বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ খুবই সাধারণ ঘটনা। এর মধ্যে যৌন আকর্ষণও কাজ করে। যৌন আচরণ মূলত মস্তিষ্ক থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। যৌন ক্রিয়াকলাপে বার্ধক্য কোনো প্রভাব ফেলে কি না তা এখনো অস্পষ্ট হলেও বিজ্ঞানীরা এবার এক গবেষণায় দেখতে চেয়েছেন বয়স বাড়ার সঙ্গে মস্তিষ্কে লিঙ্গ নিয়ে ধারণার কোনো পরিবর্তন হয় কি না।
বয়স বাড়লে কমে যায় লিঙ্গ ভেদাভেদ
অনলাইন ডেস্ক

গবেষণা করতে গিয়ে লিংকোপিং ইউনিভার্সিটির গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করে দেখেন, সময়ের সঙ্গে পুরুষ এবং মহিলাদের জিনের অভিব্যক্তি কিভাবে পরিবর্তিত হয়। দেখা যায়, বয়সের সঙ্গে পরিবর্তন উভয় লিঙ্গেই হয়ে থাকে। তবে নারীর মস্তিষ্কের চেয়ে পুরুষের মস্তিষ্কের নারীত্বের ধারণা বেশি বেড়ে যায়। এ ছাড়া দেখা যায়, উভয় লিঙ্গেই বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জিনের অভিব্যক্তি একই রকম হতে থাকে।
এই গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া লিংকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ সহযোগী অধ্যাপক আরবান ফ্রাইবার্গ বলেন, আপনি যদি বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রজননে সংশ্লিষ্টতা না কমান, তাহলে আপনি বেঁচে থাকার শক্তি হারিয়ে ফেলবেন।
এই গবেষণার ফলাফল পূর্ববর্তী গবেষণাগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেয়। যেখানে উচ্চ এবং নিম্নমান সংবলিত জেনেটিকের পুরুষ এবং মহিলা মাছিদের মধ্যে তুলনা করে জিনের অভিব্যক্তিতে লিঙ্গের পার্থক্য পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।
সূত্র : টেক এক্সপ্লোরিস্ট
সম্পর্কিত খবর

গরমে বাড়িতে তৈরি করুন বেলের শরবত, রইল কয়েকটি রেসিপি
জীবনযাপন ডেস্ক

গরমে ঠাণ্ডা বেলের শরবত দেহ ও মনকে যেমন চনমনে করে, তেমনি শরীরেরও বিভিন্ন উপকার করে। কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, আলসারের মতো রোগ দমন করে এবং রক্ত পরিষ্কার করে এই বেল। বেলের গুণাগুণ বলার অপেক্ষা রাখে না। বেলের শরবত আমাদের অনেকের কাছে খুবই প্রিয়।
তবে বাজারে বা ফুটপাতে যে পদ্ধতিতে বেলের শরবত তৈরি হয় তা শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই বাড়িতেই শরবত বানিয়ে প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস খেতে পারেন। এর ফলে ফিট থাকবেন সারা দিন। আজ জানুন বেলের শরবত তৈরির সহজ ৫টি রেসিপি।
বেল-দইয়ের শরবত
উপকরণ
- বেল–১টি
- দই–আধা কাপ
- চিনি–৪ টেবিল চামচ
- লবণ–এক চিমটি
- আইস কিউব–পরিমাণমতো
- ঠাণ্ডা পানি–পরিমাণমতো
প্রণালী
প্রথমে বেলের খোসা ফাটিয়ে নিন। চামচের সাহায্যে ফল বের করুন। এবারে চামচ বা হাতের সাহায্যে ম্যাশ করে দানা আলাদা করে ফেলুন। ঠাণ্ডা পানি ঢেলে পুনরায় আলতো করে ম্যাশ করুন।
এবার রসে চিনি, দই ও লবণ দিয়ে মিশিয়ে নিন। প্রয়োজনে পানি যোগ করতে পারেন। সার্ভিং গ্লাসে প্রথমে আইস কিউব দিয়ে তার ওপর শরবত ঢেলে ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা পরিবেশন করুন।
বেল-পুদিনার শরবত
উপকরণ
- বেল–বড় ১টি
- পুদিনা পাতা–প্রয়োজনমতো
- ঠাণ্ডা পানি–১ লিটার
- লবণ–প্রয়োজনমতো
- আইস কিউব–প্রয়োজনমতো
প্রণালী
খোসা থেকে ফল বের করে হাতে চটকে দানা আলাদা করে ফেলুন।
ছাঁকা রসে চিনি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। গ্লাসে আইস কিউব আর পুদিনা পাতা কুচির ওপর শরবত ঢেলে পরিবেশন করুন। চাইলে পরিবেশনের আগে সামান্য লবণ দিতে পারেন, না দিলেও ক্ষতি নেই।
বেল-জিরার শরবত
প্রণালী
- বেল–২টি
- চিনি–৪ টেবিল চামচ
- জিরা গুঁড়া–প্রয়োজনমতো
- লবণ–প্রয়োজনমতো
- ঠাণ্ডা পানি
প্রণালী
বেলের খোসা ভেঙে ফল বের করে নিন। একটি বাটিতে বেল ঢালুন এবং বেলের দ্বিগুণ পরিমাণ পানি দিয়ে দিন। এবারে ম্যাশ করুন। ম্যাশড বেল ছাঁকনিতে নিয়ে চামচের সাহায্যে রস চিপে বের করুন। এবারে রসে প্রয়োজনমতো ঠাণ্ডা পানি বা আইস কিউব মিশিয়ে নিন। তারপর লবণ ও জিরা গুঁড়া দিয়ে দিলেই ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা বেলের শরবত তৈরি।
বেল-গুড়ের শরবত
প্রণালী
- বেল–মাঝারি সাইজের ৩টি
- গুড়–১২ টেবিল চামচ বা প্রয়োজনমতো
- এলাচ গুঁড়া–১ চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ
- ভাজা জিরার গুঁড়া–১ চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ
- বিট লবণ–দুই চিমটি
- ঠাণ্ডা পানি–৩ থেকে ৩.৫ কাপ
প্রণালী
বেল ৩টা ভেঙে নিন। এরপরে বড় চামচ দিয়ে ভেতরের ফল বের করে বাটিতে রাখুন। এতে ১ কাপ পানি মেশান এবং ২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পরে একটি ভেজিটেবল ম্যাশার দিয়ে বেল ম্যাশ করে নিন।
এবারে একটি বড় ছাঁকনিতে ম্যাশ করা বেল ছাঁকুন। ছাঁকার সময়ে চামচ দিয়ে জোরে জোরে পিষবেন যাতে দানা আর ছোবা আলাদা হয়ে যায়। আর অবশ্যই একটু একটু করে পানি মেশাবেন ছাঁকার সময়ে, আধা কাপ থেকে পৌনে এক কাপের মতো।
রস পুরোপুরি ছাঁকা হয়ে গেলে এতে গুড় বা সম পরিমাণ চিনি মেশাবেন। মিষ্টির পরিমাণ চাইলে কমবেশি করতে পারবেন। আর রসে পানির পরিমাণও বাড়াতে বা কমাতে পারেন। এরপরে জিরা গুঁড়া, এলাচ গুঁড়া ও বিট লবণ দিয়ে দিন। এবার গ্লাসে ঢেলে পরিবেশন করুন।
বেলের শরবত
উপকরণ
- বেল–মাঝারি সাইজের ১টি
- বিট লবণ–আধা চা চামচ বা স্বাদমতো
- চিনি–৭-৮ চা চামচ
- ভাজা জিরার গুঁড়া–আধা চা চামচ
- আইস কিউব–প্রয়োজনমতো
- পানি–প্রয়োজন মতো
প্রণালী
বেলের খোসা ভেঙে ভেতরের ফলটা বের করে একটি বাটিতে রাখুন। এবারে এর সাথে ২ গ্লাস পানি মিশিয়ে চামচ দিয়ে ভালো করে নেড়ে ১ ঘণ্টা ঢেকে রাখুন। বেল নরম হওয়ার জন্য এভাবে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হবে।
১ ঘণ্টা পর একটি পটেটো ম্যাশার দিয়ে পানিতে থাকা বেলকে ম্যাশ করুন। এতে দানা আর ছোবা আলাদা হয়ে যাবে। এবারে একটি বড় ছাঁকনিতে বেল ছেঁকে ছোবা আর দানা আলাদা করে ফেলুন। যে রসটা থাকবে তাতে আরো ১-২ গ্লাস পানি দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিন। ঠাণ্ডা করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে আইস কিউব নিন। একে একে চিনি, বিট লবণ, আর জিরা গুঁড়া দিয়ে মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে গেল মজাদার বেলের শরবত।

গরমে বিছানা ঠাণ্ডা রাখবেন যেভাবে
জীবনযাপন ডেস্ক

গ্রীষ্ম না আসতেই তীব্র গরম পড়তে শুরু করেছে। রোদের তাপে তেতে থাকছে বাড়িঘর। ফলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তেতে থাকছে ঘরের বিছানাও। অনেকের বাড়িতে এসি থাকলেও এখনো সবার এসি কেনার সামর্থ্য হয়নি।
গরমে বিছানাকে ঠাণ্ডা করে রাখবেন যেভাবে
কুলিং কম্বল
বিছানা ঠাণ্ডা রাখতে ভরসা রাখতে পারেন কুলিং কম্বলে।
কুলিং ম্যাট্রেস প্যাড
খুব হালকা কাপড়ে তৈরি, বিছানা ঠাণ্ডা করতে ব্যবহৃত হয় কুলিং ম্যাট্রেস প্যাড। এটি সহজেই বিছানায় সেট করা যায়। দরকার মতো ওয়াশিং মেশিনেও পরিষ্কার করা যায়। রাতভর এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রা বুঝে বিছানা শীতল করবে, এমনকি এটি ‘ময়েশ্চার উইকেনি’ পদ্ধতিতে ঘামও শুষে নেয়।
পর্দা বন্ধ রাখুন
ঘরের মধ্যে সহজে যাতে রোদ প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ঘর দিনের বেলা ঘরের পর্দাগুলো বন্ধ রাখুন।
সূত্র : টিভি ৯ বাংলা

গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কী খাবেন
জীবনযাপন ডেস্ক

ঋতুর হিসেব মতো এখনো বসন্তকাল চলছে। কিন্তু বাইরের রোদ দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। গরমে একদিকে যেমন পানিশূন্যতা কিংবা ত্বকের ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনই বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাও। তাই গরমকালে এমন কিছু খাবার খাওয়া বাঞ্ছনীয়, যেগুলো হার্টকে ভালো রাখবে।
তেমনই একটি খাবার হলো টমেটো। গরমকালে টমেটো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া আর কী উপকারে আসে এই টমেটো, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে
গরমকালে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়, যার ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
গরমকালে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গরমকালে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও রোগের প্রকোপ বাড়ে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
টমেটোর মধ্যে পটাশিয়াম ও লাইকোপিন থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লাইকোপিন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। অনেকের অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।
হজমক্ষমতা বাড়ায়
গরমকালে অনেক সময় হজমের সমস্যা দেখা দেয়। টমেটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া টমেটোর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক এসিড খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
সূত্র : আজকাল

পুরনো বন্ধুত্ব ভাঙা কখন ইতিবাচক? কখন আবার বন্ধুত্বে ফিরবেন
জীবনযাপন ডেস্ক

সিনেমা, গান, আর বইয়ের মাধ্যমে প্রেমের বিচ্ছেদ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই দেখি বা শুনি। কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদ নিয়ে আমরা খুব কিছু দেখি না। প্রেমের সম্পর্কের সমাপ্তি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না।
ইতিহাসের দিকে তাকালেও দেখা যায়, অন্যান্য সম্পর্কের তুলনায় বন্ধুত্ব নিয়ে গবেষণা খুব কম হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সামাজিক মনস্তত্ত্ব গবেষক গ্রেস ভেইথ বন্ধুত্বের ভাঙন নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়তো অবাক হবে যে বন্ধুত্ব কিভাবে শেষ হয়! গবেষকরা এখন কেবল তা নিয়ে ভাবা শুরু করেছেন। এই বিষয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
মিজ ভেইথ মনে করেন, বন্ধুত্বের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা কম হওয়ার কারণে মানুষ এতে খুব বেশি অনিশ্চয়তায় পড়ে। তারা বুঝতে পারে না যে এই ভাঙনকে তারা কিভাবে সামলাবেন, বা ভাঙনের পর যে আবেগীয় অনুভূতি তৈরি হয়, সেগুলোর সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নেবেন। তবে, বন্ধুত্ব শেষ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধারা বা নিয়ম নেই।
বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী?
নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ, কোর্টল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কেইটালিন ফ্ল্যানেরি বলেন, ‘আমাদের জীবনের প্রথম সম্পর্ক তৈরি হয় আমাদের মা-বাবা বা যারা আমাদের বড় করেন তাদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমাদের সারা জীবন ধরে নিজেদের পরিচয় গড়তে সাহায্য করে। তারা আমাদের জন্য একধরনের আয়না ও পথপ্রদর্শক। একই সঙ্গে, আমরা তাদের কাছ থেকে স্বীকৃতিও চাই।
গ্রেস ভেইথ উল্লেখ করেন, বন্ধুত্বের শুরুটা সাধারণত পরস্পরের মধ্যকার মিল এবং একে অপরের কাছাকাছি থাকার ভিত্তিতে হয়।
বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া নিয়ে যেসব গবেষণা করা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে শিশু ও কিশোরদের ওপর। কারণ এই বয়সে বন্ধুত্বের ভাঙন খুব সাধারণ ব্যাপার।
মিজ ফ্ল্যানেরির এক গবেষণায় ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩৫৪ জন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো না কোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ করেছে।
বেশির ভাগই বন্ধুত্ব ভাঙার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঝগড়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। অন্যরা বলেছে, বন্ধুর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়া বা সঙ্গ উপভোগ না করাই বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার কারণ।
বন্ধুত্ব ভাঙার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকের কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন মিশ্র অনুভূতির মুখোমুখি হয়েছে। তাদের মনে দুঃখ ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে তারা কেউ কেউ স্বস্তি বা আনন্দও অনুভব করেছে। তবে এটি নির্ভর করেছে বিচ্ছেদের কারণ, কিভাবে তা ঘটেছে, এবং কে সে সম্পর্ক শেষ করেছে তার ওপর।
কিছু ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব একেবারে শেষ না হয়ে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ থেকে ‘সাধারণ বন্ধু’ পর্যায়ে নেমে আসে।
মিজ ভেইথ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি মেনে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ যে বন্ধুত্ব ভাঙাটা জীবনেরই একটি অংশ এবং এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে এটি বন্ধুদের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং বন্ধুরা কতটা কাছের এবং গ্রহণযোগ্য, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখানে।’
সব বন্ধুত্বের ভাঙন বেদনাদায়ক বা নাটকীয় হয় না। কখনো কখনো সম্পর্ক ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। উনিশ শত আশির দশকের এক গবেষণায় ২০ থেকে ২৮ বছর বয়সী ৯০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে দেখা যায়, একই লিঙ্গের বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার পাঁচটি প্রধান কারণ ছিল।
সেগুলো হলো– দূরত্ব বেড়ে যাওয়া, বন্ধুকে আর পছন্দ না করা, যোগাযোগ কমে যাওয়া, অন্য সম্পর্কের (যেমন, ডেটিং বা বিয়ে) প্রভাব, এবং সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে মলিন হওয়া।
সাধারণ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দূরত্ব বেশি প্রভাব ফেললেও ঘনিষ্ঠ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুত্বগুলো সাধারণত যোগাযোগের অভাব বা অন্য সম্পর্কের প্রভাবের কারণে শেষ হয়।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী বন্ধুত্বগুলো জীবনের এইসব পরিবর্তনের মাঝেও টিকে থাকে। মিজ ভেইথ বলেন, ‘যখনই আমি কোনো বন্ধুত্বের সমাপ্তি দেখি, সেখানে এমন অনেক দিক পাই যা বন্ধুত্বকে প্রভাবিত করে। কিন্তু পাশাপাশি এমন উদাহরণও অনেক আছে যেখানে জীবনের নানা ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বন্ধুত্ব আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।’
সারাজীবনের বন্ধুর অন্যদিক
বন্ধুত্ব থেকে প্রত্যাশা ও বন্ধুত্ব ভাঙার কারণগুলো লিঙ্গভেদে ভিন্ন হতে পারে। এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ (৬৬ শতাংশ) আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে তাদের প্রায় সব ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাদেরই লিঙ্গের। এই ধারণা পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি।
উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়ে মেয়েদের বন্ধুত্ব সাধারণত মানসিক নির্ভরতা ও ঘনিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তবে ছেলেদের বন্ধুত্ব মূলত বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।
বন্ধুত্ব গঠনের প্রেক্ষাপটেও লিঙ্গভেদে পার্থক্য রয়েছে। নারীরা সাধারণত একাধিক, ঘনিষ্ঠ, একজন বন্ধুর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক গড়ে তোলে। অন্যদিকে, পুরুষদের বন্ধুত্ব নেটওয়ার্কভিত্তিক হয়। তারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু। ফলে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে বেশি সময় ব্যয় করে বলে মনে করেন কেইটলিন ফ্ল্যানেরি।
এ কারণে নারীদের বন্ধুত্বে ঝগড়া বা বিরোধ হলে তা অনেক বেশি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। মিজ ফ্ল্যানেরি বলেন, নারীরা সাধারণত বন্ধুত্বে বিশ্বস্ততা আর মানসিক সমর্থনের ক্ষেত্রে বেশি উচ্চমান ধরে রাখে। আর যখন কোনো বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়, তখন তারা ছেলেদের তুলনায় বেশি দুঃখ, একাকিত্ব, মানসিক চাপে ভোগে এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা ঝগড়ার পর পুরুষদের তুলনায় বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে বেশি সময় নেয়। তাদের রাগও দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
নারী ও পুরুষভেদে বন্ধুত্ব ভাঙার কারণগুলোও ভিন্ন হতে পারে। মিডওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের বন্ধুত্ব বেশি ভেঙে যায় শারীরিক দূরত্বের কারণে। অন্যদিকে, নারীদের বন্ধুত্বে বাধা তৈরি করে ডেটিং বা বিয়ের মতো বিষয়গুলো।
বন্ধুত্ব ভাঙ্গা কখন ইতিবাচক হতে পারে
ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হবে—এই আশা নিয়ে কি সম্পর্ক ধরে রাখা উচিত? এর উত্তরে মিজ ভেইথ ও মিজ ফ্ল্যানেরি বলছেন, তার কোনো প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো ছেড়ে দেওয়া ভালো। যেমন, একটি বিষাক্ত (টক্সিক) বন্ধুত্ব শেষ করলে ভালো কিছু হতে পারে।
মিজ ফ্ল্যানেরি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বন্ধুত্বকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সব বন্ধুত্ব কিন্তু আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বেশিরভাগ সময় এর ভালো দিক আছে। তবে আমাদের এমন বন্ধুদেরই বেছে নেওয়া উচিত, যারা আমাদের সাহায্য করবে।’
কিছু বন্ধুত্ব আমাদের ভালো অনুভব করায়, আবার কিছু আমাদের ক্লান্ত আর হতাশ করে। তবে বন্ধুত্ব শেষ করার আরেকটি চ্যালেঞ্জ– কাউকে আঘাত না দিয়ে এটি শেষ করা। এমনটাই মনে করেন তারা।
একটি বিতর্কিত কিন্তু সাধারণ পদ্ধতি হলো ‘ঘোস্টিং’। এটি ডেটিংয়ের জগতে পরিচিত একটি শব্দ। কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক শেষ করতে তাদের থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া হয়, যাতে অপরদিকের মানুষটির মুখোমুখি হতে না হয়। বর্তমানে বন্ধুত্ব শেষ করতেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকদের ওপর করা এক গবেষণায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা কেন তাদের বন্ধুত্ব শেষ করেছে?
তাদের বলা কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— বিষাক্ত সম্পর্ক, আগ্রহ হারানো, বিরক্তিকর লাগা, নিজেকে রক্ষা করা এবং কখনো কখনো সীমা অতিক্রম করা।
অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সময়কাল দীর্ঘ ছিল। কিন্তু এটি ‘ধীরে ধীরে ঘোস্টিং’-এর প্রবণতাকে আটকাতে পারেনি। অর্থাৎ, তারা হঠাৎ করে সম্পর্ক না ভেঙ্গে ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছে।
যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, তারা ‘দুঃখিত, হতাশ, আহত’ হয়েছে। কিন্তু তবুও তারা এটিকে নিজেদের সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেখেছে। তারা মনে করেছে, এই টক্সিক বন্ধুত্বের বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করা হলেও তা শেষমেশ কোনো কাজে আসবে না।
তবে মিজ ভেইথ একটি ভিন্ন, সম্ভবত আরো ভালো পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো– বন্ধুত্ব বজায় রাখা ও মজবুত করার উপায় শেখা এবং ঝগড়া বা মতবিরোধের মোকাবিলা করা।
‘অনেক মানুষ রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মনে করেন, ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়া জরুরি। এটি আমরা স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আমরা চাই, সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলুক। আর তা না হলে আমরা সহজেই হাল ছেড়ে দিই। অনেকেই মনে করেন, বন্ধুত্ব মানেই তা সহজ, আনন্দময়, মজাদার হওয়া উচিত। এটি সত্যি। কিন্তু এর ফলে অনেক সময় ধারণা জন্মায় যে বন্ধুত্বের ঝগড়া মেটানোটা প্রয়োজনীয় নয়।’
রোমান্টিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বে একই ধরনের আবেগীয় অনুভূতি থাকে। যেমন– উষ্ণতা আর আনন্দ। তবে এই দুইয়ের মাঝে একটি বড় পার্থক্য হলো, রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একগামিতা প্রত্যাশা করা হয়। যদিও এটি সংস্কৃতি বা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে বন্ধুত্বে একগামিতার কোনো প্রত্যাশা নেই। ফলে মাঝে মাঝে জটিলতা তৈরি হয়। যেমন, খুব কাছের কোনো বন্ধুর যদি অন্য কোনো বন্ধু থাকে, তখন ঈর্ষা অনুভব হতে পারে।
এক্ষেত্রে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, অন্য বন্ধুরা থাকলেও আপনার বন্ধুত্ব হুমকির মুখে পড়বে না। বন্ধুত্বের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রচুর সময় আর মনোযোগ নিয়ে থাকে।
একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকা একটি পরিপূর্ণ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের অনেক সময়েই বন্ধুরা সেই স্থিতি ও সমর্থন দিতে পারে, যা শুধু বিয়েতে পাওয়া যায়। রোমান্টিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ হওয়া এবং পরে ভেবে-চিন্তে আবার একসঙ্গে হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।
তাহলে কি আমরা পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন বা তাদেরকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবতে পারি? মিজ ফ্ল্যানেরি বলছেন, এটি নির্ভর করে বন্ধুত্বের ধরনের ওপর। ‘আমার মনে হয়, কিছু ক্ষেত্রে সেই বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আবার কিছু ক্ষেত্রে সেটি না মেটানোই ভালো।
‘এটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনি কি সেই বন্ধুত্ব শেষ হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন? সেই সম্পর্ক কি আপনার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে? যদি আপনার মনে হয় যে আপনি সত্যিই সেই বন্ধুত্বকে মিস করছেন, তাহলে সেটি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।’
সূত্র : বিবিসি বাংলা