ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

মাঠে ক্রিকেট, বাইরে জুয়া

রাহেনুর ইসলাম
রাহেনুর ইসলাম
শেয়ার
মাঠে ক্রিকেট, বাইরে জুয়া

এউইন মরগান, জস বাটলার, জো রুটরা ইংলিশ ক্রিকেটের পরিচিত মুখ। তাঁদের সঙ্গে কাউন্টি খেলা ফিলিপ সল্টের নাম জানার কথা নয় সাধারণ কোনো বাংলাদেশির। অথচ গত ৬ ডিসেম্বর এই সল্টকে ঘিরে যাত্রাবাড়ীতে মাওয়াগামী বাস কাউন্টারের কাছে এক চায়ের দোকানে বাজি ধরা হয়েছিল প্রায় তিন লাখ টাকা।

লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে কলম্বোয় ডাম্বুলা জায়ান্টসের হয়ে খেলছিলেন ২৫ বছরের ফিলিপ সল্ট।

বিপক্ষ দল ক্যান্ডি ওয়ারিয়র্সে ছিলেন বাংলাদেশের পেসার আল আমিন হোসেন। ততক্ষণে ২৬ বলে ৬৪ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলে ফেলেছেন সল্ট।

আল আমিনের বলে আউট হবেন সল্ট—এটা নিয়ে সেই দোকানে ১২ জন দর্শক বাজি ধরেছেন তিন লাখ টাকার মতো। শেষ পর্যন্ত আল আমিনের বলেই কট অ্যান্ড বোল্ড সল্ট! বাজিতে জেতা জুয়াড়িদের হঠাৎ চিৎকারে সাধারণ পথচারীরাও হকচকিত।

তবে তারাও বোঝে, এটা ক্রিকেট জুয়ার হল্লা। গ্রাম-শহরে এমনই সাধারণ ঘটনা হয়ে গেছে ক্রিকেট জুয়া।  

শুধু লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগই নয়, ওই দোকানটিতে নগদ টাকায় বছরজুড়ে জুয়ার আসর বসে আইপিএল, বিপিএল, বিশ্বকাপ বা জাতীয় দলের ম্যাচ নিয়ে। সারা দেশে এমন দোকান, গ্যারেজ, ক্লাব বা হোটেলের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে জানান জুয়ার ঘটনা তদন্তে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, নগদ জুয়ার পাশাপাশি বাজি ধরা হয় নানা ওয়েবসাইটেও। সেখানে জুয়া খেলা সাধারণ রিকশাচালক, ড্রাইভার, হকার, ছাত্র, ব্যবসায়ীদের ক্রিকেটজ্ঞান জেনে অবাক হবেন বোদ্ধারাও। নামি তারকা থেকে অখ্যাত ক্রিকেটারের ব্যাটিং-বোলিং পরিসংখ্যানও মুখস্থ তাদের। কিন্তু টাকার নেশায় বাজি ধরে আঙুল ফুলে কলাগাছ খুব বেশি মানুষ হয়নি। সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া মানুষের সংখ্যাটাই বেশি।

নিজের মোবাইল, ল্যাপটপ, সঞ্চয়পত্রের পর স্ত্রীর গয়না বিক্রি করে জুয়া খেলা যাত্রাবাড়ীর এক জুয়াড়ি নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেন কালের কণ্ঠের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এই নেশা সাজানো সংসার শেষ করে দিয়েছে আমার। ভালো ব্যবসা করতাম, এখন পথে বসে গেছি। আমার অনেক বন্ধুও নিঃস্ব হয়ে গেছে। বাচ্চা দুটির মুখ দেখলে এখন নিজেকে বড় অপরাধী মনে হয়।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) গত তিন বছরে বন্ধ করেছিল বাজি ধরার ১৭৬টি ওয়েবসাইট। তবে কিছুদিন পর ওয়েবসাইটগুলো ডোমেইনে নাম বদলে ফিরে এসেছে। প্রতিটি ডোমেইনের দাম মাত্র এক হাজার টাকা। মূল সাইটের কাছাকাছি নাম দিয়ে মিরর বা বিকল্প সাইট খুলছে। কিছু অনুমোদনহীন গেটওয়ের মাধ্যমে বন্ধ হওয়া সাইট বা নতুন সাইট ব্রাউজ করেও খেলা হয় জুয়া। সব মিলে এখন চালু আছে প্রায় আড়াই শ সাইট। সাইটগুলোর ডোমেইন দেশের বাইরে। নির্ধারিত সময় পর পর আইপি (ইন্টারনেট প্রটোকল) পরিবর্তন করে নিয়ন্ত্রণকারীরা। ফলে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

বলে বলে বাজি : বাজির নানা স্তর চিহ্নিত করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। কোন দল হারবে, জিতবে কারা—প্রধান বাজিটা এই নিয়ে হয়। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ম্যাচের আগে দেওয়া হয় রেট। জুয়াড়িরাও দেয় নানা প্রলোভন। ধরা যাক, জিম্বাবুয়ে-অস্ট্রেলিয়া টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কোনো ওয়েবসাইট বাজির রেট দিল ৪:১। জিম্বাবুয়ে যেহেতু দুর্বল, তাই তারা জিতলে কেউ এক হাজার টাকা বাজি ধরলে পাবে চার হাজার টাকা। আর অস্ট্রেলিয়া জিতলে এক হাজার টাকা।

পুরো ম্যাচের পাশাপাশি বাজি ধরা হয়, প্রথম ১০ ওভারে কত রান হবে, কোন বোলার কত উইকেট পাবেন বা কোনো ব্যাটার ৫০ রান করতে পারবেন কি না—এসব নিয়েও। আবার প্রতি ওভারে কত রান বা উইকেট, এমনকি বলে বলেও বাজি ধরে জুয়াড়িরা। তাতে কোনে বলে ৪, ৬, ২, ১ রান হবে নাকি উইকেট যাবে—টাকা খাটানো হয় এসব নিয়ে।

জুয়ার এমন বিস্তারে হতাশ বাংলাদেশের সাবেক ফাস্ট বোলার হাসিবুল হোসেন শান্ত। তিনি বললেন, ‘যুবসমাজ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই ক্রিকেট জুয়ায়। এটা রুখতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে আরো কঠোর হতে হবে।’

জুয়ার আখড়া : সাধারণ মানুষের জন্য কিছু চায়ের দোকান, সেলুন আর গ্যারেজ হয়ে উঠছে জুয়ার আখড়া। ঢাকায় যাত্রবাড়ী, খিলগাঁও, পুরান ঢাকা, মোহাম্মদপুর, গাবতলী, মিরপুর, উত্তরা—সব জায়গায় আছে এমন জুয়ার আসর। বাজি ধরা হয় টিভিতে বা ফেসবুক, ইউটিউবে খেলা চলার ফাঁকে। দোকানের মালিকের ভূমিকা কখনো মধ্যস্থতাকারীর তো কখনো আসল জুয়াড়ি তিনি নিজেই। জেতা টাকার ১০ থেকে ২০ শতাংশ লাভ দিতে হয় দোকানিকে। এখানেও ওত পেতে থাকে জুয়ায় উৎসাহ দেওয়া লোকজন। এরা মূলত এজেন্ট।

তদন্ত সূত্র বলছে, মধ্য ও উচ্চবিত্তরা যান বিভিন্ন ক্লাব, বার, তিন বা পাঁচতারা মানের হোটেলে। পুলিশি তৎপরতায় ক্রীড়াঙ্গনে ক্যাসিনো বন্ধ হলেও কোনো ক্লাবে জায়ান্ট স্ক্রিন বসিয়ে, কোনো ক্লাবে বড় টিভিতে খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করে অনলাইন বেটিংয়ের আয়োজন করা হচ্ছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমরা মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধা, ওয়ান্ডারার্সসহ ঢাকার ক্লাবপাড়ায় ক্যাসিনো বন্ধ করেছি। তবে ম্যাচ চলার সময় কেউ যদি ক্লাবে বসে গোপনে বাজি ধরে, সেখানে আমরা কী বা করতে পারি। এটা ক্লাব কর্তাদের দেখা উচিত।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এমনই বড় ক্লাবের এক শীর্ষ কর্তা বললেন, সাধারণ মানুষের ক্লাবে বসে জুয়া খেলার কথা নয়। তার পরও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে ক্যাসিনো খেলা হয়েছে বছরের পর বছর। এখন ধরন বদলে অনলাইনে ক্রিকেট জুয়া হচ্ছে। সাহায্য করছেন সেই কর্মকর্তারাই। তাতে পকেট ভারী হচ্ছে তাঁদের আর বদনাম হচ্ছে ক্লাবের।

ওয়েবসাইটের বেড়াজালে : ভালো মানের একটি মোবাইল ফোন হলেই জুয়া খেলা সহজ এখন। এ জন্য আছে নানা ওয়েবসাইট। অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তথ্য মতে, বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে বেট৩৬৫বিডি সাইটটি। এরপর আছে কেরানীগঞ্জের বাসিন্দা আনিস মোহাম্মদীর ওয়ানএক্সবেট, টাকা০৭, লাক৭৫, টাকা১০০, দুবাই ক্লাব সাইটগুলো। কিছুদিন আগে শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই সাইটগুলোতে প্রতি ম্যাচেই লেনদেন হয়েছে কোটি টাকার বেশি। এ ছাড়া জুয়া হয় মোস্টবেট, বাইবেট, বিডিবেট১০, স্কাইফেয়ার, গেমঅনসেভেন, বেটনাও২৪, বেটিন১০০, স্কোর৬৬, বেটিন২০, ৬এনবিডি, বেটফাস্ট৩৬৫সহ আরো অনেক সাইটে। 

এই ওয়েবসাইটগুলোয় একাধিক বিকাশ, রকেট ও নগদ নম্বর দেওয়া আছে। সেখানে টাকা পাঠালে পাওয়া যায় সমপরিমাণ কয়েন। জুয়ার জন্য প্রয়োজন সর্বনিম্ন ২০ কয়েন। জেতার পর টাকা তুলতে ‘উইথড্র’ অপশনে গিয়ে অনুরোধ পাঠালে নগদ, বিকাশ বা রকেট নম্বর দিলে ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয় লাভের টাকা।

তদন্তকারী সংস্থা বলছে, কয়েন বিক্রির পর বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে উধাও হয়েছেন অনেক ওয়েবসাইট পরিচালক। তার পরও জুয়াড়িরা এই ফাঁদে পা দিচ্ছে। ভুক্তভোগী এক জুয়াড়ির আফসোস, ‘উইনার ডটকম ও পেড পাওয়ার ডটকমে কয়েন কিনেছিলাম। শুরুতে ওরা দ্রুত টাকা দিয়ে দিত। কিন্তু আমার জমানো টাকা চার লাখ হওয়ার পর দেখি দুটি সাইটই বন্ধ। কার কাছে অভিযোগ দেব? পুলিশে জানালে তো জুয়াড়ি বলে আগে আমাকেই ধরবে।’

অবৈধ মুদ্রায় লেনদেন : বাংলাদেশে জুয়া যেমন নিষিদ্ধ, তেমনি অনুমোদন নেই ক্রিপ্টোকারেন্সিরও। কিন্তু দুটিই চলছে সমানতালে। ক্রিকেট জুয়ার ক্ষেত্রে লেনদেনের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে ব্যবহার করা হয় পেপাল, মাস্টারকার্ড, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড। রয়েছে বিভিন্ন দেশের অনলাইনভিত্তিক কার্ড ও ক্রিপ্টোকারেন্সি।

সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি কামরুল আহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর সাতরাস্তা থেকে মাহমুদুর রহমান জুয়েল নামের এক জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। তিনি বিটকয়েন, ইথিরিয়াম, ইউএসডিটি নামের ডিজিটাল মুদ্রা কেনাবেচা করতেন। জুয়েল বিটকয়েনের কারবার করছিলেন তিনটি অ্যাপের মাধ্যমে।

গত ১৮ এপ্রিল পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিট চার জুয়াড়িকে গ্রেপ্তারের পর জানতে পারে, ‘স্ট্রিমকার’ নামের একটি অ্যাপের মাধ্যমে পাচার হচ্ছে জুয়ার টাকা। তারা বিন্স ও জেমস নামের দুই ধরনের ডিজিটাল কারেন্সি ব্যবহার করছিল।

এ বিষয়ে কামরুল আহসান বলেন, ‘জুয়া, বিশেষ করে ক্রিকেটের বাজিতে অবৈধ ভার্চুয়াল মুদ্রার লেনদেনের তথ্য আমরা পেয়েছি। তাতে ধারণা করা হচ্ছে, অনলাইন ব্যাংকিং আর হুন্ডির মাধ্যমে বছরে হাজার কোটি টাকার বেশি পাচার হয়ে যাচ্ছে। একটা সময় জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর মাধ্যমে বেটিং৩৬৫ সাইটে বিকাশ, রকেট, নগদ দিয়ে জুয়া খেলা হতো। আমরা বলার পর এই অপশনটি এখন বন্ধ রেখেছে সাইটটি।’

তথ্য, যোগাযোগ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও জেনেক্স ইনফোসিসের প্রধান নির্বাহী আবু তৈয়ব জানালেন, বাংলাদেশে যে মোবাইল ফিন্যানশিয়াল সংস্থাগুলো আছে, তাদের মাধ্যমে নামমাত্র দামে চক্রগুলো জুয়ার চিপস সরবরাহ করছে। আর সাইটগুলোর মূল প্রযুক্তি সহায়তা আসে চীন, হংকং, দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ইউক্রেন থেকে। দেশ ও ক্রিকেটের স্বার্থে কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এটা প্রতিরোধ করতে হবে।

অনলাইন জুয়া বন্ধের বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার গতকাল শনিবার রাতে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা এগুলো বন্ধের কার্যক্রম চালু রেখেছি। যেসব সাইট শনাক্ত হচ্ছে তা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ভিপিএনের মাধ্যমে যেসব জুয়ার সাইট চালু আছে বা বন্ধ করা সাইটগুলো আবার ফিরে আসছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে কিছু করার সক্ষমতা আমাদের নেই।’

আগামীকাল পড়ুন : ৩০ সেকেন্ডের কারসাজি

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

পেস বোলিং কোচের আলোচনায় ডোনাল্ডের সঙ্গে গিবসনও

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ক্রীড়া প্রতিবেদক
শেয়ার
পেস বোলিং কোচের আলোচনায় ডোনাল্ডের সঙ্গে গিবসনও
অ্যালান ডোনাল্ড (বাঁয়ে) ও ওটিস গিবসন।

বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ আন্দ্রে অ্যাডামসের কাজে খুশি নয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এ জন্য নতুন কোচ খুঁজছে ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় দলের সাবেক দুই কোচ অ্যালান ডোনাল্ড এবং ওটিস গিবসনের মধ্যে একজনকে আবার ফেরানো যায় কি না তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

বিসিবির চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশ দলের দায়িত্ব ছাড়েন ডোনাল্ড।

বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বাংলাদেশি পেসারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন এই দক্ষিণ আফ্রিকান। ডোনাল্ডের আগে তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমানদের সঙ্গে কাজ করেছেন গিবসন। তাঁর কোচিংয়ের প্রশংসা এখনো শোনা যায় বাংলাদেশি পেসারদের মুখে।
এ জন্য নতুন কাউকে কোচ হিসেবে না এনে পরীক্ষিতদের ফেরাতে চাচ্ছে বিসিবি।

গতকাল বিসিবির একজন কর্মকর্তা বলছিলেন, ‘ডোনাল্ডের সঙ্গে গিবসনের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে। তাঁরা দুজনই ভালো কাজ করে গেছেন। কোচ হিসেবেও দুজন বেশ ভালো। তবে আগের বোর্ডের কিছু সিদ্ধান্ত তাঁদের পছন্দ ছিল না।

এখন তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। একজনকে ফেরাতে পারলে সেটা আমাদের জন্য ভালো হবে।’

মন্তব্য

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস আজ

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস আজ
সংগৃহীত ছবি

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস আজ ৬ এপ্রিল। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও দিবসটি উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই দিবস উপলক্ষ্যে তারুণ্যের শক্তি ধারণ করে আজ রবিবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা, ক্রীড়া ফেডারেশন, এ্যাসোসিয়েশন, বোর্ড, ক্রীড়া সংগঠকসহ ক্রীড়াঙ্গনের সর্বস্তরে বেশ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

ক্রীড়া দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আরো পড়ুন
মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের

মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের

 

ক্রীড়া দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত কর্মসূচি মধ্যে রয়েছে র‌্যালি ও আলোচনা সভা। রবিবার সকাল ৮.৪৫ মিনিটে র‌্যালিটি ওসমানি স্মৃতি মিলনায়তন হতে শুরু হয়ে বাংলাদেশ সচিবালয়ের প্রধান গেটের সামনে থেকে ঘুরে জিরো পয়েন্ট হয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামে শেষ হবে।

র‌্যালি শেষে সকাল ১০টায় জাতীয় স্টেডিয়ামে সুবিধাবঞ্চিত অনূর্ধ্ব-১৭ শিশুদের ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগরকে উত্তর ও দক্ষিণ এই দুই ভাগে ভাগ করে টুর্নামেন্ট আয়োজিত হবে।

উদ্বোধনী ও ফাইনাল খেলা জাতীয় ষ্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বাকী খেলাগুলো মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

১১টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে প্রতিপাদ্য বিষয়ের উপর রয়েছে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা। এছাড়াও প্রত্যেক বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ক্রীড়া সংস্থা দিবসটি উদযাপনের জন্য র‌্যালি, আলোচনা সভা ও প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করা হবে।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবারের ক্রীড়া দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘তারুণ্যের অংশগ্রহণ, খেলাধুলার মানোন্নয়ন’।

আরো পড়ুন
ট্রেডমার্ক

ট্রেডমার্ক

 

খেলাধুলা শিশু ও তরুণদের মেধা ও মনন বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এর মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, শৃঙ্খলাবোধ, অধ্যবসায়, দায়িত্বজ্ঞান ও কর্তব্যপরায়ণতার সৃষ্টি হয়। দেশ বদলের প্রত্যয়ে গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তারুণ্য নির্ভর বাংলাদেশের এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে পুনর্জীবিত করতে দেশব্যাপী ‘তারুণ্যের উৎসব ২০২৫’ উদযাপন করেছে। 

সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যবোধের মেলবন্ধনে আয়োজিত এই উৎসবে তরুণরা দেশ পুর্নগঠনে তাদের সৃজনশীলতা, মেধা, যোগ্যতা ও মননশীলতার স্বাক্ষর রেখেছে।

সময়ের পরিক্রমায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। পাশাপাশি ক্রীড়া অবকাঠামোর বুনিয়াদ শক্ত হয়েছে। রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্রীড়ার ব্যাপ্তি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের সকল উপজেলায় ইতোমধ্যে ১২৫টি মিনি স্টেডিয়াম নির্মিত হয়েছে। আরও ২০১টি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণের পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। 

পাশাপাশি ৪টি বিভাগীয় স্টেডিয়াম, ৬৪টি জেলায় ৬৮টি জেলা স্টেডিয়ামসহ দেশব্যাপী ১৮টি সুইমিংপুল, ১০টি কিট ইনডোর স্টেডিয়াম, ৭টি ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ সকল কাজ পরিচালিত হচ্ছে।

'''উন্নয়ন ও শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস''' (আইডিএসডিপি) হলো সামাজিক পরিবর্তন আনতে ও বিকাশ ঘটাতে শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধিতে খেলাধুলার ক্ষমতার বার্ষিক উদ্‌যাপন। ২০১৩ সালের ২৩ আগস্ট জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রস্তাবে সায় দিয়ে ৬ এপ্রিলকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস ঘোষণা করা হয়। সেই ঘোষণা অনুসারে ২০১৪ সাল থেকে বিশ্ব জুড়ে জাতিসংঘ স্বীকৃত অন্যান্য দিবসের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৮৯৬ সালের এই তারিখে গ্রীসের অ্যাথেন্সে আধুনিক যুগের প্রথম অলিম্পিক গেমের উদ্বোধনের স্মরণে এ তারিখ ঠিক করা হয়।

মন্তব্য

উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তামিম

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রীড়া ডেস্ক
শেয়ার
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যাচ্ছেন তামিম
তামিম ইকবাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা তামিম ইকবাল উন্নত চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাচ্ছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবার সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক।

২৪ মার্চ সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তামিম। সাভারের কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতালে হার্টে ব্লক ধরা পড়ার পর তৎক্ষণাৎ রিং পরানো হয়।

দুই দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। যেখানে দুই দিন ভর্তি থাকার পর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে বাসায় ফেরেন তামিম। বর্তমানে বাসায় বিশ্রামে রয়েছেন তিনি।

এবার শারীরিক অবস্থা আরো ভালোভাবে পর্যালোচনার জন্য সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন তামিম ইকবাল।

শুরুতে থাইল্যান্ড যাওয়ার কথা থাকলেও পরিবারের সিদ্ধান্তে গন্তব্য বদলে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুরে। এরই মধ্যে ভিসা ও বিমানের টিকিট চূড়ান্ত করা হয়েছে। 

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৭ এপ্রিল সিঙ্গাপুরের একজন অভিজ্ঞ হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে দেখা করবেন তামিম। সেখানে পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি পুরো শরীরের পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য-পরীক্ষাও করাবেন তিনি।

মন্তব্য

লাহোরকে শিরোপা জেতানোর আশা রিশাদের

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রীড়া ডেস্ক
শেয়ার
লাহোরকে শিরোপা জেতানোর আশা রিশাদের
লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলবেন রিশাদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) খেলতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের তিন ক্রিকেটার। লিটন-নাহিদদের সঙ্গে পিএসএলে দল পেয়েছেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনও। লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলতে ইতিমধ্যেই বিসিবির কাছ থেকে ছাড়পত্র পেয়ে গেছেন রিশাদ।

মিরপুরে আজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রিশাদ বলেছেন, বিসিবির কাছ থেকে ছাড়পত্র পাওয়ায় খুশি তিনি।

জানিয়েছেন পাকিস্তান থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরতে চান বাংলাদেশের এই স্পিনার।  বলেছেন, ‘যাচ্ছি, ভালো করার চেষ্টা করব। টুর্নামেন্টটা চ্যাম্পিয়ন হয়ে আসার চেষ্টা করব।’

বাংলাদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ বিপিএলের সর্বশেষ আসরে রিশাদ খেলেছেন ফরচুন বরিশালে।

বরিশালের শিরোপা জয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন এই স্পিনার।

এর আগে কানাডার গ্লোবাল সুপার লিগ ও বিগ ব্যাশে সুযোগ পেয়েও খেলা হয়নি রিশাদের। তাই পিএসএলে খেলার সুযোগ পেয়ে পুরোপুরি কাজে লাগাতে চান তিনি। ‘এটা আমার জন্য সুযোগ।

আমার ভবিষ্যতের জন্য ভালো। বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও ভালো। চেষ্টা করব এখান থেকে যতটুকু পারা যায় নেওয়ার।’

এবার পিএসএল খেলতে রিশাদের সঙ্গে ছাড়পত্র পেয়েছেন লিটন দাস ও নাহিদ রানাও। লিটন খেলবেন করাচি কিংসের হয়ে ও নাহিদ পেশোয়ার জালমিতে।

 

পিএসএলে রিশাদের দল লাহোর কালান্দার্সের প্রথম ম্যাচ টুর্নামেন্ট শুরুর দিনেই, ১১ এপ্রিল, প্রতিপক্ষ ইসলামাবাদ ইউনাইটেড। পরের দিন মাঠে নামবে লিটনের করাচি কিংস, একই দিনে ম্যাচ আছে নাহিদের পেশোয়ার জালমিরও।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ