কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে হাসিমুখে বললেন, ‘ভেতরে আসুন।’
ঘরের তিন প্রান্তে সোফা সেট। সোফার বড় অংশজুড়ে কস্টিউম। বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না।
কলিং বেল চাপতেই দরজা খুলে হাসিমুখে বললেন, ‘ভেতরে আসুন।’
ঘরের তিন প্রান্তে সোফা সেট। সোফার বড় অংশজুড়ে কস্টিউম। বললেন, ‘কিছু মনে করবেন না।
এবার চা নিতে অনুরোধ করে বললেন, ‘এই সময়টায় রেওয়াজ করি।
অর্থ না বুঝলেও সুর দোলা দিয়েছে মনে। টের পেয়ে বললেন, ‘এখানে প্রেমিকার উদ্দেশে প্রেমিক বলছে—ও ক্যকচিং শহরের আমার প্রিয়া/আমি আছি অপেক্ষায়/এখানে সেখানে কত খুঁজেছি/একদিন না দেখলে মনে হয় বছর দেখি নাই/ও প্রিয়া তুমি কোথায়।
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে গানের সঙ্গে মিতালি গড়া এই মানুষটার নাম চ থুই ফ্রু মারমা। পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কিংবদন্তি ব্যক্তিত্ব। মারমাদের মধ্যে অনেক জনপ্রিয় এই গানটির মতো ৯০টির বেশি মৌলিক গানের গীতিকার ও সুরকার তিনি। ১২টি অ্যালবাম আছে তাঁর। সুর করেছেন দেড় শতাধিক গানে।
গ্রামোফোনে সুরেলা সকাল
জন্ম ১৯৬৫ সালে বান্দরবানে। বাবা হ্লা থোয়াই ফ্রু কাছ থেকে মারমা জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস সম্পর্কে জেনেছেন। সংগীতের আবহে বড় হয়েছেন।
পড়াশোনা শুরু ডন বক্সো স্কুলে। চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রথম গান পরিবেশনের সুযোগ পেলেন। শিল্পী শাহনাজ রহমতউল্লাহর ‘আমার ছোট ভাইটি’ শিরোনামের ছড়াগান গেয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সবাইকে।
প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে ভর্তি হলেন বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে প্রথমবারের মতো হারমোনিয়াম বাজিয়ে গেয়েছিলেন রবীন্দ্রসংগীত। এরপর থেকে স্কুলের যেকোনো অনুষ্ঠানে ডাক পড়ত চ থুই ফ্রুর। ১৯৮১ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। ভর্তি হন ঢাকা কলেজে। তত দিনে ধ্রুপদী সংগীতের তালিম নিয়েছেন ওস্তাদ শান্তিময় চক্রবর্তীর কাছ থেকে।
সাফ গেমসে
১৯৮১ সালে মারমা গান ও বাংলা ছড়ার ওপর প্রথমবারের মতো কোরিওগ্রাফি করেছিলেন। সেই সূত্রে ডাক পান সাফ গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। ১৯৮৫ সালে দ্বিতীয় আসরে থালা এবং সাংগ্রাই—৯ মিনিটের এই দুটি নাচে অংশ নিয়েছিল পাহাড়ের ৬০ জন তরুণী। কোরিওগ্রাফার ছিলেন চ থুই ফ্রু। বেশ প্রশংসিত হয় সেই পরিবেশনা। ১৯৯৩ সালেও সাফ গেমসে ১০০ জন নৃত্যশিল্পী নিয়ে প্রদর্শনী করেন। হাসতে হাসতে বললেন, ‘আমাদের নাচের মুদ্রাগুলো কঠিন। আজকালের বেশির ভাগ ছেলেমেয়েরা পারে না। আমিও আসলে নাচতে পারি না। তবে শিল্পীদের কাছ থেকে নাচের মুদ্রা ঠিকঠাক তুলে আনতে পারি।’
পাহাড়িকায় প্রথম
১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ বেতারের চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে ডাক পেলেন চ থুই ফ্রু। তিনি তখন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের ছাত্র। ‘পাহাড়িকা’ অনুষ্ঠানে নিজের লেখা ও সুরে একটা মারমা গান পরিবেশন করেন। বেতার কর্তৃপক্ষ আরো কয়েকজন মারমা শিল্পীর সন্ধান চাইল। খোঁজ নিতে গিয়ে চ থুই ফ্রু দেখলেন, মারমা গানের গীতিকার, সুরকার একেবারেই কম। লিখিত গানের সংখ্যাও হাতে গোনা। ভাবলেন, নিজেই গান লেখার চেষ্টা করবেন। মারমা গানের ধারা বেশ সমৃদ্ধ। কিন্তু এর আগ পর্যন্ত সেটা মুখে মুখেই প্রচলিত ছিল। কোনো রেকর্ড করা হয়নি। সেই উদ্যোগ নেওয়া প্রথম ব্যক্তি চ থুই ফ্রু।
১৯৯১ সালে তিনি স্নাতক পাস করে কালচারাল অফিসার হিসেবে যোগ দেন তৎকালীন উপজাতীয় সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটে। বললেন, ‘চাকরির কারণে মাস্টার্স করা হয়নি।’ অবশ্য চাকরিটা আশীর্বাদ হয়ে এলো। সংগীত সাধনায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পেরেছিলেন।
পাহাড়ের প্রথম ব্যান্ড ‘চিম্বুক’
মারমাদের ১৪ ধরনের লোকগান আছে। নব্বই দশকের আগ পর্যন্ত মারমা গান শুধু নিজেদের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল ছিল। মারমা গানে আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার তাঁর হাত ধরেই, যা তরুণ প্রজন্মকে নিজ সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। চ থুই ফ্রু বললেন, ‘শহরে যারা থাকে, তাদের বেশির ভাগই লোকজ বাদ্যযন্ত্রগুলো বাজাতে পারে না। আবার আধুনিক বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাল মেলাতে কষ্ট হয় প্রান্তিক মারমাদের।’ এই বিভেদ ঘোচাতে ১৯৯৩ সালে পাঁচজন তরুণকে নিয়ে গঠন করলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম ব্যান্ড দল ‘চিম্বুক’। তাঁরা হলেন হ্লাসিংপ্র জর্জি, শৈটিংপ্রু, চাইসিংমং, পারখুম লুসাই ও থুই থুই প্রু। শুরুতে নানা সমস্যা থাকলেও পরে বেশ জনপ্রিয়তা পায় ব্যান্ডটি।
মারমা গানের প্রথম অ্যালবাম
১৯৯৬ সালে ২০ জন শিল্পীকে নিয়ে মারমা শিল্পীগোষ্ঠী গঠন করেন চ থুই ফ্রু। মারমা সংস্কৃতি, নাচ, গান, লোকজ আচার প্রচার করাই ছিল এই দলের উদ্দেশ্য। বর্তমান জাতীয় অনেক অনুষ্ঠানে এই শিল্পীগোষ্ঠীর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দেখা যায়।
চ থুই ফ্রুর উদ্যোগে ১৯৯৯ সালে মারমাদের ইতিহাসে প্রথম গানের অ্যালবাম প্রকাশিত হয়। ‘তঙ্ অঙোয়ে্’ নামের সেই অ্যালবামে ছিল ১২ জন শিল্পীর ১৪টি গান ছিল। দেশে তো বটেই, মায়ানমারেও এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে এসব গান। মূলত এই অ্যালবামের মাধ্যমে তখন মারমা গানের নিজস্ব ধারা তৈরি হয় বলে জানালেন চ থুই ফ্রু। তিনি বলেন, ‘স্টুডিও ছিল না আমাদের। উজানিপাড়ার একটা ভাঙা ঘরে গানগুলো রেকর্ড করেছিলাম। গানগুলো এখনো বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গাই।’ এই শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে মারমা, ম্রো ও বম ভাষায় সাতটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে।
২০০২ সালের দিকে নিজ বাসার ছাদে একটা স্টুডিও তৈরি করেছেন চ থুই ফ্রু। সেখানে নিয়মিত পাহাড়ের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর গান রেকর্ড করা হচ্ছে।
নাচেও আছেন
শুধু গান নয়, নাচে নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে মারমাদের জুড়ি মেলা ভার। এই নৃত্যও প্রাণ পেয়েছে চ থুই ফ্রুর হাতে। গর্বের সঙ্গে বললেন, ‘ময়ূর নৃত্য, পাখা নৃত্য, ছাতা নৃত্য, মনোহরি নৃত্য, প্রজাপতি নৃত্য, প্রদীপ নৃত্য, থালা নৃত্য, পাখা নৃত্যসহ দেশে এখন মারমাদের যেসব নৃত্য হয় বলতে গেলে সবগুলোর কোরিওগ্রাফি আমার করা। এগুলোর মিউজিকও।’
মারমা জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গান ‘সাংগ্রাইমা’র কোরিওগ্রাফারও তিনি। বললেন, ‘আমাদের নাচের মুদ্রা এবং মিউজিকগুলোর উপকরণ জ্যাৎ থেকে পাওয়া।’
‘জ্যাৎ’ হচ্ছে মারমাদের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী লোকসংস্কৃতি। আদিকালের রাজ-রাজরাদের জীবনধারা এবং ওই সময়ের সাধারণ মানুষের জীবনধারা, কৃষ্টি-কালচার ও কর্মসমূহকে সুর, তাল, লয়ের মাধ্যমে কোনো এক কাহিনিকে ফুটিয়ে তোলাই হলো জ্যাৎ।
যা করতে চান
কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৪ সালে বান্দরবান শিল্পকল্পা একাডেমি থেকে ‘নৃত্য কোরিওগ্রাফার’ হিসেবে সম্মাননাসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন। সম্মাননা পেয়েছেন জেলা পরিষদ এবং বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস কাউন্সিল থেকেও। এখন নিয়মিত শিশু এবং তরুণদের গান-নাচ শেখান। বললেন, ‘মারমাদের লোকগানের সম্ভার অনেক সমৃদ্ধ। জ্যাৎ, পাংখুয়ের মতো লোকজ নাচের সংলাপগুলো যুযোপযোগী করার ইচ্ছা আছে।’
মারমাদের প্রথম অ্যালবাম ‘তঙ্ অঙোয়ে্’
সঙ্গীত পরিবেশন করছেন চ থুই ফ্রু মারমা।
চ থুই ফ্রু মারমার অ্যালবাম।
মারমা শিল্পী গোষ্ঠীর উদ্যোগে প্রকাশিত অ্যালবাম
সম্পর্কিত খবর
বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামকে ১ এপ্রিল ইন্ডিয়া টুডের ‘নাথিং বাট ট্রু’ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশে চলমান বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক ছিলেন রাজ চেঙ্গাপ্পা।
অনুষ্ঠানে উঠে আসে বাংলাদেশের রাজনীতি, গণ-অভ্যুত্থানের পর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি, চলমান সমস্যা ও আগামীতে নির্বাচনসহ শান্তিপূর্ণ দেশ গঠনে করণীয় বিষয়গুলো।
রাজ বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় পর্দার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এবং তারা ক্রমবর্ধমান সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ২০২৫ সালের মার্চের শুরুর দিকে এক বিরল প্রকাশ্য ভাষণে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশ এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, সেনাপ্রধানের এই কঠোর সতর্কবার্তা ইউনূসের বেসামরিক নেতৃত্বের প্রতি কতটা গুরুতর ইঙ্গিত বহন করে? এটি কি সম্ভব যে, সামরিক বাহিনীর মধ্যে হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে?
জবাবে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘যদি সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করতে চাইত, তাহলে তাদের জন্য সেরা সুযোগ ছিল যখন হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং ইউনূস তখনো কার্যকরভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেননি।
মাহফুজ আনাম আরো বলেন, ‘বিভিন্ন বক্তব্যে সেনাপ্রধান বারবার বলেছেন, তারা কেবল ইউনূসের সরকারকে সমর্থন করতেই আগ্রহী।
তাঁর মতে, ‘সেনাপ্রধানের ভাষা হয়তো কিছুটা কঠোর ছিল, তবে সতর্কবার্তাটি যথাসময়ে এসেছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পরবর্তী ঘটনাগুলোর ওপর। আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, সেনাবাহিনী আসলে তেমন কোনো রাজনৈতিক আগ্রহ দেখায়নি।’ সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে
বাংলাদেশ যখন গণতন্ত্র পুনর্গঠনের মাধ্যমে নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছে, তখন দেশটিতে ইসলামী কট্টরপন্থার উত্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন শহরে ধর্মীয় মৌলবাদীরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করছে, নারীদের খেলাধুলা থেকে বিরত রাখার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে এবং ইসলাম অবমাননার অভিযোগে কঠোর শাস্তির দাবি তুলছে।
‘As Bangladesh Reinvents Itself, Islamist Hard-Liners See an Opening’ শিরোনামে এক প্রতিবেদনে এমন দাবিই করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। আর এদিকে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলা হয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকায় ইসলামী শাসনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, তাঁদের দাবি মানা না হলে নিজেরাই ব্যবস্থা নেবেন। এর পাশাপাশি, নতুন সংবিধান প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক নেতারা স্বীকার করেছেন, বাংলাদেশে সেক্যুলারিজমের পরিবর্তে ধর্মীয় নীতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সমালোচকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকার কট্টরপন্থী শক্তিকে প্রতিহত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না, বরং তারা সংঘাত এড়াতে চাইছে। এর ফলে রাজনৈতিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা মৌলবাদী দলগুলো নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের খেলাধুলার ওপর নিষেধাজ্ঞার ঘটনাগুলো বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গের তারাগঞ্জে এক ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা কট্টরপন্থীদের চাপে বাতিল করা হয়। ইসলামী প্রচারকরা নারীদের খেলাধুলাকে ‘অশ্লীলতা’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ করতে চেয়েছে।
প্রতিবেদনটির দাবি, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মৌলবাদী উত্থানের ধারাবাহিকতা বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়, বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতাকে একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। দলটির নেতারা ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছেন এবং তুরস্কের মডেল অনুসরণ করতে চান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনটিকে বিভ্রান্তিকর ও একপেশে বলে উল্লেখ করেছে। প্রেস উইং জানায়, এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সম্পর্কে ভুল চিত্র তুলে ধরেছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে অতি সরলীকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে।
প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের নিবন্ধটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে অবমূল্যায়ন করছে। তারা দাবি করে, এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং এটি সমগ্র জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করার ঝুঁকি তৈরি করে।
প্রেস উইংয়ের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে ধর্মীয় সহিংসতার সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিদায়ের পর সংঘটিত বিভিন্ন সংঘর্ষকে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও প্রকৃতপক্ষে এগুলো রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে।
প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও সন্ত্রাসবাদ দমন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
উগ্রপন্থার সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না : মাহফুজ আলম
বাংলাদেশে কোনো রাজনৈতিক ও ধর্মীয় উগ্রপন্থা মাথা চাড়া দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না, প্রয়োজনে সরকার ‘হার্ডলাইনে’ যাবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদনে বলতে চাওয়া হয়েছে, নতুন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার কারণে দেশে চরমপন্থা-উগ্রপন্থার সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা মনে করি, এ সুযোগ কাউকে নিতে দেওয়া হবে না।’
বুধবার সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুর গ্রামে জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলনে নিহত মাসুম মিয়ার কবর জিয়ারত ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
দেশে কোনো ধরনের জঙ্গিবাদের উত্থান হচ্ছে না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের মতো কিছুই হয়নি। বুধবার দুপুরে ঈদের শুভেচ্ছা ও ঈদ পুনর্মিলনীর উদ্দেশ্যে রাজধানীর বিভিন্ন থানা পরিদর্শনে গিয়ে বাড্ডা থানা পরিদর্শন শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত ৫ আগস্টের পর কিছুদিন তো সরকারই ছিল না। এর পর থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পুরনো ঘটনাগুলো তুলে ধরলে তো হবে না। ধীরে ধীরে সব কিছুর উন্নতি হচ্ছে, আরো উন্নতি হবে।
পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করিয়েছে : রিজভী
বাংলাদেশে ইসলামিস্টদের উত্থান নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন করিয়েছে। অবৈধ টাকা ব্যবহার করে পরাজিত শক্তি বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া ২৯৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমার স্ক্যানার। এর আগে গত জানুয়ারিতে ২৭১ ও ফেব্রুয়ারিতে ২৬৮টি ভুল তথ্য শনাক্ত করে প্রতিষ্ঠানটি। রিউমার স্ক্যানারের ওয়েবসাইটে গত মার্চে প্রকাশিত ফ্যাক্টচেক থেকে জানা গেছে, এ সময়ে ২৯৮টি ভুল তথ্যের মধ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে সবচেয়ে বেশি (১০৫) ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এটি মোট ভুল তথ্যের ৩৫ শতাংশ।
গেল মাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে জড়িয়ে সাতটিসহ এই বাহিনীকে জড়িয়ে ২৩টি ভুল তথ্য প্রচার দেখেছে রিউমার স্ক্যানার। এ ছাড়া বাংলাদেশ পুলিশের বিষয়ে তিনটি এবং র্যাব ও বিজিবিকে জড়িয়ে একটি করে ভুয়া তথ্য ছড়ানো শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য মতে, এসব ঘটনায় ভিডিওকেন্দ্রিক ভুলই ছিল সবচেয়ে বেশি, ১৪৩টি।
রিউমার স্ক্যানার বলছে, প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গত মাসে ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি, ২৭৩টি ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। এ ছাড়া এক্সে ৬২টি, টিকটকে সাতটি, ইউটিউবে ৪৪টি, ইনস্টাগ্রামে ২৬টি ও থ্রেডসে অন্তত পাঁচটি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে।
রিউমার স্ক্যানার জানিয়েছে, গত মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমে চারটি ঘটনায় বাংলাদেশকে জড়িয়ে অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে। এ ছাড়া তিনটি ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে ভুয়া তথ্যের প্রচার করা হয়েছে। মার্চে ২৬টি সাম্প্রদায়িক অপতথ্য প্রচার শনাক্ত করেছে রিউমার স্ক্যানার। এর অর্ধেকই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভারতীয় অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে করা হয়েছে।
রিউমার স্ক্যানার টিমের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, গেল মাসে অন্তর্বর্তী সরকারকে জড়িয়ে ১৫টি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ২২টি ভুল তথ্য প্রচার করা হয়েছে।
সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জড়িয়ে দুটি (বিপক্ষে), সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে), আসিফ নজরুলকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে), সালেহউদ্দিন আহমেদকে জড়িয়ে দুটি (বিপক্ষে), মো. তৌহিদ হোসেনকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
রিউমার স্ক্যানার ফ্যাক্টচেকগুলো বিশ্লেষণে দেখেছে, মার্চে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে সবচেয়ে বেশি (৭টি) ভুল তথ্য প্রচার করা হয়। আর দলটির আমির শফিকুর রহমানকে জড়িয়ে দুটি অপতথ্য ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে ছয়টি অপতথ্য প্রচার করা হয়েছে।
বিএনপিকে জড়িয়ে চারটি (৭৫ শতাংশই বিপক্ষে), দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে একটি (পক্ষে) ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নিয়ে দুটি (পক্ষে) ভুল তথ্য এবং ছাত্রদলকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার করা হয়।
এ ছাড়া মার্চে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে জড়িয়ে ছয়টি অপতথ্য (৮৩ শতাংশই পক্ষে) ও ছাত্রলীগকে জড়িয়ে একটি ভুল তথ্য (পক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। আর দলটির সভাপতি শেখ হাসিনাকে জড়িয়ে ৩৩টি ভুল তথ্য (৮৫ শতাংশই পক্ষে) প্রচারের প্রমাণ মিলেছে।
মার্চে জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) জড়িয়ে দুটি অপতথ্য (বিপক্ষে) শনাক্ত করা হয়েছে। দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে) অপতথ্যর প্রচার করা হয়েছে। দলটির নেতা হাসনাত আবদুল্লাহকে জড়িয়ে ছয়টি (বিপক্ষে), সারজিস আলমকে জড়িয়ে তিনটি (বিপক্ষে), তাসনিম জারাকে জড়িয়ে চারটি (বিপক্ষে), হুমায়রা নুরকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে), আব্দুল হান্নান মাসউদকে জড়িয়ে একটি (বিপক্ষে) অপতথ্য প্রচার দেখা গেছে।
রিউমার স্ক্যানার দেখেছে, মার্চে বিভিন্ন সুপরিচিত ব্যক্তি এবং বিভিন্ন ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৭টি মৃত্যুর গুজব প্রচার করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ভুয়া ৯টি কনটেন্ট ও পাঁচটি ডিপফেক ভিডিও শনাক্ত করা হয়েছে। মার্চে ধর্ষণ সম্পর্কিত খবর, তথ্য, ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ব্যাপকভাবে প্রচার বাড়ার ঘটনা লক্ষ করা যায়।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মার্চের মানবাধিকার প্রতিবেদনেও দাবি করা হচ্ছে, মার্চে দেশে ধর্ষণের সংখ্যা গত ফেব্রুয়ারি মাসের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। এতে জনমনে শঙ্কার অবকাশের সুযোগ নিয়ে অপতথ্যের প্রচার ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রিউমার স্ক্যানার মার্চে ধর্ষণবিষয়ক ২৭টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে। রমজান ও ঈদ পালনকে ঘিরে যথাক্রমে ১৬টি ও ছয়টি ভুল তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
মার্চে গণমাধ্যমের নাম, লোগো, শিরোনাম এবং নকল ও ভুয়া ফটোকার্ড ব্যবহার করে ৩৮টি ঘটনায় দেশি-বিদেশি ৩৯টি সংবাদমাধ্যমকে জড়িয়ে ৪৫টি ভুল তথ্য প্রচারিত হয়েছে। এভাবে ভুল তথ্য প্রচারে যমুনা টিভি (১০), জনকণ্ঠ (৫) ও আমার দেশের (৪) নাম বেশি ব্যবহার করা হয়েছে।
দীর্ঘ আট বছর পর লন্ডনে বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও তিন নাতনির সঙ্গে ঈদ উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সেখান থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঈদের দিন গত সোমবার ঢাকায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। নেতাদের উদ্দেশে বেগম জিয়া বলেন, ‘একে অন্যকে সহযোগিতা করতে হবে। সবাই মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো রাজকীয় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে পৌঁছেন।
লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ঈদের দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ম্যাডাম উনার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন। ঈদের দিনটি উনি বাসায় আপনজনদের নিয়ে একান্তে কাটিয়েছেন। ম্যাডামকে ঘিরে ঈদের সব আয়োজন তাঁরাই সাজিয়েছেন।
খালেদা জিয়ার লন্ডনে এটি তৃতীয় ঈদ উদযাপন। এবার ১০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ঈদ উদযাপন করছেন। এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ছেলের বাসায় ঈদুল আজহা উদযাপন করেছিলেন।
নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় : গত সোমবার রাত ৯টার দিকে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে খালেদা জিয়া ঈদ মোবারক জানান এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বড় পর্দায় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনও।
এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে বক্তব্য দেওয়ার অনুরোধ করেন।
সবার উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আপনাদের এত ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি এবং যাবে না। দেশবাসীর ভোটাধিকার সবাই মিলে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ পরে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। দীর্ঘদিন পর সবাইকে এভাবে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। এ সময় আগামী দিনের পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরো অংশ নেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বব চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমানসহ দলের সিনিয়র নেতারা। এ ছাড়া খালেদা জিয়ার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদার, অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকীও ছিলেন এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে।
এদিকে গত রবিবার যুক্তরাজ্যে ঈদের দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সকাল ১০টায় লন্ডনের কিংসমিডো স্টেডিয়ামের খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করেন। যুক্তরাজ্য বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উজ্জামান সোহেল জানিয়েছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে ঈদের জামাতে অংশ নিতে কিংসমিডো স্টেডিয়ামে যুক্তরাজ্য বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ও অঙ্গসংগঠনের কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত হন।
লন্ডনের পার্কে মাকে নিয়ে হাঁটলেন তারেক রহমান : যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ছেলে তারেক রহমানের বাসায় আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটছে তাঁর। এর মধ্যেই গত মঙ্গলবার লন্ডনের একটি পার্কে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে মুক্ত পরিবেশে ঘুরতে বের হয়েছেন তিনি। এ ছাড়া খালেদা জিয়াকে নিয়ে পার্কে বেড়ানোর একটি ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এতে দেখা যায়, পার্কের ভেতরের ফুটপাতে খালেদা জিয়াকে হুইলচেয়ারে করে একজন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তাঁর পাশেই তারেক রহমান ও পরিবারের সদস্যদের হাঁটতে দেখা যায়। খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকেও হুইলচেয়ারের সামনে থেকে হাঁটতে দেখা গেছে।
উন্নত চিকিৎসার জন্য চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। গত ৮ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি লন্ডনের দ্য ক্লিনিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তারেক রহমানের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি।