যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধ জাহাজকে দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে এ সপ্তাহে বিতাড়িত করার দাবি করেছে চীন। দেশটির সেনাবাহিনী জানায়, ‘ইউএসএস ব্যারি’ নামক ওই জাহাজটি গত সপ্তাহে অবৈধভাবে চীনের ঝিশা জলসীমায় ঢুকে পড়ে। তবে বিষয়টি অস্বিকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা।
চীনা সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লি হুয়ামিন এক বিবৃতিতে বলেন, ‘চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় থিয়েটার সেনা কমান্ড (চীনের নৌ ও বিমান বাহিনীর একটি সমন্বিত দল যারা ওই অঞ্চলে আমেরিকান জাহাজ মনিটরিং ও চিহ্নিত করার কাজে নিয়োজিত) যুক্তরাষ্ট্রের নৌ বাহিনীর একটি জাহাজ দেখতে পায় এবং সেটিকে সতর্ক করে ও বিতাড়িত করে।
সাগর থেকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ খেদানোর দাবি চীনের, নাকচ পেন্টাগনের
কালের কণ্ঠ অনলাইন

তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উসকানিমুলক আচরণ আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়ম-নীতি লংঘন করছে। চীনের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে লংঘন করছে। কৃত্রিমভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে যে কোন সময় অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
তবে চীনের এ বক্তব্যকে অস্বীকার করে গত শুক্রবার পেন্টাগনের মুখপাত্র জন সাপল এক ইমেইল বার্তায় বলেন, ‘সেখানে আমেরিকান দুটি নৌ জাহাজ সফল ফ্রিডম অব ন্যাভিগেশন কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল মিসাইল ধ্বংসকারী ইউএসএস ব্যারি। দুটি জাহাজই আমাদের পছন্দমত সময়ে কার্যক্রম শুরু করে শেষ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ জাহাজকে দক্ষিণ চীন সমুদ্র থেকে বিতাড়িত করার প্রশ্নই আসে না।
সূত্র: এনবিসি নিউজ

বিবিসির বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের শুল্কারোপ ১০০ বছরে বিশ্ববাণিজ্যে বৃহত্তম পরিবর্তন
অনলাইন ডেস্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপ করেছেন। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক হবে। এটি প্রতিফলিত হবে মার্কিন শুল্ক আয়ের গ্রাফের রেখায়, যা এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি—এমনকি বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকের উচ্চমাত্রার রক্ষণশীল বাণিজ্যনীতির সময়ও না। এটি প্রকাশ পাবে রাতারাতি শেয়ারবাজারের পতনে, বিশেষ করে এশিয়ায়।
মূলত এটি একটি সর্বজনীন শুল্ক, যা শুক্রবার রাতে কার্যকর হতে যাওয়া সব আমদানির ওপর ১০ শতাংশ হারে প্রযোজ্য। এর পাশাপাশি ‘সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের’ জন্য তাদের বাণিজ্য উদ্বৃত্তের ভিত্তিতে পাল্টা শুল্ক ধার্য করা হবে।
এ ছাড়া এশীয় দেশগুলোর ওপর শুল্কের প্রভাব হবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তাহলে কি এটি শুধুই একটি বড় কৌশলগত দর-কষাকষি? মার্কিন প্রশাসন তাদের পরিকল্পিত কর হ্রাসের জন্য এই শুল্ক রাজস্ব ব্যবহার করতে চাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
নতুন শুল্কনীতির কাঠামো
যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত ‘পাল্টা শুল্ক’ কাঠামো মূলত যেকোনো দেশকে শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের মাধ্যমে দণ্ডিত করছে, যদি সেই দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত রাখে, অর্থাৎ আমদানির তুলনায় বেশি পণ্য রপ্তানি করে। এমনকি কোনো উদ্বৃত্ত না থাকলেও ১০ শতাংশ সর্বজনীন শুল্ক আরোপ করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ করে।
একটি সুস্থ বাণিজ্য ব্যবস্থায় ঘাটতি ও উদ্বৃত্ত সাধারণ বিষয়, যেখানে দেশগুলো নিজেদের উৎপাদন দক্ষতা অনুযায়ী বিশেষায়িত হয়ে থাকে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র এখন এই বাণিজ্যিক ভারসাম্যের মৌলিক যুক্তি সম্পূর্ণ উল্টে দিয়েছে। কিন্তু কারখানা স্থানান্তর করতে অনেক বছর লাগবে। এশিয়ার ওপর আরোপিত ৩০-৪০ শতাংশ শুল্কের ফলে পোশাক, খেলনা ও ইলেকট্রনিকসের দাম খুব দ্রুত বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী হবে?
কিছু ইউরোপীয় ভোক্তা পোশাক ও ইলেকট্রনিকসের বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে সুবিধা পেতে পারে। তবে যখন বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছে, তখন অন্য বৃহৎ অর্থনীতিগুলো পারস্পরিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো দৃঢ় করতে পারে।
টেসলার বিক্রির পতন থেকে বোঝা যায়, এটি শুধু সরকারের প্রতিক্রিয়ার বিষয় নয়; বরং ভোক্তারাও এর জবাব দিতে পারেন। এটি হতে পারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক নতুন ধরনের বাণিজ্যযুদ্ধ।
ইউরোপ সিদ্ধান্ত নিতে পারে, তারা আর মার্কিন ব্র্যান্ডের ভোক্তাপণ্য কিনবে না, যা এত দিন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ প্রযুক্তি কম্পানিগুলোর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। এ ছাড়া এই শুল্কবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় মার্কিন কর্তৃপক্ষকে সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। ফলাফল হিসেবে বিশ্বব্যাপী একটি বিশৃঙ্খল বাণিজ্যযুদ্ধ প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণটি লিখেছেন বিবিসির অর্থনীতিবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল ইসলাম

বঙ্গোপসাগরের দীর্ঘ উপকূলরেখা ভারতের : জয়শঙ্কর
অনলাইন ডেস্ক

চীন সফরে গিয়ে ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা মন্তব্যে ভারতজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর ফলে বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা ভারতের বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভি বলছে, বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘স্থলবেষ্টিত’ বলে বর্ণনা করার এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের ‘সমুদ্র প্রবেশাধিকারের অভিভাবক’ হিসেবে উল্লেখ করার কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জয়শঙ্কর বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনে (বিমসটেক) ভারতের কৌশলগত ভূমিকা তুলে ধরে, ভারতের সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার উপকূলরেখা এবং বিমসটেকের পাঁচ সদস্যের সঙ্গে ভারতের ভৌগোলিক সংযোগের ওপর আলোকপাত করেন।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোপরি আমাদের বঙ্গোপসাগরে দীর্ঘতম উপকূলরেখা রয়েছে, যা প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কিলোমিটার। ভারত শুধু পাঁচটি বিমসটেক সদস্যের সঙ্গেই সীমান্ত ভাগ করে না, তাদের বেশির ভাগকে সংযুক্তও করে। ভারতীয় উপমহাদেশ ও আসিয়ানের মধ্যে সংযোগের একটি বড় অংশও প্রদান করে।
জয়শঙ্কর বলেন, “বিশেষ করে আমাদের উত্তর-পূর্ব অঞ্চল বিমসটেকের জন্য একটি ‘সংযোগ কেন্দ্র হিসেবে’ আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে সড়ক, রেলপথ, পানিপথ, গ্রিড ও পাইপলাইনের অসংখ্য নেটওয়ার্ক রয়েছে।’
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সচেতন যে—এই বৃহত্তর ভৌগোলিক ক্ষেত্রে পণ্য, পরিষেবা এবং মানুষের সুষ্ঠু প্রবাহের জন্য আমাদের সহযোগিতা এবং সুবিধা প্রদান একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। এই ভূ-কৌশলগত বিষয়কে মাথায় রেখে আমরা গত দশকে বিমসটেককে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমবর্ধমান শক্তি এবং মনোযোগ নিবেদিত করেছি। আমরা আরো বিশ্বাস করি যে— সহযোগিতা একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি, চেরি-পিকিং (পক্ষপাতদুষ্ট) বিষয় নয়।

১৮ বছর কাটিয়েছেন বিমানবন্দরে, মেহরান কারিমি নাসেরির অদ্ভুত জীবন
অনলাইন ডেস্ক

আমরা সাধারণত কয়েক ঘণ্টার জন্য বিমানবন্দরে অবস্থান করি, হয়তো কোনো ফ্লাইটের জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু কল্পনা করুন, একজন মানুষ তার জীবনের ১৮ বছর কাটিয়ে দিলেন একটি এয়ারপোর্টে! এটা কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব ঘটনা। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ইরানি নাগরিক মেহরান কারিমি নাসেরিকে শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে আটকা পড়তে হয়। ঘটনাটি ১৯৮৮ সালের ৮ আগস্টের।
তার পরিকল্পনা ছিল এয়ারপোর্টে ট্রানজিট নিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়া, যেখানে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সমস্যা বাঁধল যখন দেখা গেল, তার কাছে বৈধ পাসপোর্ট নেই। কোনো বিমান সংস্থা তাকে লন্ডনে নিয়ে যেতে রাজি হলো না, ফলে তিনি ফ্রান্সেই আটকে গেলেন।
বিমানবন্দরেই তার কেটে গেছে দেড় যুগ। মেহরানের ধারণা ছিল, কয়েকদিনের মধ্যে এই জটিলতা মিটিয়ে ফেলতে পারবেন এবং তিনি যুক্তরাজ্যে যাওয়ার অনুমতি পাবেন। কিন্তু সেই কয়েকদিন গড়াতে গড়াতে ১৮ বছর পেরিয়ে যায়।
তিনি বিমানবন্দর ছেড়ে যেতে চাননি, কারণ ফ্রান্সে ঢুকতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে ছিল না। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, পুরো ফ্রান্সে এই বিমানবন্দরই একমাত্র জায়গা যেখানে তিনি নিরাপদ। এয়ারপোর্টের বসার বেঞ্চ, সেখানকার খাবারের দোকান আর টার্মিনালের কর্মচারীরা হয়ে ওঠেন তার নিত্যসঙ্গী।
এয়ারপোর্টের ব্যস্ততা, মাইকের ঘোষণা, যাত্রীদের কোলাহল— এই সবকিছুর মধ্যেই মেহরান কাটিয়েছেন তার প্রতিদিনের জীবন। তিনি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম থেকে উঠতেন, ওয়াশরুমে যেতেন, এবং তারপর নাস্তার জন্য ম্যাকডোনাল্ডসে বসতেন।
কিন্তু এত বছর ধরে তার খরচ চলল কীভাবে? বিমানবন্দরের কর্মচারীরা তাকে খাবারের জন্য মিল ভাউচার দিতেন, যা দিয়ে তিনি প্রতিদিনের খাবার কিনতেন। বাকি সময় তিনি ডায়েরি লিখতেন— প্রতিদিন কী খেলেন, কার সঙ্গে কথা বললেন, এমনকি সমসাময়িক রাজনৈতিক ঘটনাবলিও সেখানে লিখে রাখতেন।
এয়ারপোর্টের ডাক্তার আলফ্রেডকে বেশ কিছু এ-ফোর সাইজের কাগজ দিয়েছিলেন। আলফ্রেড তার দিনলিপি লেখার কাজে এসব কাগজ ব্যবহার করেছিলেন। প্রতিদিন সম্ভবত তিনি ২০ পাতার মতো লিখতেন। এসব করতে করতেই তার অনেক সময় চলে যেত। বাকি সময় তিনি বই পড়ে কাটাতেন। ইতিহাস ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ব্যাপারে তার অনেক আগ্রহ ছিল।
মেহরান কারিমি নাসেরি ১৯৯৪ সালে বিবিসিকে একটা সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, এয়ারপোর্টে বাস করার মধ্যে ভালো এবং খারাপ দুটো দিকই আছে।
ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শার্ল দ্য গল বিমানবন্দরে আমার অভিজ্ঞতা খুব একটা খারাপ নয়। প্রতিদিনই আমি খুব সুন্দর সময় কাটানোর চেষ্টা করেছি। অল্প কিছু জায়গার মধ্যে আমি একাই ছিলাম। সুখী হওয়ার মতো খুব বেশি কিছু ছিল না। তবে আমি আশা করি যে সবকিছুই সুন্দরভাবে শেষ হবে।’
মেহরান এক সময় বুঝতে পারেন তার নাম উচ্চারণ করা ইংরেজি ভাষাভাষীদের জন্য কঠিন। একবার তিনি ব্রিটিশ দূতাবাসে নাগরিকত্বের জন্য চিঠি লেখেন। সেখান থেকে উত্তর আসে— ‘ডিয়ার স্যার’ অথবা ‘ডিয়ার আলফ্রেড’। এই চিঠি পাওয়ার পর তিনি রসিকতা করে বলেছিলেন— ‘ব্রিটিশ সরকার আমাকে নাগরিকত্ব দেয়নি, কিন্তু নাইটহুড দিয়েছে!’
কেন তিনি যুক্তরাজ্যে যেতে চেয়েছিলেন?
১৯৪৫ সালে ইরানে জন্ম নেওয়া মেহরান জীবনের বেশ কিছু সময় বেলজিয়াম ও ফ্রান্সে কাটিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, তার মা ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক। তাই তিনি যুক্তরাজ্যে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার কাছে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় বারবার তাকে বাধার মুখে পড়তে হয়।
১৯৯৯ সালে ১১ বছর ধরে আইনি লড়াইয়ের পর ফ্রান্স তাকে শরণার্থীর মর্যাদা দেয়। কিন্তু ততদিনে তিনি বিমানবন্দরের জীবনে এতটাই অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন যে, তিনি সেখানে থাকতে চাইলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি, এমন একটা পরিস্থিতিতে কেউ ১১ বছর ধরে থাকতে পারে না। এটা একাধিক সরকারের ব্যর্থতার ফল।’
মেহরান কারিমি নাসেরি: সিনেমার চরিত্র হয়ে ওঠা
ব্রিটিশ লেখক এন্ড্রু ডনকিন ২০০৪ সালে তার এই আশ্চর্য কাহিনী সম্পর্কে জানতে পারেন। তার এই অদ্ভুত জীবনের ওপর ভিত্তি করে ২০০৪ সালে হলিউডে তৈরি হয় স্টিভেন স্পিলবার্গের সিনেমা ‘দ্য টার্মিনাল’। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন টম হ্যাঙ্কস। সিনেমার স্বত্ব বিক্রি করে মেহরান প্রায় ২.৭৫ লাখ ডলার পান। এরপর রাতারাতি তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে ওঠেন।
তার সম্পর্কে লেখক এন্ড্রু ডনকিন বলেন, ‘তিনি যেন হারিয়ে যাওয়া একজন মানুষ। বিমানবন্দর তার বাড়ি হয়ে গিয়েছিল। তার কাহিনী শুনে অনেকে দুঃখ পেয়েছে, আবার অনেকেই মনে করেছে তিনি ভাগ্যবান— কারণ তার সংসারের কোনো ঝামেলা নেই।’
তিনি বলেন, ‘একদিন আমি একটা ফোন পাই। ওপাশ থেকে বলা হলো— আপনি কি আজ বিকেল তিনটার মধ্যে শার্ল দ্য গল এয়ারপোর্টে আসতে পারবেন? এমন একজন আছেন যিনি আপনার সঙ্গে কথা বলতে চান।’ ডনকিন দ্রুত বিমানবন্দরে যান এবং সেখানেই পরিচয় হয় মেহরান কারিমি নাসেরির সঙ্গে।
এন্ড্রু ডনকিন বলছেন, মেহরান ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান এক ব্যক্তি। তার জীবনে তাকে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি এমন একটা বিমানবন্দরে ছিলেন যা সবসময় ব্যস্ত। সেখানে সারাক্ষণ শব্দ হচ্ছে, মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। ফলে নানা রকমের দূষণের মধ্যে তাকে থাকতে হয়েছে। আশেপাশে যারা ছিল তাদের দিক থেকেও নানা ধরনের বিপদের ঝুঁকি ছিল। তাকে আমার খুব ভাল লেগেছিল। প্রথমবার সাক্ষাতের পর থেকেই আমাদের মধ্যে একটা ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে জানান লেখক ডনকিন।
শেষ পরিণতি
২০০৬ সালে তিনি বিমানবন্দর ছেড়ে যান। এরপর ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার জিনিসপত্র প্যারিসের গৃহহীনদের একটি আশ্রয় কেন্দ্রে পাঠানো হয়। তবে তিনি বিমানবন্দরকে এতটাই আপন করে ফেলেছিলেন যে, ২০২২ সালে আবার ফিরে আসেন শার্ল দ্য গল এয়ারপোর্টে। কিন্তু ফিরেও খুব বেশিদিন বাঁচেননি। ১২ নভেম্বর, ২০২২ সালে সেখানেই মারা যান। তখন তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।
এক বিরল জীবনের গল্প
মেহরান কারিমি নাসেরির জীবন যেন আমলাতান্ত্রিক জটিলতার এক অদ্ভুত উদাহরণ। একদিকে তিনি ভাগ্যবান, কারণ তার কাহিনী সিনেমা ও বইয়ের মাধ্যমে অমর হয়ে গেছে। অন্যদিকে, তার জীবন একটি বিমানবন্দরের বেঞ্চে আটকে ছিল। একটি নো-ম্যানস ল্যান্ডে তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন জীবনের প্রায় দুই দশক— যে জীবন কল্পনাকেও হার মানায়।
সূত্র : বিবিসি বাংলা

ট্রাম্পের নতুন শুল্কনীতিতে কোথায় অসুবিধায় পড়বে ভারত
- প্রতিযোগিতায় এগোবে ভারত?
ডয়চে ভেলে

বাণিজ্য মাসুল নিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এখনো আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে ২৭ শতাংশ হারে ভারতের পণ্যের ওপর মাসুল বসানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। ভারতের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের রপ্তানি শুল্ক বসানোকে কিভাবে দেখছে দেশটির শিল্প-বাণিজ্য মহল?
‘চাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভাব পড়বে’
ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক ও প্রথম নারী চেয়ারপারসন নয়নতারা পাল চৌধুরীর দাবি, ভারত সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ করা উচিত। শুধু চা রপ্তানি নয়, এই শুল্কের প্রভাব সারা দেশের বাণিজ্য মহলে পড়বে বলে মনে করেন তিনি।
অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে
অর্থনীতিবিদ ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক গৌতম গুপ্তর মতে, এর ফলে সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ভারতের অর্থনীতি। ডিডব্লিউকে তিনি বলেছেন, ‘খুব খারাপ হলো।
একই মত সাংবাদিক ও ফিকির সাবেক অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অঞ্জন রায়ের।
প্রতিযোগিতায় এগোবে ভারত?
তবে অঞ্জন রায়ের মতে, ভারত তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতি রপ্তানিনির্ভর নয়। অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর অর্থনীতির অনেকাংশ দাঁড়িয়ে আছে। তুলনায় বিপদ বেশি চীনের মতো দেশের। সেখানে শুল্কের হার যেমন বেশি, ঠিক তেমনই সেই দেশের অর্থনীতি অনেকাংশে রপ্তানিনির্ভর। ভারতের তুলনায় তাদের অনেক বেশি কষ্ট সহ্য করতে হবে।’
এদিকে বিশ্ববাজারে ভারত থেকে পোশাক রপ্তানি ক্রমেই বেড়েছে। পৃথিবীর ৪ শতাংশ পোশাক ও কাপড় রপ্তানি হয় ভারত থেকে। যদিও পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন ও বাংলাদেশ। নতুন শুল্কব্যবস্থায় চীন ও বাংলাদেশের ওপর বেশি চাপের কারণে ভারত কি বেশি সুবিধা পেতে পারে?
অঞ্জনের মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে এর প্রভাব পড়বে বিস্তর। বাংলাদেশের রপ্তানি থেকে আয়ের সিংহভাগ, অর্থাৎ প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পোশাকশিল্প থেকে। অঞ্জন বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশ নয়, ভিয়েতনাম ও শ্রীলঙ্কাকেও সাংঘাতিক সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’
চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতেও বিপদ বাড়বে
অন্যদিকে চামড়াজাত দ্রব্য রপ্তানিতে বিশ্বে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারত। ২০২৩ সালে এই রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৪৭৫ কোটি মার্কিন ডলার। গত বছর সেটা কমে দাঁড়ায় ৪২৮ কোটি মার্কিন ডলার। নতুন শুল্কনীতিতে এ শিল্প মার খাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তিন দশক ধরে চামড়াজাত দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি করছেন ইমরান জাকি। ডিডব্লিউকে তিনি বলেন, ‘ভারত চিরকালই চামড়াজাত শিল্পে এগিয়ে ছিল। এর কারণ মূলত এখানে সহজলভ্য শ্রমিক ও কাঁচামাল। এমনিতেই চামড়াজাত দ্রব্যের বাজার খারাপ থেকে আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে। চামড়ার বিকল্প তৈরি হয়ে গেছে। প্রতিযোগিতা বেড়েছে। অন্যদিকে শ্রমিকও এখন আর সুলভ নয়। শ্রমের মূল্য বেড়েছে। এই নতুন শুল্কও আমাদের সাংঘাতিক চাপের মুখে ঠেলে দেবে। ইউরোপে রপ্তানি করে আমরা মূলত ভালো দাম পাই। যুক্তরাষ্ট্রে আমরা অনেক বেশি পরিমাণে রপ্তানির সুযোগ পাই। এর ফলে আমাদের লোকসান হবেই।’