সাগরকন্যা কুয়াকাটায় বনবনানী, ঐতিহাসিক স্থাপনা পরিদর্শন আর সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালি গড়ে স্নান করার পাশাপাশি সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য উপভোগের সুযোগ রয়েছে। আসন্ন ঈদুল ফিতরের টানা ৯ দিনের ছুটি উপলক্ষে এখানে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটক আসার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কুয়াকাটার দুই শতাধিক হোটেল, মোটেল ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের আওতায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার পর্যটকের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ঈদ সামনে রেখে সব হোটেল মালিক আবাসন বা কক্ষসংখ্যা এবং নান্দনিকতা বাড়াচ্ছেন।
পর্যটক টানতে অভিজাত হোটেলগুলোতে কক্ষের ভাড়া ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমানো হয়েছে। পর্যটকরাও আগাম কক্ষ বুকিং দিচ্ছেন।
গতকাল শুক্রবার দেখা গেছে, দখিনা বাতাসে সমুদ্রের ঢেউয়ের মধ্যে স্নান করছেন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরা। অনেকে সৈকতে প্রিয়জনের হাত ধরে ঘুরছেন।
কেউ বা সৈকতের ছাতা-বেঞ্চিতে কিংবা ঝাউবনে আলাপে মগ্ন।
ঢাকা থেকে আসা দম্পতি জুয়েল হাসান ও রুবিনা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা দুই দিন হয় কুয়াকাটায় বেড়াতে এসেছি। গঙ্গামতী ও কাউয়ার চর সৈকতসহ রাখাইনদের ঐতিহাসিক কিছু স্থাপনা পরিদর্শন করেছি। খুব ভালো লেগেছে।
আমরা আবার সপরিবার ঈদের ছুটিতে কুয়াকাটায় আসব।’
কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলার জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আনোয়ারুল আজিম বলেন, ‘আমাদের রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাকে আগের চেয়ে দৃষ্টিনন্দন করে তোলা হয়েছে। লেকে পেডাল বোট, সুইমিংপুলসহ নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। পর্যটকদের জন্য খাবারের বিশেষ সুযোগ দেওয়া হবে। ঈদ উপলক্ষে রিসোর্টের রুমভাড়ায় ৪০ শতাংশ ডিসকাউন্ট দেওয়া হয়েছে।
’ হোটেল ডি-মোরের জেনারেল ম্যানেজার জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমাদের হোটেলে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভাড়া ছাড় দেওয়া হয়েছে। পর্যটকের বিবেচনায় আরো কমানো যেতে পারে।’ কুয়াকাটা হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মোতালেব শরীফ বলেন, ‘রমজানের এক মাস আমাদের হোটেল-মোটেলসহ পর্যটনশিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত সব ব্যবসায়ী বাণিজ্যিক লোকসান গুনছেন। আশা করছি, ঈদুল ফিতরের ৯ দিনের ছুটিতে কুয়াকাটায় মানুষের আগমন বিগত দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। আমরা সেভাবেই হোটেল-মোটেলসহ সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে সাজিয়েছি। সবাইকে রুমভাড়া নিয়ন্ত্রণে রেখে হোটেল পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, আমাদের গত এক মাসের আর্থিক ক্ষতি ঈদের ছুটিতে পুষিয়ে নেওয়া যাবে।’