ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৪ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬
উপমহাদেশে মুসলিম শাসন

সম্রাট আকবরের রাজস্বনীতি

ড. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম
ড. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম
শেয়ার
সম্রাট আকবরের রাজস্বনীতি
দেওয়ানে খাস, ফতেহপুর সিক্রি, ভারত। ছবি : সংগৃহীত

সম্রাট আকবর ভারতে কৃষি ও শিল্পের উন্নয়নে অনবদ্য অবদান রেখে গেছেন। আকবরের রাজস্ব সংস্কার ও অর্থব্যবস্থা ছিল কৃষি উন্নয়নের সহায়ক। জমির উৎপাদিকাশক্তির ওপর রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ করা ছিল আকবরের রাজস্ব সংস্কারের বিজ্ঞানসম্মত নীতি। আকবরের রাজস্বনীতি তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভরশীল ছিল।

এ তিন বৈশিষ্ট্যগুলো হচ্ছে :

১. জমি জরিপ ও পরিমাণ নির্ধারণ

২. জমির শ্রেণিবিভাগ এবং

৩. রাজস্বের হার নির্ধারণ।

তিনি সমগ্র জমি জরিপ করে জমির উর্বরতা এবং কতকাল যাবৎ জমিতে চাষাবাদ করা হচ্ছে, এসব ভিত্তিতে সমগ্র চাষের জমিকে চার ভাগে বিভক্ত করেন।

যেমন

১. পোলাজ জমি : যেসব জমিতে প্রতিবছরই চাষাবাদ করা যেত, স্বল্প সময়ের জন্যও তা অকর্ষিত রাখার প্রয়োজন ছিল না।

২. পরাউতি জমি : যেসব জমির উর্বরতা রক্ষার জন্য মাঝেমধ্যে পতিত রাখা হতো।

৩. চাচর জমি : যেসব জমি তিন বা চার বছর পর পর আবাদ হতো।

৪. বনজার জমি : যেসব জমি পাঁচ বছর বা ততোধিককাল অনাবাদি পড়ে থাকত।

জমির প্রকরণভেদে রাজস্বের পরিমাণ নির্ধারণ

পোলাজ ও পরাউতি জমিকে আবার উৎপন্ন ফসলের পরিমাণের ভিত্তিতে উত্তম, মধ্যম ও অধমএ তিন ভাগে ভাগ করা হয়। এ তিন প্রকারের জমির উৎপন্ন শস্যের গড় নির্ধারণ করে রাজস্ব নির্ধারিত হতো।

টোডরমলে তিন প্রকার জমির মোট উৎপন্ন ফসলের এক-তৃতীয়াংশ রাজস্ব হিসেবে ধার্য করেন। চাচর ও বনজার জমির রাজস্ব উৎপাদনের পরিমাণের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হত। ফসল ওঠার মৌসুমে রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীরা গ্রামে গিয়ে জরিপের মাধ্যমে জমির পরিমাণ নির্ণয় ও উৎপাদিত শস্যের পরিমাণ ধার্য করতেন। নগদ অর্থ অথবা উৎপন্ন ফসলে রাজস্ব আদায় করা হতো। তবে আকবর নগদ অর্থই বেশি পছন্দ করতেন।

রাজস্ব আদায়ের পদ্ধতি

প্রশাসন ও রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য সমগ্র মোগল সাম্রাজ্য কতকগুলো সুরা বা প্রদেশে, প্রদেশ কতকগুলো সরকার বা বিভাগে, পরগনা বা জেলায় বিভক্ত ছিল। প্রতিটি পরগনা আবার কতকগুলো মৌজা বা গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত ছিল। রাজস্ব আদায়ের জন্য পরগনা ছিল একক (Unit).

রাজস্ব বিভাগের কর্মচারীবৃন্দ

পরগনার রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তাকে আমলগুজার বলা হতো। তিনি রাজস্ব আদায়ে তার সহকারীরা ছাড়াও গ্রামে নিযুক্ত বেসরকারি মুকাদ্দাম হিসেবে গণ্য হতো। (গ্রামের প্রধান) ও পাটোয়ারী উপাধিধারী প্রধানদের সাহায্য নিতেন। রাজস্ব আদায়সংক্রান্ত ব্যাপারে অন্য যেসব সাহায্যকারী কর্মচারী নিযুক্ত ছিল তারা হচ্ছেন আমিন বা জরিপকারী, কারকুন বা রাজস্ব ধার্যকারী, কানুনগো-দেয় রাজস্বের হিসাব রক্ষাকারী, পোদ্দার বা জেলা কোষাধ্যক্ষ। প্রদেশে রাজস্ব আদায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান আদায়কৃত রাজস্ব হতে শাসনকার্যের প্রয়োজনীয় ব্যয় সংকুলানের জন্য অর্থ সুবাদারকে দিতেন এবং উদ্বৃত্ত অর্থ কেন্দ্রীয় রাজকোষে প্রেরণ করতেন।

গণকল্যাণমূলক রাজস্ব ব্যবস্থা

আকবরের সময়ে রাজস্ব আদায়ে সতর্কতা অবলম্বন করা হয় এবং কোনো রকম অতিরিক্ত পাওনা আদায় করা হতো না। সম্রাট অহরহ রাজস্ব আদায়কারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে অতিরিক্ত আদায় হতে বিরত থাকতে এবং নাগরিকদের দুঃখ-কষ্ট লাঘব করতে নির্দেশ জারি করতেন। ছোটখাটো কর্মচারীদের মধ্যে কোথাও অবৈধ লাভের প্রবণতা থাকলেও কর্মকর্তাদের মধ্যে উন্নতমানের ক্ষমতা পরিলক্ষিত হতো। পাশ্চাত্য ও উপমহাদেশীয় ঐতিহাসিকরা আকবরের ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। কেননা উক্ত ব্যবস্থা চাষিদের আদায়কারী কর্মকর্তাদের অথবা বারানি থেকে নিরাপদ করে। সম্রাট রায়তদের তথা কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন এবং অতিবৃষ্টি ও অনাবৃষ্টির দরুন দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে রায়তদের খাজনা প্রদানের সামর্থ্য না থাকলে তিনি খাজনা মওকুফ করে দিতেন। এরূপ কল্যাণমূলক রাজস্ব ব্যবস্থায় চাষিরা ভূমির উন্নতি বিধানে আগ্রহী হয়ে ওঠে।

(লেখকের ইসলামের অর্থনৈতিক ইতিহাস বই থেকে সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত)

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কোরআন থেকে শিক্ষা

    পর্ব, ৭৩৪
শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ : ‘তুমি কি দেখ না যে আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যারা আছে তারা এবং উড্ডীয়মান পাখিরা আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে? প্রত্যেকেই জানে তার ইবাদতের ও পবিত্রতা ঘোষণার পদ্ধতি এবং তারা যা করে সে বিষয়ে আল্লাহ সম্যক অবগত। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই এবং আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন। তুমি কি দেখ না, আল্লাহ সঞ্চালিত করেন মেঘমালাকে, তৎপর তাদেরকে একত্র করেন এবং পরে পুঞ্জীভূত করেন।...আল্লাহ দিবস ও রাতের পরিবর্তন ঘটান, তাতে শিক্ষা রয়েছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্নদের জন্য।

’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৪১-৪৪)

আয়াতগুলোতে আল্লাহর সৃষ্টিজগতের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. আল্লাহর কতক সৃষ্টি মুখে তাঁর তাসবিহ পাঠ করে আর কতক তাদের অবস্থার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করে।

২. তাফসিরবিদরা বলেন, আল্লাহ যে বস্তুকে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করেছেন তা যথাযথ পালন করা তাঁর ইবাদত।

৩. ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় সার্বভৌমত্ব আল্লাহর জন্য সংরক্ষিত।

আল্লাহর সার্বভৌমত্বের অধীনেই রাষ্ট্রপ্রধানরা রাষ্ট্র পরিচালনা করবে।

৪. আল্লাহর কুদরত ও সৃষ্টিজগৎ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা মুমিনের জন্য অপরিহার্য। কেননা এর মাধ্যমে ঈমান বৃদ্ধি পায়।

৫. আয়াত থেকে প্রাণিজগতের বৈচিত্র্য ও শ্রেণিবিন্যাস সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

(বুরহানুল কুরআন : ২/৫৮৯)

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য
পর্ব : ২৭

তারাবিতে কোরআনের বার্তা

শেয়ার
তারাবিতে কোরআনের বার্তা

সুরা নাজম

সুরার বক্তব্য শুরু হয়েছে এভাবে যে মুহাম্মাদ (সা.) পথভ্রষ্ট ব্যক্তি নন। তিনি নিজের পক্ষ থেকে কোনো কথা বলেন না, বরং তিনি ওহির অনুসরণ করেন। ইসরা ও মিরাজ সম্পর্কে তিনি যা বর্ণনা করেছেন, তা তাঁর অনুমাননির্ভর নয়, বরং নিজ চোখ দেখা অকাট্য সত্য। তিনি জিবরাইল (আ.)-কে তাঁর নিজস্ব অবয়বে দেখেছেন।

তিনি সিদরাতুল মুনতাহাসহ ঊর্ধ্বজগৎ ভ্রমণ করেছেন।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহ ফেরেশতাদের প্রজ্ঞা দান করেছেন। (আয়াত : ৪-৬)

২. রাসুল (সা.) সংশয়গ্রস্ত হতেন না। (আয়াত : ১১-১২)

৩. নবী-রাসুলরা বিভ্রমের শিকার হতেন না।

(আয়াত : ১৭)

৪. জ্ঞানহীন মানুষরাই অনুমানের পেছনে ছোটে। (আয়াত : ২৮)

৫. দুনিয়ামুখী মানুষরাই আল্লাহবিমুখ। (আয়াত : ২৯)

৬. স্বল্প জ্ঞানের অধিকারীরাই পার্থিব জীবনে মত্ত হয়। (আয়াত : ৩০)

৭. সব পাপ পরিহার করো, বিশেষত যা গুরুতর।

(আয়াত : ৩২)

৮. অভাবীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (আয়াত : ৩৩-৩৪)

৯. চেষ্টা অনুপাতেই আল্লাহ মানুষকে দেন। (আয়াত : ৩৯-৪০)

১০. নারী-পুরুষকে আল্লাহই যুগলবন্দি করেন। (আয়াত : ৪৫)

১১. আল্লাহর অনুগ্রহের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ কোরো না। (আয়াত : ৫৫)

সুরা কামার

মহানবী (সা.)-এর দাওয়াতের বিরুদ্ধে মক্কার কাফিররা যে হঠকারিতা করেছিল এ সুরায় সে বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে।

কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার যে খবর মহানবী (সা.) দিয়েছেন, তা অবশ্যই সত্য। মহানবী (সা.)-এর আঙুলের ইশারায় চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া তারই প্রমাণ। পরে মক্কার কাফিরদের সামনে নুহ (আ.)-এর জাতি, আদ জাতি, সামুদ জাতি, লুত (আ.)-এর জাতি এবং ফেরাউনের অনুসারীদের অবস্থা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. প্রবৃত্তির অনুসরণ কোরো না। (আয়াত : ৩)

২. আল্লাহ কোরআন সহজ করেছেন। (আয়াত : ১৭)

৩. আল্লাহ সব কিছু নির্ধারিত পরিমাণে সৃষ্টি করেছেন। (৪৯-৫০)

সুরা আর-রহমান

আলোচ্য সুরায় কিয়ামত ও জান্নাত-জাহান্নাম সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই সুরায় আল্লাহর অসংখ্য নিয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দ্বিনের নিয়ামত, কোরআনের নিয়ামত ও মানব সৃষ্টির বিষয়টিকে এখানে সব কিছুর ওপর স্থান দেওয়া হয়েছে। আল্লাহর তাসবিহ ও তাঁর প্রশংসাগীতির মাধ্যমে সুরাটি শেষ করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. মাতৃভাষা আল্লাহর দান। তিনিই মানুষকে ভাষা শিখিয়েছেন।

(আয়াত : ৩-৪)

২. ওজনে কম দিয়ো না। (আয়াত : ৯-১০)

৩. প্রবাল আল্লাহর বিশেষ সৃষ্টি। সুতরাং তা সংরক্ষণ করা আবশ্যক। (আয়াত : ২২-২৩)

৪. আকাশমণ্ডলীর সীমা অতিক্রম করাও সম্ভব। (আয়াত : ৩৩)

সুরা ওয়াকিয়া

কিয়ামতের দিন এ পৃথিবী কী ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, তার চিত্র বর্ণনা করার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। সুরার শুরুতেই বলা হয়েছে যে মানুষ তিন ধরনের। ডানপন্থী, বামপন্থী ও অগ্রগামী। এ সুরায় বিপদ-আপদে আল্লাহর করুণার কথা তুলে ধরা হয়েছে। এ খবর জানানো হয়েছে যে পবিত্র সত্তা ফেরেশতারা পবিত্রতা ছাড়া কোরআন স্পর্শ করে না। সুরার শেষে ওই তিন ধরনের মানুষের পরিণতি ও প্রতিফল বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. হতভাগ্য বাঁ দিকের দল। (আয়াত : ৯)

২. নির্ধারিত সময়েই মৃত্যু হবে। (আয়াত : ৬০)

৩. আল্লাহর কোরআন সংরক্ষিত। (আয়াত : ৭৭-৭৯)

৪. আল্লাহর বাণীকে তুচ্ছ জ্ঞান কোরো না। (আয়াত : ৮০-৮১)

৫. আল্লাহ মানুষের খুব কাছেই। (আয়াত : ৮৫)

সুরা হাদিদ

আলোচ্য সুরা শুরু হয়েছে মহান আল্লাহর তাসবিহের মাধ্যমে। এই সুরায় ঈমান, সংগ্রাম, আল্লাহর পথে ব্যয়, ফিতনা থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মুনাফিকদের দ্বিমুখী মনোভাব প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে। সুরায় তাকওয়া অর্জন করতে বলা হয়েছে। নবী-রাসুলদের পথ অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। সুরার শেষে বলা হয়েছে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিশেষ রহমতে সিক্ত করেন।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. সব কিছু আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। (আয়াত : ৫)

২. সম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ। (আয়াত : ১০)

৩. নিঃশর্ত ঋণদাতার জন্য সম্মানজনক পুরস্কার। (আয়াত : ১১)

৪. মুমিন কোমল হৃদয়ের অধিকারী। (আয়াত : ১৬)

৫. হৃদয়ের কঠোরতা নিন্দনীয়। (আয়াত : ১৬)

৬. নিঃশর্ত ঋণ দানতুল্য। (আয়াত : ১৮)

৭. কার্পণ্য কোরো না। (আয়াত : ২৪)

৮. ইসলামে বৈরাগ্য নেই। (আয়াত : ২৭)

সুরা মুজাদালা

সুরার শুরুতে আল্লাহর গুণাবলি ইত্যাদি উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহর মহত্ত্ব ও অনুকম্পা বর্ণনার মাধ্যমে এই সুরা শুরু ও শেষ করা হয়েছে। এই সুরায় জিহার, কাফফারা, মোনাজাতের হুকুম, মজলিসের শিষ্টাচার, কোনো কাজ শুরু করার আগে রাসুল (সা.)-এর সদকা দেওয়া ইত্যাদি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহ মানুষের অনুযোগ শোনেন। (আয়াত : ১)

২. রাসুলের বিরুদ্ধাচারীরা অপদস্থ হবে। (আয়াত : ৫)

৩. ষড়যন্ত্র কোরো না। (আয়াত : ৮)

৪. আল্লাহর শাস্তি প্রত্যাশা কোরো না। (আয়াত : ৮)

৫. বৈঠকে অন্যের জন্য জায়গা করে দাও। (আয়াত : ১১)

৬. আল্লাহর শত্রুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। (আয়াত : ১৪)

৭. মিথ্যা শপথ কোরো না। (আয়াত : ১৬)

৮. দ্বিনবিদ্বেষীরা লাঞ্ছিত হবে এবং সত্যপন্থীরাই বিজয়ী হবে।

(আয়াত : ২০-২১)

সুরা হাশর

এই সুরায় শরিয়তের কিছু বিধান বর্ণিত হয়েছে। যেমনমদিনা থেকে ইহুদিদের বনি নজিরকে দেশান্তর করা, ফাই ও গনিমতের আহকাম, তাকওয়া ইত্যাদি বিষয় আলোচিত হয়েছে। অনুরূপভাবে ইহুদিদের সঙ্গে মুনাফিকদের সখ্য, কোরআনের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য এবং আল্লাহ তাআলার বিশেষ কিছু নাম বিবৃত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. বাস্তুচ্যুত মুসলিমদের আশ্রয় দাও। (আয়াত : ৮)

২. মুসলমানের প্রতি বিদ্বেষ রেখো না। (আয়াত : ১০)

৩. অনাগত দিনের জন্য প্রস্তুত থাকো। (আয়াত : ১৮)

৪. আল্লাহকে ভুলে যেয়ো না। (আয়াত : ১৯)

৫. কোরআনের প্রতি বিনীত হও। (আয়াত : ২১)

সুরা মুমতাহিনা

এই সুরায় যেসব মুশরিক মুসলিমদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ, যারা মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ করে না এবং যেসব মুমিন নারী হিজরত করেছেন, তাঁদের বিধি-বিধান বর্ণিত হয়েছে। সুরার প্রারম্ভে মুশরিকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও বন্ধুত্বের উপকরণ অবলম্বনে নিষেধ করা হয়েছে। যুদ্ধ কিংবা শান্তিপূর্ণ অবস্থায় আহলে কিতাবদের সঙ্গে মুসলিমদের সম্পর্কের মূলনীতিও বর্ণিত হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহবিমুখদের সঙ্গে বন্ধুত্ব কোরো না। (আয়াত : ১)

২. জেনে-বুঝে সত্যবিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ১)

৩. বিপদে আল্লাহমুখী হও। (আয়াত : ৪)

৪. অহেতুক শত্রুতা নয়। (আয়াত : ৮)

৫. পরকালে অবিশ্বাসীদের বন্ধু কোরো না। (আয়াত : ১৩)

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান

 

 

 

মন্তব্য

রমজানে দ্বিনচর্চায় মনোযোগী হয় ফিলিপিন্সের মুসলিমরা

মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
মো. আবদুল মজিদ মোল্লা
শেয়ার
রমজানে দ্বিনচর্চায় মনোযোগী হয় ফিলিপিন্সের মুসলিমরা

ফিলিপিন্সে মুসলমান সংখ্যালঘু হলেও বহু মুসলিম সে দেশে বাস করে, বিশেষত মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুলসংখ্যক মুসলমানের বসবাস। ফিলিপিন্সের মুসলিম সমাজ ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির আদলে একটি নিজস্ব সংস্কৃতি লালন করে। তাদের জীবনাচারেও রয়েছে ইসলামী শিক্ষার গভীর প্রভাব। রমজানকে তারা উদযাপন করে ইসলামী ঐতিহ্য ও আপন সংস্কৃতির আলোকেই।

ফিলিপিন্সে ইসলামের প্রচার ও প্রসার হয়েছে আরব ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে। তাদের ইসলামী জীবনযাত্রা ও আখলাক দেখে ফিলিপিন্সের অধিবাসীরা ইসলাম গ্রহণে উদ্বুদ্ধ হয়। এমনকি সেখানে ইসলাম একসময় বিজয়ী ধর্মে পরিণত হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে ধীরে ধীরে পশ্চিমা অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্পেনের রাজা দ্বিতীয় ফিলিপের নেতৃত্বে ১৫৬৮ সালে মুসলমানদের পরাজিত করে।

১৫৭১ সালে তাঁর নেতৃত্বে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। রাজা ফিলিপের নামেই ফিলিপিন্সের নামকরণ হয়েছে। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করেই অন্যায়ভাবে মুসলিম সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ধ্বংসে লিপ্ত হন। যেমন রাজধানীর নাম ছিল আমানিল্লাহ সেটা পরিবর্তন করে রাখা হলো ম্যানিলা।
অসংখ্য মসজিদ, মাদরাসা, ধর্মীয় স্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র তিনি ধ্বংস করে দেন। যে ধারা এখনো অব্যাহত আছে। এখনো ফিলিপিন্সের মুসলিম অধিবাসীরা তাদের ধর্মপালনে পুরোপুরি স্বাধীন নয়। ১৯৬৮ সাল থেকে মিন্দানাও দ্বীপের মোরো মুসলিমরা স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করছে। অবশ্য সরকারের সঙ্গে তাদের এখন একটি শান্তিচুক্তি চলছে।
যার অধীনে তারা অধিকতর স্বায়ত্তশাসন লাভ করেছে।

ফিলিপিন্সের মুসলিমরা নিজস্ব সংস্কৃতিতেই রমজান উদযাপন করে। রমজানকে তারা ধর্মীয় অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে। রমজান তাদের মধ্যে রীতিমতো উৎসবের সৃষ্টি করে। রমজানের শুরুতেই তারা মসজিদগুলোর সৌন্দর্য বর্ধনে আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। রমজানে মসজিদগুলো পরিণত হয় সামাজিক মিলন কেন্দ্রে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পরিবারে পুরুষ সদস্যরা এবং শিশুরা মসজিদে একত্র হয় ইবাদত ও ধর্মীয় শিক্ষার জন্য। রমজান মাসে প্রতিটি মসজিদে মাসব্যাপী ধর্মীয় পাঠদানের ব্যবস্থা করা হয়। মুসলিম পুরুষরা বেশির ভাগ সময় মসজিদে ইবাদতে কাটায় এবং শিশুরা ব্যাপক হারে ধর্মীয় পাঠদানে অংশ গ্রহণ করে।

রমজানে ফিলিপিন্সের মুসলমানরা সমাজসেবামূলক কাজে আত্মনিয়োগ করে। সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষের কল্যাণে তারা বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। যেমনসামাজিকভাবেই ধনীরা দরিদ্রদের জন্য ইফতার ও সাহরির ব্যবস্থা করে, জাকাত ও ফিতরার সব টাকা মসজিদে জমা করা হয় এবং ইমাম সাহেবের নেতৃত্বে তা দুস্থ মানুষের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী বণ্টন করা হয়।

রমজান মাসে তাদের খাবারেও বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়। ইফতারের টেবিলে সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার হলো কারি কারি নামক ভুনা গোশত। এ ছাড়া মিষ্টান্ন, শরবত ও হরেক রকম ফলও থাকে ইফতার আয়োজনে। ইফতারের পর ফিলিপিন্সের শিশুরা ভালো পোশাকাদি পরিধান করে রাস্তায় বের হয় এবং উৎসবে মেতে ওঠে। তাদের হাতে থাকে রঙিন লণ্ঠন। দল বেঁধে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যায় এবং তারাবির নামাজ আদায় করে। সাহরির সময় একদল মানুষ সবাইকে জাগিয়ে দেয়। এভাবেই আনন্দ, উদ্যম ও ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রমজান উদযাপন করে ফিলিপিন্সের মুসলিম সমাজ।

সূত্র : ইসলাম ওয়েব ডটনেট

 

 

মন্তব্য

যেসব সম্পদে জাকাত দিতে হবে না

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
শেয়ার
যেসব সম্পদে জাকাত দিতে হবে না

শরিয়ত মোতাবেক চার ধরনের সম্পদে জাকাত ফরজ।

এক. ভূমি থেকে উৎপাদিত শস্য ও ফল-ফলাদিতে নির্দিষ্ট হারে জাকাত দিতে হয়।

দুই. নির্দিষ্ট প্রাণী যেমনউট, গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষের ওপর নির্দিষ্ট হারে জাকাত ফরজ।

তিন. স্বর্ণ-রৌপ্যের ওপর (নিসাব পরিমাণ হলে) জাকাত ফরজ।

চার. ব্যবসায়ী পণ্য বা এমন সব বস্তু, যা দ্বারা মুনাফা অর্জন কিংবা ব্যবসার উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে। যেমনব্যবসার উদ্দেশ্যে কেনা জমি, জীবজন্তু, খাবার, পানীয়, গাড়ি ইত্যাদি সম্পদে জাকাত ফরজ।

এ ছাড়া বহু সম্পদে জাকাত ফরজ নয়। যেসব সম্পদকে জাকাত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর তালিকা নিম্নরূপ :

১. কৃষিবহির্ভূত জমি।

২. দালানকোঠা (যেগুলো কলকারখানা, দোকান হিসেবে ব্যবহৃত হয়)।

৩. দোকানপাট।

৪. দোকানে ব্যবহৃত জিনিস যেমনআলমারি, র‌্যাক, পাল্লা, বাটখারা ইত্যাদি, যা ব্যবসায়ের সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৫. বসতবাড়ি-আশ্রয়-বসবাসের ঘর।

৬. কাপড়চোপড়-বস্ত্র ব্যবহারের পোশাক-পরিচ্ছদ।

৭. নারীদের ব্যবহার্য কাপড়, তা যতই মূল্যবান হোক না কেন।

৮. গৃহস্থালির তৈজসপত্র, হাঁড়ি-পাতিল, বাসন-কোসন ও সরঞ্জামাদি, আসবাব যেমনখাট, আলমারি, চেয়ার-টেবিল (ব্যবহার করা হোক বা না হোক)।

৯. বই, পত্র-পত্রিকা, খাতা-কাগজ ও মুদ্রিত সামগ্রী ব্যবহারের শিক্ষা উপকরণ।

১০. অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ।

১১. হিসাবের বছরের মধ্যেই অর্জিত ও ব্যয়িত সম্পদ।

১২. দাতব্য সংস্থাগুলোর মালিকানায় দাতব্য কাজে ওয়াকফকৃত সম্পত্তি।

১৩. সরকারের হাতে ও মালিকানায় থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণ, রৌপ্য ও অন্যান্য সম্পদ।

১৪. এক বছর বয়সের নিচের গবাদিপশু।

১৫. পোষাপাখি ও হাঁস-মুরগি।

১৬. আরামদায়ক সামগ্রী।

১৭. যন্ত্রপাতি ও সাজসরঞ্জাম।

১৮. চলাচলের জন্তু যেমনগরু, গাধা, ঘোড়া, হাতি, খচ্চর, উট ইত্যাদি।

১৯. মিল, ফ্যাক্টরি, ওয়্যার হাউস, গুদাম ইত্যাদি।

২০. অফিসের সব আসবাব, যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, ফ্যান, মেশিন, ক্যালকুলেটর ইত্যাদি সরঞ্জাম।

২১. বপন করার জন্য সংরক্ষিত বীজ।

২২. ব্যবসায়ের জন্য নয় এমন পুকুরের মাছ।

২৩. যুদ্ধে ব্যবহৃত পশু।

২৪. চলাচলের বাহনসাইকেল, মোটরসাইকেল, ব্যবহারের গাড়ি প্রভৃতি যানবাহন।

২৫. মূল্যবান সুগন্ধি, মণিমুক্তা, লৌহ বর্ণ প্রস্তর, শ্বেতপাথর এবং সমুদ্র থেকে আহরিত দ্রব্যসামগ্রীর ওপর জাকাত নেই।

২৬. নিসাবের কম পরিমাণ অর্থ-সম্পদ।

২৭. বাণিজ্যিক দুধ উৎপাদন, কৃষি ও সেচ কাজ এবং বোঝা বহনের গরু-মহিষ।

২৮. সব ধরনের ওয়াকফকৃত সম্পত্তি।

২৯. ব্যবসায়ে খাটানো না হলে মোতি, ইয়াকুত ও অন্যান্য মূল্যবান পাথরের ওপর জাকাত নেই। (আল ফিকহ আলাল মাজাহিবিল আরবায়া, প্রথম খণ্ড, পৃষ্ঠা-৫৯৫)

৩০. সরকারি সম্পত্তির কোনো জাকাত হয় না, কেননা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সমাজের সবাই সম্পত্তির মালিক।

৩১. দাতব্য সংস্থার সম্পদের ওপর জাকাত ধার্য হবে না, এগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির মালিকানাধীন সম্পদ বলে বিবেচিত না হবে।

৩২. মানবজীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য রক্ষিত টাকার জাকাত হবে না।

৩৩. মানুষের পরিশ্রম ছাড়াই জন্মে এমন সব উদ্ভিদ যেমনবনজ বৃক্ষ, ঘাস, নলখাগড়া ইত্যাদির জাকাত হবে না।

৩৪. ব্যাংকঋণ, ধারকৃত টাকা, ব্যবসার জন্য বাকিতে আনা সামগ্রীতে জাকাত দিতে হবে না।

(সূত্র : ইসলামের অর্থনৈতিক ইতিহাস, ড. মুহাম্মাদ নূরুল ইসলাম)

 

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ