যত রাতেই বাসায় ফিরুক, দুজন কিছুক্ষণ একান্তে কাটাই
শাম্মা রুসাফি অবন্তী ব্র্যান্ড প্রমোটার
সিয়াম আমার বড় বোনের সহপাঠী, সেই সূত্রে ভাইয়া বলে ডাকতাম। পড়াশোনার পাশাপাশি ও তখন বিজ্ঞাপন করার জন্য স্ক্রিন টেস্ট দিয়ে যাচ্ছে। ওর প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল এয়ারটেলের, প্রচার হয় ২০১২ সালের ১৩ এপ্রিল। ১ এপ্রিল থেকে আমাদের মন দেওয়া-নেওয়ার সূত্রপাত।
আমরা দুজন একসঙ্গে নিয়মিত ভূতডটকম শুনি, তারপর সেটা নিয়ে আলোচনা করি। বাবু [পুত্র জায়ান] হওয়ার আগে আমরা দুজন নানা জায়গায় ঘুরে বেড়িয়েছি, এখন আমরা তিনজন ঘুরে বেড়াই। সব মিলিয়ে ভালো আছি, আলহামদুলিল্লাহ।

সাবিলা নূর ও নেহাল সুনন্দ তাহের
সুযোগ খুঁজি নিজেদের মতো করে সময় কাটানোর
নেহাল সুনন্দ তাহের ব্রডকাস্ট প্রকৌশলী
২০১৬ সাল, দিনটা ছিল ঈদের দিন। আমাদের দুজনের প্রথম দেখা এক মিউচুয়াল বন্ধুর মাধ্যমে। নাটক সেভাবে না দেখলেও বিজ্ঞাপনের সুবাদে সাবিলা আমার কাছে চেনা মুখ। আমাদের সেই মিউচুয়াল বন্ধুর কাছ থেকে তার সম্পর্কে আরো জেনে নিই। এভাবেই আমরা ফেসবুকে বন্ধু হই। আমাদের কথা হতে থাকে অনলাইনে। একপর্যায়ে দেখা গেল সাধারণ বন্ধুর চেয়ে আমরা আরো বেশি কথা বলছি, দুজন দুজনের কাছে শেয়ার করার প্রবণতা বেড়ে যায়। বুঝতে পারি, দুজন দুজনকে বিশেষভাবে অনুভব করছি। এভাবেই আমাদের প্রণয়ের শুরু। সম্পর্কের কথাটা প্রথমে আমার মাকে জানাই, এরপর পারিবারিকভাবেই বিয়ে সম্পন্ন হয়।
বিয়ের পর দেখা গেল, দুজনই খুব ব্যস্ত। ওর শুটিং আর আমার চাকরি—কোনোটাই সময় বেঁধে হয় না। সুযোগ পেলে ওর শুটিংয়ে যাই নতুবা সে আসে আমার অফিসে। যেহেতু দুজনই ব্যস্ত, নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারি না। দুজনেরই জন্মদিন একই মাসে, সে সময়টা অবকাশযাপনে দেশের বাইরে যাই। এ ছাড়া বিশেষ দিনে সুযোগ খুঁজি নিজেদের মতো করে কাটানোর। অনেকেই ‘নায়িকার স্বামী’ ব্যাপারটাকে ট্যাবু হিসেবে দেখতে চায়। আমি এমন নই। কর্মজীবী নারীদের দেখেই বড় হয়েছি। আমার মা শিক্ষিকা ছিলেন, বড় বোন চিকিৎসক। অভিনয়ও একটা পেশা। নারীর ক্ষমতায়নের প্রতি আমি সব সময়ই শ্রদ্ধাশীল।

শাশ্বত দত্ত ও সুপ্রিয়া ঘোষ
ও জনপ্রিয় হলেও আমাদের দূরত্ব বাড়েনি
সুপ্রিয়া ঘোষ বেসরকারি চাকরিজীবী
ওর সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকে, তখনো সে মিডিয়াতে নিয়মিত হয়নি। দুজনেই বরিশালের। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আমাদের দুই পরিবারই আত্মীয়তার সূত্রে গাঁথা। এটা আমাদের জন্য বেশ ভালোই হয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি ওর মিডিয়াঙ্গনে স্ট্রাগলিংয়ের পুরো সময় ওর পাশে ছিলাম। বিজ্ঞাপন, নাটকের সুবাদে ও জনপ্রিয় হলেও আমাদের দূরত্ব বাড়েনি। তার মেয়ে ফ্যান-ফলোয়ার অনেক বেড়েছে সত্য, তবে তার প্রতি আমার আত্মবিশ্বাস সব সময়ই উঁচু ছিল, এখনো আছে। শাশ্বতর পক্ষ থেকেই প্রথম বিয়ের অফার আসে। যেহেতু পারিবারিকভাবে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকে জানা ছিল, তাই বিয়েটা সহজে হয়ে যায়। বিয়ের পর সংসার জীবন চলছে। আমি ফেসবুকে আমাদের দুজনের ছোট ছোট রিলস প্রকাশ করি, বুঝতে পারি দর্শক এখন আমাদের কাপল হিসেবেই বেশি পছন্দ করে।

সোমনুর মনির কোনাল ও মনজুর কাদের জিয়া
সময় যায়, আমাদের ভালোবাসা ঊর্ধ্বমুখে গড়ায়
মনজুর কাদের জিয়া সাংবাদিক
জোয়ান বায়েজের ‘বাংলাদেশ’ গানের সূত্র ধরে কোনালের সঙ্গে প্রথম কথা। আমার প্রিয় এ গানটি ওর প্রথম অ্যালবাম ‘কোনালস জাদু’তে আছে। যতদূর মনে পড়ে আমি তখন কক্সবাজার, বড় ভাইয়াসহ বেড়াতে গিয়েছিলাম। মাধ্যম ভিন্ন হলেও একই অঙ্গনে কাজের সুবাদে এরপর আমাদের কথাবার্তা হতো। যদিও খুব একটা পাত্তা পেতাম না। নানাভাবে এড়িয়ে চলত। পেশাগত প্রয়োজনে যতটা প্রয়োজন, ততটাই কথাবার্তা হতো। একটা সময় আমাদের মধ্যে কথাবার্তা বাড়ল। তখন গান, সিনেমা ছাড়াও সমাজের নানা অসংগতির প্রসঙ্গও উঠে এলো আমাদের আলোচনায়। আরেক বন্ধু নাসিম বর্ণসহ আমাদের আড্ডা হতো। আড্ডায় যাওয়ার পথে ভাঙচুরের মধ্যে পড়েছি, আবার ছিনতাইকারীর খপ্পরেও পড়েছি। ছিনতাইয়ের ঘটনা আমাদের সম্পর্ক আরো গাঢ় করে। পরিচয়ের পর থেকেই দেখতাম, কোনাল পাঁচ মাস পরপর কুয়েত যেত। একবার যাওয়ার আগে খুব মন খারাপ হচ্ছিল। বললাম, আপনার সঙ্গে কথা আছে। কোনাল খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল, ‘বলেন শুনি।’ আমার চায়ের অভ্যাস নেই। সেদিন ভালোলাগার কথা বলতে গিয়ে পরপর দুই কাপ চা খেয়ে ফেলি। এই ফাঁকে কোনাল বলল, ‘আপনি না চা খান না...’ [হাসি]।
এভাবে দিন মাস বছর যায়। সম্পর্ক আপনি থেকে তুমিতে গড়ায়। ২০১৬ সালে আমাদের বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়। আমার শ্বশুর কুয়েতের ইন্টেরিয়র মিনিস্ট্রিতে চাকরি করতেন। ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। চলে যাওয়ার আগে দুই পরিবারের আলাপ হয়। আমীরুল ইসলামের [কথাসাহিত্যিক, আমাদের উকিল বাবা] বাসায় কথাবার্তার একপর্যায়ে বিয়ের কথা ওঠে। হুট করে তখনই মাওলানা ডেকে বিয়ে পড়ানো হয়। পরের বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি হয় আমাদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা।
বিয়ের পর কোনাল তার কাজ-কর্ম নিয়ে ব্যস্ত, আমিও আমার মতো। এর বাইরে যে সময়টুকু পাই তা নিজেদের মতো করেই কাটাই। কখনো একসঙ্গে সিনেমা দেখা, গান শোনা, নয়তো গাড়ি নিয়ে ঘুরতে বেরিয়ে পড়া—ঢাকার আশপাশে কোথাও। নয়তো প্রিয় বন্ধু কিংবা আত্মীয়ের বাড়িতে। কখনো ওর কনসার্টে শ্রোতা হয়ে অপেক্ষা করি, যাতে একসঙ্গে বাড়ি ফিরতে পারি। আবার কখনো ও আমার অফিসের নিচে এসে হাজির হয়, আমার কাজ শেষে একসঙ্গে বাড়ি ফিরব বলে। সময় যায়, আমাদের ভালোবাসা ঊর্ধ্বমুখে গড়ায়। হাসি কান্না ভালো মন্দ নিয়ে প্রেমে মজে আছি আমার প্রিয়তমার।