ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৩ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১, ০৩ শাওয়াল ১৪৪৬

সবাইকে সংগঠিত থাকতে হবে

  • সেনাপ্রধানের সতর্কবার্তা
শেয়ার
সবাইকে সংগঠিত থাকতে হবে

গত মঙ্গলবার জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবে ২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান যেসব কথা বলেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, নিজেরা কাদা ছোড়াছুড়ি, মারামারি ও কাটাকাটি করলে দেশ ও জাতির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। এই দেশ আমাদের সবার উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।

তাঁর এই বলিষ্ঠ উচ্চারণ গুরুত্বপূর্ণ এই কারণে যে বাংলাদেশ আজ এক সন্ধিক্ষণ অতিক্রম করছে। গত আগস্টে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। এর একটি হচ্ছে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখা।

সেনাপ্রধান তাঁর ভাষণে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার পেছনে কিছু কারণ তুলে ধরে বলেছেন, আমরা নিজেরা হানাহানি নিয়ে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে বিষোদগারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, আমরা যদি সংগঠিত, একত্র থাকি, তাহলে অবশ্যই সম্মিলিতভাবে এটা মোকাবেলা করা সম্ভব হবে।
  

রাজনীতিতে অর্থ আর পেশিশক্তির ক্রমবর্ধমান প্রভাবে বাংলাদেশ এক চরম দুঃসময় পার করে এসেছে। রাজনীতিতে আদর্শ, জনকল্যাণ, আত্মত্যাগ ও নৈতিকতা ক্রমেই দুর্বল থেকে দুর্বলতর হয়েছে। স্বাধীনতার পর গত সাড়ে পাঁচ দশকে সময় যত গড়িয়েছে, ততই যেন রাজনীতি আদর্শ থেকে দূরে সরে গেছে। প্রধান দলগুলোতে গণতন্ত্রচর্চাহীনতার সুযোগে সুযোগসন্ধানীরা ঢুকে পড়ে। স্বজনপ্রীতি আর প্রশ্রয়নির্ভর রাজনীতিতে ছিল না জবাবদিহির বালাই।

এই অবস্থা থেকে উত্তরণে চাই শুদ্ধিকরণ। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষ সেই শুদ্ধিকরণের স্বপ্ন দেখেছিল। ধারণা করেছিল, যারা দলের নাম এত দিন ভাঙিয়ে আখের গুছিয়েছে, তাদের লাগাম টেনে ধরা হবে। অন্যদের জন্যও বিষয়টি শিক্ষণীয় হবে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বিষয়টি স্থায়ী হয়ে গিয়েছিল, সেটি হচ্ছে পরস্পরের প্রতি বিষোদগার। সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে সেই বিষয়টির প্রতিও সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে, কিন্তু দিনশেষে আমরা সবাই দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে যেন এক থাকতে পারি। কেবল এক থাকলেই এ দেশ উন্নত হবে, সঠিক পথে পরিচালিত হবে। না হলে আমরা আরো সমস্যার মধ্যে পড়ে যাব। ওই দিকে আমরা যেতে চাই না।

সেনাপ্রধানের এই সতর্কবার্তা প্রণিধানযোগ্য। ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারে হাত দেয়। এই সংস্কারপ্রক্রিয়া নিয়ে সেনাপ্রধান বলেছেন, নির্বাচনের আগে যেসব সংস্কার করা প্রয়োজন, অবশ্যই সরকার সেদিকে খেয়াল করবে।

রাওয়া ক্লাবে দেওয়া সেনাপ্রধানের বক্তব্যের প্রতিটি কথা দেশের সচেতন মানুষকে নাড়া দিয়েছে। তাঁর পরামর্শ এই সময়ে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

আরো সহজলভ্য করা হোক

    চীনে বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবা
শেয়ার
আরো সহজলভ্য করা হোক

বলতে দ্বিধা নেই, বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি অনেকেরই আস্থা কম। ফলে প্রতিবছর অনেক রোগী ভারত, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, এমনকি ইউরোপ-আমেরিকায়ও চিকিৎসা নিতে যায়। সংখ্যাটি ভারতেই সর্বাধিক। কারণ সহজে ও কম খরচে সেখানে চিকিৎসা করানো যেত।

সম্প্রতি ভারতে ভিসা কড়াকড়ি আরোপ করায় বাংলাদেশি রোগীরা সমস্যায় পড়েছে। এই অবস্থায় বাংলাদেশি রোগীদের জন্য উন্নত চিকিৎসার দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছে চীন। চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশের রাজধানী কুনমিংয়ের চারটি হাসপাতাল বাংলাদেশি রোগীদের জন্য বিশেষভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে একজন চীনা রোগী যে খরচে চিকিৎসা পায়, বাংলাদেশের একজন রোগীও একই খরচে অনুরূপ চিকিৎসা পাবে।
ঢাকা-কুনমিং ফ্লাইটের পাশাপাশি চট্টগ্রাম-কুনমিং ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা করেছে চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইনস। বিমানভাড়াও কমানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে।

কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কুনমিংয়ে যে চারটি হাসপাতাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে সেখানকার সেরা তিনটি হাসপাতাল। এগুলো হলোদ্য ফার্স্ট পিপলস হসপিটাল অব ইউনান প্রভিন্স, দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল অব কুনমিং মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং ফাওয়াই ইউনান হসপিটাল, চায়নিজ একাডেমি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস।

চিকিৎসার ধরন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দোভাষী নির্বাচনসহ সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কাজ করছেন। কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম-কুনমিং রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে যাতায়াত ব্যয় ও সময় কমে আসবে। ফলে আরো বেশিসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী সহজে চীনের স্বাস্থ্যসেবা নিতে পারবে।

চীনের এই সহযোগিতা নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একজন নাগরিক অবশ্যই উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে।

কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে আমাদের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবাকেই আরো এগিয়ে নিতে হবে এবং সেবার মান উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বিদেশে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে যায়, যেখানে আমাদের লাখ লাখ প্রবাসী কর্মী সারা বছরে রেমিট্যান্স পাঠান ২৫ বিলিয়ন ডলারের মতো। এই তথ্যও চূড়ান্ত নয়। কারণ অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসায় বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা করায়, যা এই হিসাবে আসেনি।

দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার মানোন্নয়ন করতে হবে, যাতে ধনী-দরিদ্র সবাই উন্নত চিকিৎসাসেবা পেতে পারে। এর আগ পর্যন্ত চীনের এই সেবা আরো সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

মন্তব্য

আমাদের সতর্ক হতে হবে

    মায়ানমারে ভয়াবহ ভূমিকম্প
শেয়ার
আমাদের সতর্ক হতে হবে

মায়ানমারে গত শুক্রবার ভয়াবহ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৭.৭। গতকাল বুধবার পর্যন্ত মায়ানমারে মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় তিন হাজার। আহতের সংখ্যা আরো বেশি।

ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো বহু মানুষ আটকা পড়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের এক মডেলে আশঙ্কা করা হয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই ভূমিকম্পের প্রভাবে থাইল্যান্ডেও ব্যাপক ক্ষতি হয়। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাঙ্ককেও ১২ জন নিহত এবং ৮০ জনের মতো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা যায়।
এই ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশে অনুভূত হলেও কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে একে বাংলাদেশের জন্যও একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছে অনেকে।

ভূমিকম্পের পরপরই চীন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকর্মীরা মায়ানমারে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন। নানাভাবে মায়ানমারকে সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে ওষুধ, ত্রাণসামগ্রী, উদ্ধার ও চিকিৎসা সহায়তা পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে রবিবার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উদ্ধারকারী দল মায়ানমার পৌঁছেছে।

নিকট অতীতে বিশ্বব্যাপী বেশ কিছু বড় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২০২৩ সালে তুরস্ক ও সিরিয়ায় ভূমিকম্পে অর্ধলক্ষাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, জাপানে নিকট ভবিষ্যতে অতি বড় ধরনের একটি ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে, যাতে মারা যেতে পারে প্রায় তিন লাখ মানুষ।

জাপানের মোট দেশজ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ভূ-বিজ্ঞানীরা বাংলাদেশেও একটি বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন। বিশেষত চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল ভূমিকম্পের উচ্চঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এমতাবস্থায় ভূমিকম্প মোকাবেলার জন্য সব পর্যায়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ ও সচেতনতা তৈরির জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। ঝুঁকিমুক্ত থাকতে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ করার জন্য। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরনো ভবনগুলোর সংস্কার ও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। সব বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা; ইউটিলিটি সার্ভিসগুলো; যথাগ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে।

ভূমিকম্পের কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস দেওয়ার সক্ষমতা এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। তাই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রধানতম উপায় হচ্ছে ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন তৈরি করা। বাস্তবে দেখা যায়, ভূমিকম্প ছাড়াই বাংলাদেশে অনেক বহুতল ভবন হেলে বা ধসে পড়ে। অথচ জাতিসংঘের এক জরিপের ভিত্তিতে আমাদের রাজধানী ঢাকাকে রাখা হয়েছে ভূমিকম্পের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায়। বিজ্ঞানীদের মতে, ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হলে এখানকার ৬০ শতাংশ ঘরবাড়ি ধসে পড়তে পারে। উদ্ধারকারী যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে। মাথার ওপরে যেভাবে বিদ্যুতের তারের জঞ্জাল, ঘরবাড়িতে গ্যাসের পাইপলাইন ছড়িয়ে রয়েছে, তাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। তাই এখানে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কাও অনেক বেশি।

আমাদের ভবিষ্যতের কথা আমাদেরই ভাবতে হবে। এ কারণে নতুন ভবন তৈরির ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পুরনো যেসব ভবন সংস্কারের মাধ্যমে ভূমিকম্প প্রতিরোধী করা সম্ভব, সেগুলোকে দ্রুত সংস্কার করতে হবে। বেশি পুরনো ও অনিরাপদ ভবনগুলো ভেঙে নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতার উন্নয়ন করতে হবে।

মন্তব্য

নতুন উচ্চতায় দুই দেশের সম্পর্ক

    প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর
শেয়ার
নতুন উচ্চতায় দুই দেশের সম্পর্ক

বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার চীন। পদ্মা সেতু, পায়রা বিদ্যুৎ হাব, রেলসংযোগসহ অনেক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে চীনের সহায়তায়। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সেই সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন জলবিদ্যুৎ, পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগ হ্রাস, নদী খনন, পানিসম্পদের সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা জোরদারে সম্মত হয়েছে।

গত শুক্রবার বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও অধ্যাপক ইউনূস বৈঠক করেন। চীনের রাজধানীর গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এই সফরে বাংলাদেশ ও চীন অর্থনৈতিক ও কারিগরি সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি এবং ক্লাসিক সাহিত্যের অনুবাদ ও প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিনিময় ও সহযোগিতা, সংবাদ বিনিময়, গণমাধ্যম, ক্রীড়া ও স্বাস্থ্য খাতে আটটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করে।

এশিয়ার বোয়াও ফোরামের মহাসচিবের আমন্ত্রণে অধ্যাপক ইউনূস গত ২৬ ও ২৭ মার্চ চীনের হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন।

সম্মেলনের সাইডলাইনে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী ডিং শ্যুয়েশিয়াং অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর চীন সরকারের আমন্ত্রণে প্রধান উপদেষ্টা ২৭ থেকে ২৯ মার্চ বেইজিং সফর করেন। সেখানে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেংও অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বাংলাদেশ ও চীনের পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিস্তা নদীর সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনঃসংস্কার প্রকল্পে চীনা কম্পানিগুলোর অংশগ্রহণকে বাংলাদেশ স্বাগত জানিয়েছে।
উভয় পক্ষ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং নীল অর্থনীতিতে সহযোগিতার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সম্মত হয়েছে। সমুদ্রসংক্রান্ত বিষয়ে বিনিময় জোরদারে এবং উপযুক্ত সময়ে সামুদ্রিক সহযোগিতা সংক্রান্ত নতুন সংলাপ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, চীন রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়ায় তার সামর্থ্যের মধ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।

শুক্রবার বেইজিংয়ের দ্য প্রেসিডেনশিয়াল-এ চীনা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে এক বিনিয়োগ সংলাপে অংশ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহবান জানান।

তাঁর এই আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়। চীন সরকার ও চীনা কম্পানিগুলোর কাছ থেকে বাংলাদেশ ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ, ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে।

আমরা আশা করি, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক উত্তরোত্তর আরো জোরদার হবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে চীন আগামী দিনগুলোতে আরো বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য

সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হোক

    পবিত্র ঈদুল ফিতর
শেয়ার
সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ় হোক

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আনন্দের বার্তা নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। মুসলমানদের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের অন্যতম এই ঈদুল ফিতর। প্রতিবছর ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, ধনী-দরিদ্র-নির্বিশেষে সবাই শরিক হয় এই আনন্দ উৎসবে। যে যার সাধ্যমতো এই দিনটি আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপন করে থাকে।

হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানি ভুলে মানুষে-মানুষে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ঈদুল ফিতর আসে সুশৃঙ্খল আচার-আচরণের শিক্ষা নিয়ে। আসে কৃচ্ছ্র ও শুদ্ধতার প্রতীক হয়ে। ঈদের আনন্দ নিকটজনদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পথের বিড়ম্বনা অগ্রাহ্য করে সবাই ছুটে যায় পরিবার, আত্মীয়-স্বজনের কাছে।
এবারও সেই চিরচেনা দৃশ্য। স্রোতের মতোই মানুষ ঢাকা ছেড়েছে।

দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার মধ্য দিয়ে প্রত্যেক মুসলমান নৈতিক, আত্মিক ও সামাজিক পরিশুদ্ধির শিক্ষায় পরিশীলিত হয়। তাকওয়ার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে নতুন জীবন শুরুর উদ্দীপনা পায়।

তাই ঈদ আসে শত্রুতা ও বৈরিতার প্রাচীর ডিঙিয়ে, বন্ধুত্ব ও মিত্রতার হাত বাড়িয়ে। ঈদ আসে মহামিলনের মহোৎসবে মনকে মাতিয়ে তুলতে। পরিশুদ্ধ হৃদয়ে পরিতৃপ্তির ছোঁয়া লাগাতে। তাই ঈদের আনন্দ সংক্রমিত হতে থাকে হৃদয় থেকে হৃদয়ে। দুস্থ, হতদরিদ্র, এতিম, নিঃস্ব ও ছিন্নমূল মানুষের মুখেও এই পবিত্র দিনে হাসির ফোয়ারা দেখা যায়।
মুসলমানদের এই খুশির দিনটিকে পরম আনন্দে ভাগাভাগি করে নেয় ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরাও। আর এভাবেই সর্বজনীন হয়ে ওঠে ঈদ।

ঈদুল ফিতর একাধারে আনন্দোৎসব ও ইবাদত। এই আনন্দ আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা প্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এই আনন্দ সিয়াম-কিয়ামের শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার। এই আনন্দে নেই কোনো পাপ-পঙ্কিলতা। এই আনন্দে কেবলই সওয়াব ও পূর্ণতা। ধীরে ধীরে এই আনন্দ সবার মাঝে সঞ্চারিত হতে থাকে। এই দিনে হতদরিদ্র, এতিম, দুস্থ, নিঃস্ব ও ছিন্নমূল মানুষের মুখেও হাসি ফোটে। ভিন্ন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরাও এ সময় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সমান তালে। ঈদ উপলক্ষে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সুবিধা তাঁরাও ভোগ করেন। এভাবেই সর্বজনীন হয়ে ওঠে ঈদ।

ঈদ মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, সম্প্রীতি-সৌভ্রাতৃত্ব শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও। এই উৎসবের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলমান একে অপরের আরো কাছাকাছি আসে। শুধু মুসলমান নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গেও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। পবিত্র রমজান আমাদের চিত্তশুদ্ধির যে শিক্ষা দিয়েছে, ঈদুল ফিতর হচ্ছে সেই শিক্ষা কাজে লাগানোর দিন। আজ একটি দিনের জন্য হলেও ধনী-গরিব সবাই দাঁড়াবে এক কাতারে। ভুলে যেতে হবে সব বৈষম্য, সব ভেদাভেদ। হিংসা, বিদ্বেষ ও হানাহানি থেকে নিজেদের মুক্ত করতে হবে। শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবে সারা বিশ্বে মুসলমানদের মর্যাদা ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে হবে। ইসলাম যে প্রকৃত অর্থেই শান্তির ধর্ম, সেটি প্রমাণ করতে হবে। 

ঈদের সামাজিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। রোজা ও ঈদের সময় দরিদ্রদের প্রতি সমবেদনা ও সহযোগিতার মনোভাব বৃদ্ধি পায়। বৈষম্যের বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলে ঈদ। ঈদ মানে পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি। আমাদের ঘরে ঘরে ফিরে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি। সুদৃঢ় হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য। সবার ঘরে পৌঁছে যাক ঈদের সওগাত। আমাদের অসংখ্য পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা, বিপণনকর্মী, শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ