বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনে মধু আহরণ মৌসুম শুরু হলেও দস্যু আতঙ্কে এবার অর্ধেকে নেমেছে মৌয়াল ও নৌকার সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা স্টেশন থেকে মাত্র ১৮টি নৌকাকে মধু আহরণের অনুমতিপত্র দেওয়া হয়েছে, যা গত বছরের প্রথম দিনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।
স্থানীয় মৌয়ালরা জানান, সম্প্রতি সুন্দরবনে দস্যুদের পুনরাবির্ভাব তাদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। খুড়িয়াখালী গ্রামের মজিদ ফরাজী (৫৫) বলেন, ‘১৫ বছর ধরে মধু সংগ্রহ করি, কিন্তু এবার প্রথম যাচ্ছি না।
দস্যুরা ধরে নিয়ে দুই-তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।’
মধু ব্যবসায়ীরাও এবার কম দাদন দিচ্ছেন। রাসেল আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘গতবার নৌকাপ্রতি দুই-তিন লাখ টাকা দাদন দিলেও এবার এক থেকে দেড় লাখ টাকায় সীমিত রাখছি।’
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘২০২৩-২৪ অর্থবছরে শরণখোলা রেঞ্জ থেকে ৫১৪ কুইন্টাল মধু ও ১৫৪ কুইন্টাল মোম সংগ্রহ করা হয়েছিল।
এবার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫৫০ ও ১৬০ কুইন্টাল, যা পাসের সংখ্যার ওপর নির্ভর করছে।’
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক রানা দেব নিশ্চিত করেছেন, মৌয়ালদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে দ্রুত বন কর্মকর্তাদের জানানোর জন্য মৌয়ালদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবন দস্যুমুক্ত ঘোষণার পর এবারই প্রথম দস্যুদের উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে, যা স্থানীয় বনজীবী ও কর্তৃপক্ষকে উদ্বিগ্ন করেছে।