দুগ্ধজাতীয় খাবার কারো প্রিয়, কেউ আবার একেবারেই পছন্দ করেন না। এদিকে ক্যালসিয়ামের অন্যতম উৎস এগুলোই। খারাপ বলতে কিছু খাবারে ফ্যাটও বেশি। কিভাবে বুঝে খাবেন, কোনটা কতটা খাবেন, তা নিয়েই আজকের প্রতিবেদন।
দুধ নাকি দুগ্ধজাতীয় খাবার, কোনটি ভালো?
জীবনযাপন ডেস্ক

শিশু হোক বা বয়স্ক, দুধ এমনই একটা খাবার, যা সহজপাচ্য ও সহজলভ্য। এ ছাড়া গুণের দিক থেকেও বহুমুখী। শুধু দুধ কেন, দুধের সব উপাদানই পুষ্টির সমাহার।
কারো দুধ ভালো লাগবে, কারো ঘি-মাখন বা পনির-দই।
ভালো কোনটি?
দুধ
এই সুষম খাদ্যে ৯ রকম এসেনশিয়াল অ্যামাইনো এসিড রয়েছে। এ ছাড়া প্রোটিন, স্যাচুরেটেড ও আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভালো কার্বোহাইড্রেট যেমন-ল্যাকটোজ, গ্যালাকটোজ, ভিটামিন-এ, ডি, বি-১২ সমৃদ্ধ দুধ।
দই বা ইয়োগার্ট
দই ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ডি, বি-১২ সমৃদ্ধ। কোষ্ঠকাঠিন্য, টাইপ টু ডায়াবেটিস, কার্ডিওভাসকুলাস রোগের ক্ষেত্রেও খাওয়া যেতে পারে। ক্ষতিকারক টক্সিনের হাত থেকে বাঁচায়। এর মধ্যে উপস্থিত প্রোটিন উপাদানগুলো পেশির বৃদ্ধিতে এবং টিস্যু ঠিক রাখতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে। কমায় ক্যান্সারের ঝুঁকিও।
ছানা বা পনির
ক্যালসিয়াম ও বায়ো অ্যাকটিভ পেপটাইড-এনজাইম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। ভিটামিন ডি ও ক্যালসিয়াম কমিয়ে দেয় ক্যান্সারের প্রবণতা, গর্ভবতীদের জন্যও খুব উপকারী। এর পাশাপাশি ছানার পানিও বিশেষ পুষ্টিগুণে ভরা। রাইবোফ্ল্যাবিন নামক ভিটামিনটি শারীরিক বৃদ্ধিতে এবং শক্তির জোগানে গুরুত্বপূর্ণ। হার্টের সমস্যা, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, কিডনির সমস্যা, লো ব্লাডপ্রেশারের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই আটা মাখার সময় কিংবা কোনো ডাল রান্না করার সময় এই পানি ব্যবহার করতে পারেন।
ঘি
অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, ভিটামিন-এ, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিডে ভরপুর এই খাবার। এটি অ্যান্টি-আর্থ্রাইটিস, গাঁটে ব্যথার সমস্যা দূর করে, চুলের স্বাস্থ্য ও ত্বক ভালো রাখে। বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও। তবে পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলে বিপদ হতে পারে।
মাখন
এতে থাকে ভিটামিন এ, ডি, ই ও ক্যালসিয়াম, যা শরীর সুস্থ রাখে। ক্যালোরি শরীরের এনার্জির ঘাটতি পূরণ করে। এটি চোখ, হাড় ও ত্বকের জন্য উপকারী। তবে বেশি পরিমাণে খাওয়া মোটেই ভালো না। অত্যাধিক স্যাচুরেটেড ফ্যাট ডেকে আনে হার্টের সমস্যা। এ ছাড়া ওজন বাড়ায় এটি। তাই কম পরিমাণে খান সুস্থ থাকবেন। মার্জারিনও খাবারের মধ্যে বুঝেশুনে রাখুন। এতে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, যা ভালো কোলেস্টেরল কমিয়ে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ায়।
মিষ্টি, আইসক্রিম
এতে অত্যধিক পরিমাণে শর্করা ও ক্যালোরির উপস্থিতি শরীরের জন্য বেশি পরিমাণে মোটেই ভালো নয়। মাঝেমধ্যে কিছুদিন অন্তর খেতে পারেন।
চিজ বা মায়োনিজ
এগুলোতে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে। প্রতিদিন এই খাবারগুলো খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়, তাই এড়িয়ে চলুন।
পায়েস
পায়েস মানেই আনন্দ! দেশে এই ধারণা চলে আসছে বহুদিন ধরে। এই খাবার বেশি পরিমাণে খেলে হতে পারে হজমের সমস্যা। মাংস খাওয়ার পর খেলে গুরুপাক। এ ছাড়া থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরি। তাই বুঝেশুনে খান।
ক্ষীর-দুধের সর
বেশি পরিমাণে খেলে দেখা যায় হজমের সমস্যা, ডায়েরিয়া, বমি বমি ভাব। শিশুদের ক্ষেত্রে দুধের সর হজম করা একটু কঠিন। তাই দুধ খাওয়ানোর আগে সর তুলে নিন। অন্যদিকে, ক্ষীরে শর্করার ভাগ বেশি থাকায় দেখা ওজন বাড়তে পারে। তাই ডায়াবেটিস থাকলে এই খাবার এড়িয়ে চলুন।
গুঁড়া দুধ বা মিল্ক ক্রিম
শিশুরা মাঝেমধ্যেই রান্নাঘরে চুপি চুপি গিয়ে গুঁড়া দুধ খেয়ে নেয়। স্বাদে অনবদ্য, ছোটবেলার এ নস্টালজিয়া বড় বয়সে মাঝেমধ্যেই ফিরে আসে। এই দুধে অত্যধিক পরিমাণে চিনির উপস্থিতি হার্ট ও ডায়াবেটিসের সমস্যা বাড়ায়। মিল্ক ক্রিম আজকাল ডেজার্ট তৈরিতে বহুল ব্যবহৃত। এতেও কিন্তু ফ্যাটের পরিমাণ খুব বেশি।
কোনটা, কতটা খাবেন?
শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা সঠিক পরিমাণে জোগান দিতে দুধের বিকল্প আর কিছু নেই। তবে ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স, অম্বলের সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সোয়ামিল্ক কিংবা দই খেতে পারেন। একই রকম উপকার পাবেন। ১ গ্লাস অর্থাৎ ২৫০ এমএল দুধে ৩২৫ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। শরীর গঠনের সময় ক্যালসিয়ামের চাহিদা বাড়ে। ৬ থেকে ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত চাহিদা থাকে ১৩০০ মিলিগ্রাম। ১৮-৫০ বছর বয়স পর্যন্ত চাহিদা কমে দাঁড়ায় ১০০০ মিলিগ্রামে। আবার ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে বিশেষ করে মেয়েদের মেনোপজের পর শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০০ মিলিগ্রামে। তাই যেকোনো বয়সেই সব সময় ডায়েটে উপযুক্ত ক্যালসিয়াম রাখুন।
১ গ্লাস দুধ, ১ বাটি টক দই (বাড়িতে পাতলে খুব উপকারী), ছানা/পনির (১০০-১৫০ গ্রাম) মিলিয়ে মিশিয়ে রাখুন। অল্প ঘি খেতে পারেন। বয়সকালে অস্ট্রিওস্পোরোসিস, অস্ট্রিওপেনিয়ার মতো সমস্যা থেকে দূরে থাকবেন। তবে মিষ্টি বা আইসক্রিম খেয়ে ক্যালসিয়ামের চাহিদা মিটবে, এমনটা নয়।
সূত্র : সংবাদ প্রতিদিন
সম্পর্কিত খবর

গরমে বিছানা ঠাণ্ডা রাখবেন যেভাবে
জীবনযাপন ডেস্ক

গ্রীষ্ম না আসতেই তীব্র গরম পড়তে শুরু করেছে। রোদের তাপে তেতে থাকছে বাড়িঘর। ফলে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত তেতে থাকছে ঘরের বিছানাও। অনেকের বাড়িতে এসি থাকলেও এখনো সবার এসি কেনার সামর্থ্য হয়নি।
গরমে বিছানাকে ঠাণ্ডা করে রাখবেন যেভাবে
কুলিং কম্বল
বিছানা ঠাণ্ডা রাখতে ভরসা রাখতে পারেন কুলিং কম্বলে।
কুলিং ম্যাট্রেস প্যাড
খুব হালকা কাপড়ে তৈরি, বিছানা ঠাণ্ডা করতে ব্যবহৃত হয় কুলিং ম্যাট্রেস প্যাড। এটি সহজেই বিছানায় সেট করা যায়। দরকার মতো ওয়াশিং মেশিনেও পরিষ্কার করা যায়। রাতভর এটি আপনার শরীরের তাপমাত্রা বুঝে বিছানা শীতল করবে, এমনকি এটি ‘ময়েশ্চার উইকেনি’ পদ্ধতিতে ঘামও শুষে নেয়।
পর্দা বন্ধ রাখুন
ঘরের মধ্যে সহজে যাতে রোদ প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য ঘর দিনের বেলা ঘরের পর্দাগুলো বন্ধ রাখুন।
সূত্র : টিভি ৯ বাংলা

গরমে হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে কী খাবেন
জীবনযাপন ডেস্ক

ঋতুর হিসেব মতো এখনো বসন্তকাল চলছে। কিন্তু বাইরের রোদ দেখে সেটা বোঝার উপায় নেই। গরমে একদিকে যেমন পানিশূন্যতা কিংবা ত্বকের ক্ষতির মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে, তেমনই বাড়ছে হিটস্ট্রোক ও হৃদযন্ত্রের সমস্যাও। তাই গরমকালে এমন কিছু খাবার খাওয়া বাঞ্ছনীয়, যেগুলো হার্টকে ভালো রাখবে।
তেমনই একটি খাবার হলো টমেটো। গরমকালে টমেটো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এ ছাড়া আর কী উপকারে আসে এই টমেটো, চলুন জেনে নেওয়া যাক।
শরীরে পানির ভারসাম্য বজায় রাখে
গরমকালে আমাদের শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ঘাম বের হয়, যার ফলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে।
ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষা করে
গরমকালে সূর্যের ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বকের ক্ষতি হয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
গরমকালে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ ও রোগের প্রকোপ বাড়ে।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়
টমেটোর মধ্যে পটাশিয়াম ও লাইকোপিন থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং লাইকোপিন কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। অনেকের অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা থাকে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিয়মিত টমেটো খেলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে।
হজমক্ষমতা বাড়ায়
গরমকালে অনেক সময় হজমের সমস্যা দেখা দেয়। টমেটোর মধ্যে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে। এ ছাড়া টমেটোর মধ্যে থাকা প্রাকৃতিক এসিড খাবার হজম করতে সাহায্য করে এবং পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
সূত্র : আজকাল

পুরনো বন্ধুত্ব ভাঙা কখন ইতিবাচক? কখন আবার বন্ধুত্বে ফিরবেন
জীবনযাপন ডেস্ক

সিনেমা, গান, আর বইয়ের মাধ্যমে প্রেমের বিচ্ছেদ সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই দেখি বা শুনি। কিন্তু বন্ধুত্বের সম্পর্ক থেকে বিচ্ছেদ নিয়ে আমরা খুব কিছু দেখি না। প্রেমের সম্পর্কের সমাপ্তি নিয়ে যেমন আলোচনা হয়, বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না।
ইতিহাসের দিকে তাকালেও দেখা যায়, অন্যান্য সম্পর্কের তুলনায় বন্ধুত্ব নিয়ে গবেষণা খুব কম হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সামাজিক মনস্তত্ত্ব গবেষক গ্রেস ভেইথ বন্ধুত্বের ভাঙন নিয়ে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘মানুষ হয়তো অবাক হবে যে বন্ধুত্ব কিভাবে শেষ হয়! গবেষকরা এখন কেবল তা নিয়ে ভাবা শুরু করেছেন। এই বিষয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।
মিজ ভেইথ মনে করেন, বন্ধুত্বের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা কম হওয়ার কারণে মানুষ এতে খুব বেশি অনিশ্চয়তায় পড়ে। তারা বুঝতে পারে না যে এই ভাঙনকে তারা কিভাবে সামলাবেন, বা ভাঙনের পর যে আবেগীয় অনুভূতি তৈরি হয়, সেগুলোর সঙ্গে কিভাবে মানিয়ে নেবেন। তবে, বন্ধুত্ব শেষ করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট ধারা বা নিয়ম নেই।
বন্ধুত্ব চিরস্থায়ী?
নিউইয়র্কের স্টেট ইউনিভার্সিটি কলেজ, কোর্টল্যান্ডের মনোবিজ্ঞানের সহকারী অধ্যাপক কেইটালিন ফ্ল্যানেরি বলেন, ‘আমাদের জীবনের প্রথম সম্পর্ক তৈরি হয় আমাদের মা-বাবা বা যারা আমাদের বড় করেন তাদের সঙ্গে।
তিনি বলেন, ‘বন্ধুরা আমাদের সারা জীবন ধরে নিজেদের পরিচয় গড়তে সাহায্য করে। তারা আমাদের জন্য একধরনের আয়না ও পথপ্রদর্শক। একই সঙ্গে, আমরা তাদের কাছ থেকে স্বীকৃতিও চাই।
গ্রেস ভেইথ উল্লেখ করেন, বন্ধুত্বের শুরুটা সাধারণত পরস্পরের মধ্যকার মিল এবং একে অপরের কাছাকাছি থাকার ভিত্তিতে হয়।
বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়া নিয়ে যেসব গবেষণা করা হয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই হয়েছে শিশু ও কিশোরদের ওপর। কারণ এই বয়সে বন্ধুত্বের ভাঙন খুব সাধারণ ব্যাপার।
মিজ ফ্ল্যানেরির এক গবেষণায় ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৩৫৪ জন উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের ৮৬ শতাংশ জানিয়েছে যে তারা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো না কোনো বন্ধুত্বের সম্পর্ক শেষ করেছে।
বেশির ভাগই বন্ধুত্ব ভাঙার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে ঝগড়া বা বিশ্বাসঘাতকতা। অন্যরা বলেছে, বন্ধুর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সমর্থন না পাওয়া বা সঙ্গ উপভোগ না করাই বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার কারণ।
বন্ধুত্ব ভাঙার কারণে উচ্চ মাধ্যমিকের কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন মিশ্র অনুভূতির মুখোমুখি হয়েছে। তাদের মনে দুঃখ ছিল, কিন্তু একই সঙ্গে তারা কেউ কেউ স্বস্তি বা আনন্দও অনুভব করেছে। তবে এটি নির্ভর করেছে বিচ্ছেদের কারণ, কিভাবে তা ঘটেছে, এবং কে সে সম্পর্ক শেষ করেছে তার ওপর।
কিছু ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব একেবারে শেষ না হয়ে ‘বেস্ট ফ্রেন্ড’ থেকে ‘সাধারণ বন্ধু’ পর্যায়ে নেমে আসে।
মিজ ভেইথ বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটি মেনে নেওয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ যে বন্ধুত্ব ভাঙাটা জীবনেরই একটি অংশ এবং এটি খুবই স্বাভাবিক একটি ব্যাপার। তবে এটি বন্ধুদের সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না। বরং বন্ধুরা কতটা কাছের এবং গ্রহণযোগ্য, সেটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ এখানে।’
সব বন্ধুত্বের ভাঙন বেদনাদায়ক বা নাটকীয় হয় না। কখনো কখনো সম্পর্ক ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়। উনিশ শত আশির দশকের এক গবেষণায় ২০ থেকে ২৮ বছর বয়সী ৯০ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে দেখা যায়, একই লিঙ্গের বন্ধুত্ব শেষ হওয়ার পাঁচটি প্রধান কারণ ছিল।
সেগুলো হলো– দূরত্ব বেড়ে যাওয়া, বন্ধুকে আর পছন্দ না করা, যোগাযোগ কমে যাওয়া, অন্য সম্পর্কের (যেমন, ডেটিং বা বিয়ে) প্রভাব, এবং সম্পর্ক স্বাভাবিকভাবে মলিন হওয়া।
সাধারণ বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে দূরত্ব বেশি প্রভাব ফেললেও ঘনিষ্ঠ ও সবচেয়ে কাছের বন্ধুত্বগুলো সাধারণত যোগাযোগের অভাব বা অন্য সম্পর্কের প্রভাবের কারণে শেষ হয়।
তবে গবেষণায় দেখা গেছে, শক্তিশালী বন্ধুত্বগুলো জীবনের এইসব পরিবর্তনের মাঝেও টিকে থাকে। মিজ ভেইথ বলেন, ‘যখনই আমি কোনো বন্ধুত্বের সমাপ্তি দেখি, সেখানে এমন অনেক দিক পাই যা বন্ধুত্বকে প্রভাবিত করে। কিন্তু পাশাপাশি এমন উদাহরণও অনেক আছে যেখানে জীবনের নানা ধরনের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে বন্ধুত্ব আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে।’
সারাজীবনের বন্ধুর অন্যদিক
বন্ধুত্ব থেকে প্রত্যাশা ও বন্ধুত্ব ভাঙার কারণগুলো লিঙ্গভেদে ভিন্ন হতে পারে। এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ (৬৬ শতাংশ) আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে তাদের প্রায় সব ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাদেরই লিঙ্গের। এই ধারণা পুরুষদের তুলনায় নারীদের মধ্যে বেশি।
উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময়ে মেয়েদের বন্ধুত্ব সাধারণত মানসিক নির্ভরতা ও ঘনিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। তবে ছেলেদের বন্ধুত্ব মূলত বিনোদনমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।
বন্ধুত্ব গঠনের প্রেক্ষাপটেও লিঙ্গভেদে পার্থক্য রয়েছে। নারীরা সাধারণত একাধিক, ঘনিষ্ঠ, একজন বন্ধুর সঙ্গে আলাদা সম্পর্ক গড়ে তোলে। অন্যদিকে, পুরুষদের বন্ধুত্ব নেটওয়ার্কভিত্তিক হয়। তারা প্রত্যেকেই প্রত্যেকের বন্ধু। ফলে, পুরুষদের তুলনায় নারীরা তাদের ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব টিকিয়ে রাখতে বেশি সময় ব্যয় করে বলে মনে করেন কেইটলিন ফ্ল্যানেরি।
এ কারণে নারীদের বন্ধুত্বে ঝগড়া বা বিরোধ হলে তা অনেক বেশি সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। মিজ ফ্ল্যানেরি বলেন, নারীরা সাধারণত বন্ধুত্বে বিশ্বস্ততা আর মানসিক সমর্থনের ক্ষেত্রে বেশি উচ্চমান ধরে রাখে। আর যখন কোনো বন্ধুত্ব শেষ হয়ে যায়, তখন তারা ছেলেদের তুলনায় বেশি দুঃখ, একাকিত্ব, মানসিক চাপে ভোগে এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি চিন্তা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নারীরা ঝগড়ার পর পুরুষদের তুলনায় বন্ধুর সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে নিতে বেশি সময় নেয়। তাদের রাগও দীর্ঘ সময় ধরে থাকে।
নারী ও পুরুষভেদে বন্ধুত্ব ভাঙার কারণগুলোও ভিন্ন হতে পারে। মিডওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের বন্ধুত্ব বেশি ভেঙে যায় শারীরিক দূরত্বের কারণে। অন্যদিকে, নারীদের বন্ধুত্বে বাধা তৈরি করে ডেটিং বা বিয়ের মতো বিষয়গুলো।
বন্ধুত্ব ভাঙ্গা কখন ইতিবাচক হতে পারে
ভবিষ্যতে কোনো এক সময়ে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হবে—এই আশা নিয়ে কি সম্পর্ক ধরে রাখা উচিত? এর উত্তরে মিজ ভেইথ ও মিজ ফ্ল্যানেরি বলছেন, তার কোনো প্রয়োজন নেই। কখনো কখনো ছেড়ে দেওয়া ভালো। যেমন, একটি বিষাক্ত (টক্সিক) বন্ধুত্ব শেষ করলে ভালো কিছু হতে পারে।
মিজ ফ্ল্যানেরি বলেন, ‘আমরা অনেক সময় বন্ধুত্বকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখি। সব বন্ধুত্ব কিন্তু আমাদের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে না। বেশিরভাগ সময় এর ভালো দিক আছে। তবে আমাদের এমন বন্ধুদেরই বেছে নেওয়া উচিত, যারা আমাদের সাহায্য করবে।’
কিছু বন্ধুত্ব আমাদের ভালো অনুভব করায়, আবার কিছু আমাদের ক্লান্ত আর হতাশ করে। তবে বন্ধুত্ব শেষ করার আরেকটি চ্যালেঞ্জ– কাউকে আঘাত না দিয়ে এটি শেষ করা। এমনটাই মনে করেন তারা।
একটি বিতর্কিত কিন্তু সাধারণ পদ্ধতি হলো ‘ঘোস্টিং’। এটি ডেটিংয়ের জগতে পরিচিত একটি শব্দ। কারো সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক শেষ করতে তাদের থেকে হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া হয়, যাতে অপরদিকের মানুষটির মুখোমুখি হতে না হয়। বর্তমানে বন্ধুত্ব শেষ করতেও এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী যুবকদের ওপর করা এক গবেষণায় জানতে চাওয়া হয়েছিল, তারা কেন তাদের বন্ধুত্ব শেষ করেছে?
তাদের বলা কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল— বিষাক্ত সম্পর্ক, আগ্রহ হারানো, বিরক্তিকর লাগা, নিজেকে রক্ষা করা এবং কখনো কখনো সীমা অতিক্রম করা।
অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুত্বের সময়কাল দীর্ঘ ছিল। কিন্তু এটি ‘ধীরে ধীরে ঘোস্টিং’-এর প্রবণতাকে আটকাতে পারেনি। অর্থাৎ, তারা হঠাৎ করে সম্পর্ক না ভেঙ্গে ধীরে ধীরে দূরে সরে গেছে।
যারা এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছে, তারা ‘দুঃখিত, হতাশ, আহত’ হয়েছে। কিন্তু তবুও তারা এটিকে নিজেদের সুরক্ষার মাধ্যম হিসেবে দেখেছে। তারা মনে করেছে, এই টক্সিক বন্ধুত্বের বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করা হলেও তা শেষমেশ কোনো কাজে আসবে না।
তবে মিজ ভেইথ একটি ভিন্ন, সম্ভবত আরো ভালো পদ্ধতির পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো– বন্ধুত্ব বজায় রাখা ও মজবুত করার উপায় শেখা এবং ঝগড়া বা মতবিরোধের মোকাবিলা করা।
‘অনেক মানুষ রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মনে করেন, ঝগড়া মিটিয়ে নেওয়া জরুরি। এটি আমরা স্বাভাবিক মনে করি। কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আমরা চাই, সব কিছু স্বাভাবিকভাবে চলুক। আর তা না হলে আমরা সহজেই হাল ছেড়ে দিই। অনেকেই মনে করেন, বন্ধুত্ব মানেই তা সহজ, আনন্দময়, মজাদার হওয়া উচিত। এটি সত্যি। কিন্তু এর ফলে অনেক সময় ধারণা জন্মায় যে বন্ধুত্বের ঝগড়া মেটানোটা প্রয়োজনীয় নয়।’
রোমান্টিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বে একই ধরনের আবেগীয় অনুভূতি থাকে। যেমন– উষ্ণতা আর আনন্দ। তবে এই দুইয়ের মাঝে একটি বড় পার্থক্য হলো, রোমান্টিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একগামিতা প্রত্যাশা করা হয়। যদিও এটি সংস্কৃতি বা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে বন্ধুত্বে একগামিতার কোনো প্রত্যাশা নেই। ফলে মাঝে মাঝে জটিলতা তৈরি হয়। যেমন, খুব কাছের কোনো বন্ধুর যদি অন্য কোনো বন্ধু থাকে, তখন ঈর্ষা অনুভব হতে পারে।
এক্ষেত্রে মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ, অন্য বন্ধুরা থাকলেও আপনার বন্ধুত্ব হুমকির মুখে পড়বে না। বন্ধুত্বের মনস্তত্ত্ব নিয়ে গবেষণা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রচুর সময় আর মনোযোগ নিয়ে থাকে।
একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ আমেরিকান প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে ঘনিষ্ঠ বন্ধু থাকা একটি পরিপূর্ণ জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের অনেক সময়েই বন্ধুরা সেই স্থিতি ও সমর্থন দিতে পারে, যা শুধু বিয়েতে পাওয়া যায়। রোমান্টিক সম্পর্কে বিচ্ছেদ হওয়া এবং পরে ভেবে-চিন্তে আবার একসঙ্গে হওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়।
তাহলে কি আমরা পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন বা তাদেরকে দ্বিতীয়বার সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবতে পারি? মিজ ফ্ল্যানেরি বলছেন, এটি নির্ভর করে বন্ধুত্বের ধরনের ওপর। ‘আমার মনে হয়, কিছু ক্ষেত্রে সেই বন্ধুত্ব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। আবার কিছু ক্ষেত্রে সেটি না মেটানোই ভালো।
‘এটি অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। আপনি কি সেই বন্ধুত্ব শেষ হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছেন? সেই সম্পর্ক কি আপনার জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে? যদি আপনার মনে হয় যে আপনি সত্যিই সেই বন্ধুত্বকে মিস করছেন, তাহলে সেটি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা যেতে পারে।’
সূত্র : বিবিসি বাংলা

সাপ্লিমেন্টের বিকল্প হতে পারে যেসব খাবার
জীবনযাপন ডেস্ক

বর্তমান সময়ে অনলাইনে ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সাররা বিভিন্ন ধরনের মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্টের প্রমোশন করেন। অনেকের ধারণা, খাবার থেকে হয়তো পুষ্টি মিলছে না। তাই ভিটামিনের ওষুধ খেলেই নাকি সুস্থ থাকা যাবে।
কিন্তু চিকিৎসকরা এই বিষয়ে একমত নন।
মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনেক সাপ্লিমেন্ট রয়েছে, যা ‘ওভার দ্য কাউন্টার ড্রাগ’ বিক্রি হয়। আবার কোনোটা ফুড সাপ্লিমেন্ট হিসেবেও বিক্রি হয়।
যেমন ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি পূরণ করতে গিয়ে যদি বেশি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তখন পেটে অস্বস্তি বাড়তে থাকে।
তবে কী করবেন? চিকিৎসকদের মতে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের বদলে ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান। আমন্ড, কাজু, বিভিন্ন ডাল, দানাশস্য, কলা, শাক-সবজিতে ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায়। সেগুলো খেলেই উপকার মিলবে।
একইভাবে দেহে আয়রনের ঘাটতি মেটাতে অযথা সাপ্লিমেন্ট না খেয়ে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। আয়রনের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে অনেক ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দেখা দেয়। রেড মিট, চিকেন, বিভিন্ন ধরনের মাছ, সব ধরনের ডাল, পালং শাকের মতো বিভিন্ন শাক খেলে সহজেই দেহে আয়রনের ঘাটতি মিটে যাবে এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বাড়বে। ভিটামিন সি-এর ঘাটতি পূরণের জন্য লেবুজাতীয় ফল খেতে পারেন। যেকোনো লেবুতেই ভিটামিন সি থাকে। এ ছাড়া পেয়ারা, আমের মতো ফলেও এই পুষ্টি পাওয়া যায়।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের মতে, সুষম খাবারই দেহে সমস্ত পুষ্টির জোগান দেয়। প্রতিদিনের খাবার পাতে ভাত-ডাল, শাক-সবজি, মাছ-মাংস বা ডিম থাকলেই হলো। যে মৌসুমে যে শাক-সবজি ও ফল পাওয়া যায়, সেটাই খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার মেলে।
সূত্র : এই সময়