‘ও মামা লোক লাগবো না?’ মাথায় ঝুড়ি নিয়ে এভাবেই কারওয়ান বাজারে ডাকাডাকি করছেন খোকন। কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করতেই জানালেন, তিনি এই বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন পণ্য কিনতে আসা লোকজনের মালামাল তার ঝুড়িতে করে রিকশা বা গাড়িতে পৌঁছে দেন। এর বিনিময়ে কেউ ২০ টাকা আবার কেউ ৩০ টাকা দেন। যা দিয়ে চলে তার সংসার।
শুধু খোকন নয়, তার মতো হাজারো খোকন মাথায় ঝুড়ি নিয়ে সারাক্ষণ ঘুরে বেড়ায় বাজারের এক গলি থেকে অন্য গলি। ঈদ ঘিরে দুশ্চিন্তা মাথায় নিয়ে তারা ছুটে চলেছেন।
খোকন বলেন, ঈদ আসলে আনন্দ হয়। কিন্তু গরিব মাইষের ঈদের আনন্দ নাই।
আরো পড়ুন
রামুতে গরু চোরাচালান নিয়ে গোলাগুলি, নিহত ১
পরিবারে কে কে আছে জানতে চাইলে তিনি জানান, পরিবারের স্ত্রী-সন্তান থাকলেও ঈদে তদের কিছু দিতে পারেন না। তা মা আছে তাকেও যে কিছু দেবেন সেই সামর্থও নেই তার।
কথা শেষ করেই আবারো সামনে হাঁটতে শুরু করেন খোকন। আবারো সেই ডাকাডাকি ‘ও মামা লোক লাগবো না?’ তার এই ডাকে কেউ সাড়া দেয় আবার কেউবা ‘না’ বলছে।
এর মধ্যেই একজন রাজি হলেন। পাবেন ২০ টাকা তবে সেটি আর জুটলো না।
এরপর আবারো মাথায় ঝুড়ি নিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন খোকন। এক ঘণ্টা হেঁটে ডাকাডাকির পর একজন রাজি হলেন ঝুঁড়িতে করে মালামাল গন্তব্যে নিতে। খোকন তার ঝুড়িতে করে মালামাল গন্তব্যে নেওয়ার পর বিনিময়ে তাকে দেওয়া হলো ২০ টাকা।
টাকাটি পকেটে ঢোকানোর আগেই দেখতে পান ছেঁড়া। তবু হাসি মুখে গুজে নেন পকেটে।
আরো পড়ুন
মায়ানমারে স্কুলের ধ্বংসস্তূপে সন্তানদের নাম ধরে ডাকছেন মা-বাবারা
খোকনের কাছে তার কাজ ও পরিবার সম্পর্কে জানতে চাইলে কালের কণ্ঠকে জানায়, দৈনিক ৪০০-৫০০ টাকা আয় করে, কখনো তাও হয় না, তিন দিন না খেয়েও থেকে ছিলেন তিনি।
সামান্য এই আয়ের অর্থ কোনভাবেই জীবনযাপন করছেন। সকাল থেকে রাত এভাবেই কাজ করে যান। পরিবারের রয়েছে স্ত্রী সন্তান ও বৃদ্ধ মা। ঈদ ঘিরে পরিবারের কাউকে কিছু কিনে দিতে পারেননি তিনি। এ নিয়ে তার কষ্টের যেন শেষ নেই।
এই সমাজে খোকনদের কষ্টগুলো হয়তোবা কেউ বোঝার চেষ্টা করে না, তারপরও খোকনের মতো মানুষেরা বুক ভরা আশা নিয়ে, সন্তানের জন্য হাতে করে, ঈদ উপহার নিয়ে ছুটে চলে বাড়ির পথে।