপ্তি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না।

ইতিহাসের দিকে তাকালেও দেখা যায়, অন্যান্য সম্পর্কের তুলনায় বন্ধুত্ব নিয়ে গবেষণা খুব কম হয়েছে।

অথচ আমাদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক প্রশান্তি ও জীবনকে আরো পরিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব একটি বিশাল ভূমিকা রাখে।

ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সামাজিক মনস্তত্ত্ব গবেষক গ্রেস ভেইথ বন্ধুত্বের ভাঙন নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়তো অবাক হবে যে বন্ধুত্ব কিভাবে শেষ হয়! গবেষকরা এখন কেবল তা নিয়ে ভাবা শুরু করেছেন। এই বিষয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

আরো পড়ুন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

 

মিজ ভেইথ মনে করেন, বন্ধুত্বের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা কম হওয়ার কারণে মানুষ এতে খুব বেশি অনিশ্চয়তায় পড়ে। তারা বুঝতে পারে না যে এই ভাঙনকে তারা কিভাবে সামলাবেন, বা ভাঙনের পর যে আবেগীয় অনুভূতি তৈরি হয়, সেগুলোর সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নেবেন। তবে, বন্ধুত্ব শেষ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধারা বা নিয়ম নেই।

বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী?

নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ, কোর্টল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কেইটালিন ফ্ল্যানেরি বলেন, ‘আমাদের জীবনের প্রথম সম্পর্ক তৈরি হয় আমাদের মা-বাবা বা যারা আমাদের বড় করেন তাদের সঙ্গে।

কিন্তু কিশোর বয়সে প্রবেশ করলে, আমাদের গুরুত্ব চলে যায় সমবয়সীদের দিকে। তখন সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আর মর্যাদাই প্রধান হয়ে ওঠে।’

তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমাদের সারা জীবন ধরে নিজেদের পরিচয় গড়তে সাহায্য করে। তারা আমাদের জন্য একধরনের আয়না ও পথপ্রদর্শক। একই সঙ্গে, আমরা তাদের কাছ থেকে স্বীকৃতিও চাই।

এ কারণেই সামাজিক সমর্থন, আনন্দ, আর সঙ্গ পাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে ওঠে বন্ধুত্ব।’

আরো পড়ুন
ঈদ আপ্যায়নে রাখুন ভিন্ন স্বাদের স্ন্যাকস

ঈদ আপ্যায়নে রাখুন ভিন্ন স্বাদের স্ন্যাকস

 

গ্রেস ভেইথ উল্লেখ করেন, বন্ধুত্বের শুরুটা সাধারণত পরস্পরের মধ্যকার মিল এবং একে অপরের কাছাকাছি থাকার ভিত্তিতে হয়।

বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া নিয়ে যেসব গবেষণা করা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে শিশু ও কিশোরদের ওপর। কারণ এই বয়সে বন্ধুত্বের ভাঙন খুব সাধারণ ব্যাপার।

মিজ ফ্ল্যানেরির এক গবেষণায় ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩৫৪ জন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো না কোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ করেছে।

বেশির ভাগই বন্ধুত্ব ভাঙার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঝগড়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। অন্যরা বলেছে, বন্ধুর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়া বা সঙ্গ উপভোগ না করাই বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার কারণ।

আরো পড়ুন
ঈদ আতিথেয়তা জমবে ভিন্ন স্বাদের কাবাবে

ঈদ আতিথেয়তা জমবে ভিন্ন স্বাদের কাবাবে

 

বন্ধুত্ব ভাঙার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকের কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন মিশ্র অনুভূতির মুখোমুখি হয়েছে। তাদের মনে দুঃখ ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে তারা কেউ কেউ স্বস্তি বা আনন্দও অনুভব করেছে। তবে এটি নির্ভর করেছে বিচ্ছেদের কারণ, কিভাবে তা ঘটেছে, এবং কে সে সম্পর্ক শেষ করেছে তার ওপর।

কিছু ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব একেবারে শেষ না হয়ে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ থেকে ‘সাধারণ বন্ধু’ পর্যায়ে নেমে আসে।

মিজ ভেইথ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি মেনে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ যে বন্ধুত্ব ভাঙাটা জীবনেরই একটি অংশ এবং এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে এটি বন্ধুদের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং বন্ধুরা কতটা কাছের এবং গ্রহণযোগ্য, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখানে।’

সব বন্ধুত্বের ভাঙন বেদনাদায়ক বা নাটকীয় হয় না। কখনো কখনো সম্পর্ক ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। উনিশ শত আশির দশকের এক গবেষণায় ২০ থেকে ২৮ বছর বয়সী ৯০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে দেখা যায়, একই লিঙ্গের বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার পাঁচটি প্রধান কারণ ছিল।

সেগুলো হলো– দূরত্ব বেড়ে যাওয়া, বন্ধুকে আর পছন্দ না করা, যোগাযোগ কমে যাওয়া, অন্য সম্পর্কের (যেমন, ডেটিং বা বিয়ে) প্রভাব, এবং সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে মলিন হওয়া।

আরো পড়ুন
সম্পর্কের ভীত মজবুত হতে পারে যে তিন গুণে

সম্পর্কের ভীত মজবুত হতে পারে যে তিন গুণে

 

সাধারণ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দূরত্ব বেশি প্রভাব ফেললেও ঘনিষ্ঠ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুত্বগুলো সাধারণত যোগাযোগের অভাব বা অন্য সম্পর্কের প্রভাবের কারণে শেষ হয়।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী বন্ধুত্বগুলো জীবনের এইসব পরিবর্তনের মাঝেও টিকে থাকে। মিজ ভেইথ বলেন, ‘যখনই আমি কোনো বন্ধুত্বের সমাপ্তি দেখি, সেখানে এমন অনেক দিক পাই যা বন্ধুত্বকে প্রভাবিত করে। কিন্তু পাশাপাশি এমন উদাহরণও অনেক আছে যেখানে জীবনের নানা ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বন্ধুত্ব আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।’

সারাজীবনের বন্ধুর অন্যদিক

বন্ধুত্ব থেকে প্রত্যাশা ও বন্ধুত্ব ভাঙার কারণগুলো লিঙ্গভেদে ভিন্ন হতে পারে। এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ (৬৬ শতাংশ) আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে তাদের প্রায় সব ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাদেরই লিঙ্গের। এই ধারণা পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি।

উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়ে মেয়েদের বন্ধুত্ব সাধারণত মানসিক নির্ভরতা ও ঘনিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তবে ছেলেদের বন্ধুত্ব মূলত বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।

আরো পড়ুন
বন্ধুত্বের নজির, প্রতিদিন স্কুলে উড়ে আসে শালিক পাখিটি

বন্ধুত্বের নজির, প্রতিদিন স্কুলে উড়ে আসে শালিক পাখিটি

 

বন্ধুত্ব গঠনের প্রেক্ষাপটেও লিঙ্গভেদে পার্থক্য রয়েছে। নারীরা সাধারণত একাধিক, ঘনিষ্ঠ, একজন বন্ধুর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক গড়ে তোলে। অন্যদিকে, পুরুষদের বন্ধুত্ব নেটওয়ার্কভিত্তিক হয়। তারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু। ফলে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে বেশি সময় ব্যয় করে বলে মনে করেন কেইটলিন ফ্ল্যানেরি।

এ কারণে নারীদের বন্ধুত্বে ঝগড়া বা বিরোধ হলে তা অনেক বেশি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। মিজ ফ্ল্যানেরি বলেন, নারীরা সাধারণত বন্ধুত্বে বিশ্বস্ততা আর মানসিক সমর্থনের ক্ষেত্রে বেশি উচ্চমান ধরে রাখে। আর যখন কোনো বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়, তখন তারা ছেলেদের তুলনায় বেশি দুঃখ, একাকিত্ব, মানসিক চাপে ভোগে এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা ঝগড়ার পর পুরুষদের তুলনায় বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে বেশি সময় নেয়। তাদের রাগও দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।

নারী ও পুরুষভেদে বন্ধুত্ব ভাঙার কারণগুলোও ভিন্ন হতে পারে। মিডওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের বন্ধুত্ব বেশি ভেঙে যায় শারীরিক দূরত্বের কারণে। অন্যদিকে, নারীদের বন্ধুত্বে বাধা তৈরি করে ডেটিং বা বিয়ের মতো বিষয়গুলো।

আরো পড়ুন
সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়াতে যা করবেন

সম্পর্কের স্থায়িত্ব বাড়াতে যা করবেন

 

বন্ধুত্ব ভাঙ্গা কখন ইতিবাচক হতে পারে

ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হবে—এই আশা নিয়ে কি সম্পর্ক ধরে রাখা উচিত? এর উত্তরে মিজ ভেইথ ও মিজ ফ্ল্যানেরি বলছেন, তার কোনো প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো ছেড়ে দেওয়া ভালো। যেমন, একটি বিষাক্ত (টক্সিক) বন্ধুত্ব শেষ করলে ভালো কিছু হতে পারে।

মিজ ফ্ল্যানেরি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বন্ধুত্বকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সব বন্ধুত্ব কিন্তু আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বেশিরভাগ সময় এর ভালো দিক আছে। তবে আমাদের এমন বন্ধুদেরই বেছে নেওয়া উচিত, যারা আমাদের সাহায্য করবে।’

কিছু বন্ধুত্ব আমাদের ভালো অনুভব করায়, আবার কিছু আমাদের ক্লান্ত আর হতাশ করে। তবে বন্ধুত্ব শেষ করার আরেকটি চ্যালেঞ্জ– কাউকে আঘাত না দিয়ে এটি শেষ করা। এমনটাই মনে করেন তারা।

একটি বিতর্কিত কিন্তু সাধারণ পদ্ধতি হলো ‘ঘোস্টিং’। এটি ডেটিংয়ের জগতে পরিচিত একটি শব্দ। কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক শেষ করতে তাদের থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া হয়, যাতে অপরদিকের মানুষটির মুখোমুখি হতে না হয়। বর্তমানে বন্ধুত্ব শেষ করতেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।

১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকদের ওপর করা এক গবেষণায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা কেন তাদের বন্ধুত্ব শেষ করেছে?

তাদের বলা কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— বিষাক্ত সম্পর্ক, আগ্রহ হারানো, বিরক্তিকর লাগা, নিজেকে রক্ষা করা এবং কখনো কখনো সীমা অতিক্রম করা।

আরো পড়ুন
বিশ্বজুড়ে ঈদের জনপ্রিয় খাবার

বিশ্বজুড়ে ঈদের জনপ্রিয় খাবার

 

অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সময়কাল দীর্ঘ ছিল। কিন্তু এটি ‘ধীরে ধীরে ঘোস্টিং’-এর প্রবণতাকে আটকাতে পারেনি। অর্থাৎ, তারা হঠাৎ করে সম্পর্ক না ভেঙ্গে ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছে।

যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, তারা ‘দুঃখিত, হতাশ, আহত’ হয়েছে। কিন্তু তবুও তারা এটিকে নিজেদের সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেখেছে। তারা মনে করেছে, এই টক্সিক বন্ধুত্বের বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করা হলেও তা শেষমেশ কোনো কাজে আসবে না।

তবে মিজ ভেইথ একটি ভিন্ন, সম্ভবত আরো ভালো পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো– বন্ধুত্ব বজায় রাখা ও মজবুত করার উপায় শেখা এবং ঝগড়া বা মতবিরোধের মোকাবিলা করা।

আরো পড়ুন
শহর ও গ্রামের ঈদ : সংস্কৃতির পার্থক্য

শহর ও গ্রামের ঈদ : সংস্কৃতির পার্থক্য

 

‘অনেক মানুষ রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মনে করেন, ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়া জরুরি। এটি আমরা স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আমরা চাই, সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলুক। আর তা না হলে আমরা সহজেই হাল ছেড়ে দিই। অনেকেই মনে করেন, বন্ধুত্ব মানেই তা সহজ, আনন্দময়, মজাদার হওয়া উচিত। এটি সত্যি। কিন্তু এর ফলে অনেক সময় ধারণা জন্মায় যে বন্ধুত্বের ঝগড়া মেটানোটা প্রয়োজনীয় নয়।’

রোমান্টিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বে একই ধরনের আবেগীয় অনুভূতি থাকে। যেমন– উষ্ণতা আর আনন্দ। তবে এই দুইয়ের মাঝে একটি বড় পার্থক্য হলো, রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একগামিতা প্রত্যাশা করা হয়। যদিও এটি সংস্কৃতি বা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে বন্ধুত্বে একগামিতার কোনো প্রত্যাশা নেই। ফলে মাঝে মাঝে জটিলতা তৈরি হয়। যেমন, খুব কাছের কোনো বন্ধুর যদি অন্য কোনো বন্ধু থাকে, তখন ঈর্ষা অনুভব হতে পারে।

এক্ষেত্রে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, অন্য বন্ধুরা থাকলেও আপনার বন্ধুত্ব হুমকির মুখে পড়বে না। বন্ধুত্বের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রচুর সময় আর মনোযোগ নিয়ে থাকে।

আরো পড়ুন
ঈদ যেন স্বজনদের মিলনমেলা

ঈদ যেন স্বজনদের মিলনমেলা

 

একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকা একটি পরিপূর্ণ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের অনেক সময়েই বন্ধুরা সেই স্থিতি ও সমর্থন দিতে পারে, যা শুধু বিয়েতে পাওয়া যায়। রোমান্টিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ হওয়া এবং পরে ভেবে-চিন্তে আবার একসঙ্গে হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।

তাহলে কি আমরা পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন বা তাদেরকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবতে পারি? মিজ ফ্ল্যানেরি বলছেন, এটি নির্ভর করে বন্ধুত্বের ধরনের ওপর। ‘আমার মনে হয়, কিছু ক্ষেত্রে সেই বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আবার কিছু ক্ষেত্রে সেটি না মেটানোই ভালো।

‘এটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনি কি সেই বন্ধুত্ব শেষ হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন? সেই সম্পর্ক কি আপনার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে? যদি আপনার মনে হয় যে আপনি সত্যিই সেই বন্ধুত্বকে মিস করছেন, তাহলে সেটি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।’

আরো পড়ুন
আধুনিক যুগে সম্পর্কের তৃতীয় ব্যক্তি কে?

আধুনিক যুগে সম্পর্কের তৃতীয় ব্যক্তি কে?

 

সূত্র : বিবিসি বাংলা

মন্তব্য

সাপ্লিমেন্টের বিকল্প হতে পারে যেসব খাবার

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
সাপ্লিমেন্টের বিকল্প হতে পারে যেসব খাবার
সংগৃহীত ছবি

বর্তমান সময়ে অনলাইনে ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা বিভিন্ন ধরনের মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্টের প্রমোশন করেন। অনেকের ধারণা, খাবার থেকে হয়তো পুষ্টি মিলছে না। তাই ভিটামিনের ওষুধ খেলেই নাকি সুস্থ থাকা যাবে।

কিন্তু চিকিৎসকরা এই বিষয়ে একমত নন।

বেশির ভাগ চিকিৎসকের দাবি, কারণ ছাড়া মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার কোনো দরকার নেই। এমনকি অযথা ও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ভিটামিনের ওষুধ খেলে শরীরের ক্ষতিও হতে পারে। 

মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনেক সাপ্লিমেন্ট রয়েছে, যা ‘ওভার দ্য কাউন্টার ড্রাগ’ বিক্রি হয়। আবার কোনোটা ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও বিক্রি হয়।

এগুলো ‘নিউট্রাসিউটিক্যালস’। এই ধরনের সাপ্লিমেন্ট অনেক সময় কিডনি ও লিভারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। তাই এ ধরনের সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই ভালো।

আরো পড়ুন
সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ ফোলা থাকে কেন

 

যেমন ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে যদি বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তখন পেটে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।

ডায়ারিয়া, বমি, ক্লান্তি, মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কিন্তু মাসেল ও নার্ভ ফাংশন, ঘুম, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ম্যাগনেসিয়াম অপরিহার্য।

তবে কী করবেন? চিকিৎসকদের মতে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বদলে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান। আমন্ড, কাজু, বিভিন্ন ডাল, দানাশস্য, কলা, শাক-সবজিতে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। সেগুলো খেলেই উপকার মিলবে।

আরো পড়ুন
ঈদ আতিথেয়তা জমবে ভিন্ন স্বাদের কাবাবে

ঈদ আতিথেয়তা জমবে ভিন্ন স্বাদের কাবাবে

 

একইভাবে দেহে আয়রনের ঘাটতি মেটাতে অযথা সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। আয়রনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। রেড মিট, চিকেন, বিভিন্ন ধরনের মাছ, সব ধরনের ডাল, পালং শাকের মতো বিভিন্ন শাক খেলে সহজেই দেহে আয়রনের ঘাটতি মিটে যাবে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বাড়বে। ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য লেবুজাতীয় ফল খেতে পারেন। যেকোনো লেবুতেই ভিটামিন সি থাকে। এ ছাড়া পেয়ারা, আমের মতো ফলেও এই পুষ্টি পাওয়া যায়।

পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সুষম খাবারই দেহে সমস্ত পুষ্টির জোগান দেয়। প্রতিদিনের খাবার পাতে ভাত-ডাল, শাক-সবজি, মাছ-মাংস বা ডিম থাকলেই হলো। যে মৌসুমে যে শাক-সবজি ও ফল পাওয়া যায়, সেটাই খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার মেলে।

আরো পড়ুন
শহর ও গ্রামের ঈদ : সংস্কৃতির পার্থক্য

শহর ও গ্রামের ঈদ : সংস্কৃতির পার্থক্য

 

সূত্র : এই সময়

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ