ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১০ এপ্রিল ২০২৫
২৭ চৈত্র ১৪৩১, ১০ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১০ এপ্রিল ২০২৫
২৭ চৈত্র ১৪৩১, ১০ শাওয়াল ১৪৪৬

আ. লীগের হামলায় ভারসাম্য হারান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
শেয়ার
আ. লীগের হামলায় ভারসাম্য হারান স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা
ছবি : কালের কণ্ঠ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে আওয়ামী লীগের হামলায় আহত হয়ে ১০ বছর ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন মো. হানিফ শেখ (৩৫) নামের এক স্বেচ্ছাসেবক দল  নেতা। ওই ব্যক্তি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামের মৃত সিদ্দিক শেখের ছেলে। তিনি সদর ইউনিয়নের কলাতলা ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছিলেন।

আরো পড়ুন
কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে দর্শকদের মারতে গেলেন খুশদিল

কটাক্ষ সহ্য করতে না পেরে দর্শকদের মারতে গেলেন খুশদিল

 


 
মানসিক ভারসম্যহীন ভুক্তভোগী হানিফ শেখের ছোট ভাই উপজেলা কৃষক দলের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মো. আনিচ শেখ বলেন, ‌‌‌‌বড় ভাই হানিফ গত ২০১৪ সালের ৬ অক্টোবর সকালে নিজ বাড়ি থেকে ব্যাবসায়িক উদ্দেশে খুলনা যাচ্ছিলেন।

এ সময় উপজেলার শেখমাটিয়া  ইউনিয়নের বুইচাকাঠীর কুদিরবাড়ি বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে আওয়ামী লীগের কিছু লোকজন তাকে আটকে বেধম মারধর করে। পরে তারা উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি (তখন সাধারণ সম্পাদক) মো. মোশারেফ হোসেন খানের নির্দেশে দলীয় অফিসে এনে সেখানে ওই নেতা ও থানা পলিশের সামনে বসে বেঁধে রেখে মারধর করেন। তখন হামলায় তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেও পরে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি ৬ মাস কারা ভোগের পর জামিনে মুক্ত হন।
তখন থেকেই ভাই মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে পড়েন। তাকে বাড়িতে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। সম্প্রতি চিকিৎসকের পরামর্শে তার শিকল খুলে দেওয়া হয়।

তিনি আরো জানান, ‌‌ভাইয়ের ওপর হামলার একই দিন রাতে তার বাড়িসহ পরের দিন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের ৬টি বড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা।

আর্থিক অভাব-অনটন ও চিকিৎসার অভাবে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করেছেন ভাই। এমনকি এর আগে হানিফ শেখের নামে ৫টি এবং তাকে ৮টি মিথ্যা ও গায়েবী মামলার আসামি করা হয়। মামলা ও ঘর পুড়িয়ে দেওয়ায় ওই পরিবারসহ স্থানীয়রা আর্থিকভাবে পুরো নিঃস্ব হয়ে যায়।

আরো পড়ুন
চাঁদাবাজির ঘটনায় বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

চাঁদাবাজির ঘটনায় বিএনপি নেতার সংবাদ সম্মেলন

 


পরিবার ও স্থানীয়রা বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে দাবি জানান, হানিফ শেখের চিকিৎসা এবং পরিবারটি স্বাভাবিক জীবন যাপন করার ব্যবস্থা করা হোক।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব মো. রিয়াজ ফরায়েজী বলেন, বিএনপি করার অপরাধে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মানসিক ভারসম্যহীন ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন হানিফ শেখ।


 
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান দুলাল বলেন, ‘গত ২০১৪ সালের ৭ আক্টোবর কোনো কারণ ছাড়াই আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে উপজেলার সদর ইউনিয়নের কলাতলা গ্রামে হামলা চালায়। সেখানের বিভিন্ন বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘর-বাড়িতে লুটপাট করে ও দোকানসহ ৬টি বসতঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগের দিন ওই এলাকার স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা হানিফ শেখকে ধরে কয়েক দফা মারধর করে পুলিশে দেয়। সে থেকেই ওই হানিফ মানসিক ভারসম্যহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তখন থানা পুলিশ কোনো মামলাও নেয়নি। এমন হামলার তদন্তপূর্বক বিচার দাবি করছি।’

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ওই সময় ওই গ্রামে আওয়ামী লীগের তাণ্ডব ছিল খুবই ভয়াবহ। ওই গ্রামের বিএনপির নেতাকর্মীদের বাড়ি ঘরে আগুন দেওয়াসহ লুটপাট করা হয়। কয়েকজনের গোয়াল থেকে গরু পর্যন্ত লুট করে নেওয়া হয়। হামলা ও মামলার ভয়ে এলাকাটিতে বিএনপির সমর্থিত পুরুষশূন্য ছিল। হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবর শুনে সেখানে দেখতে গেলে পুলিশ আমাকেও বাধা দেয়।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রেন থেকে তেল চুরি, চালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শেয়ার
ট্রেন থেকে তেল চুরি, চালকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা
সংগৃহীত ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন থামিয়ে লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) থেকে তেল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ট্রেনের চালক, পরিচালকসহ ৮ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় মামলা হয়েছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার রেলওয়ে নিরাপত্তাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলের সহকারী কমান্ড্যান্ট মো. ফিরোজ আলীকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। এদিকে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলার আসামিরা হলেন, ট্রেন চালক মো. নাসির উদ্দিন, সহকারী চালক আব্দুর রাজ্জাক, ট্রেন পরিচালক (গার্ড) মো. ওমর ফারুক, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার কোড্ডা গ্রামের পারভেজ ওরফে জাফর (৩১), কাজী রতন (৪৫), মুরাদ মিয়া (২৮), ইসহাক মিয়া (৩০) ও শামীম মিয়া (৪৭)। 

আরো পড়ুন
সাধারণ মানুষ চায় এই সরকার আরো ৫ বছর থাকুক : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সাধারণ মানুষ চায় এই সরকার আরো ৫ বছর থাকুক : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

 

এর আগে গত ৮ এপ্রিল আখাউড়া রেলওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শোভন কুমার দাশ বাদি হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অভিযানের সময় দুটি ড্রামে ২১০ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশন স্টেশন পার হওয়ার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কোড্ডা এলাকায় ট্রেন থামিয়ে ইঞ্জিন থেকে তেল চুরির ঘটনা ছিল ওপেন সিক্রেট।

তবে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে গত কয়েক বছর যাবত তেল চুরি বন্ধ হয়। তবে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে।

পুলিশের দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ৭ এপ্রিল রাত সোয়া ১২টার দিকে কোড্ডা এলাকায় ৬০৩ নম্বর কনটেইনার অনির্ধারিত যাত্রাবিরতি দিয়ে ইঞ্জিন থেকে তেল নামানো হচ্ছিল। সবুজ সংকেত দেওয়া থাকা সত্ত্বেও ট্রেনটি দাঁড়ানো ছিল।

এ অবস্থায় রেলওয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশকে দেখামাত্র চালক ট্রেন চালানো শুরু করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে সংকেত দেওয়া হলেও ট্রেন থামানো হয়নি। এ সময় একটি বড় ড্রামে ২০০ লিটার ও একটি ছোট ড্রামে ১০ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া তেল পাচারের কাজে ব্যবহৃত একটি বড় পাতিল ও একটি বাঁশ উদ্ধার করা হয়।

তবে কনটেইনার ট্রেনের চালক মো. নাসির উদ্দিন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘লালবাতি থাকায় ট্রেন থামানো হয়। পরে সবুজ বাতি পেয়ে ট্রেন চালানো হয়। তেল চুরির বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’

আখাউড়া রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন খন্দকার সাংবাদিকদের জানান, কনটেইনার থেকে তেল চুরির ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ২১০ লিটার তেল উদ্ধার করা হয়।

মন্তব্য

ইসরায়েলের গণহত্যা আন্তর্জাতিক শক্তির নীরব সমর্থন : অধ্যাপক মোর্শেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শেয়ার
ইসরায়েলের গণহত্যা আন্তর্জাতিক শক্তির নীরব সমর্থন : অধ্যাপক মোর্শেদ
সংগৃহীত ছবি

ফিলিস্তিনের গাজায় দখলদার ইসরায়েলের চালানো গণহত্যাকে আন্তর্জাতিক শক্তির নীরব সমর্থন ও মুনাফার রাজনীতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান। 

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এ মন্তব্য করেন তিনি। ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদে সাদা দল এই মানববন্ধনের আয়োজন করে। মানববন্ধনে সবাই ও কালোব্যাজ ধারণ করেন।

 

এ সময় অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, গত আট বছর ধরে ফিলিস্তিনের জনগণকে অত্যাচার নির্যাতন করে যাচ্ছে ইসরাইল। তারা এটি করেই যাবে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সশস্ত্র প্রতিবাদ জানাতে হবে। ইসরায়েলের গণহত্যা আন্তর্জাতিক শক্তির নীরব সমর্থন ও মুনাফার রাজনীতি।

তা না হলে এত অন্যায় ও অবিচার হওয়ার কথা নয়। সারা বিশ্বের সবগুলো দেশকে ঐক্যবদ্ধ থেকে ইসরাইলকে মোকাবিলা করতে হবে। যদি প্রয়োজন হয় তাহলে যুদ্ধে নাম লেখাতে আমরা প্রস্তুত আছি। অবিলম্বে গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে।

আরো পড়ুন
বিদেশি বিনিয়োগ আসবে কবে থেকে, জানালেন নাহিয়ান রহমান

বিদেশি বিনিয়োগ আসবে কবে থেকে, জানালেন নাহিয়ান রহমান

 

সাবেক ঢাবি উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. আ.ফ.ম ইউসুফ হায়দার বলেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাদের ধারণা ছিল তারা ফিলিস্তিনকে ধ্বংস করে ফেলবে। কিন্তু হামাস এবং হিজবুল্লার প্রতিরোধের মুখে আল্লাহর রহমতে এখনও তারা এই লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি। তবে যে যেই ভাষা বোঝে তাকে সে ভাষায় জবাব দিতে হবে। ইসরায়েল ফিলিস্তিনকে জাতিগত নিধন করতে চায়। তাদের দর্শন হলো এখন যদি শিশুদের হত্যা করা না হয় তাহলে তারা বড় হয়ে যুদ্ধ করবে।

সুতরাং ইসরায়েলকে তাদের ভাষায় জবাব দিতে হবে। আমার তো মনে হয় যুদ্ধ প্রয়োজন নেই। কেবল ওপেকভুক্ত দেশগুলো যদি তেল দেওয়া বন্ধ করে তাহলে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে আসবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অংশ হিসেবে নয় শিক্ষক হিসেবে এখানে এসেছি। যদি মনুষত্ববোধ থেকে থাকে আমাদের সকলেরই এ বিষয়ে সামনে আসা উচিত। আমাদের যদিও করার কিছু নেই কিন্তু আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ইসরাইল যা খুশি করুক না কেন তারা ফিলিস্তিনি জাতির কিছুই করতে পারবে না তারা জেগে থাকবে, টিকে থাকবে। ইসরায়েলের সাথে যেসব প্রতিষ্ঠানের ব্যাবসা আছে তার সাথে আমাদের সম্পর্কচ্ছেদ করতে হবে। সকল দেশ ও জাতিসংঘকে আহ্বান জানাচ্ছি এই নৃশংসতা বন্ধ করার জন্য। 

ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এ মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাবির সাদা দলের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যাপক ড. আবুল কালাম সরকার, বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ও সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, আইন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. ইকরামুল হক, ঢাবির কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড.ছিদ্দিকুর রহমান খান, ব্যবসা প্রশাসন ইনস্টিটিউটের (আইবিএ) অধ্যাপক ড. মহিউদ্দিন, ব্যবসা শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহমুদ ওসমান ইমাম, শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

মন্তব্য

বাসায় ফেলে আসা প্রবেশপত্র এনে দিল পুলিশ

রংপুর অফিস
রংপুর অফিস
শেয়ার
বাসায় ফেলে আসা প্রবেশপত্র এনে দিল পুলিশ
জেলার মানচিত্র

তখন সকাল সাড়ে ৯টা পেরিয়ে গেছে। পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্বরত সিকিউরিটি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক চেকআপ শেষে কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিলেন। প্রবেশপত্র ও রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখিয়ে বন্ধু, সহপাঠীসহ অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও একে এক প্রবেশ করছে, কিন্তু হঠাৎ চোখে পড়ে প্রবেশপত্র সঙ্গে নেই তীর্থ রায়ের। কেন্দ্রের প্রধান ফটকেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন তিনি।

বাসায় গিয়ে প্রবেশপত্র আনতে আরো আধাঘণ্টা সময় পেরিয়ে যাবে তার। এ সময় পরীক্ষায় দারুণ প্রভাব পড়বে। এই অবস্থা দেখে পুলিশ তাকে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে সহযোগী করে বাসা থেকে এনে দেয় প্রবেশপত্র। এমন ঘটনা ঘটে রংপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে।

 

আরো পড়ুন
খালি পয়সা খান, কাম তো করেন না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

খালি পয়সা খান, কাম তো করেন না : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

 


পরীক্ষার্থী শ্রী তীর্থ রায় বলেন, ‘তড়িঘড়ি করতে গিয়ে প্রবেশপত্র ফেলে আসি বাসায়। কেন্দ্রে এসে দেখি আমার কাছে প্রবেশপত্র নেই। হাতে সময়ও কম। বাসায় গিয়ে প্রবেশপত্র এনে পরীক্ষায় বসা দেরি হয়ে যাবে।

তাই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে বিষয়টি জানাই। আমার কথা শোনার পরপরই আমার নগরীর মুলাটোলের বাসা থেকে প্রবেশপত্র এনে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। আমি ও আমার পরিবার তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে থাকা একাধিক ব্যক্তি জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে ওই শিক্ষার্থী দেখে যে তার প্রবেশপত্র নেই। পুলিশকে বলার পর সেখানে থাকা রংপুর জেলা ট্রাফিকের টিআই নূর আলম সিদ্দিককে বিষয়টি তীর্থ নিজেই জানায়।

পরে এটিএসআই মোস্তাফিজুর রহমান তীর্থর বাসা থেকে প্রবেশপত্র এনে তাকে দিয়ে দেন। 

ট্রাফিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার শুরুর পূর্বে এক পরীক্ষার্থী তার প্রবেশপত্র বাসায় ছেড়ে এসেছে বিষয়টি জানায়। সঙ্গে সঙ্গে আমাদের টিআই (অ্যাডমিন) গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি দেখার কথা বললে আমি মোটরসাইকেল নিয়ে দ্রুত ওই পরীক্ষার্থীর বাসা থেকে প্রবেশপত্র এনে কেন্দ্রে পৌঁছে দিই। আসলে এটি সেই সময় দায়িত্ব মনে করেছি। বিশেষ করে ওকে ( শিক্ষার্থী) মানসিকভাবে সাপোর্ট দেওয়া হয়েছে, যাতে করে তার পরীক্ষায় প্রভাব না পড়ে।’

মন্তব্য

১৩ ফুট লম্বা অজগর লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
কমলগঞ্জ প্রতিনিধি
শেয়ার
১৩ ফুট লম্বা অজগর লাউয়াছড়া বনে অবমুক্ত
সংগৃহীত ছবি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়ায় ১৩ ফুট লম্বা অজগর সাপ অবমুক্ত করেছে বন বিভাগ। রেসকিউ সেন্টারে ১০ দিন পর্যবেক্ষণে রাখার পর শেষে বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে উদ্ধারকৃত অজগরটিকে বনে অবমুক্ত করা হয়। 

জানা যায়, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে খাদ্যের সংকটে বন্য প্রাণীরা লোকালয়ে বের হয়ে আসছে। বিশেষ করে সংরক্ষিত বনের অজগর সাপগুলো লোকালয়ে মানুষের বাড়িঘরে হানা দিচ্ছে।

গত ৩০ মার্চ শ্রীমঙ্গলের জাগছড়া চা-বাগান এলাকা থেকে খবর পেয়ে লাউয়াছড়া বন্য প্রাণী প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লোকজন অজগর সাপটি উদ্ধার করে রেসকিউ সেন্টারে পর্যবেক্ষণে রাখে। এর ১০ দিন পর পর্যবেক্ষণ শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের জানকিছড়া এলাকায় অজগরটিকে অবমুক্ত করা হয়। 

আরো পড়ুন

‘এড়িয়ে যেতে শিখেছি’, আমিরের সঙ্গে প্রেমের প্রসঙ্গে ফাতিমা

‘এড়িয়ে যেতে শিখেছি’, আমিরের সঙ্গে প্রেমের প্রসঙ্গে ফাতিমা

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শ্রীমঙ্গলস্থ বন্য প্রাণী প্রকৃতি ও সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী নাজমুল হক, ইকো গাইড অজানা আহমদ কামরানসহ বন বিভাগের লোকজন।

লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, গত ৩০ মার্চ চা-বাগান হতে উদ্ধার করা হয় অজগর সাপটি।

রেসকিউ সেন্টারে পর্যবেক্ষণ শেষে সুস্থ অবস্থায় অজগরটি অবমুক্ত করা হয়। অজগর সাপটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩ ফুট।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ