রমজানে মুসলিম-বাঙালি সংস্কৃতি

আহমাদ আরিফুল ইসলাম
আহমাদ আরিফুল ইসলাম
শেয়ার
রমজানে মুসলিম-বাঙালি সংস্কৃতি
ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি

রমজান মাস বাঙালি মুসলিম সমাজের জন্য এক অপূর্ব আধ্যাত্মিক ও সামাজিক উৎসবের সময়। এই মাসে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক বন্ধন, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটে। রমজান মাসের প্রতিটি মুহূর্ত যেন এক বিশেষ আবেগ ও উদ্দীপনায় ভরপুর। সাহরি ও ইফতারের প্রস্তুতি থেকে শুরু করে তারাবি নামাজ, দান-খয়রাত, সামাজিক সমাবেশ এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসব মিলিয়ে রমজান মাস বাঙালি মুসলিম সমাজের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

বাঙালি মুসলিম সমাজে রমজান মাসের আগমনকে স্বাগত জানানো হয় বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে। এই মাসে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী রীতি ও আচার পালন করা হয়, যা বাঙালিয়ানা সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রমজানের পূর্বপ্রস্তুতি

রমজান মাস আসার আগেই বাংলাদেশের ঘরে ঘরে শুরু হয় প্রস্তুতি। বিশেষভাবে শাবান মাসে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও নফল রোজা রাখার চল রয়েছে।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ সংসারের ভারী কাজগুলো আগেই সেরে নেন বাড়ির কর্তা-মহিলারা মিলে। রমজানের জন্য আগেভাগে ইফতার ও সাহরির উপকরণ কেনার প্রবণতা লক্ষ করা যায়।

রমজান মাস আসার নিকটবর্তী জুমা থেকেই খুতবাগুলোয় মসজিদে মসজিদে রমজানের গুরুত্ব, ফজিলত ও করণীয়-বর্জনীয় নিয়ে চলে বিশেষ বয়ান বা আলোচনা। এতে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা রোজা সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন এবং বাড়ির মহিলাদের জানিয়ে উপকৃত করতে পারেন।

রমজান মাসকে স্বাগত জানানো

বাংলাদেশের মুসলমানরা বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতায় আনন্দঘন পরিবেশে রমজানকে বরণ করে নেয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনগুলো রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিভিন্ন স্লোগান নিয়ে শোভাযাত্রা, প্রচারপত্র বিতরণ ও পোস্টারিং করে থাকে। রমজান শুরু হওয়ার আগেই ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত প্রধান প্রধান মসজিদে সাহরি ও ইফতারের সময়সূচি সংবলিত সুন্দর সুন্দর ক্যালেন্ডার সরবরাহ করা হয়। মুসল্লিরাও সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাড়িতে নিয়ে তা টানিয়ে দেয়।

বাঙালির রমজানের চাঁদ দেখার সংস্কৃতি

রমজানের চাঁদ দেখা বাঙালি মুসলিম সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

চাঁদ দেখার দিন বিকেলের পর থেকেই আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকা এক ধরনের রীতি হয়ে গেছে। অনেকে বাড়ির ছাদে, উঠানে বা খোলা জায়গায় পরিবারের সবাইকে নিয়ে চাঁদ দেখার চেষ্টা করে। শিশুদের মধ্যে চাঁদ দেখার ব্যাপারে বাড়তি কৌতূহল থাকে, তারা প্রথম চাঁদ দেখার প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে।

রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ২৯ শাবান রমজানের চাঁদ দেখার জন্য বৈঠক হয়। চাঁদ দেখা গেলেই তা দ্রুত প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশন চ্যানেলগুলো চাঁদ দেখার খবর প্রচার করে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে।

তারাবি নামাজ ও বাঙালি মুসলিম সমাজ

বাঙালি মুসলিম সমাজে তারাবি নামাজ একটি সামাজিক ঐতিহ্য হয়ে উঠেছে। রমজানের চাঁদ উঠতেই পাড়া-মহল্লা ও শহরে নেমে আসে রমজানের পবিত্র আমেজ। জায়নামাজ হাতে মুসলমানরা মসজিদে ছুটে চলে তারাবি নামাজ আদায়ের জন্য। মসজিদগুলোয় নেমে আসে মুসল্লিদের ঢল। ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবাই তারাবি নামাজে দাঁড়িয়ে যায় এককাতারে। বাবার সঙ্গে শিশুদের মসজিদে যাওয়াও বাংলার এক অনন্য সংস্কৃতি। অনেক মসজিদে তারাবি নামাজের জন্য হাফেজ ইমাম রাখা হয়, যাঁদের সুললিত তিলাওয়াতে ছড়িয়ে পড়ে মুগ্ধতা।

তারাবি শেষ হলে মানুষের দল বেঁধে বাসায় ফেরা ঈদের দিনের মতো রাস্তাঘাটে শুধু টুপি, পাঞ্জাবিতে এক আলাদা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পরিবেশ ফুটে ওঠে। বাসায় বাসায় মহিলারা ছোট শিশুদের নিয়ে নামাজে দাঁড়িয়ে যান।

সাহরিতে বাঙালি সংস্কৃতি

বাংলাদেশে রমজান মাসে শেষ রাতে সাহরির সময় অন্য রকম এক আবহ তৈরি হয়। মহল্লার অলিগলিতে চলে রোজাদার মুসল্লিদের জাগানোর মহড়া। মসজিদের মিনার থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনের দরদি কণ্ঠে ভেসে আসে সাহরির আহ্বান। একসময় পুরান ঢাকায় কিশোররা দল বেঁধে বাংলা-উর্দু মিশ্রিত ভাষায় সুর তুলে  রোজাদারদের জাগিয়ে তুলত। বাংলাদেশে সাহরিতে কাসিদা গেয়ে ডাকাডাকির এ রেওয়াজ দীর্ঘদিনের।

আজ থেকে তিন-চার দশক আগে থানা-উপজেলা পর্যায়ে কোনো মসজিদ বা প্রতিষ্ঠান থেকে তীব্র আওয়াজের হুইসেল বাজানো হতো। এ আওয়াজ পেয়ে কয়েক গ্রামের মানুষ সাহরির জন্য ঘুম থেকে জাগত। এ ছাড়া মফস্বল অঞ্চলে মুড়ির টিনখ্যাত টিনের পাত্রে কাঠির আঘাতে শব্দ করে বলত, রোজাদার উঠুন। সাহরির সময় হয়েছে।

প্রযুক্তির উন্নতির আগে এভাবে সাহরিতে জাগানো হলেও বর্তমানে দল বেঁধে ডাকা ও কাসিদা গাওয়া অনেকাংশে কমে এসেছে। মাইকের আহ্বান এখনো প্রচলিত আছে। কিছু সময় পরপর ছোট্ট শব্দে সাহরির সময় মনে করিয়ে দিতে থাকেন ইমাম, মুয়াজ্জিন সাহেবরা। আধুনিক বিভিন্ন হামদ-নাত ও রমজানের বিশেষ নাশিদ বাজিয়েও রোজাদারদের সাহরির জন্য ঘুম থেকে জাগানো হয়।

সাহরির ডাকে নারীরা প্রথমে জেগে ওঠে, আহারের প্রাথমিক প্রস্তুতি শেষে সবাইকে জাগিয়ে তোলে। সাহরিতে একসময় দুধ, চিনি, নারকেল খাওয়া হতো, বাংলাদেশের প্রায় সব প্রান্তেই তা  প্রসিদ্ধ ছিল।

ইফতারে বাঙালি সংস্কৃতি

বাঙালি মুসলিমদের ইফতার সংস্কৃতি ধর্মীয় অনুশীলন, ঐতিহ্য ও সামাজিক রীতিনীতির এক অনন্য মিশ্রণ। বাঙালির ইফতার মানেই ঐতিহ্যবাহী কিছু বিশেষ খাবারের সমাহার। যদিও ইসলামে সহজ ইফতার ও সংযমের তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তবু বাঙালির ইফতার টেবিল সাধারণত বেশ বৈচিত্র্যময় হয়।

উনিশ শতকে ইফতার করাকে বলা হতো রোজা খোলা, অর্থাৎ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে রোজা ভাঙা। সে সময় গ্রামগঞ্জে  চাল, চালভাজা, ভাত, খই-চিড়ার মাধ্যমে ইফতার করার রেওয়াজ ছিল। সেসবের জায়গায় মাখানো ছোলামুড়ি এখন বাঙালি মুসলমানের ইফতারির মূল উপকরণ। শহর কী গ্রাম, ধনী অথবা গরিব সবার ইফতার তালিকায় স্থায়ী পত্তনি করে যাচ্ছে ছোলামুড়ি, পেঁয়াজু। বাঙালির ইফতারিতে শরবত খুবই জনপ্রিয়, বিশেষ করে বেলের শরবত, লেবুর শরবত, দুধ-লাচ্ছি এবং বাজারে প্রচলিত স্ন্যাকস ড্রিংক খাওয়া হয়।

বাংলার হাটবাজারে বাহারি ধরনের ইফতারের পসরা সাজিয়ে দোকানিরা বসেন। তবে পুরান ঢাকার ইফতার বহুল প্রচারিত ও প্রসিদ্ধ ইফতার। আরব-পারসিয়ান, মোগল ও ভারতীয় ভোজের সমন্বয়ে বাঙালির ইফতার সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।

বেশির ভাগ পরিবারে সবাই একসঙ্গে বসে ইফতার করার সংস্কৃতি রয়েছে। আত্মীয়-স্বজন বা পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যে ইফতার ভাগাভাগি করার রেওয়াজ আছে। গ্রামাঞ্চলে সাধারণত মসজিদে একত্র হয়ে ইফতার করার প্রবণতা বেশি দেখা যায়। সাধারণত নিজ থেকেই মহল্লাবাসী কে কবে ইফতারের আয়োজন করবে, তা মসজিদ কমিটি বা ইমাম সাহেবকে জানিয়ে রাখা হয়।

অনেকে প্রান্তিক ও অসহায় গোষ্ঠীর মধ্যে ইফতার বিতরণ করেন। এভাবেই ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও মানবতার মিশ্রণে বাঙালির ইফতার হয়ে উঠেছে জাতিগত সংস্কৃতি ও মানবতার প্রতিবিম্ব।

ইফতার মাহফিল

বাংলাদেশে রমজান মাসজুড়ে ইফতার পার্টি আয়োজনের সামাজিক প্রচলন রয়েছে, যেখানে আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী বা ব্যাবসায়িক পার্টনারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, বিশেষ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ইফতার মাহফিল ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইফতার ও রোজার আবেদনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিলগুলোতে সরকারি দল, বিরোধী দল ও ভিন্নমতের নানা সংগঠন দেশের চলমান বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে গঠনমূলক কথা বলে। রাষ্ট্রীয় উন্নতি-অবনতি, সামাজিক অবক্ষয়, দুর্নীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংগতি-অসংগতির আলোচনা-সমালোচনা এবং সমাজসেবামূলক কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য প্রেরণা জোগাতে সাধারণত এজাতীয় ইফতার মাহফিলগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এ ধরনের ইফতার মাহফিলে সাধারণত বিভিন্ন শ্রেণির নেতারা, সংবাদকর্মী ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত থাকেন। অনুষ্ঠান শেষে দেশ, জাতি, ধর্ম ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে দোয়া-মোনাজাত করা হয়।

শবেকদরের সংস্কৃতি

বাঙালি মুসলিম সমাজে রমজান উদযাপনের অন্যতম উপলক্ষ হলো শবেকদর। মহিমান্বিত এ রাতের সন্ধানে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে বিশেষ ইবাদতের আয়োজন করা হয়। সাতাশতম রাতকে শবেকদর হিসেবে ধরে নেওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়, যদিও ইসলামে কোনো নির্দিষ্ট দিন বলা হয়নি। এ রাতে মসজিদ, ঘর ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সুন্দর করে সাজানো হয়। রাতভর নফল নামাজ, তিলাওয়াত, দোয়া ও জিকির করা হয়। প্রায় মসজিদগুলোতে বিশেষ ওয়াজ-মাহফিলের আয়োজন হয়। অতঃপর মধ্য রাতে মোনাজাতে জীবনের গুনাহ মাফ, আত্মীয়-স্বজনের কল্যাণ, দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি কামনা করা হয়। অনেকে শবেকদরের বরকত লাভের জন্য শেষ ১০ দিন মসজিদে ইতিকাফে বসেন।

 

 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

প্রশ্ন-উত্তর

    সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার, বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা
শেয়ার
প্রশ্ন-উত্তর

ঋণ দেওয়া টাকার জাকাত

প্রশ্ন : আমি একজনকে পাঁচ লাখ টাকা ধার দিয়েছি এই চুক্তিতে যে তিনি তা দুই বছর পর পরিশোধ করবেন। আমাকে কি এই টাকার জাকাত দিতে হবে?

ইহসাক, মাদারীপুর

উত্তর : নগদ টাকা ঋণ দিলে ওই টাকা নিসাব পরিমাণ হলে ঋণদাতাকে ওই টাকার জাকাত আদায় করতে হবে। ঋণের টাকা হাতে আসার পর বিগত বছরগুলোর জাকাত একসঙ্গে আদায় করবে। তবে টাকা হাতে আসার আগে আদায় করলেও জাকাত আদায় হয়ে যাবে।

(বাদায়েউস সানায়ে : ২/১০, আল বাহরুর রায়েক : ২/২০৭, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল মিল্লাত : ৫/২৭১)

মন্তব্য

কোরআন থেকে শিক্ষা

    পর্ব : ৭৩৬
শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ : তারা দৃঢ়ভাবে আল্লাহর শপথ করে বলে যে তুমি তাদেরকে আদেশ করলে তারা অবশ্যই বের হবে। তুমি বোলো, শপথ কোরো না, যথার্থ আনুগত্যই কাম্য। তোমরা যা করো নিশ্চয়ই আল্লাহ সে বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। ...তিনি অবশ্যই তাদের জন্য প্রতিষ্ঠিত করবেন তাদের দ্বিনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের ভয়ভীতির পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্য নিরাপত্তা দান করবেন।

তারা আমার ইবাদত করবে, আমার কোনো শরিক করবে না, অতঃপর যারা অকৃতজ্ঞ হবে তারা সত্যতাগী। (সুরা : নুর, আয়াত : ৫৩-৫৫)

আয়াতগুলোতে অর্থহীন কসম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।

 

শিক্ষা ও বিধান

১. মুনাফিকরা স্বার্থসিদ্ধির জন্য কসমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

২. সত্ভাবে জীবন যাপন করাই মানুষের আস্থা অর্জন করার সর্বোত্তম উপায়।

অর্থহীন কসম মানুষের গ্রহণযোগ্যতা নষ্ট করে।

৩. আল্লাহর নির্দেশের মতো রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশও মান্য করা ওয়াজিব। অর্থাৎ কোরআন ও সুন্নাহ উভয়টি মেনে চলা আবশ্যক।

৪. খোলাফায়ে রাশেদার শাসনামলকে (৫৫ নং) আয়াতের প্রতিফলন মনে করা হয়।

কেননা তাদের আমলেই মুসলমানরা বিশ্বের বিস্তৃত অংশ জয় করে।

৫. রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমার পর খেলাফত ৩০ বছর। এ হিসেবে আবু বকর (রা.), ওমর (রা.), উসমান (রা.) ও আলী (রা.)-এর শাসনামল খেলাফতে রাশেদার অন্তর্ভুক্ত।

(তাফসিরে কুরতুবি : ১৫/৩১৯)

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

তারাবিতে কোরআনের বার্তা

    পর্ব : ২৯
শেয়ার
তারাবিতে কোরআনের বার্তা

সুরা  মুজ্জাম্মিল

এ সুরায় রাসুল (সা.)-কে দাওয়াতের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. তাহাজ্জুদের নামাজ আদায় করো। (আয়াত : ১-৩)

২. ধীরস্থিরভাবে কোরআন পাঠ করো। (আয়াত : ৪)

৩. সৌজন্যের সঙ্গে শত্রুকে পরিহার করো।

(আয়াত : ১০)

৪. আল্লাহ সাহাবিদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। (আয়াত : ২০)

সুরা  মুদ্দাসসির

রাসুল (সা.)-এর দাওয়াতি-জীবনের কিছু নির্দেশনা এ সুরাতে স্থান পেয়েছে। শিরকের বাহকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সতর্কবাণী।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো।

(আয়াত : ১-৩)

২. শরীর ও মনে পবিত্রতা অর্জন করো। (আয়াত : ৪-৫)

৩. বেশি পাওয়ার আশায় দান কোরো না। (আয়াত : ৬-৭)

৪. সামর্থ্য থাকার পরও অভাবীকে আহার না দেওয়া জাহান্নামে যাওয়ার কারণ। (আয়াত : ৪২-৪৪)

৫. কোরআন সবার জন্য উপদেশ।

(আয়াত : ৫৪)

সুরা কিয়ামাহ

এ সুরায় দ্বিন ও ঈমানের মূলনীতি, মৃত্যু, পুনরুত্থান ও সৃষ্টির শুরুলগ্নএসব বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. কোরআন হেফাজতের দায়িত্ব আল্লাহর। (আয়াত : ১৭-১৮)

২. নবীজি (সা.) কর্তৃক প্রদত্ত কোরআনের ব্যাখ্যাও আল্লাহর পক্ষ থেকে। (আয়াত : ১৯)

৩. পরকালে পাপীদের চেহারা বিবর্ণ হবে। (আয়াত : ২৪-২৫)

৪. মানুষের অবয়ব সুন্দর ও সুঠাম।

(আয়াত : ৩৮)

সুরা দাহর

এ সুরায় আখিরাতের আলোচনা গুরুত্ব পেয়েছে। কোরআন সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ তা জানানো হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. জান্নাতবাসীরা দুনিয়ায় কর্তব্যপরায়ণ হয়। (আয়াত : ৭)

২. জান্নাতবাসীরা দুনিয়ায় মানবিক হয়। (আয়াত : ৮)

৩. কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য দান করো। (আয়াত : ৯)

৪. মানুষের প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দাও। (আয়াত : ২২)

৫. সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহকে স্মরণ করো। (আয়াত : ২৫-২৬)

৬. পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়ো না। (আয়াত : ২৭)

সুরা মুরসালাত

সুরায় পুনরুত্থানের প্রাথমিক বিষয়াবলি, আল্লাহর কুদরত ও একত্ববাদের দলিল উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি কাফিরদের ভর্ত্সনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. মানবদেহের কাঠামো সুনিপুণ। (আয়াত : ২৩)

২. কিয়ামতের দিন মানুষের কণ্ঠস্বর থেমে যাবে। (আয়াত : ৩৫-৩৬)

৩. দুনিয়ার সুখ-ভোগ সাময়িক। (আয়াত : ৪৬)

সুরা নাবা

১. নির্ধারিত সময়েই কিয়ামত হবে। (আয়াত : ১৭-১৮)

২. পরকাল অস্বীকার কোরো না। (আয়াত : ২৭-২৮)

৩. আল্লাহ সব কিছু সংরক্ষণ করেন। (আয়াত : ২৮)

সুরা নাজিয়াত

১. অবিশ্বাসীদের জীবন কেড়ে নেওয়া হয় নির্মমভাবে। (আয়াত : ১)

২. মুমিনের জীবনাবসান হয় কোমলভাবে। (আয়াত : ২)

৩. আত্মশুদ্ধিতে আগ্রহী হও। (আয়াত : ১৮-১৯)

সুরা আবাসা

১. কে সুপথ পাবে তা কেউ জানে না। (আয়াত : ১-৩)

২. কাউকে পরিশুদ্ধ করা প্রচারকের দায়িত্ব নয়। (আয়াত : ৬-৭)

৩. দ্বিন প্রচারকরা কাউকে উপেক্ষা করবে না। (আয়াত : ৮-১১)

৪. কোরআন শেখার অধিকার সবার। (আয়াত : ১২-১৪)

৫. খাদ্য নিয়ে চিন্তা করো না। (আয়াত : ২৪-২৭)

সুরা তাকভির

১. মেয়ে ভ্রূণ হত্যা কোরো না। (আয়াত : ৮-৯)

২. কোরআনের বাহকরা ইহকালে ও পরকালে সম্মানিত। (আ : ১৯)

৩. কোরআনের পথ পরিহার কোরো না। (আয়াত : ২৬-২৭

৪. মানুষের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। (আয়াত : ২৯)

সুরা ইনফিতার

১. স্রষ্টা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হয়ো না। (আয়াত : ৬)

২. সুঠাম দেহ আল্লাহর দান। (আয়াত : ৭)

সুরা মুতাফফিফিন

১. ওজনে কম দিয়ো না। (আয়াত : ১-৩)

২. পুনরুত্থান দিবস ভুলে যেয়ো না। (আয়াত : ৪-৬)

৩. পাপ মানবহৃদয় কলুষিত করে। (আয়াত : ১৩-১৪)

সুরা ইনশিকাক

১. আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করো। (আয়াত : ৬)

২. পুণ্যবানদের হিসাব সহজ হবে। (আয়াত : ৭-৮)

৩. জীবনের পথে এগিয়ে যাও ধীরে ধীরে। (আয়াত : ১৮-১৯)

সুরা বুরুজ

১. বিশ্বাসীরা যুগে যুগে ঈমানের পরীক্ষা দিয়েছে। (আয়াত : ৮)

২. জগতের সর্বময় কর্তৃত্ব আল্লাহর। (আয়াত : ৯)

৩. মুমিনের প্রতি অবিচার কোরো না। (আয়াত : ১০)

৪. আল্লাহর পাকড়াও বড়ই কঠিন। (আয়াত : ১২-১৩)

সুরা তারিক

১. মহাপরীক্ষার দিন মানুষ বন্ধু পাবে না। (আয়াত : ৯-১০)

২. কোরআন মীমাংসাকারী বাণী। (আয়াত : ১৩-১৪)

সুরা আলা

১. আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করো। (আয়াত : ১-২)

২. সৃষ্টির বিকাশ আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে। (আয়াত : ৩-৫)

৩. হতভাগ্যরা উপদেশ অস্বীকার করে। (আয়াত : ১১-১৩)

সুরা আলা, গাশিয়া ও ফজর

১. আত্মশুদ্ধি সাফল্যের পথ। (আলা : ১৪-১৫)

২. পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়ো না। (আলা : ১৬-১৭)

৩. জান্নাতিরা কর্ম-সাফল্যে পরিতৃপ্ত হবে। (গাশিয়া : ৮-১০)

৪. এতিমকে সম্মান করো। (ফাজর : ১৭)

৫. অভাবগ্রস্তদের খাবার দাও। (ফাজর : ১৮)

৬. উত্তরাধিকারীদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দাও। (ফাজর : ১৯-২০)

৭. প্রশান্তচিত্তে দ্বিন আল্লাহর ইবাদত করো। (ফাজর : ২৭-২৮)

সুরা বালাদ, শামস ও লায়ল

১. সম্পদের অন্যায় ব্যবহার কোরো না। (বালাদ : ৬-৭)

২. দেহ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর দান। তাই মানুষ চাইলেই তার অপব্যবহার করতে পারে না। (বালাদ : ৮-১০)

৩. দুর্ভিক্ষে খাদ্যদান করো। (বালাদ : ১২-১৬)

৪. মুমিন পরস্পরকে সাহস জোগায়। (বালাদ : ১৭-১৮)

৫. আত্মশুদ্ধি অর্জনকারীই সফল। (শামস : ৯-১০)

৬. মানুষের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন। (লায়ল : ৩-৪)

৭. কার্পণ্য জীবনকে কঠিন করে। (লায়ল : ৮-১০)

৮. দান আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। (লায়ল : ১৮-১৯)

সুরা দুহা, তীন ও আলাক

১. মুমিন সুদিনের আশা রাখে। (দুহা : ৩-৪)

২. এতিমকে আশ্রয় দাও। (দুহা : ৬)

৩. সাহায্যপ্রার্থীর প্রতি কঠোর হয়ো না। (দুহা : ৯-১০)

৪. কর্মদোষে মানুষ হীনতমে পরিণত হয়। (তীন : ৪-৫)

৫. পাঠ করো মহান স্রষ্টা আল্লাহর নামে। (আলাক : ১)

৬. নামাজে বাধা দিয়ো না। (আলাক : ৯-১০)

সুরা কাদর, বাইয়িনা ও জিলজাল

১. কদরের রাতের মর্যাদা হাজার মাসের চেয়ে বেশি। (কাদর : ১-৩)

২. কোরআন মানুষকে সঠিক বিধান দিয়েছে। (বাইয়িনা : ২-৩)

৩. বিশুদ্ধ মনে আল্লাহর ইবাদত করো। (বাইয়িনা : ৫)

৪. কিয়ামতে মানুষ বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত হবে। (জিলজাল : ৬)

৫. অণু পরিমাণ পাপেরও হিসাব হবে। (জিলজাল : ৭-৮)

সুরা আদিয়াত, কারিআ ও তাকাসুর

১. সম্পদে আসক্ত হয়ো না। (আদিয়াত : ৮-৯)

২. নেকের পাল্লা ভারী করো। (কারিআ : ৬-৭)

৩. প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা কোরো না। (তাকাসুর : ১-২)

৪. জ্ঞান মানুষকে মোহমুক্ত করে। (তাকাসুর : ৫)

আসর, হুমাজা, ফিল, কুরাইশ ও মাউন

১. ধৈর্য মানুষকে ক্ষতিমুক্ত রাখে। (আসর : ২-৩)

২. মানুষের নিন্দা কোরো না। (হুমাজা : ১)

৩. অর্থ মানুষকে অমর করে না। (হুমাজা : ৬-৮)

৪. আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের ধ্বংস করেন। (ফিল : ১-২)

৫. নিরাপত্তা আল্লাহর হাতে। (কুরাইশ : ৩-৪)

৬. অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দাও। (মাউন : ৩)

৭. লোক-দেখানোর জন্য ইবাদত কোরো না। (মাউন : ৪-৬)

সুরা কাউসার, কাফিরুন ও নাসর

১. কোরবানি করো আল্লাহর নামে। (কাউসার : ১-২)

২. ইসলামের ওপর অটল থাকো। (কাফিরুন : ৫-৬)

৩. আল্লাহর সাহায্যে দ্বিন অগ্রসর হয়। (নাসর : ১-২)

৪. আল্লাহর মহিমা ঘোষণা করো। (নাসর : ৩)

লাহাব, ইখলাস, ফালাক ও নাস

১. সম্পদ আল্লাহর শাস্তি রোধ করতে পারে না। (লাহাব : ১-৩)

২. কেউ আল্লাহর সমতুল্য নয়। (ইখলাস : ৩-৪)

৩. আল্লাহর আশ্রয় কামনা কোরো। (ফালাক : ১-২)

৪. অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে বাঁচো। (ফালাক : ৩)

৫. হিংসুকের হিংসা থেকে সাবধান। (ফালাক : ৫)

৬. কুমন্ত্রণাদাতা থেকে আত্মরক্ষা করো। (নাস : ৪)

৭. কুমন্ত্রণা দেয় মানুষ ও জিন। (নাস : ৫-৬)

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান

মন্তব্য

ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

হাদি-উল-ইসলাম
হাদি-উল-ইসলাম
শেয়ার
ঈদের নামাজ পড়ার নিয়ম

ঈদের নামাজ দুই রাকাত এবং তা পড়া ওয়াজিব। এতে আজান ও ইকামত নেই। যাদের ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব তাদের ওপর ঈদের নামাজও ওয়াজিব।

জুমার নামাজের মতো উচ্চ আওয়াজে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ঈদের নামাজ আদায় করতে হয়।

তবে ঈদের নামাজের পার্থক্য হলোঅতিরিক্ত ছয়টি তাকবির দিতে হবে। প্রথম রাকাতে আল্লাহু আকবার বলে হাত বেঁধে অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে সুরা ফাতিহা পড়বে। আর দ্বিতীয় রাকাতে সুরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দিয়ে রুকুতে যাবে।

ঈদের নামাজ মাঠে-ময়দানে পড়া উত্তম।

শহরের মসজিদগুলোতেও ঈদের নামাজ জায়েজ আছে। (বুখারি : ১/১৩১, ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৫, ১/৫৫৭)

সূর্য উদিত হয়ে এক বর্শা (অর্ধহাত) পরিমাণ উঁচু হওয়ার পর থেকে শুরু হয়ে দ্বিপ্রহর পর্যন্ত ঈদের নামাজের সময় থাকে। তবে ঈদুল ফিতরের নামাজ একটু দেরিতে পড়া সুন্নত, যেন নামাজের আগেই বেশি বেশি সদকাতুল ফিতর আদায় হয়ে যায়। (ফাতহুল কাদির : ২/৭৩, আল-মুগনি : ২/১১৭)

নামাজের নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার প্রয়োজন নেই।

মনে মনে নির্দিষ্ট করতে হবে যে আমি এই ঈদের নামাজ কিবলামুখী হয়ে এই ইমামের পেছনে অতিরিক্ত ছয় তাকবিরের সঙ্গে আদায় করছি।

ঈদের নামাজে অতিরিক্ত ছয়টি তাকবির বলা ওয়াজিব। প্রথম রাকাতে তাকবিরে তাহরিমা ও সানার পর তিনটি তাকবির।

দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর রুকুতে যাওয়ার আগে তিনটি তাকবির। এই তাকবিরগুলো বলার সময় ইমাম-মুক্তাদি সবাইকে হাত উঠাতে হবে।

তৃতীয় তাকবির ছাড়া প্রতি তাকবিরের পর হাত ছেড়ে দিতে হবে। কেউ যদি এই তাকবিরগুলো না পায়, তাহলে সে রুকুতে থাকা অবস্থায় আদায় করে নেবে। কারো পূর্ণ এক রাকাত ছুটে গেলে সে দ্বিতীয় রাকাতে কিরাতের পর তাকবিরগুলো আদায় করে নেবে।

নামাজের ধারাবাহিকতা এমন :

প্রথম রাকাত

১. তাকবিরে তাহরিমা

    ঈদের নামাজে নিয়ত করে তাকবিরে তাহরিমা আল্লাহু আকবার বলে হাত বাঁধা।

২. সানা পড়া

৩. অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া।

    এক তাকবির থেকে আরেক তাকবিরের মধ্যে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় বিরত থাকা। প্রথম ও দ্বিতীয় তাকবিরে উভয় হাত উঠিয়ে তা ছেড়ে দেওয়া এবং তৃতীয় তাকবির দিয়ে উভয় হাত বেঁধে নেওয়া।

৪. আউজুবিল্লাহ-বিসমিল্লাহ পড়া

৫. সুরা ফাতিহা পড়া

৬. সুরা মেলানো। অতঃপর নিয়মিত নামাজের মতো রুকু ও সিজদার মাধ্যমে প্রথম রাকাত শেষ করা।

দ্বিতীয় রাকাত

১. বিসমিল্লাহ পড়া

২. সুরা ফাতিহা পড়া

৩. সুরা মেলানো।

৪. সুরা মেলানোর পর অতিরিক্ত তিন তাকবির দেওয়া। প্রথম রাকাতের মতো দুই তাকবিরে উভয় হাত কাঁধ বরাবর উঠিয়ে ছেড়ে দেওয়া; অতঃপর তৃতীয় তাকবির দিয়ে হাত বাঁধা।

৫. তারপর রুকুর তাকবির দিয়ে রুকুতে যাওয়া।

৬. সিজদা আদায় করে তাশাহহুদ, দরুদ, দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ সম্পন্ন করা।

    তারপর খুতবা। ঈদের নামাজ পড়ার পর ইমাম দুটি খুতবা দেবেন আর মুসল্লিরা খুতবা মনোযোগের সঙ্গে শুনবেন।

    নামাজ শেষে খুতবা প্রদান ইমামের জন্য সুন্নত; তা শ্রবণ করা নামাজির জন্য ওয়াজিব। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৫৯, ৫৬০)

    কারো ঈদের নামাজ ছুটে গেলে শহরের অন্য কোনো জামাতে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পরিশেষে যদি নামাজ ছুটেই যায়, তাহলে এর কোনো কাজা নেই। তবে চার রাকাত ইশরাকের নফল নামাজ আদায় করে নেবে এবং তাতে ঈদের নামাজের মতো অতিরিক্ত তাকবির বলবে না। (ফাতাওয়া শামি : ১/৫৬১)

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ