এখন ফুটবলে চলছে ফেডারেশন কাপ ‘সার্কাস’! বছরের বাকি সময়টাও যে ফুটবল ফুলে ফুলে শোভিত ছিল, তা নয়। পুরো বছরে স্মৃতিতে রাখার মতো লাল-সবুজের ম্যাচ একটিই—১৮ বছর পর মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশের ২-১ গোলে জয়।
এই সুখস্মৃতির ঘটনা গত অক্টোবরে শ্রীলঙ্কায় মাহিন্দা রাজাপাকসে টুর্নামেন্টে। সেশেলসের সঙ্গে ১-১ গোলের ড্রয়ের হতাশা দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও পরের ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে বাংলাদেশ ফিরেছে সগৌরবে।
জামাল ভুঁইয়া ও তপুর গোলে ম্যাচ জেতে ২-১ ব্যবধানে। ২০০৩ সাফ ফুটবল ফাইনালে মালদ্বীপকে টাইব্রেকারে হারানোর পর আর গৌরবের দেখা মেলেনি। এত বছর মাথা নুইয়ে থাকা দলটি ১৮ বছর পর ফের দাপট দেখিয়েছে। কিন্তু পরের ম্যাচেই আবার ছন্দঃপতন, ১০ জনের শ্রীলঙ্কার কাছে ২-১ গোলে হেরে মারিও লেমোসের দলটি ফিরে আসে ফাইনালের চৌকাঠ থেকে।
এ টুর্নামেন্টে আবাহনীর পর্তুগিজ কোচই ছিলেন জাতীয় দলের দায়িত্বে। ওই সময় কোচবদলের একটা অদ্ভুতুড়ে খেলায় মেতে ছিল বাফুফে। জাতীয় দলের কোচের বদলে ক্লাব কোচের কদর বেড়ে যায় তাদের কাছে। চুক্তিতে থাকার পরও ইংলিশ কোচ জেমি ডে-কে গত সেপ্টেম্বরে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠিয়ে তারা সাফ ফুটবলে দায়িত্ব তুলে দেয় বসুন্ধরা কিংসের কোচ অস্কার ব্রুজোনের হাতে।
মালদ্বীপে এই স্প্যানিশ কোচের অধীনে বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক ফুটবল থেকে বেরিয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে খানিকটা গা-জোয়ারি ফুটবল খেলে। সাফল্য পায় প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে। পরের ম্যাচেও সেই দুরন্তপনায় মেলে ভারতের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র। আগের চার আসরে সেমিফাইনাল ছুঁতে না পারা বাংলাদেশ ফুটবলে জেগে ওঠে ফাইনালের আশা। স্বাগতিক মালদ্বীপের কাছে পরের ম্যাচ ২-০ গোলে হারেও টিকে থাকে আশা। সমীকরণ দাঁড়ায় নেপাল জয় করতে হবে। বাংলাদেশ কখনো সমীকরণ মেলাতে জানে না, সেই ধারায় এবারও নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ে কর্পূরের মতো উড়ে যায় ফাইনালের স্বপ্ন।
ফাইনাল উঠতে না পারলেও অস্কার ব্রুজোনের অধীনে ফুটবলারদের শরীরী ভাষা বদলেছে। জয়ের জন্য মরিয়া হয়েছে। এই আক্রমণাত্মক ফুটবলের জোরেই তিনি বসুন্ধরা কিংসকে বসিয়েছেন রাজার আসনে। করোনার কারণে তিন-তিনবার স্থগিত হওয়া প্রিমিয়ার লিগের ২৪ ম্যাচে ২১ জয়, দুই ড্র ও এক হারে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে বসুন্ধরা কিংস শিরোপার মুকুট ধরে রাখে চার ম্যাচ হাতে রেখে। তবে ঢাকা মাঠে চ্যাম্পিয়নদের এই দাপুটে ফুটবল দেখা যায়নি এএফসি কাপে। বছরের শেষ ভাগে নতুন মৌসুম শুরুটাও ভালো হয়নি, ফাইনালে তাদের হারিয়ে আবাহনী ছিনিয়ে নিয়েছে স্বাধীনতা কাপের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। তবে কমলাপুরের এই টার্ফে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কিংস, উত্তর বারিধারা ও মুক্তিযোদ্ধা সরে দাঁড়িয়েছে ফেডারেশন কাপ থেকে। পাশাপাশি তারা সোচ্চার হয়েছে বাফুফের অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে।
তবে ছেলেদের ব্যর্থতার বছরে মেয়েরা দিয়েছে শিরোপার সুরভি। সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলা ফুটবলের ফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে আরেকবার। এটা বয়সভিত্তিক ফুটবল হলেও এই অঞ্চলের মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ যে পরাশক্তির আসনে, সেটা বেশ কয়েকবারই প্রমাণ করেছে। সর্বশেষ শামসুন্নাহার-মনিকারা এই শিরোপা জিতে দেখিয়েছেন, তাঁরা পথেই আছে।