দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার ব্রিটেনের ফেলা একটি বড় বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে পোল্যান্ডে। সম্প্রতি পোল্যান্ডের একটি খালে বোমাটির খোঁজ পাওয়া যায়। নৌবাহিনীর কর্মকর্তারা যখন এটিকে নিষ্ক্রিয় করার চেষ্টা করছিল সে সময় এটির বিস্ফোরণ ঘটে। তবে সৌভাগ্যবশত কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হননি।
৮১ বছর পর যেভাবে বিস্ফোরণ ঘটলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বোমা! (ভিডিও)
অনলাইন ডেস্ক
জানা গেছে, সুইনস্কি শহরের বাইরের পিস্ট খালের কাছাকাছি এলাকায় এই বোমাটির খোঁজ পাওয়া যায়। এরপরেই দ্রুত ৭৫০ লোককে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। না হলে কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা ছিল।
বোমাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের রয়েল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) ব্যবহৃত একটি 'টলবয়' বোমা।
নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সোমবার বোমাটিকে বিস্ফোরণের জন্য পানির তলায় ১২ মিটার গভীরে নেয়া হচ্ছিল।
উল্লেখ্য, ১৯৪৫ সালে ব্রিটেনের রয়েল এয়ার ফোর্স (আরএএফ) এর ৬১৭তম স্কোয়াড্রন ল্যাঙ্কাস্টার থেকে ১৮টি বোমারু বিমান পাঠিয়েছিল। সেই সময়ে প্রায় ১২টি টলবয় বোমা ফেলা হয়। কিন্তু মনে করা হচ্ছে তখন একটি বোমা ফাটেনি। এমনকি এতদিনেও সেটি ফাটেনি।
সূত্র : সিএনএন।
সম্পর্কিত খবর

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ফ্ল্যাট নিয়ে টিউলিপের মিথ্যাচারের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যের সাবেক সিটি মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক ৬ লাখ পাউন্ড মূল্যের বাংলাদেশি ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল শনিবার (৫ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশে নিজের নামে থাকা ফ্ল্যাট তিনি তার বোনের বলে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন।
কারণ ডেইলি মেইল গত সপ্তাহে ঢাকা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনুসন্ধান চালিয়ে জানতে পেরেছে যে তার প্রকৃত মালিক এখনো টিউলিপ। তবে ৪২ বছর বয়সী সিদ্দিক যেকোনো ধরনের অন্যায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি ডেইলি মেইলকে জানিয়েছেন, ২০০২ সালে ফ্ল্যাটটি তার বাবা-মা তাকে উপহার দেন এবং ২০১৫ সালের মে মাসে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তা ‘আইনগত ও বৈধভাবে’ তার বোন আজমিনার (৩৪) নামে হস্তান্তর করেন।
তবে দুর্নীতিবিরোধী কমিশনের (দুদক) অনুরোধে ছয় লাখ পাউন্ড সমমূল্যের ফ্ল্যাটটি বাংলাদেশ সরকার জব্দ করেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে তদন্তও চলছে।
যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিনস্টার রেজিস্টারে এমপিদের সম্পর্কে যে তথ্য আছে সে অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত এই সম্পদটি পরিবারের সদস্যের সঙ্গে টিউলিপের যৌথ মালিকানাধীন ছিল।
গত মাসে দুর্নীতি দমন কমিশন জানায় যে ২০১৫ সালে ফ্ল্যাটটি আজমিনার নামে হস্তান্তর করার জন্য টিউলিপ ‘হেবা’ নামক একটি ইসলামিক দলিল ব্যবহার করেন, যা একজন ব্যক্তি ভালোবাসা বা স্নেহের কারণে নিজের সম্পদ অন্যকে হস্তান্তর করতে ব্যবহার করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশি আইনে ফ্ল্যাট হস্তান্তর তখনই বৈধ হিসেবে গণ্য হয় যখন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে মালিকানা পরিবর্তনের নথিভুক্তি সম্পন্ন হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশন দাবি করেছে, হেবা দলিলটি ছিল ‘জাল’, কারণ যে ব্যারিস্টার এটি সত্যায়িত করেছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, তিনি এতে নিজের জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, তার স্বাক্ষর নকল করা হয়েছে।
তবে টিউলিপের আইনজীবীরা বলছেন, হেবা যথাযথভাবে সম্পাদিত হয়েছে এবং ফ্ল্যাটটি ‘একজন পরিবারের সদস্যের সঙ্গে যৌথ মালিকানায়’ ছিল, কারণ এর সমস্ত ভাড়ার অর্থ তার বোন আজমিনা পেতেন।
গত শুক্রবার রাতে টিউলিপের আইনজীবী পল থোয়েট বলেন, একজন বাংলাদেশি আইন বিশেষজ্ঞ তাকে জানিয়েছেন যে হেবা দলিলটি মালিকানা হস্তান্তরের জন্য যথেষ্ট।

ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার জার্মানির বার্লিন ও ফ্রাঙ্কফুর্ট, ফ্রান্সের প্যারিস এবং যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একত্র হন বিক্ষোভকারীরা। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই এবং প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতার যথেচ্ছ ব্যবহারের অভিযোগসহ বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ বিক্ষোভ হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার ওয়াশিংটনের মেঘাচ্ছন্ন আকাশ এবং হালকা বৃষ্টির মধ্যেও হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মলে ট্রাম্পবিরোধী প্রতিবাদে অংশ নেয় বেশ কিছু সংগঠন। ওয়াশিংটন ছাড়াও নিউইয়র্কে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেয় অসংখ্য মানুষ।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শুল্কনীতির আড়ালে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কর্তৃত্ববাদী রূপের বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে। প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছিলেন বিজ্ঞানী, শিল্পী, শিক্ষক, এমনকি সাধারণ গৃহিণীও। তাদের মতে, এই শুল্কনীতি শুধু আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নয়, খাদ্য, প্রযুক্তি ও জ্বালানির দামকেও প্রভাবিত করছে।
শনিবারের এই বিক্ষোভের নাম দেয়া হয়েছে ‘হ্যান্ডস অফ’।
ট্রাম্পবিরোধী এ বিক্ষোভের জোয়ার যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো ও পর্তুগালেও ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ব্যানার হাতে জড়ো হয়েছেন প্রায় ২০০ প্রতিবাদকারী, যাদের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতি, যা বিশ্ব বাণিজ্যের ওপর একতরফা হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন তারা।

আমরা সারা বিশ্বের সরকার নই যে মানবিক সহায়তা দেব : রুবিও
অনলাইন ডেস্ক

বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার বেশির ভাগ দেওয়ার ভার যুক্তরাষ্ট্র আর বহন করবে না জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আমরা সারা বিশ্বের সরকার নই যে মানবিক সহায়তা দেব; অন্যরা যেমন দেয় তেমনই দেব, যথাসাধ্য দেব। আমাদের অন্য প্রয়োজনও রয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে হবে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো বিশ্বজুড়ে মানবিক সহায়তার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশের ভার একা বহন করতে পারবে না। এ কাজে চীন, ভারতের মতো বিশ্বের অন্য ধনী দেশগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।
ভূমিকম্পবিধ্বস্ত মায়ানমারে যুক্তরাষ্ট্র পর্যাপ্ত ত্রাণ পাঠায়নি বলে সমালোচনার মধ্যে গত শুক্রবার রুবিও এসব কথা বলেন। খবর এএফপির।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চলতি বছরের শুরুতে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেই ৯০ দিনের জন্য সব রকম বিদেশি সাহায্য স্থগিত ঘোষণা করেন। ফলে বিশ্বব্যাপী জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াসহ বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য পৌঁছানোর দায়িত্বে থাকা প্রধান সংস্থা ইউএসএআইডির বহু কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
ধনকুবের ইলন মাস্কের নেতৃত্বে ফেডারেল সরকার ছোট করার যে চেষ্টা চলছে, তাতে ইউএসএআইডি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

ইউরোপের পর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ট্রাম্পবিরোধীদের
রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রে শনিবার প্রায় এক হাজার ২০০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা অনুযায়ী, এটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার ধনকুবের উপদেষ্টা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে এক দিনে সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হবে।
এদিকে ‘হ্যান্ডস অফ!’ শিরোনামের এ বিক্ষোভ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইউরোপে বসবাসকারী শত শত ট্রাম্পবিরোধী মার্কিন নাগরিক বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট, প্যারিস ও লন্ডনের রাস্তায় জড়ো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিতে ট্রাম্পের ব্যাপক পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। প্যারিসের রিপাবলিক স্কয়ারে প্রায় ২০০ মানুষ নানা স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে জড়ো হন, যাদের অধিকাংশই মার্কিন।
ফ্রাংকফুর্টে ডেমোক্র্যাটস অ্যাব্রড সংগঠনের মুখপাত্র টিমোথি কাউটজ বলেন, ‘আমাদের আজ যুক্তরাষ্ট্রের হাজারো শহরে অনুষ্ঠিতব্য বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতেই হবে।’
বিক্ষোভকারী হোসে সানচেজ বলেন, ‘ট্রাম্প একজন প্রতারক, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ধ্বংস করছেন।’
এই আন্দোলনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ ও পররাষ্ট্রনীতিতে একের পর এক রক্ষণশীল পরিবর্তনের বিরুদ্ধে গণ-অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ পাবেন বিরোধীরা।
হোয়াইট হাউস ট্রাম্প বা মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য দেয়নি।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণের জন্য প্রায় ১৫০টি অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপ নিবন্ধন করেছে। প্রতিবাদগুলো ৫০টি অঙ্গরাজ্য ছাড়াও কানাডা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, মেক্সিকো ও পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০ জানুয়ারি ফের দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর নির্বাহী আদেশ ও অন্যান্য পদক্ষেপের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছেন, যাকে অনেক সমালোচক ‘প্রজেক্ট ২০২৫’ নামে গভীর রক্ষণশীল রাজনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন, যার লক্ষ্য সরকারকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানো ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শক্তিশালী করা। তবে বিভিন্ন মামলা ও আইনি বাধায় তার অনেক উদ্যোগই আটকে আছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি কর্মীদের বরখাস্ত করা, অভিবাসীদের বিতাড়নের চেষ্টা এবং রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের অধিকার প্রত্যাহার।
প্রতিবাদকারীরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, তিনি সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি কাটছাঁট করতে চাইছেন। তবে হোয়াইট হাউসের সহকারী প্রেসসচিব লিজ হিউস্টন বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, তিনি সব সময় উপযুক্ত নাগরিকদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সুরক্ষিত রাখবেন।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিক্ষোভ দমন নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচকরা প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছেন। তারা ওয়াশিংটনে পৃথক মিছিলের পরিকল্পনা করছেন।
২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নারীদের বিশাল সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিরোধিতা শুরু হয়েছিল। এবারের প্রতিবাদ কিছুটা ছোট হলেও সংগঠকরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরেই বড় পরিসরে একটি অভিন্ন প্রতিবাদের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
২০১৬ সালে ট্রাম্পের প্রথম নির্বাচনের পর গঠিত ইনডিভিজিবল এবার আরো কয়েকটি প্রগতিশীল সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে, যার মধ্যে রয়েছে মুভঅন, ওয়ার্কিং ফ্যামিলিজ পার্টি, সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (যা প্রায় ২০ লাখ কর্মীকে প্রতিনিধিত্ব করে), মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ক্যাম্পেইন ও পরিবেশবাদী গ্রিনপিস।