মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে মাস্ক ব্যবহার করতে বলায় এক দোকানের ক্যাশিয়ারকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় হামলাকারীসহ দোকানের এক প্রহরীও গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীর নাম ভিক্টর টাকার।
মাস্ক পরতে বলায় দোকানীকে গুলি করে হত্যা
অনলাইন ডেস্ক

দোকানে মাস্ক ছাড়া প্রবেশ করে সে তখন দায়িত্বরত ক্যাশিয়ার তাকে মাস্ক পরতে বলার পরেই শুরু হয় বাক-বিতণ্ডা। এক পর্যায়ে ওই ক্যাশিয়ারকে গুলি করে ভিক্টর। এতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ক্যাশিয়ারের। দোকানে গুলি চালানোর পর হামলাকারীকে ঠেকাতে ভেতরে প্রবেশ করেন প্রহরী।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, গোলাগুলির ঘটনায় দোকানের ক্যাশিয়ার নিহত হয়েছেন।
সূত্র: সিএনএন।

গাজায় হামাসবিরোধী সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ, ক্ষমতা ছাড়তে আহ্বান
বিবিসি

গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সবচেয়ে বড় হামাসবিরোধী বিক্ষোভে শত শত মানুষ অংশ নিয়েছে। তারা গাজায় হামাসের ক্ষমতাচ্যুতি দাবি করে রাস্তায় নেমে এসেছে। কিন্তু মুখাবয়ব ঢাকা হামাসের যোদ্ধারা, কেউ বন্দুক নিয়ে ও অন্যরা লাঠি নিয়ে বিক্ষোভকারীদের ওপর আক্রমণ করে তাদের তাড়িয়ে দেয় এবং কয়েকজনকে আক্রমণ করে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামাসের প্রতি সমালোচনাপূর্ণ ভিডিওগুলোতে একদল তরুণ পুরুষকে গাজার উত্তরাঞ্চলে বেইত লাহিয়া এলাকায় রাস্তায় হাঁটতে দেখা যায়, তারা ‘হামাস তুমি চলে যাও, হামাস তুমি চলে যাও’ স্লোগান দিচ্ছিল।
হামাস সরাসরি এই বিক্ষোভের বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার জন্য দায়ী করেছে। অন্যদিকে হামাসের সমর্থকরা বিক্ষোভের গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়ে অংশগ্রহণকারীদের দেশদ্রোহী বলে অভিযোগ করেছেন।
ইসলামিক জিহাদের যোদ্ধারা ইসরায়েলে রকেট হামলা চালানোর এক দিন পর উত্তর গাজায় এ বিক্ষোভ হয়।
ইসরায়েল দীর্ঘ দুই মাসের যুদ্ধবিরতির পর গাজায় সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করেছে, হামাসের বিরুদ্ধে নতুন মার্কিন প্রস্তাবের সমর্থন না দেওয়ার কারণে। অন্যদিকে জানুয়ারিতে স্বাক্ষরিত মূল চুক্তি বাতিল করার জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করেছে হামাস। ১৮ মার্চ ইসরায়েলের বিমান হামলার পর থেকে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়েছে।
বেইত লাহিয়ার বাসিন্দা ও বিক্ষোভকারী মোহাম্মদ ডিয়াবের বাড়ি যুদ্ধের মধ্যে ধ্বংস হয়েছে এবং গত বছর ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার ভাই নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা কারো জন্য, কোনো দলের এজেন্ডার জন্য বা বিদেশি রাষ্ট্রের স্বার্থে মরতে চাই না। হামাসকে পদত্যাগ করতে হবে এবং শোকাহতদের কণ্ঠস্বর শোনার জন্য প্রস্তুত হতে হবে, যা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উঠে আসে, সেটাই সবচেয়ে সত্যবাদী কণ্ঠস্বর।’
এ ছাড়া শহরটির একটি ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের ‘হামাস শাসনের বিরুদ্ধে, মুসলিম ব্রাদারহুড শাসনের বিরুদ্ধে’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ২০০৭ সাল থেকে হামাস গাজার একমাত্র শাসক, যখন তারা এক বছরের পুরনো ফিলিস্তিনি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সহিংসভাবে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিতাড়িত করে।
যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজায় হামাসের প্রতি সরাসরি সমালোচনা বেড়েছে, রাস্তায় ও অনলাইনে। তবে এখনো যারা হামাসের প্রতি তীব্র আনুগত্য দেখায় তাদের সংখ্যা কম নয় এবং এটি সঠিকভাবে বলা কঠিন যে হামাসের প্রতি সমর্থন কতটুকু পরিবর্তিত হয়েছে। যুদ্ধ শুরুর আগেই হামাসের বিরুদ্ধে বিরোধিতা ছিল। তবে বেশির ভাগ সময় তা প্রতিশোধের ভয়ে গোপন ছিল।
গাজার মোহাম্মদ আল-নাজ্জার তার ফেসবুকে পোস্ট করেন, ‘মাফ করবেন, কিন্তু হামাস আসলে কী বাজি ধরছে? তারা আমাদের রক্তে বাজি ধরছে, সেই রক্ত, যা সারা বিশ্ব শুধু সংখ্যার মতো দেখে। হামাসও আমাদের শুধু সংখ্যা হিসেবেই গণ্য করে। পদত্যাগ করুন এবং আমাদের ক্ষত সারানোর সুযোগ দিন।’
গাজায় যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে, যাতে প্রাথমিকভাবে এক হাজার ২০০ জন নিহত হয়, যার বেশির ভাগই বেসামরিক। এরপর ইসরায়েল গাজায় হামাসকে ধ্বংস করতে সামরিক অভিযান শুরু করে। হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, যুদ্ধে ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়। এ ছাড়া গাজার ২১ লাখ জনসংখ্যার বেশির ভাগই গৃহহীন হয়ে পড়েছে, তাদের মধ্যে অনেকেই একাধিকবার গৃহহীন হয়েছে। আনুমানিক ৭০ শতাংশ ভবন ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, গাজায় স্বাস্থ্যসেবা, পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং খাবার, জ্বালানি, ওষুধ ও আশ্রয়ের অভাব রয়েছে।

হিমশীতল হ্রদে বিধ্বস্ত বিমানের ডানা থেকে পাইলট ও শিশুদের উদ্ধার
এএফপি

একজন পাইলট ও দুই শিশুকে একটি ছোট বিমান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের একটি বরফাচ্ছন্ন হ্রদে বিধ্বস্ত হয়েছিল। রাতভর অনুসন্ধানের পর তাদের উদ্ধার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এএফপির বুধবারের এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
পাইপার পিএ-১২ সুপার ক্রুজার নামের প্রপেলারচালিত বিমানটি তুস্তুমেনা হ্রদ ও কেনাই পর্বতমালা এলাকায় নিখোঁজ হয় বলে স্থানীয় সময় রবিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানানো হয়।
প্রথমে একজন স্বেচ্ছাসেবী পাইলট বরফাচ্ছন্ন হ্রদের ওপর বিমানটি দেখতে পান, যা নিখোঁজ ঘোষণার প্রায় ১২ ঘণ্টা পর যাত্রীদের উদ্ধারের পথ তৈরি করে। পরে অঙ্গরাজ্যের পুলিশ বিভাগ আলাস্কা স্টেট ট্রুপার সোমবার এক বিবৃতিতে জানায়, আজ সকালে একজন স্বেচ্ছাসেবী পাইলট তুস্তুমেনা হ্রদের পূর্ব পাশে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পান।
এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ছবিতে আংশিকভাবে ডুবে থাকা বিমানের ডানার ওপর তিনজনকে বসে থাকতে দেখা যায়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তবে তাদের জীবনের জন্য হুমকিস্বরূপ কোনো আঘাত নেই।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া স্থানীয় পাইলটদের একজন ডেল আইশার। তিনি জানান, তারা বেঁচে ফিরেছেন, এটি সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেটিইউইউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আইশার আরো বলেন, ‘আমি আশা করিনি যে আমরা তাদের খুঁজে পাব, আর জীবিত অবস্থায় পাব, সেটাও ভাবিনি। আমি কিছু উদ্ধার অভিযানে অংশ নিয়েছি, কিন্তু সব সময় এমন ভালো ফল আসে না।’

পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড
এএফপি

পাকিস্তানের একটি আদালত অনলাইনে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননা সম্পর্কিত কন্টেন্ট পোস্ট করার অভিযোগে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। একজন প্রসিকিউশন আইনজীবী বুধবার এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এএফপি বলছে, দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে এমন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত কয়েক বছরে পাকিস্তানে বেসরকারি সংগঠনগুলো শত শত তরুণের বিরুদ্ধে অনলাইনে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মামলা করেছে।
এবারের মামলাটি আদালতে নেওয়া বেসরকারি সংগঠন লিগ্যাল কমিশন অন ব্লাসফেমি পাকিস্তানের আইনজীবী রাও আবদুর রহিম বলেন, ‘পবিত্র নবীর (সা.) বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননাকর বিষয়বস্তু ছড়ানোর অভিযোগে পাঁচজন অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোরআন অবমাননার অভিযোগে তাদের সবাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচজনের মধ্যে একজন আফগান ও চারজন পাকিস্তানি নাগরিক। তাদের মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডির একটি আদালতে দণ্ড দেওয়া হয়। রাওয়ালপিন্ডি পাকিস্তানের সেনা সদর দপ্তর থাকা শহর এবং রাজধানী ইসলামাবাদের পাশেই অবস্থিত।
আইনজীবী রহিম আরো বলেন, দণ্ডগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হবে।
শত শত মামলা
এত দিন পর্যন্ত পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে কারো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি। এই রায় ঘোষণার এক দিন আগেই পাকিস্তানের একজন ইউটিউব তারকা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত হন। তিনি এমন একটি পারফিউম বাজারে ছেড়েছিলেন, যার নাম পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইন অনুযায়ী দেওয়া হয়েছিল।
রাজাব বাট নামের ওই ব্যক্তি তার ‘২৯৫’ নামের পারফিউম উদ্বোধন করেছিলেন, যা পাকিস্তানের দণ্ডবিধির ধর্ম অবমাননা আইনের ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত।
এর আগে জানুয়ারিতে একই আদালত ‘অনলাইনে ধর্ম অবমাননাকর কনটেন্ট পোস্ট করার’ অভিযোগে চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।
এদিকে সরকার পরিচালিত জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গত বছরের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৭৬৭ জন ব্যক্তি কারাগারে বিচার প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, যাদের অধিকাংশই তরুণ। এই মামলাগুলো বছরের পর বছর আদালতে চলতে থাকে, যদিও সুপ্রিম কোর্টে আপিলে মৃত্যুদণ্ডের সাজা অনেক সময় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে পরিণত হয়। এই প্রক্রিয়া দ্রুত করতে সেপ্টেম্বর মাসে পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননা মামলার জন্য একটি বিশেষ আদালত গঠন করা হয়।

সুদানে খার্তুম বিমানবন্দর পুনর্দখল সেনাবাহিনীর
- ৩ দিক থেকে আরএসএফ ঘাঁটি ঘেরা
এএফপি

সুদানের সেনাবাহিনী বুধবার খার্তুম বিমানবন্দরকে আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কাছ থেকে পুনর্দখল করেছে। এক সামরিক সূত্র এএফপিকে এ তথ্য জানিয়েছে। একই সঙ্গে সেনারা শহরের দক্ষিণে আরএসএফের শেষ বড় ঘাঁটিকে তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেছেন।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলা সংঘর্ষে সেনাবাহিনী এবার রাজধানী খার্তুমের কেন্দ্রস্থলে বিমানবন্দর সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে ওই সামরিক সূত্র জানায়।
গত শুক্রবার প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস পুনর্দখলের পর সেনাবাহিনী খার্তুমের কেন্দ্র দিয়ে অগ্রসর হয়ে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দখল নিয়েছে, যা সংঘর্ষের শুরুতেই আরএসএফ দখল করেছিল। এরপর তারা দক্ষিণের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
সামরিক সূত্র আরো জানায়, ‘রাজধানীর দক্ষিণে আমাদের বাহিনী কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জাবেল আওলিয়া এলাকাকে উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্ব—তিন দিক থেকে ঘিরে ফেলেছে।
শহরের কেন্দ্র থেকে দক্ষিণে যাওয়ার পথে হোয়াইট নীল নদীর ওপর থাকা জাবেল আওলিয়া সেতুটি আরএসএফের দখলে থাকা একমাত্র সংযোগ পথ। এটি তাদের পশ্চিম দারফুর অঞ্চলের ঘাঁটির সঙ্গে সংযুক্ত রেখেছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাক্টিভিস্টদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, আরএসএফের যোদ্ধারা এখন দক্ষিণের দিকে পিছু হটছে এবং মনে করা হচ্ছে, তারা জাবেল আওলিয়ার দিকে যাচ্ছে।
আরএসএফের ঘাঁটি খালি
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত অসংখ্য মানুষ নিহত ও এক কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এ যুদ্ধ বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্ষুধা ও মানবিক সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের ফলে খার্তুম শহর কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে ৩৫ লাখের বেশি মানুষ রাজধানী ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, ফলে বহু এলাকা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে।
দুটি চিকিৎসা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, আরএসএফ সেনারা খার্তুম বিমানবন্দরের দক্ষিণে তামায়োজ হাসপাতাল থেকে সরে গেছে, যা তারা যুদ্ধের শুরু থেকেই তাদের যোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করছিল। সাহাফা এলাকার বাসিন্দা ওসামা আবদেল কাদের বলেন, ‘গত রাত থেকে ওই এলাকা পুরোপুরি আরএসএফ শূন্য হয়ে গেছে।’
দক্ষিণ বেল্ট এলাকায়, যেখানে যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, সেখানকার বাসিন্দা ইসা হোসেন জানান, ‘রবিবার থেকে রাস্তায় আরএসএফ কম সক্রিয়। গতকাল আমি দেখেছি আরএসএফের সাতটি গাড়ি আসবাবপত্র ও পরিবার নিয়ে জাবেল আওলিয়ার দিকে যাচ্ছে।’
যুদ্ধের শুরু থেকেই আরএসএফের বিরুদ্ধে লুটপাট, মানুষের ঘর দখল, যৌন সহিংসতাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। বহু মাস ধরে একের পর এক পরাজয়ের পর গত বছরের শেষ দিকে সেনাবাহিনী যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেয় এবং মধ্য সুদানে অগ্রসর হয়ে প্রায় পুরো রাজধানীর দখল ফিরে পায়।