চশমা পরা প্রয়োজন কেন?

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
চশমা পরা প্রয়োজন কেন?
সংগৃহীত ছবি

চশমা আমাদের চোখের স্বাস্থ্য ও দৃষ্টিশক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। তবে কিছু মানুষ চশমা পরতে আগ্রহী নয়। আজকের প্রতিবেদনে আলোচনা করব চশমা পরার প্রয়োজনীয়তা, না পরার কারণে কী কী ক্ষতি হতে পারে এবং চশমা পরার উপকারিতা।

চশমা পরার কারণ

দৃষ্টিশক্তির উন্নতি : চশমা ব্যবহারের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দৃষ্টিশক্তির উন্নতি করা।

যারা দূরদৃষ্টি বা নিকটদৃষ্টি সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য চশমা একটি প্রয়োজনীয় সহায়ক। সঠিক প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চশমা পরলে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

চোখের ক্লান্তি কমায় : দীর্ঘসময় কম্পিউটার, মোবাইল কিংবা বইয়ের সামনে বসে থাকলে চোখের ক্লান্তি হতে পারে। বিশেষ করে যারা স্ক্রিনে কাজ করেন তাদের জন্য ব্লু লাইট ফিল্টারিং চশমা ব্যবহার করা উপকারী।

আরো পড়ুন
চোখের রোগ নারীদের বেশি হয় কেন?

চোখের রোগ নারীদের বেশি হয় কেন?

 

আবহাওয়া প্রতিরোধ : চশমা দৃষ্টিশক্তির পাশাপাশি চোখকে ধুলাবালি এবং অন্যান্য ক্ষতিকারক কণা থেকে রক্ষা করে। এটি প্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারণেও চোখের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

স্টাইলিশ লুক : চশমা শুধু দৃষ্টিশক্তির জন্য নয় বরং ফ্যাশন ও স্টাইলের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন ডিজাইন ও রঙের চশমা আমাদের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে।

চশমা না পরার ক্ষতি

দৃষ্টিশক্তির অবনতি : চশমা না পরলে দৃষ্টিশক্তির সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। যা দীর্ঘ মেয়াদে চোখের স্বাস্থ্য খারাপ করতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে রোগ যেমন মায়োপিয়া বা হাইপারোপিয়া সৃষ্টি করতে পারে।

আরো পড়ুন
নারীদের চোখের পানি কমাতে পারে পুরুষের রাগ!

নারীদের চোখের পানি কমাতে পারে পুরুষের রাগ!

 

মাথা ব্যথা : দীর্ঘ সময় ভুল দৃষ্টিতে কাজ করার ফলে মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন বা চোখের পেছনে চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এটি কার্যক্ষমতা কমাতে পারে।

চোখের স্বাস্থ্য : চোখের ক্লান্তি ও অস্বস্তি হলে চোখের স্বাস্থ্য খারাপ হয়।

এটি চোখের সুষমতা হারাতে পারে এবং অন্যান্য চোখের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।

সামাজিক প্রতিক্রিয়া : দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলে এটি সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলে। সঠিকভাবে দেখতে না পারলে সামাজিক পরিস্থিতিতে অস্বস্তি অনুভব করা স্বাভাবিক।

আরো পড়ুন
চশমার দাগ তুলতে যা করতে পারেন…

চশমার দাগ তুলতে যা করতে পারেন…

 

চশমা পরার উপকারিতা

দৃষ্টিশক্তির স্বাভাবিকতা : সঠিক প্রেসক্রিপশনের চশমা ব্যবহার করলে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এটি কর্মক্ষমতা ও দৈনন্দিন কাজকে সহজ করে।

ক্লান্তি মুক্তি : চশমা ব্যবহার করলে চোখের ক্লান্তি ও অস্বস্তি কমে যায়। এতে মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।

চোখের সুরক্ষা : চশমা চোখকে আবহাওয়া ও ক্ষতিকর উপাদান থেকে সুরক্ষা দেয়। ব্লু লাইট ফিল্টারিং চশমা ব্যবহার করলে স্ক্রিন থেকে আসা ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন
চশমার কাচটা বদলাতে হবে

চশমার কাচটা বদলাতে হবে

 

ফ্যাশনেবল লুক : চশমা একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট হিসেবেও কাজ করে। বিভিন্ন ডিজাইনের চশমা আমাদের ব্যক্তিত্বকে তুলে ধরতে সাহায্য করে।

চশমা পরার প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা অনেক। যারা দৃষ্টিশক্তির সমস্যা ভোগ করেন তাদের জন্য চশমা একটি অপরিহার্য উপকরণ। তবে চশমা না পরার ফলে দৃষ্টিশক্তি ও চোখের স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। তাই সঠিকভাবে চশমা ব্যবহার করা উচিত এবং চোখের সুরক্ষার প্রতি যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। চশমা শুধু স্বাস্থ্যকর নয় বরং এটি আমাদের স্টাইল এবং আত্মবিশ্বাসকেও বাড়াতে সাহায্য করে।

আরো পড়ুন
চশমায় নাকের দুই পাশে দাগ? সমাধানে টিপস

চশমায় নাকের দুই পাশে দাগ? সমাধানে টিপস

 

সূত্র : জীবনস্টাইল

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

গরমে এসি-কুলার ছাড়াই যেভাবে ঘর ঠাণ্ডা করবেন

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
গরমে এসি-কুলার ছাড়াই যেভাবে ঘর ঠাণ্ডা করবেন
সংগৃহীত ছবি

এপ্রিল মাস না আসতেই গরম শুরু হয়ে গেছে। বেলা বাড়ার  সঙ্গে বাইরে বের হওয়ার উপায় থাকে না। এমনকি ঘরের মধ্যেও গরমের আঁচ টের পাওয়া যাচ্ছে। মে-জুন মাসে কী হবে কে জানে!

আসলে ক্রমশ গরমের ধরন বদলে যাচ্ছে।

তাই তো আগে ফ্যানের হাওয়ায় পুরো গ্রীষ্মকাল কাটিয়ে দেওয়া গেলেও আজকাল এয়ার কন্ডিশনার বা কুলার ছাড়া গরমকাল ভাবতেই পারেন না অনেকে। কিন্তু এসি কেনা সকলের সাধ্যের মধ্যে থাকে না।

তা ছাড়া এসি, কুলার থাকলেও সারাক্ষণ চালালে বাড়তে থাকে বিদ্যুতের বিল। তাই গরমে ঘরোয়া উপায়ে ঘর ঠাণ্ডা রাখার বিকল্প উপায় খুঁজতে পারেন।

রইল সেই টিপস।

আরো পড়ুন
গরমে পায়ের গোড়ালির ফাটা দূর করবে যে ৪ জিনিস

গরমে পায়ের গোড়ালির ফাটা দূর করবে যে ৪ জিনিস

 

পর্দা টেনে রাখুন

গরমকালে সকালের মিঠে রোদ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। তাই রোদ চড়া হওয়ার আগেই পর্দা টেনে দিন। এতে সহজে ঘরে তাপ ঢুকবে না।

ঘরও তুলনামূলক ঠাণ্ডা থাকবে।

ভারী সুতির পর্দা

জানালায় ভারী সুতির পর্দা ব্যবহার করুন। এ ধরনের পর্দা ঘরে আলো প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এ ছাড়া বিছানার চাদর ও বালিশের কাভারও হালকা রঙের কিনুন। এতে বিছানা যেমন তাপ ধরে রাখবে না, তেমনই ঘরও থাকবে ঠাণ্ডা।

দেওয়ালে হালকা রং

ঘরের রং যত গাঢ় হবে ততই আলো শোষিত হয়। সঙ্গে বাড়ে তাপমাত্রাও। আর হালকা রঙে আলো বেশি প্রতিফলিত হয়। তাই ঘর ঠাণ্ডা রাখতে দেওয়ালে যতটা সম্ভব হালকা রং ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

আরো পড়ুন
ব্লাড সুগার থাকলে কি পায়ে ইনফেকশন হতে পারে? কিভাবে যত্ন নেবেন

ব্লাড সুগার থাকলে কি পায়ে ইনফেকশন হতে পারে? কিভাবে যত্ন নেবেন

 

ঘরে গাছ রাখুন

ফুলে-ফলে-পাতায় তারাও কিন্তু জানান দেয় ভালোবাসার কথা। বাড়িতে একটুকরো সবুজ থাকলেই নিমেষে ভালো হয়ে যায় মন। বাড়তি প্রাপ্তি দূষণ থেকে মুক্তি, পর্যাপ্ত অক্সিজেন এসব কিছু তো রয়েছেই। ঘরের ভিতর মানিপ্ল্যান্ট, অ্যালোভেরা, অ্যারিকা পামজাতীয় গাছ ঘরের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করে। 

ভেজা ভেজা করে ঘর মুছুন

ঘরের তাপমাত্রা কম রাখতে একটু ভেজা ভেজা করে ঘর মুছতে পারেন। প্রয়োজন হলে একাধিকবার ঘর মুছুন। মেঝের সঙ্গে জানালার কাঁচও পানি দিয়ে মুছুন। পর্দায় খানিকটা পানি ছিটিয়ে দিলেও ঘর ঠাণ্ডা থাকবে।

আরো পড়ুন
রক্তাল্পতার লক্ষণ যেগুলো

রক্তাল্পতার লক্ষণ যেগুলো

 

টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে বরফ

ঘর ঠাণ্ডা রাখতে দরজা-জানালা বন্ধ করে টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে এক বাটি বরফ রাখতে পারেন। এতে বরফের ঠাণ্ডা বাতাস ঘর জুড়ে ঠাণ্ডা অনুভূতি তৈরি করবে। বরফ গলে গেলেও বেশ অনেকক্ষণ ঘর ঠাণ্ডা থাকবে। 

সন্ধ্যায় জানালা খুলুন

ঘর ঠাণ্ডা রাখতে সন্ধ্যাবেলায় ঘরের জানালা খুলে দিন। যাতে ভালোভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে। ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্য ঘরে ভেন্টিলেশন হওয়া খুবই প্রয়োজন। রান্না ঘরের ভেন্টিলেটর চালিয়ে রাখতে পারেন।

আরো পড়ুন
পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ মেইল সহজে খুঁজে বের করবে জিমেইল

পুরনো ও গুরুত্বপূর্ণ মেইল সহজে খুঁজে বের করবে জিমেইল

 

সূত্র : আজকাল

মন্তব্য

ঘন ঘন মাথা ন্যাড়া করলে কি চুল ঘন হয়?

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
ঘন ঘন মাথা ন্যাড়া করলে কি চুল ঘন হয়?
সংগৃহীত ছবি

ঘন ঘন মাথা ন্যাড়া করার ফলে শিশুর চুল ঘন হয়, এমন বিশ্বাস রয়েছে আমাদের অনেকের মাঝে। এই বিশ্বাস কি আসলেই সত্যি? এই পুরনো বিশ্বাস বলে যে নবজাতক শিশুর নরম চুল ছেঁটে দিলে চুল ঘন হয়। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রায়ই এই অভ্যাসকে উৎসাহিত করে। কিন্তু বিজ্ঞান এমন কিছুতে বিশ্বাস করে না।

চুলের বৃদ্ধি মাথার ত্বকের উপরিভাগ ছাড়া অন্যান্য কারণের ওপর নির্ভর করে। ন্যাড়া করার ওপর চুলের প্রাকৃতিক টেক্সচার বা ঘনত্ব পরিবর্তন করে না। শিশুর চুল ঘন হবে কি না, তা মূলত জেনেটিক কারণে নির্ভর করে। এমনটাই জানাচ্ছেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা।

শিশুর জন্মের সময় তাদের চুল প্রায়ই পাতলা ও নরম থাকে (যাকে বলা হয় ভেলাস হেয়ার)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হরমোনের পরিবর্তন ও জেনেটিক কারণে তারা স্বাভাবিকভাবেই ঘন এবং আরো বেশি কালো হয়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, ন্যাড়া করলে এই প্রক্রিয়াটিকে ত্বরান্বিত করে না।

আরো পড়ুন
গরমে পায়ের গোড়ালির ফাটা দূর করবে যে ৪ জিনিস

গরমে পায়ের গোড়ালির ফাটা দূর করবে যে ৪ জিনিস

 

একটি শিশুর মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার প্রক্রিয়া বিজ্ঞানের পরিবর্তে ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করে।

শিশুর চুল স্বাভাবিকভাবেই প্রায় ৬-১২ মাসের মধ্যে ঘন হয়ে যায়। ১ থেকে দেড় বছর বয়সের মধ্যেই অনেক বাবা-মা শিশুর মাথা ন্যাড়া করিয়ে দেন। এদিকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের শিশুদের চুল এমনিতেই বড় ও ঘন হতে থাকে।

অর্থাৎ শিশুকে ন্যাড়া করানোর তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো তার চুল পরিষ্কার ও স্ক্যাল্প রোগমুক্ত রাখা। চুল কাটিয়ে দিলে গরমে আরাম লাগতে পারে ঠিকই।

কিন্তু তার জন্য চুলের গুণমান পরিবর্তিত হবে না।

আরো পড়ুন
রক্তাল্পতার লক্ষণ যেগুলো

রক্তাল্পতার লক্ষণ যেগুলো

 

সূত্র : নিউজ ১৮

মন্তব্য

ইফতারে টক দই খেলে কী উপকার

জীবনযাপন ডেস্ক
জীবনযাপন ডেস্ক
শেয়ার
ইফতারে টক দই খেলে কী উপকার
সংগৃহীত ছবি

টক দইয়ে রয়েছে অসংখ্য স্বাস্থ্য উপকারিতা। প্রতিদিন টক দই খেলে শরীর থেকে পালাবে অনেক রোগ। টক দই প্রো-বায়োটিকের কাজ করে। হজমপ্রক্রিয়া ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রো-বায়োটিক কার্যকরী।

টক দই পেট ফোলা কিংবা ডায়রিয়ার সমস্যা থেকে দূরে রাখে।

ইফতারে টক দই খাওয়ার উপকারিতা

  • দইয়ে থাকা প্রো-বায়োটিক ব্যাকটেরিয়া হজমে সহায়ক।
  • গ্যাস্ট্রিক বা বদহজম প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  • সারা দিন রোজা রাখার পর শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।
  • টক দইয়ে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন থাকে, যা দ্রুত শক্তি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে।
  • টক দই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক।
  • আরো পড়ুন
    বার্ড ফ্লু কিভাবে ছড়ায়, এর থেকে প্রতিকার কী

    বার্ড ফ্লু কিভাবে ছড়ায়, এর থেকে প্রতিকার কী

     

    সতর্কতা

    • অতিরিক্ত টক দই খেলে গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা হতে পারে।
    • খালি পেটে বেশি খাওয়া এড়ানো উচিত।
    কারণ, এটি কিছু মানুষের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
  • সুগার মিশ্রিত দই কম খাওয়াই ভালো, বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য।
  • যেভাবে খাবেন

    • ফল বা খেজুরের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে আরো পুষ্টিকর হবে।
    • শরবত বা স্মুদি বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
    • একটু মধু বা চিনি মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো যায়।
  • সঠিক পরিমাণে খেলে ইফতারে টক দই বেশ স্বাস্থ্যকর হতে পারে।
  • আরো পড়ুন
    রক্তাল্পতার লক্ষণ যেগুলো

    রক্তাল্পতার লক্ষণ যেগুলো

     
    মন্তব্য

    ঈদযাত্রার আগে বাসার নিরাপত্তায় সতর্কতা

    অনলাইন ডেস্ক
    অনলাইন ডেস্ক
    শেয়ার
    ঈদযাত্রার আগে বাসার নিরাপত্তায় সতর্কতা
    ছবি : ফোকাস বাংলা

    আসন্ন ঈদুল ফিতরে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার স্রোত শুরু হবে শীঘ্রই। শবেকদর, ঈদুল ফিতর আর সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে এক লম্বা ছুটি পাচ্ছে নগরবাসী। পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগ করতে অনেকেই ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে। কর্মব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি ভুলে যাওয়ার জন্য এই ছুটির দিনগুলো এক কথায় অনন্য।

    কিন্তু এই আনন্দের মাঝেও একটি বিষয় নিয়ে দুশ্চিন্তা অনেকের মনেই কাজ করে— তা হলো বাসার নিরাপত্তা!

    এই বাড়ি ফেরার সময় কিছু অসাবধানতার কারণে ঈদের ছুটির আনন্দ ম্লান হয়ে যেতে পারে এক নিমিষেই। তাই জেনে নিন ঈদে বাড়ি যাওয়ার আগে কোন কাজগুলো করতে হবে।   

    ঘরের বৈদ্যুতিক সুইচ 
    তাড়াহুড়ো করে বাড়ি ফেরার আগে আপনার ঘরের বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সুইচ বন্ধ করুন। অনেক সময় অসতর্কতায় সুইচ চালু থাকায় যেমন বিদ্যুতের অপচয় হয় তেমনি ঘটতে পারে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

    তবে খেয়াল রাখতে হবে আপনার ফ্রিজে খাবার দাবার রাখা আছে কি না। ফ্রিজ ফাঁকা থাকলে, অন্য কোথাও বৈদ্যুতিক সংযোগ প্রয়োজন না থাকলে মেইন সুইচ অফ করে বাড়ি ফিরতে পারেন। তবে যদি ফ্রিজে খাবার থাকে তবে অবশ্যই বৈদ্যুতিক সংযোগ চালু রাখবেন অন্যথায় খাবার নষ্ট হয়ে যাবে। প্রি-পেইড মিটার গ্রাহকদের আরেকটি সতর্কতার বিষয় হচ্ছে যদি সংযোগ রাখতে হয় তবে নিশ্চিত করতে হবে আপনার মিটারের ব্যালেন্সের প্রতিও।
    হতে পারে আপনি বাড়ি চলে গেছেন এদিকে ব্যালেন্স শেষ হওয়ার দরুন আপনার বাসায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। 

    গ্যাস ও পানির লাইন 
    শুধু বৈদ্যুতিক সুইচ-ই নয়, গ্যাসের চুলা সঠিকভাবে বন্ধ করুন। সম্প্রতি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা ব্যাপক। আমরা অনেক সময় চুলা ব্যবহারের পর ভালোভাবে বন্ধ করতে ভুলে যাই। সব সময়ই ভালোভাবে চুলা বন্ধ রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে সতর্ক থাকুন।

    আমাদের অসতর্কতা কিংবা বাসার ছোট সদস্যদের দ্বারা অনেক সময় পানির কল চালু থাকে। অবশ্যই বাড়ি যাওয়ার আগে বাসার সব পানির কল বন্ধ আছে কি না দেখে নিতে হবে।

    ফুলের টব ও পোষা প্রাণীর যত্ন 
    বাড়ি ফেরার এই দীর্ঘ ছুটিতে ঘরের কিংবা বারান্দায় যত্নে রাখা গাছ যেন অযত্নে না থাকে সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে। গাছগুলো যেন তার পর্যাপ্ত পানি পায় সে লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া অবলম্বন করা যায়। অনেকেই প্লাস্টিকের বোতলে পানি রেখে উপরে ঝুলিয়ে এক দুই ফোঁটা পানি পড়ার ব্যবস্থা করে কিংবা গাছের গোড়ায় বিভিন্ন উপকরণ রেখে ভেজা পরিবেশ নিশ্চিত করে। এছাড়াও আরো বেশ কিছু পদ্ধতি রয়েছে তা অবলম্বন করে আপনার অনুপস্থিতিতে গাছের যত্ন নিশ্চিত করতে পারেন। 

    বাসায় পোষা প্রাণী থাকলে তাকে একা বাসায় রেখে যাওয়ার ভুল করবেন না। সম্ভব হলে সঙ্গে করে নিয়ে চলুন অথবা পরিচিত কারও বাসায় রেখে যান। ঢাকাতেই পোষা প্রাণীদের কিছু কেয়ার সেন্টার গড়ে উঠেছে, যেখানে নামমাত্র মূল্যে চাইলেই নিজের পোষা প্রাণীকে রেখে যেতে পারবেন আপনিও।

    দরজা-জানালার তালা ভালোভাবে পরীক্ষা করুন 
    আপনার বাসার প্রতিটি দরজা ও জানালা শক্তভাবে বন্ধ করুন এবং তালা লাগিয়ে নিন। শুধু প্রধান দরজা নয়, রান্নাঘর, বারান্দা বা জানালার গ্রিলের লকও পরীক্ষা করুন। মূল দরজার পাশাপাশি প্রত্যেক রুমেই আলাদা তালা লাগান এবং লাগানো হলে আরেকবার টেনে দেখুন। তালা লাগানোর আগে অবশ্যই চেক করবেন ভুলে কোনো জানালা খোলা আছে কি না। তালা লাগানোর পর চাবি নিরাপদে সংরক্ষণে রাখুন। এটাও খেয়াল রাখবেন যাতে অন্যান্য ব্যস্ততায় এই চাবিগুলো যেন আবার হারিয়ে না যায়। বাসার আলমারিতে মূল্যবান সামগ্রী রাখলেও সেটিতে ভালোভাবে তালাবন্ধ করে নিন। গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রের কপি ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ করুন, যাতে হারিয়ে গেলেও সমস্যায় না পড়েন।

    প্রতিবেশী ও নিরাপত্তাকর্মীদের অবহিত করুন 
    আপনার পাশের বিশ্বস্ত প্রতিবেশী বা বাসার দারোয়ানকে জানিয়ে যান যে আপনি কিছুদিনের জন্য বাইরে থাকবেন। এতে তারা সন্দেহজনক কিছু দেখলে ব্যবস্থা নিতে পারবেন। নিরাপত্তার জন্য প্রতিবেশীর সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা রাখুন, যেন তারা প্রয়োজনে আপনাকে খবর দিতে পারে।

    আলো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
    আপনার বাড়ি যেন একেবারে অন্ধকার না থাকে, তা নিশ্চিত করুন। চোরেরা সাধারণত ফাঁকা বাড়িগুলোকেই টার্গেট করে। স্বয়ংক্রিয় টাইমারযুক্ত লাইট ব্যবহার করতে পারেন, যা নির্দিষ্ট সময় পরপর জ্বলে উঠবে। দরজার সামনে বা প্রবেশপথে আলো রাখুন, যাতে কেউ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করলে তা বোঝা যায়।

    সিসিটিভি ক্যামেরা  
    আপনার বাসায় যদি বাসায় সিসিটিভি ক্যামেরা থাকে, তাহলে সেটি চালু রাখুন। চাইলে আপনার মোবাইলে এক্সেস নিয়ে বাড়ি যেতে পারেন। এতে প্রয়োজনে দূরে থেকেও পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। পাশাপাশি ঘর গুছানোর সময় সর্বশেষ অবস্থার ছবি তোলে রাখতে পারেন যা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পরবর্তীতে কাজে লাগতে পারে।

    লেখক : তানজিদ শুভ্র
    শিক্ষার্থী, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলজে, গাজীপুর।

    মন্তব্য

    সর্বশেষ সংবাদ