রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরভিত্তিক বিভিন্ন সহিংসতায় আহত ৭৭ হাজারের বেশি মানুষকে সেবা দিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা মানবিক সংস্থা মেডিসিন্স স্যান্স ফ্রন্টিয়ার্স তথা সীমান্তবিহীন চিকিৎসকদল (এমএসএফ)।
দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে এখানে সেবা দিয়ে আসছে সংস্থাটি। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ২০১০ সাল থেকে এমএসএফ কামরাঙ্গীরচরে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে।
২০১৩ সালে শিশু অপুষ্টি থেকে কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য (এসআরএইচ), যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (এসজিবিভি) থেকে বেঁচে ফেরাদের যত্ন এবং কারখানার শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য (ওএইচ) পরিষেবা শুরু হয়। গতকাল স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের কাছে পরিষেবাগুলো স্থানান্তর করে চিকিৎসা কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
জানা গেছে, আলীনগর এবং মাদবর বাজারে ক্লিনিক পরিচালনার পাশাপাশি কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালকে সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং অনানুষ্ঠানিক কারখানাগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার প্রবেশাধিকার উন্নত ও পেশাগত স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আউটরিচ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এমএসএফ।
কামরাঙ্গীরচরে এমএসএফের মেডিকেল টিম লিডার ক্রিস্টাবেল মাইয়েনগা বলেন, ‘গত ১০ বছরে কামরাঙ্গীরচরে স্বাস্থ্য কর্মসূচি সীমিত অধিকার এবং সুরক্ষাসহ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কর্মরত ৭৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৪ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ হাজার শিশু রয়েছে।
১১ হাজার ২৯৫ জন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ সেবাও প্রদান করেছে সংস্থাটি।’
এমএসএফ কামরাঙ্গীরচর হাসপাতালের প্রকল্প সমন্বয়কারী ক্রিস্টফ ফ্রিডল বলেন, ‘কামরাঙ্গীরচরে এমএসএফের উপস্থিতি শেষ হলেও আমরা আশা করি অন্যান্য সংস্থাগুলো যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতায় থেকে বেঁচে ফেরাদের যত্ন এবং পেশাগত স্বাস্থ্যসেবার বিদ্যমান ঘাটতি পূরণে এগিয়ে আসবে, আমাদের ভিত্তির ওপর নির্ভর করে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণদের জন্য ব্যাপক সেবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে।’
এমএসএফ যখন কামরাঙ্গীরচরের কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন প্রকল্পটি কামরাঙ্গীরচর ৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সহায়তা অব্যাহত রাখতে একটি ‘বেসিক ইমার্জেন্সি অবস্টেট্রিক অ্যান্ড নিউবর্ন কেয়ার (বিইএমওএনসি)’ চালু করতে সহায়তা করে, লজিস্টিক এবং সামান্য মানবসম্পদ সহায়তা প্রদান করে এবং অবশেষে হাসপাতালের জন্য একটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা তৈরি করে।
এই বিশেষ সহায়তা প্রজনন স্বাস্থ্য (এসআরএইচ) থেকে রোগীদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে।
৩১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সহায়তা প্রদান করা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।
কামরাঙ্গীরচরের দ্রুত নগরায়ণ, অতিরিক্ত ভিড়, অপর্যাপ্ত সরকারি অবকাঠামো, পরিবেশ দূষণ এবং এর বিশাল অভিবাসী জনগোষ্ঠীর দুর্বলতা প্রায়শই শোষিত এবং মৌলিক সেবাগ্রহণে সীমিত সুযোগ সম্প্রদায়ের উন্নত স্বাস্থ্যসেবার গ্রহণ কার্যক্রমকে ক্রমাগত চাপের মধ্যে রাখে।