ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন জেলার সংবাদকর্মীরা।
এদিন দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরে নিজ বাড়িতে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপি মহাসচিব। এ সময় সংবাদকর্মীরা তাকে জানান, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে।
ধর্ষণ, খুন, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ অপরাধ প্রবণতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে আসামিদের আটক করে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়া, মামলা বাণিজ্য চরম আকারে রূপ নিয়েছে সদর থানায়। খোদ ওসি শহিদুর রহমান এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন সংবাদকর্মীরা।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা অবনতি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন এর আগে আওয়ামী লীগের ধামাধারা পুলিশ প্রশাসন ছিল। আওয়ামী লীগ যা বলত তারা তাই করত। ফলে যেখানে পুলিশের প্রয়োজন বা যেটা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, তারা সেখানে সে রকম ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
আরো পড়ুন
ইজারাদারের ওপর হামলা, বিএনপি নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
তিনি আরো বলেন, ‘ওসির (ঠাকুরগাঁও সদর থানা) বিরুদ্ধে আমার কাছে সুনির্দিষ্টভাবে কেউ অভিযোগ করেনি। আপনারা (সাংবাদিকরা) আমাকে অভিযোগ করলেন, আমি ওসির ব্যাপারে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত করতে বলব। যদি তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে সরকারকে বলব ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে।’
এর আগে ২২ ফেব্রুয়ারি দুই ওসির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, তাহলে আসামি গেল কথায়? শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে জেলাজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভুল্লী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সরকার দাবি করছেন, তিনি আটক এক আসামিকে সদর থানায় হস্তান্তর করেছেন।
অথচ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুর রহমান বলছেন, তারা এমন কোনো আসামি গ্রহণ করেননি। এ ঘটনায় পুলিশের স্বচ্ছতা ও দায়িত্ব পালন নিয়ে জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।