বিশালের পরিবারে বিষাদের ঈদ

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
শেয়ার
বিশালের পরিবারে বিষাদের ঈদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জয়পুরহাটের ছাত্র শহীদ নজিবুল সরকার বিশালের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। ছেলেকে হারিয়ে কান্না থামছে না পরিবারে। সকাল থেকেই বিশালের ছবির অ্যালবাম দেখছেন আর ডুকরে ডুকরে কাঁদছেন মা বুলবুলি খাতুন। বড় ছেলে বিশালকে হারিয়ে যেন ঈদের আনন্দও হারিয়ে গেছে পরিবারে।

 

সোমবার (৩১ মার্চ) ঈদের দিন বিকেলে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার রতনপুর গ্রামের নিহত কলেজছাত্র বিশালদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে বিষন্ন মনে বসে আছেন বাবা মজিদুল সরকার। আর মা বুলবুলি খাতুন চেয়ারে বসে নিহত ছেলে বিশালের ছবির অ্যালবাম দেখছেন আর ছেলের জন্য বিলাপ করছেন। ঈদের দিন হলেও শোকের কারণে রান্না হয়নি তাদের। বিশাল না থাকায় ছোট ছেলে মোমিন ঈদের নামাজ আদায় করলেও ভাইয়ের শোকে না খেয়ে ঈদ পালন করেন ঘুমিয়ে।

 
সান্ত্বনা দিতে কেউ খোঁজ না নেওয়ার অভিযোগ করেন মা বুলবুলি খাতুন। অথচ বিশাল নিহতের পর হাজার বিশাল পাশে থাকার আশ্বাস পেয়েছিলেন তিনি। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, চারজনের সংসারে বড় ছেলে বিশাল ছিলেন স্থানীয় বিএম কলেজের শিক্ষার্থী। গত বছরও তারা একসঙ্গে ঈদ করেছেন।
কিন্তু এবার বিশাল না থাকায় তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ শেষ হয়ে গেছে। তিনি ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন। আর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আহত ও নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এবং খুনি হাসিনাসহ প্রকৃত দোষীদের বিচার দাবি করেন বাবা মজিদুল সরকার। 

গেল ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জয়পুরহাট শহরের পাঁচুর মোড়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন পাঁচবিবির নাকুরগাছি বিএম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল। তার বাবা মজিদুল সরকার শ্যালো ও পাওয়ার টিলার মেকানিক।

মা বুলবুলি খাতুন গৃহিণী। তাদের ছোট ছেলে মোমিন সরকার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
কুড়িগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) সকালে উপজেলার গোরকমণ্ডল সীমান্তের ৯২৯ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমানা পিলারের ৩ নম্বর সাব-পিলারের পাশে শূন্য লাইন থেকে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় মরাকুটি (ভোরাম পয়োস্তি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, নিহত ওই ব্যক্তির নাম জাহানুর আলম (২৪)। তিনি ভারতের কোচবিহার জেলার দিনহাটা থানার গিদালদহ এলাকার ভোরাম পয়োস্তি গ্রামের কবিদুল ইসলামের ছেলে।

পরে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই সীমান্তে বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকে বিজিবির পক্ষে গোরকমণ্ডল ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার ফিরোজ এবং বিএসএফের পক্ষে ৩ বিএসএফ ব্যাটলিয়নের অধীন ভারবান্দা গিদালদহ ক্যাম্পের কমান্ডার গিরিশ চন্দ্র নেতৃত্ব দেন। পতাকা বৈঠকের পর সকাল ১০টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে গুলিতে নিহত ওই ভারতীয় চোরাকারবারির লাশ নিয়ে যান বিএসএফ সদস্যরা।

স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার ভোরে একদল ভারতীয় চোরাকারবারি ওই সীমান্ত দিয়ে চোরাই মালের পোঁটলা নিয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টা করে।

এ সময় ভারতীয় ভারবান্দা ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ৬ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করেন। এতে ভারতীয় চোরাকারবারি জাহানুর ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় গোলাগুলির শব্দে গোটা সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ভোরের দিকে একদল ভারতীয় নাগরিক টহলরত বিএসএফ পোস্টে হামলা চালায়।

তখন আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে এক ভারতীয় হামলাকারী নিহত হন। বিষয়টি ভারতের অভ্যন্তরীণ। এর সঙ্গে বাংলাদেশ বা বিজিবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এর পরও সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।

মন্তব্য

দিনাজপুরে বিশ্বনবী (সা.)-কে নিয়ে কটুক্তি, মহাসড়ক অবরোধ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
দিনাজপুর প্রতিনিধি
শেয়ার
দিনাজপুরে বিশ্বনবী (সা.)-কে নিয়ে কটুক্তি, মহাসড়ক অবরোধ
ছবি: কালের কণ্ঠ

দিনাজপুরে নবী করিম (সা.)-কে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে সজীব দাসকে (২৫) গ্রেফতারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়ক অবরোধ করেছেন তৌহিদী জনতা। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ৭ ঘণ্টা এই অবরোধ চলায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়।

অবরোধকারীদের দাবি, বুধবার সজীব দাস ফেসবুকে নবীজি (সা.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্য করায় স্থানীয় মুসলমানরা ক্ষুব্ধ হন। ঘটনার পর থেকে সজীব দাসকে গ্রেফতারে প্রশাসনীয় গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তারা।

দিনাজপুর সদর উপজেলার বনতাড়া দাসপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সজীব দাসের বাড়িতে গিয়ে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর চালায়। স্থানীয়রা ধারণা করছেন, সীমান্তের কাছাকাছি বাড়ি হওয়ায় সে ভারতে পালিয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানে আলমের নেতৃত্বে প্রশাসনের সাথে আলোচনার পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। কোতয়ালী থানার ওসি মো. মতিউর রহমান জানান, দ্রুত মামলা করে আসামিকে গ্রেফতারের আশ্বাস দেওয়ায় তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছে।

এদিকে, অবরোধকালে দুপুরে মহাসড়কের ওপরই যোহরের নামাজ আদায় করেন প্রতিবাদকারীরা। এ সময় শতাধিক যানবাহন আটকে থাকায় অনেক যাত্রীকে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে দেখা যায়।

স্থানীয় হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমী বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মন্তব্য

সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
শেয়ার
সিলেটে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের মিছিল, গ্রেপ্তার ৮
জেলার মানচিত্র

সিলেট নগরে মিছিল বের করার দায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রবিবার নগরে মিছিল বের করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে পুলিশ অভিযানে নেমে এ পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আরো পড়ুন
এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাল শিক্ষা বোর্ড

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- নগরের লন্ডনী রোডের বাসিন্দা হাফিজ খাঁনের ছেলে শাফায়েত খান (৩৪), নগরের মদিনা মার্কেট এলাকার গার্ডেন গলি (বাসার নম্বর-২৫/০৫) বাসিন্দা ও সুনামগঞ্জের দিরাই ভাটিপাড়া গ্রামের রাহাত নুরের ছেলে জহিরুল ইসলাম (১৯), পাঠানটুলা এলাকার আমির খান গলির বাসিন্দা (বাসা নম্বর-৩৭/০৫ অগ্রণী) এবং সুনামগঞ্জের দিরাই থানার মাটিয়াপুর গ্রামের জালাল আহমদের ছেলে সোহেল আহমদ সানী (১৮), সিলেটের টুকেরবাজার নালিয়া এলাকার রমনী মোহন করের ছেলে রবিন কর (২৩), নাইওরপুল এলাকার বঙ্গবীর ব্লক-বি-৮২ এর বাসিন্দা ফারুক আহমদের ছেলে ফাহিম আহমদ (২৩), শামীমাবাদ এলাকার রহমান ভিলার বাসিন্দা নুর মিয়ার ছেলে রাজন আহমদ রমজান (২৩), পাঠানটুলা এলাকার আমির খান গলির বাসিন্দা (বাসা নম্বর-১৫৪) মৃত হাফিজ খানের ছেলে বশির খান লাল (৫০) এবং খাদিমপাড়া এলাকার মতিন মিয়ার ছেলে সোয়েব আহমেদ (২৫)।

আরো পড়ুন
ভাইকে আটক রেখে বোনকে রেলস্টেশনের পাশে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

ভাইকে আটক রেখে বোনকে রেলস্টেশনের পাশে ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ২

 

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার পর্যন্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্ররীগের আট নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

গত বুধবার সকালের দিকে নগরের ধোপাদীঘিরপাড় এলাকায় মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ কর্মীরা। ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের ব্যানারে মিছিলটি বের করে। মিছিলের ব্যানারে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেলের ছবি ছিল এবং তার নামে স্লোগানও দিতে শোনা যায় মিছিলকারীদের।

মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড পেজেও আপলোড করা হয়েছে। এ ঘটনায় আলোচনায় আসার পর থেকেই নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান শুরু করে পুলিশ।

মন্তব্য

দস্যু আতঙ্কে মৌয়ালদের মধু আহরণে অনীহা, সুন্দরবনে অর্ধেকে নেমেছে নৌকার সংখ্যা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
শেয়ার
দস্যু আতঙ্কে মৌয়ালদের মধু আহরণে অনীহা, সুন্দরবনে অর্ধেকে নেমেছে নৌকার সংখ্যা
ছবি : কালের কণ্ঠ

বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও দস্যু আতঙ্কে এবার অর্ধেকে নেমেছে মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন থেকে মাত্র ১৮টি নৌকাকে মধু আহরণের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

স্থানীয় মৌয়ালরা জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে দস্যুদের পুনরাবির্ভাব তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। খুড়িয়াখালী গ্রামের মজিদ ফরাজী (৫৫) বলেন, ‘১৫ বছর ধরে মধু সংগ্রহ করি, কিন্তু এবার প্রথম যাচ্ছি না।

দস্যুরা ধরে নিয়ে দুই-তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।’

মধু ব্যবসায়ীরাও এবার কম দাদন দিচ্ছেন। রাসেল আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গতবার নৌকাপ্রতি দুই-তিন লাখ টাকা দাদন দিলেও এবার এক থেকে দেড় লাখ টাকায় সীমিত রাখছি।’

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে শরণখোলা রেঞ্জ থেকে ৫১৪ কুইন্টাল মধু ও ১৫৪ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল।

এবার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫৫০ ও ১৬০ কুইন্টাল, যা পাসের সংখ্যার ওপর নির্ভর করছে।’

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নিশ্চিত করেছেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত বন কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য মৌয়ালদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর এবারই প্রথম দস্যুদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বনজীবী ও কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করেছে।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ