‘বিশ্বশান্তির জন্য’ যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই মন্তব্যের মাধ্যমে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ ও খনিজ সম্পদসমৃদ্ধ ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ডটি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা পুনর্ব্যক্ত করলেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের শান্তির বিষয়ে কথা বলছি না। আমরা বিশ্বশান্তির কথা বলছি।
আমরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার কথা বলছি।’
এদিকে গত শুক্রবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, তাঁর স্ত্রী ও অন্য ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তারা এক দিনের জন্য গ্রিনল্যান্ড সফর করেছেন। এ সময় ডেনমার্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে চীন ও রাশিয়ার কথিত আগ্রাসনের ঝুঁকির মুখে ফেলে রেখেছে ডেনমার্ক। আর্কটিক দ্বীপটির বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে আসারও আহবান জানান তিনি।
প্রয়োজনে বল প্রয়োগ করে দ্বীপটি দখলে নেওয়ার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, গ্রিনল্যান্ড সফরকালে ভ্যান্সের বক্তব্যে তা প্রকাশ পায়নি।
তবে গ্রিনল্যান্ডের অধিবাসীদের ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহবান জানিয়ে ভ্যান্স বলেছেন, ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা ডেনিশরা আধাস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটির সুরক্ষায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করেনি।
গ্রিনল্যান্ডকে অঙ্গীভূত করার মার্কিন প্রস্তাবে দ্বীপটির বেশির ভাগ বাসিন্দা দ্বিমত প্রকাশ করেছে বলে গত জানুয়ারির এক জরিপে উঠে এসেছে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভ্যান্সের সফরের মধ্য দিয়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘শ্রদ্ধার ঘাটতি’ প্রকাশ পেয়েছে।
ডেনমার্কের রাজা ফ্রেদরিকও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমরা একটি ভিন্ন বাস্তবতায় বসবাস করছি। গ্রিনল্যান্ডের প্রতি আমার ভালোবাসা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের সঙ্গে আমার সংযোগ যে অক্ষুণ্ন রয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।’
গত শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ পিটুফিক মহাকাশ ঘাঁটি ঘুরে দেখেন ভ্যান্স। পরে তিনি বলেন, ‘ডেনমার্কের উচিত ছিল গ্রিনল্যান্ডের জনগণকে চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করা।
’ যদিও আগ্রাসন নিয়ে বিস্তারিত বলেননি তিনি।
৫৭ হাজার বাসিন্দার দ্বীপটিতে অব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ খনিজ ও তেল আছে বলে ধারণা করা হয়। ভ্যান্স গ্রিনল্যান্ডবাসীকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ডেনমার্কের কাছ থেকে দ্বীপটির দখল নেবে না। দ্বীপটির অধিবাসীদের ‘আত্মমর্যাদায়’ বলীয়ান হয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের আহবান জানান তিনি। ১৭২১ সাল থেকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করছে ডেনমার্ক।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা মনে করছি, আমরা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত একটি চুক্তি করতে পারব, যা এই এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা (গ্রিনল্যান্ড) যুক্তরাষ্ট্রকে অংশীদার হিসেবে বেছে নেবে বলে আশা করছি। কারণ বিশ্বের মধ্যে আমরাই একমাত্র দেশ, যারা তাদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে শ্রদ্ধা করি। তাদের নিরাপত্তা আদতে আমাদেরই নিরাপত্তা।’ সূত্র : আলজাজিরা, বিবিসি