ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

চিলিজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জরুরি অবস্থা ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
চিলিজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জরুরি অবস্থা ঘোষণা
ছবিসূত্র: এএফপি

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে লাখ লাখ মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে দেশটির রাজধানী সান্তিয়াগো অন্ধকারে ডুবে যায়। এর জেরে দেশটিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

চিলির জাতীয় দুর্যোগ প্রতিক্রিয়া পরিষেবা সেনাপ্রেড জানিয়েছে, দেশের ১৬টি অঞ্চলের মধ্যে ১৪টি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।

চিলির সরকার বুধবার রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত আরিকার উত্তরতম বন্দর থেকে লস লাগোসের দক্ষিণাঞ্চল পর্যন্ত কারফিউ জারি করেছে। 

স্থানীয় সময় গতকাল মঙ্গলবারের ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট সম্মুখীন হয় চিলি। চিলির উত্তরে একটি উচ্চ-ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইনে ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যারোলিনা তোহা বলেছেন। তিনি নাশকতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন

জাতির উদ্দেশ্যে গভীর রাতে টেলিভিশনে ভাষণ দিতে গিয়ে চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বোরিক বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ৮০ লাখ বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ জন্য তিনি বেসরকারি সংস্থাগুলিকে দায়ি করেছেন। বোরিক বলেন, ‘আজ যা ঘটেছে তা অত্যন্ত ভয়াবহ, কারণ এক বা একাধিক কম্পানি লাখ লাখ চিলির মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করছে, তা সহ্য করা যায় না এবং সেই কারণেই তাদের দায়ি করা রাষ্ট্রের কর্তব্য।’

আরো পড়ুন
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি কারাগারে কমপক্ষে ৫৯ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলি কারাগারে কমপক্ষে ৫৯ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

 

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য দেশজুড়ে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করছে। চিলির জাতীয় বিদ্যুৎ সমন্বয়কারী (সিইএন) এর বোর্ড সভাপতি জুয়ান কার্লোস ওলমেডো বলেন, সকালের মধ্যে বিদ্যুৎ সম্পূর্ণরূপে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

 সিইএন এর নির্বাহী পরিচালক আর্নেস্তো হুবার বলেছেন, ‘সংস্থাটি বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র, প্রধানত জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র সক্রিয় করেছে, যাতে এই সময়ের মধ্যে চাহিদা মেটানো যায়।’ চিলির পরিবহনমন্ত্রী জুয়ান কার্লোস মুনোজ জনগণকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সান্তিয়াগোর প্রায় ২৭ শতাংশ ট্র্যাফিক লাইট কাজ করছে।

সান্তিয়াগোর আর্তুরো মেরিনো বেনিতেজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনালগুলো জরুরি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে এবং বিমানগুলো স্বাভাবিকভাবে চলছে। বিভ্রাটের কারণে উত্তর চিলিতে বড় বড় তামার খনিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী ধাতব বাজারে ধাক্কা লেগেছে।

চিলি বিশ্বের বৃহত্তম ধাতু উৎপাদনকারী দেশ।

সূত্র: আলজাজিরা। 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে লেবাননে মার্কিন দূত

এএফপি
এএফপি
শেয়ার
হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে লেবাননে মার্কিন দূত
৫ এপ্রিল লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন (ডানে) বৈরুতে মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মার্কিন উপ-বিশেষ দূত মরগান ওর্টাগাসের (মাঝে) সঙ্গে বৈঠক করেন। ছবি : এএফপি

লেবাননের শিয়াপন্থী সংগঠন হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করতে এক দিন আগে দেশটির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক উপ-বিশেষ দূত মরগান ওর্টাগাস। এক লেবানিজ কর্মকর্তা রবিবার জানান, বৈরুতে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে শনিবার এক বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করেন ওর্টাগাস। তবে নিরস্ত্রকরণের জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি।

এ ছাড়া লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, ওর্টাগাস রবিবার অর্থমন্ত্রী ইয়াসিন জাবের, অর্থনীতিবিষয়ক মন্ত্রী আমের বিসাত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর করিম সৌয়েদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে এক লেবানিজ কর্মকর্তা বলেন, ওর্টাগাস হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে লেবাননের সেনাবাহিনীর কাজ জোরদার ও কাজের গতি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে কোনো সময়সীমা বেঁধে দেননি। হিজবুল্লাহর অস্ত্র রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছেন।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েল যখন লেবাননে ক্রমাগত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, তখন ওর্টাগাস দ্বিতীয়বারের মতো দেশটিতে সফরে গেলেন।

সফরকালে ওর্টাগাস কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেননি। তবে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম শনিবার তার সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেছেন, ওর্টাগাসের সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি এবং অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতির ভিত্তি তৈরি করতে গত ২৭ নভেম্বর জাতিসংঘের একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে দেশটির সেনাবাহিনী ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরাই সশস্ত্র থাকতে পারবে।

সেখানে সব ধরনের বেসরকারি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে লেবাননের নতুন কর্তৃপক্ষ বৈরুতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যাত্রী ও ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োগ করছে। লেবাননের একটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ইরান থেকে হিজবুল্লাহর কাছে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতে ইসরায়েল বৈরুত বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এরপর ফেব্রুয়ারি থেকে লেবানন ও  ইরানের মধ্যে বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে।

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ে নিহত ১৬, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

এএফপি
এএফপি
শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রে ঝড়ে নিহত ১৬, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা
৩ এপ্রিল ২০২৫ যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকির লুইসভিলে টর্নেডোয় বিধ্বস্ত একটি ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখা যাচ্ছে। ছবি : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পূর্বাঞ্চলে মারাত্মক ঝড়ে কমপক্ষে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা স্থানীয় সময় শনিবার আগামী দিনগুলোয় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার সতর্কতা জারি করেছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে অঞ্চলটিতে বেশ কয়েকটি টর্নেডো হয়েছে। আরকানসাস থেকে ওহাইও পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় ঝড়ের ফলে বহু ভবন-স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত ও রাস্তাঘাট প্লাবিত হয়েছে।

প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেনেসি। অঙ্গরাজ্যটির কর্তৃপক্ষ শনিবার জানিয়েছ, অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে ১০ জন মারা গেছে।

এ ছাড়া কেনটাকিতে বন্যায় এক শিশুসহ দুজন প্রাণ হারিয়েছে বলে অঙ্গরাজ্যের গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার জানিয়েছেন। শিশুটি বন্যার পানির তোড়ে ভেসে গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে শেয়ার করা ছবিতে বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ঝড়ের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও বিদ্যুতের লাইন ভেঙে পড়ে গাড়ি উল্টে যেতে দেখা গেছে।

জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, রবিবার মধ্য-পূর্ব অঞ্চলের কিছু অংশে মারাত্মক ও ব্যাপক আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা থাকায় জীবন ও সম্পত্তির চরম ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন ও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে মিসৌরিতে দুজন ও ইন্ডিয়ানাতে একজনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

অঙ্গরাজ্যের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চলমান তীব্র আবহাওয়ায় আরকানসাসের লিটল রকের একটি বাড়িতে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মৃতদেহ পাওয়া গেছে।’

কেন্টাকির গভর্নর বেশিয়ার শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মধ্যমে তার অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদের ‘ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে ও পানির ভেতর দিয়ে গাড়ি না চালানোর’ আহ্বান জানিয়েছেন।

ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট পাওয়ারাআউটেজে জানানো হয়েছে, রবিবার ভোর পর্যন্ত আরকানসাস ও টেনেসিতে লক্ষাধিক গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল।

এনডব্লিউএস শনিবার জানায়, রবিবার টেনেসি উপত্যকা ও লোয়ার মিসিসিপি উপত্যকার কিছু অংশে ‘মারাত্মক বজ্র ঝড়সহ’ মাঝারি থেকে তীব্র টর্নেডো তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে জলবায়ুর স্বাভাবিক ধারা ও পানিচক্রে বিরূপ প্রভাব পড়ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরো ঘন ঘন এবং আরো বিধ্বংসী হয়ে উঠছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পরিমাণ উচ্চ তাপমাত্রা লক্ষ করা গেছে। পাশাপাশি দেশটিতে একের পর এক টর্নেডো ও ধ্বংসাত্মক হারিকেন আঘাত হেনেছে।

মন্তব্য

দক্ষিণ কোরিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
দক্ষিণ কোরিয়ায় হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত
দক্ষিণ কোরিয়ায় ২৫ মার্চ দাবানল নিয়ন্ত্রণে হেলিকপ্টার থেকে পানি ছোড়া হচ্ছে। ছবি : এএফপি

দক্ষিণ কোরিয়ায় রবিবার একটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় দেগু শহরে পাহাড়ে আগুন নেভানোর সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

এই দুর্ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন দেশটি গত মাসেই ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মুখোমুখি হয়েছিল।

সরকারিভাবে প্রকাশিত তথ্য মতে, ওই দাবানলে ৩০ জন নিহত হয় এবং ৪৮ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে যায়।

এএফপি দেগু ফায়ার ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে। ইয়োনহাপ বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, শুধু পাইলট বহনকারী হেলিকপ্টারটি ‘অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে একটি অভিযানের সময় বিধ্বস্ত হয়’। 

প্রতিবেদন অনুসারে, গত এক মাসে অগ্নিনির্বাপণ অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট নিহত হওয়ার এটি দ্বিতীয় ঘটনা।

ইয়োনহাপ জানিয়েছে, রবিবারের অগ্নিকাণ্ডটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে, যা মার্চ মাসের দাবানল থেকে আলাদা।

গত মাসের দাবানল প্রবল বাতাস ও অতি দ্রুত শুষ্ক হয়ে যাওয়া পরিবেশের কারণে আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই অঞ্চলটিতে কয়েক মাস ধরেই স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। এর আগে ২০২৪ সাল দক্ষিণ কোরিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

ওই দাবানলে কয়েকটি ঐতিহাসিক স্থাপনাও ধ্বংস হয়ে যায়, যার মধ্যে রয়েছে ইওইসেওং এলাকায় সপ্তম শতকে নির্মিত বলে ধারণা করা গৌনসা মন্দির কমপ্লেক্স।

মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান ইরানের
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পতাকা উড়ছে। ফাইল ছবি : এএফপি

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনাকে ‘অর্থহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা পছন্দ করবেন বলে মন্তব্য করার পর সে দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই মন্তব্য করলেন। তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প গত মাসে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য তেহরানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তবে কূটনীতি ও আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানে বোমা হামলার হুমকিও দেন ট্রাম্প। এরপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট বৃহস্পতিবার জানান, তিনি ইরানের সঙ্গে ‘সরাসরি আলোচনা’ করতে আগ্রহী। তিনি যুক্তি দেন, ‘আমি মনে করি, এটি দ্রুত এগোবে এবং আপনি অন্য পক্ষকে অনেক ভালোভাবে বুঝতে পারবেন, যদি আপনি মধ্যস্থতাকারীদের বাদ দিয়ে সরাসরি কথা বলেন।’

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবার বললেন, ‘যে পক্ষ জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে বলপ্রয়োগের হুমকি দেয় এবং তার বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রকাশ করে, তাদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হবে অর্থহীন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কূটনীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পরোক্ষ আলোচনার পথ চেষ্টা করতে প্রস্তুত।’

আরাঘচি বলেন, ‘ইরান সম্ভাব্য সব ঘটনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখে। কূটনীতি ও আলোচনার ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্বারোপ করে, তেমনি জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বারোপ করবে।’

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার বলেছেন, তার দেশ ‘সাম্যের ভিত্তিতে’ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিতে আগ্রহী।

তিনি আলোচনার আহ্বানে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যদি আপনি আলোচনা চান, তাহলে হুমকি দেওয়ার অর্থ কী?’

পারমাণবিক কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলো কয়েক দশক ধরে তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ করে আসছে। ইরান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম শুধু বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের প্রধান হোসেইন সালামি শনিবার বলেছেন, দেশ যুদ্ধের জন্য ‘প্রস্তুত’। সরকারি সংবাদ সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সিকে (ইরনা) তিনি বলেন, ‘আমরা যুদ্ধ নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই। আমরা যুদ্ধের সূচনাকারী হবো না, তবে আমরা যেকোনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রয়েছি।

২০১৫ সালে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী পাঁচ সদস্য—যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য এবং জার্মানির সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি করে। এই চুক্তির উদ্দেশ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে আনা। জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) নামের সেই চুক্তি করা হয় নিশ্চিত করতে, যাতে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে। পাশাপাশি ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমে কড়াকড়ির বিনিময়ে দেশটিকে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়।

কিন্তু ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র এই চুক্তি থেকে সরে যায় এবং ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করে। তার এক বছর পর ইরান চুক্তিতে তার অঙ্গীকার থেকে সরে আসতে শুরু করে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি জোরদার করে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলী লারিজানি সোমবার সতর্ক করে বলেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায় না, তবে যদি তার দেশের ওপর হামলা হয়, তাহলে ‘তাদের আর কোনো উপায় থাকবে না’।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ