মার্কিন সাহায্য বন্ধ হলে বাড়তে পারে এইচআইভি ও এইডসে মৃত্যু

ডয়চে ভেলে
ডয়চে ভেলে
শেয়ার
মার্কিন সাহায্য বন্ধ হলে বাড়তে পারে এইচআইভি ও এইডসে মৃত্যু
ছবিসূত্র : এএফপি

যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য বন্ধ করলে আরো বহু মানুষের মৃত্যু হবে। সম্প্রতি এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের এইডস বিষয়ক সংস্থার প্রধান। ট্রাম্প ক্ষমতায় এসেই মার্কিন সাহায্য অনেক কমিয়ে দিয়েছেন।

জাতিসংঘে এইচআইভি এইডস নিয়ে যে সংগঠন কাজ করে তার প্রধান সোমবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৬০ লাখ রোগীর মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইউএনএইডস-এর প্রধান উইনি বিয়ানইমা জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় সাহায্যদাতা ছিল। কিন্তু  ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে কার্যত পুরো সাহায্যই বন্ধ করে দিয়েছে। 

রিপোর্টারদের তিনি জানিয়েছেন, ২৫ বছর ধরে যে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের রাস্তা তৈরি হয়েছিল, তা কয়েকদিনের মধ্যে আশঙ্কাজনক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। এমন চলতে থাকলে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে।

৬০ লাখ মানুষের মৃত্যু

জাতিসংঘে এইচআইভি এইডস নিয়ে যে সংগঠন কাজ করে তার প্রধান বিয়ানইমা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য যদি অন্য কোনো দেশ বা সংস্থা পূরণ না করে, তা হলে আগামী চার বছরে অন্তত ৬০ লাখ অতিরিক্ত রোগীর মৃত্যু হবে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে এখন যাদের চিকিৎসা চলছে। সাহায্য না পেলে তাদের চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিয়ানইমার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য বন্ধ করার পর এখনো পর্যন্ত কোনো দেশ সেই পূরণের আগ্রহ দেখায়নি।

জাতিসংঘের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে এইডস রোগে অন্তত ছয় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আগামী কয়েক বছরে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিয়ানইমার আশঙ্কা এমন চলতে থাকলে ১৯৯০ দশকের মহামারির চেহারা নিতে পারে এইডস। 

বস্তুত, ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল এইডস। শুধু আফ্রিকা নয়, ল্যাটিন আমেরিকা এবং পূর্ব ইউরোপে এই রোগ আরো ছড়ানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের আধিকারিক।

এখন যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্জি

এভাবে সাহায্য বন্ধ করার বিষয়টি আরেকবার খতিয়ে দেখার আর্জি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে জানিয়েছেন বিয়ানইমা। তার বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য কমানোর যে কথা বলছে, তা যুক্তিসংগত। কিন্তু এভাবে আচমকা পুরো টাকা বন্ধ করে দিলে কী ভয়ংকর সংকট তৈরি হতে পারে, তা তাদের বোঝা উচিত।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রাম্প আমদানি শুল্ক বাড়ালে ‘খরচ বাড়বে’ মার্কিন ভোক্তাদেরই

ডয়চে ভেলে
ডয়চে ভেলে
শেয়ার
ট্রাম্প আমদানি শুল্ক বাড়ালে ‘খরচ বাড়বে’ মার্কিন ভোক্তাদেরই
ফ্রান্সের লিলে একটি এইচঅ্যান্ডএম স্টোর। ফাইল ছবি : এএফপি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে মার্কিন ভোক্তাদের ব্যয় বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্যাশন রিটেইলার এইচঅ্যান্ডএমের প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল এরভার। বৃহস্পতিবার রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘নতুন বাণিজ্য বাধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের সরবরাহ চেইনে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হচ্ছে।’

বর্তমানে এইচঅ্যান্ডএমের প্রধান উৎপাদনকেন্দ্র চীনে, যেখান থেকে আমদানির ওপর ইতিমধ্যে ২০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। এ ছাড়া আরো কয়েকটি দেশ ‘পারস্পরিক শুল্কের’ ঝুঁকিতে রয়েছে, যা ২ এপ্রিল ঘোষণা করা হতে পারে।

আরো পড়ুন
ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

ভেনিজুয়েলার তেল-গ্যাস কিনলেই শুল্কারোপের হুমকি ট্রাম্পের

 

যুক্তরাষ্ট্র এইচঅ্যান্ডএমের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি শুল্কের প্রভাব সামাল দিতে দাম বাড়াতে পারে। এরভার বলেন, ‘পরিশেষে এই খরচ ভোক্তাদেরই বহন করতে হবে। আমরা ন্যায়সংগত ও সমান বাণিজ্যে বিশ্বাসী, কিন্তু শুল্ক বৈশ্বিক বাণিজ্যের উন্নয়নে সহায়ক নয়।’

প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল এরভার জানান, এইচঅ্যান্ডএম শুল্ক আরোপের ওপর নজর রাখছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যদিও ট্রাম্পের আগামী সপ্তাহের ঘোষণায় কোন দেশগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বর্তমান অবস্থাকে একটি ‘চলমান অবস্থা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মন্তব্য

ভারতে ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ মার্কিন দূতাবাসের

    ২ হাজার আবেদন বাতিল
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
ভারতে ভিসা জালিয়াতির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ মার্কিন দূতাবাসের
প্রতীকী ছবি (সংগৃহীত)

মানুষের বদলে ভিসার আবেদন করেছিল স্বয়ংক্রিয় বা বট অ্যাকাউন্ট—এমনই অদ্ভুত অভিযোগে প্রায় দুই হাজার ভারতীয়র ভিসার আবেদন বাতিল করল ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ভারতে ভিসাসংক্রান্ত একাধিক জালিয়াতিমূলক কার্যকলাপ ধরা পড়েছে। এই ধরনের আবেদনগুলো নেপথ্যে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো চিহ্নিত করে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ওই অ্যাকাউন্টগুলো সময়সূচি নীতি লঙ্ঘন করেছে।

এ ছাড়া দূতাবাসের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, জালিয়াতি সহ্য করা হবে না। যারা সময়সূচি নীতি লঙ্ঘন করবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো পড়ুন
৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়ে ৯১৩৫ দিন অবস্থান

৩০ দিনের ট্যুরিস্ট ভিসায় থাইল্যান্ডে গিয়ে ৯১৩৫ দিন অবস্থান

 

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাবসায়িক প্রয়োজনে যাওয়ার ক্ষেত্রে বি১ ভিসা প্রয়োজন হয়।

আর ঘুরতে যাওয়ার জন্য লাগে বি২ ভিসা। পরিবারের সদস্য কিংবা কোনো বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে কিংবা চিকিৎসার প্রয়োজনে সে দেশে যেতে গেলেও বি২ ভিসারই দরকার হয়। তবে প্রতিবেদন অনুসারে, সম্প্রতি দুই ভিসার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেই কড়াকড়ি বেড়েছে। ভিসার আবেদনের নিয়মেও আনা হয়েছে কড়াকড়ি।
মার্কিন ভিসা নবায়ন করাতে গেলে এখন থেকে ভারতীয়দের আরো বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে বলে গত মাসেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আরো জটিল হয়েছে ভিসা নবায়নের জন্য মার্কিন দূতাবাস, উপদূতাবাসে গিয়ে ইন্টারভিউ দেওয়ার প্রক্রিয়া।

গণমাধ্যমটি আরো বলছে, দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভিসা জালিয়াতি ও বেআইনি অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা শুরু করেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত দুই মাসে তিন দফায় কয়েক শ ভারতীয় অভিবাসীকে ফেরত পাঠিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন দূতাবাসের দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে গত সপ্তাহেই ভিসা ও পাসপোর্ট জালিয়াতিকাণ্ডে তদন্ত শুরু করেছিল দিল্লি পুলিশ।

তার প্রায় এক সপ্তাহের মাথায় নিজেই পদক্ষেপ নিল দূতাবাস। সম্প্রতি ভুয়া তথ্য দিয়ে ভিসার আবেদনের একাধিক ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে নেমে ওই ঘটনায় জড়িত ৩১ জনেরও বেশি অভিযুক্তর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন এজেন্টরাও।

এই জাল নথিপত্রগুলো বানানোর জন্য অভিযুক্তরা আবেদনকারীদের কাছ থেকে ১৫ লাখ রুপি পর্যন্ত আদায় করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩১৮, ৩৩৬, ৩৪০ ধারা এবং তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৬৬(ডি) ধারার অধীনে মামলা করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

মন্তব্য

মিসরে সাবমেরিন ডুবে ৬ পর্যটকের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
মিসরে সাবমেরিন ডুবে ৬ পর্যটকের মৃত্যু
একটি পর্যটকবাহী সাবমেরিন মিসরের উপকূলে ডুবে গেছে। ফাইল ছবি : সিন্দাবাদ সাবমেরিনস

মিসরের লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী পর্যটন শহর হুরগাদার কাছে বৃহস্পতিবার একটি পর্যটন সাবমেরিন ডুবে ছয়জন নিহত হয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।  

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আকবর আল-ইয়াওম পত্রিকার ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতরা সবাই বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আরো ১৯ জন আহত হয়েছেন।

কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহও সেখানে রাখা হয়েছে।  

মিসরের রাজধানী কায়রো থেকে প্রায় ৪৬০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হুরগাদা পর্যটকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। দেশটির পূর্ব উপকূলের লোহিত সাগরের প্রবালপ্রাচীর ও দ্বীপগুলো পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণ, যা সে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন খাতের অংশ।

এই খাত প্রায় ২০ লাখ মানুষকে কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ১০ শতাংশেরও বেশি অবদান রাখে।

প্রতিদিন উপকূলীয় এলাকায় অনেকগুলো পর্যটন নৌকা স্নোরকেলিং ও ডাইভিং কার্যক্রম পরিচালনা করে। তবে আকবর আল-ইয়াওমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত সাবমেরিনটি সিনদাবাদ সাবমেরিনস কম্পানির মালিকানাধীন। কম্পানির ওয়েবসাইটে একে এই অঞ্চলের ‘একমাত্র প্রকৃত’ বিনোদনমূলক সাবমেরিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র : এএফপি

মন্তব্য

সিগন্যাল চ্যাট ফাঁস : সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের

বিবিসি
বিবিসি
শেয়ার
সিগন্যাল চ্যাট ফাঁস : সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ট্রাম্প প্রশাসনের
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ২৬ মার্চ হোয়াইট হাউসে দৈনিক ব্রিফিংয়ের সময় বক্তব্য দেন। ছবি : এএফপি

মার্কিন ম্যাগাজিন দি আটলান্টিক যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে সিগন্যাল অ্যাপে চলা গ্রুপ চ্যাটিং প্রকাশ করার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই প্রতিবেদনকে ‘একটি ষড়যন্ত্রমূলক প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে দি আটলান্টিককে একটি ‘ব্যর্থ ম্যাগাজিন’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আটলান্টিকের প্রধান সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গকে ভুলক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সিনিয়র ক্যাবিনেট নেতাদের ওই গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল।

সেখানে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের বিস্তারিত সময়সূচি থেকে শুরু করে ইউনিটসংক্রান্ত তথ্য, এই ধরনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গ্রুপে শেয়ার করেছিলেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। এসব তথ্য ইয়েমেনে আসন্ন মার্কিন হামলার পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সাংবাদিক জেফরি গোল্ডবার্গ ওই পুরো কথোপকথন তার প্রতিবেদনে প্রকাশ করেন।

গোল্ডবার্গ বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন যখন তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে যে তিনি মিথ্যা বলছেন এবং সেখানে কোনো গোপন তথ্য শেয়ার করা হয়নি, তখন তিনি এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন। ওই গ্রুপ চ্যাট ফাঁস হওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্বের অবস্থানে অটল আছে। তারা এখনো বলছে, কোনো গোপন তথ্য ফাঁস হয়নি।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ হোয়াইট হাউসের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এটি স্বীকার করছেন, যা হয়েছে, তা খুব গুরুতর ভুল ছিল।

একজন সাংবাদিককে ওই গ্রুপে ঢোকানোর দায় কার ওপর বর্তায়? সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে এর উত্তর জানতে চাইলে তিনি দোষ চাপান তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ওপর।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মাইক ওয়াল্টজ, আমার মনে হয় তিনি এর দায়ভার নিয়েছেন। আমাকে বলা হয়েছে এটি মাইকের দোষ।’

মাইক ওয়াল্টজ এর ‘দায় স্বীকার করেছেন’ জানিয়ে ট্রাম্প তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পক্ষ নেন, যিনি মূলত গ্রুপ চ্যাটে সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য শেয়ার করেছিলেন। ‘হেগসেথ দুর্দান্ত কাজ করছেন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বলেন, এই সিগন্যাল ফাঁস ‘নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই।’ তবে তিনি যোগ করেন, এই অ্যাপটি ‘খুব একটা ভালো নয়।’

এ ছাড়া তিনি সাংবাদিক গোল্ডবার্গকে একজন ‘আপাদমস্তক প্রতারক’ বলেও অভিহিত করেন। অন্যদিকে বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে আটলান্টিকের প্রধান সম্পাদক জেফরি গোল্ডবার্গ বলেন, একজন সাংবাদিকের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা না করে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আসলে স্বীকার করা উচিত যে তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি ছিল এবং সেই ত্রুটির সমাধান করা দরকার।’

এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই চ্যাটে অংশ নিয়েছিলেন। বুধবার ক্যারিবিয়ান দেশ জ্যামাইকা সফরে গিয়ে তিনি স্বীকার করেন, ‘নিঃসন্দেহে কেউ ভুল করেছে...একটি বড় ভুল...একজন সাংবাদিককে গ্রুপে যোগ করেছে।’

ওই চ্যাটের আরেক অংশগ্রহণকারী হলেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটিকে বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই বিষয়টির তদন্ত করবে এবং খতিয়ে দেখবে যে কিভাবে একজন সাংবাদিক সেখানে যুক্ত হলেন। এটিকে ভুল হিসেবে স্বীকার করলেও তিনি দাবি করেন, কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘বড় কোনো বিষয় নয়’ বলে মন্তব্য করলেও তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়াল্টজ মঙ্গলবার রাতে বলেন, তিনি এর ‘সম্পূর্ণ দায়ভার’ নিচ্ছেন।

অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের পদত্যাগ দাবি করেছেন। কারণ একজন সাংবাদিকের উপস্থিতিতে অসাবধানতাবশত তিনি যেসব তথ্য শেয়ার করেছেন, তা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিপক্ষের হাতে পড়লে মার্কিন কর্মকর্তাদের জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারত।

সাংবাদিক গোল্ডবার্গ এই সপ্তাহের শুরুতে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে ওয়াশিংটনে সাড়া ফেলে দেন। সেখানে তিনি ব্যাখ্যা করেন, কিভাবে তিনি ওই গ্রুপ চ্যাটে ভুলবশত যুক্ত হন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, তিনি তার প্রতিবেদনে কিছু তথ্য সচেতনভাবেই প্রকাশ করেননি। কারণ সেগুলোতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রম ও ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার পরিকল্পনার গোপন বিবরণ ছিল। কিন্তু পিট হেগসেথসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা গোল্ডবার্গকে মিথ্যাবাদী প্রমাণের চেষ্টা করেন।

পরে এ বিষয়ে গত বুধবার দ্বিতীয় কিস্তিতে নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করেন তিনি। প্রতিবেদনে তিনি বলেন, মার্কিন নাগরিকরা নিজেরাই যাতে সত্য-মিথ্যা বুঝতে পারেন, তাই তিনি ইয়েমেনে মার্কিন হামলার পরিকল্পনাসংক্রান্ত মেসেজগুলো প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টারা একটি ‘অনিরাপদ যোগাযোগ মাধ্যমে’ যেসব তথ্য আদান-প্রদান করেছেন, জনগণ চায় তা উন্মুক্ত হোক। ‘বিশেষ করে, যেহেতু প্রশাসনের ঊর্ধ্বতনরা শেয়ারকৃত ওই সব মেসেজের গুরুত্বকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।’ দ্বিতীয় এই লেখায় তার সহলেখক ছিলেন শ্যেন হ্যারিস।

এই ঘটনায় হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সরাসরি গোল্ডবার্গকে আক্রমণ করে ‘ট্রাম্পবিরোধী ঘৃণাকারী’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি দাবি করেন, মিডিয়ার ‘অপপ্রচারকারীরা’ এই ‘সিগন্যাল ষড়যন্ত্র’ ছড়িয়ে দিচ্ছে। ‘আসল গল্প হলো হুতি সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সফল সামরিক অভিযান।’

আটলান্টিকে প্রকাশিত মেসেজগুলোতে ইয়েমেনে মার্কিন হামলার ব্যাপারে বিস্তারিত ছিল। কিছু মেসেজে হামলা-পরবর্তী ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন, ইয়েমেনে সিআইএর কার্যক্রম ও হুতির ওপর আসন্ন ইসরায়েলি হামলার ব্যাপারেও আলোচনা ছিল।

গত বুধবারও পিট হেগসেথ আত্মপক্ষ সমর্থন করে কথা বলেন। তিনি হাওয়াইতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘তারা জানে এটি যুদ্ধ পরিকল্পনা নয়।’ ওখানে ‘কোনো ইউনিট, কোনো স্থান, কোনো রুট, কোনো ফ্লাইট, কোনো সূত্র, কোনো পদ্ধতি বা কোনো গোপন তথ্য ছিল না’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তার কাজ হলো ‘সময়মতো আপডেট দেওয়া’ জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমি ঠিক সেটাই করেছি।’

তবে সামরিক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, ওই তথ্য অত্যন্ত সংবেদনশীল ও সেগুলো একটি কমার্শিয়াল মেসেজিং অ্যাপে শেয়ার করা কখনোই উচিত হয়নি।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ