বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘দেশে কিংবা বিদেশে যারা নির্বোধ আছে, তারা আমার কথা বুঝবে না। আমি বলেছি, এই সরকার যে সংস্কার লিখে দেবে, আমরা সেগুলো কারেকশন করবো। রাজনৈতিক দলগুলো মিলে ঐকমত্যে আসব, তারপরেই আমরা সেটাকে মানবো। এটাকে বিকৃত করে ওরা লিখেছে আমি নাকি কিছুই মানি না।
দেশ-বিদেশের যারা নির্বোধ তারা আমার কথা বুঝবে না : মির্জা আব্বাস
নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার বিকালে পুরানা পল্টনের তোপখানা রোডে অবস্থিত বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে প্রয়াত ফটো সাংবাদিকদের স্মরণ, দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমি রাজনীতি করি বলে সত্য কথা স্বাধীনভাবে বলতে পারবো না? এটা হতে পারে না। আপনারা যারা আজ স্বাধীনভাবে কথা বলেন, তা আমরা অর্জন করে দিয়েছি। জেলে থেকে পঁচে-পঁচে, নিজের পরিবারকে ধ্বংস করে দিয়ে, সেই অধিকারটা অর্জন করে দিয়েছি।
সত্য প্রকাশ করাই সাংবাদিকদের কাজ মন্তব্য করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভয়ভীতি উপেক্ষা করে সত্য এবং ন্যায়ের পক্ষে উচ্চ কণ্ঠে কথা বলাই প্রকৃত সাংবাদিকতা।
অনুষ্ঠানে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদারের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশের শুরা সদস্য মো. দেলোয়ার হোসাইন। আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এ বি এম রফিকুর রহমান প্রমুখ।
সম্পর্কিত খবর

ঈদকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে আ. লীগ : আবু হানিফ
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেছেন, ‘আসন্ন ঈদকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ।’
বুধবার রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, পেশাজীবি ও বিশিষ্টজনের সম্মানে গণঅধিকার পরিষদ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার ইফতার ও দোয়া মাহফিলে বক্তৃতাকালে এ কথা বলেন তিনি।
আবু হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গত ১৫ বছর দেশে গুম খুন হত্যা চালিয়েছে, জুলাই আগস্টের আন্দোলনের মুখে জনরোষে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। এই দেশের মানুষ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ‘সামনে ঈদ, মানুষ ঈদ উদযাপনে ব্যস্ত থাকবে, তখন আওয়ামী লীগ দেশে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। প্রশাসনসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি আরো বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি, সেই স্বাধীনতাকে একটা বিশেষ গোষ্ঠী হাইজ্যাক করেছিল। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে মাধ্যমে হাইজ্যাক হওয়া সেই স্বাধীনতা উদ্ধার করা হয়েছে। অনেকেই কৌশলে ৭১ এবং ২৪ কে মুখোমুখি করার চেষ্টা করেন,তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন।
জিওপির এ নেতা বলেন, ‘সম্প্রতি অনেকেই বলেন যে, আগেই ভালো ছিলাম, কারা বলেন আগেই ভালো ছিলাম সেটা চিন্তা করতে হবে। যারা আগে চাঁদাবাজি করতেন, দখলদারি, লুটপাট করতেন তাদের সেই অপশন এখন বন্ধ; ফলে তারা বলেন আগেই ভালো ছিলাম। যারা বলেন আগেই ভালো ছিলাম তাদের থেকে আমদের সাবধান থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছিলো, সেই ঐক্যে কিছুটা ফাটল ধরেছে। যেকোনো মূল্যে জাতীয় ঐক্য ধরে রাখতে হবে। এই ঐক্য ধরে রেখে সবাই মিলে আগামীতে একটা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে হবে। এমন কোনো বক্তব্য বিবৃতি দেওয়া যাবে না, যাতে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট হয়। পরাজিত শক্তি জনগণের এই ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে।’
অনুষ্ঠানে গণঅধিকার পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ দপ্তর সম্পাদক মোখলেসুর রহমান উজ্জ্বল বলেন,‘গণঅধিকার পরিষদ ১৮ বিপ্লব থেকে উঠে আসা রাজনৈতিক দল, তারুণ্যনির্ভর শক্তি নিয়ে ১৮ থেকে ২৪ অভ্যুত্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে এখন দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত আছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার ধ্বংস করা রাষ্ট্রকে গড়তে এদেশের তারুণ্যকে সৎ ও সংযমী থেকে কাজ করতে হবে।’
কিশোরগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতা শফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন- জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক রমজান আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সেক্রেটারি নোমান আহমেদ, বাংলাদেশ যুব অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কিশোরগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের নেতা অভি চৌধিরী, এনামুল হক সুমন, ইমতিয়াজ কাজল, মোমিন উদ্দিন জনি, শহিদুল ইসলাম, আলী হোসেন মহসিন, শামসুল ইসলাম, জাকিরুল ইসলাম বাকি, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সোহাগ মিয়া, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি ইমন খান, যুবনেতা ইকবাল প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জেলার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলেম-ওলামাদের সব কিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে : হাসনাত
দেবীদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকার পরও ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তৈরি করতে পেরেছি।
আজ বুধবার (২৬ মার্চ) দেবীদ্বার সুজাত আলী সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত ‘জাতীয় নাগরিক পার্টি’র উদ্যোগে এবং হাসনাত আব্দুল্লার তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ইফতার মাহফিল এবং হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘গত দেড় দশক সময় ধরে ইসলামিক যে পড়াশোনা আমাদের মাদরাসাগুলোতে হয়েছে, সেগুলো দ্বিতীয় গ্রেডে বিবেচনা করা হতো। আলেম-ওলামাদের সব কিছু থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিতে চাই, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উদাহরণ হিসেবে তৈরি করতে পেরেছি। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে, ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকার পরও আমরা ধর্মীয় যে লোকগুলো রয়েছি তারা ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছি। সাম্প্রদায়িক উসকানি আমাদের সব সময় আমাদের দেওয়া হয়েছে, সাম্প্রদায়িক উসকানিতে আমাদের সিলেটের এক ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
কুমিল্লার যতগুলো আসন রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য দেবীদ্বারকে জাতীয় নাগরিক পার্টির আসন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে নিয়ে দেবীদ্বার আসনটি এনসিপির একক আসন হিসেবে গড়ে তুলব। গত ৭ মাসে দেবীদ্বারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশক সময়ের চেয়ে অনেক পরিবর্তন করেছি।
হাসনাত আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন জামিয়া ইসলামিয়া কাসেমুল উলুম রাম্পুর মাদরাসার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা লোকমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল হাসনাত খাঁন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রায়হানুল ইসলাম, বিএনপি কুমিল্লা (উ.) জেলা সদস্যসচিব এ এফ এম তারেক মুন্সী, অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দিন মোহাম্মদ ইলিয়াছ প্রমুখ।

আ. লীগকে আর কোনো সুযোগ নয় : নাসির উদ্দীন
চাঁদপুর প্রতিনিধি

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, ‘শুধু স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ ছাড়া সব দলকে নিয়ে একসঙ্গে রাজনীতি করতে চায় জাতীয় নাগরিক পার্টি। কারণ, আওয়ামী লীগ স্বৈরতন্ত্র কায়েম করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল। তাই তাদের আর কোনো সুযোগ নয়।’
আজ বুধবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় চাঁদপুরের কালিবাড়ী এলাকায় স্থানীয় জাতীয় নাগরিক পার্টি আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
নাসির উদ্দীন বলেন, ‘রাজধানী ঢাকায় সেই জুলাই বিপ্লবে কতজনকে যে হারিয়েছি! পঙ্গুত্ববরণ করেছেন আরো অনেক। আর তাদের রক্তের ওপর দিয়ে আমাদের নতুন এই স্বাধীনতা। সুতরাং এর মর্যাদা ধরে আগামী বাংলাদেশ গড়তে হবে।
এতে আরো বক্তব্য দেন যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মিরাজ মিয়া, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলম, কেন্দ্রীয় সদস্য সফিক আলম।

স্বাধীনতাসংগ্রামের অসম্পূর্ণ জাতীয় কর্তব্য সম্পন্ন করতেই গণ-অভ্যুত্থান : সাইফুল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ‘স্বাধীনতাসংগ্রামের গণ-আকাঙ্ক্ষা বারবার প্রতারিত ও পদদলিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিপরীতে দেশকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি জমানার মতো এক দেশে দুই অর্থনীতি কায়েম হয়। যে কারণে মুক্তিযুদ্ধের অসম্পূর্ণ জাতীয় কর্তব্য সম্পন্ন করতেই ২০২৪ সালে গণ-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এ সব কথা বলেন তিনি।
সাইফুল হক বলেন, হাজার বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা দিবস। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার গৌরবকে আড়াল করে সামনে এগোনো যাবে না।
তিনি বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের প্রশ্নে ন্যূনতম জাতীয় সমঝোতা বিনষ্ট করা যাবে না।
প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণ সম্পর্কে সাইফুল হক বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে অস্পষ্টতা রয়েই গেল। কেউই অপরাধের বিচার ও সংস্কারের বিরুদ্ধে নয়।’ ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য রেখে জাতীয় ঐক্যমতের ভিত্তিতে সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।