ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

ঢাকা, রবিবার ০৬ এপ্রিল ২০২৫
২৩ চৈত্র ১৪৩১, ০৬ শাওয়াল ১৪৪৬

পাঠ্যবইয়ের মহাসংকট : এখনো শুরুই হয়নি ২৫ কোটি বই ছাপার কাজ

শরীফুল আলম সুমন
শরীফুল আলম সুমন
শেয়ার
পাঠ্যবইয়ের মহাসংকট : এখনো শুরুই হয়নি ২৫ কোটি বই ছাপার কাজ
সংগৃহীত ছবি

২০২৫ সালের পাঠ্যবই নিয়ে মহাসংকটে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এখনো ২৫ কোটি বই ছাপার কাজ শুরুই হয়নি। ফলে আগামী মার্চের আগে সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এতে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের শিখন ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।

স্কুল-কলেজে এক শিক্ষাবর্ষে সাধারণত ৭৬ দিনের ছুটি থাকে। এর সঙ্গে দুই দিন করে সাপ্তাহিক ছুটি যোগ করলে আরো ১০৪ দিন বন্ধ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সেই হিসাবে এক বছরে ক্লাস-পরীক্ষা চলে ১৮৫ দিন। আর এই অনুসারেই শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করা হয়।

আরো পড়ুন

বন্ধ বেক্সিমকোর ১৫ পোশাক কারখানা, ছাঁটাই ৪০ হাজার কর্মী

বন্ধ বেক্সিমকোর ১৫ পোশাক কারখানা, ছাঁটাই ৪০ হাজার কর্মী

 

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগামী মার্চের প্রায় শুরু থেকেই রোজা ও ঈদের ছুটি শুরু হওয়ার কথা। এখন বই হাতে পাওয়ার পর যদি ছুটি শুরু হয়ে যায়, তাহলে এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ ছাড়া পুরোপুরিভাবে ক্লাস শুরু করা সম্ভব নয়। এতে এক বছরের সিলেবাস আট মাসে শেষ করতে হবে। শিক্ষকরা এই সময়ে জোর করে পড়া চাপিয়ে দিলেও শিক্ষার্থীরা তা ঠিকমতো আয়ত্তে নিতে পারবে না।

এতে আগামী বছর বড় ধরনের শিখন ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আরো পড়ুন

অর্থনীতিতে অশনিসংকেত, প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৮ শতাংশে

অর্থনীতিতে অশনিসংকেত, প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৮ শতাংশে

 

শিক্ষকরা বলছেন, গত দুই বছর নতুন শিক্ষাক্রমে পড়ালেখা করেছে শিক্ষার্থীরা। সেখানে ভিন্নধর্মী পড়ালেখায় শিক্ষার্থীদের তেমন কোনো চাপ নিতে হয়নি। কিন্তু এখন হঠাৎ করেই আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যেতে হয়েছে। এতে এমনিতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

অনেক শিক্ষার্থীই তাল মেলাতে পারছে না। তারা এ বছরের বার্ষিক পরীক্ষায় খুব খারাপ করেছে। এখন যদি আবার বই পেতে পেতে তিন মাস সময় চলে যায়, তাহলে বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়বে শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কিশলয় বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. রহমত উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যেভাবেই হোক, পাঠবিমুখ হয়েছে। এখন বই যদি দেরিতে পাওয়া যায়, তাহলে এক বছরের শিক্ষাক্রম কম সময়ে শেষ করতে হবে। এতে শিক্ষকদের যেমন চাপ নিতে হবে, তেমনিভাবে শিক্ষার্থীদের আরো বেশি চাপ নিতে হবে।

আরো পড়ুন

অর্থনীতিতে অশনিসংকেত, প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৮ শতাংশে

অর্থনীতিতে অশনিসংকেত, প্রবৃদ্ধি নামবে ৩.৮ শতাংশে

 

যেসব শিক্ষার্থী চাপ নিতে পারবে না, তারা শিখন ঘাটতিতে পড়বে। তবে আমরা সাধারণত দেখি, ক্লাস না হলে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসে না। তাই যত দিন পুরোপুরিভাবে ক্লাস শুরু না হয়, তত দিন সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার পরামর্শ থাকবে।’ 

এনসিটিবি সূত্র জানায়, আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য ৪০ কোটি ১৫ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি পাঠ্যবই ছাপার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিকের বই ৯ কোটি ১৯ লাখ ৫৪ হাজার ৩৫৫টি। বাকি প্রায় ৩০ কোটির বেশি বই মাধ্যমিক, মাদরাসা ও কারিগরি স্কুলের।

সূত্র জানায়, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণির বই ছাপার কাজ বেশ আগেই শুরু হয়েছে, যা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় পাঁচ কোটি। এরপর ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির কার্যাদেশ ও চুক্তিপত্র শেষে এই সপ্তাহেই তা ছাপার কাজ শুরু হয়েছে। এই বইয়ের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি।

তবে ১০ ও ১১ ডিসেম্বর চতুর্থ, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির কার্যাদেশ দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রেস মালিকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়নি। ফলে এই তিন শ্রেণির বইয়ের কাজ শুরু হয়নি। আর নবম ও দশম শ্রেণির বইয়ের দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন শেষে এখনো কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি।

আরো পড়ুন

বাবরের রানে ফেরার রাতে সিরিজ পাকিস্তানের

বাবরের রানে ফেরার রাতে সিরিজ পাকিস্তানের

 

দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী, এ বছর চুক্তির পর বই ছাপার কাজ শেষ করতে সময় দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪০ দিন। কিন্তু আগের বছরগুলোতে এই সময় ৭০ দিন দিয়েও যথাসময়ে বই পাওয়া সম্ভব হয়নি। অথচ এ বছর সব কাজ একসঙ্গে দেওয়া হচ্ছে। ফলে কোনোভাবেই ৪০ দিনে বই দেওয়া সম্ভব নয় বলে প্রেস মালিকরা জানিয়েছেন। কিন্তু সব কিছু জেনে-বুঝেও তাঁদের অবাস্তব চাপ দিচ্ছে এনসিটিবি।

এই পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রেস মালিক ও এনসিটিবির কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। সেখানে আগামী জানুয়ারির ১৫ দিনের মধ্যে অন্তত তিনটি করে বই (বাংলা, ইংরেজি ও গণিত) দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু প্রেস মালিকরা সেখানে পুরোপুরি কথা দিয়ে আসেননি।

প্রেস মালিকরা বলেছেন, ‘একসঙ্গে সব বইয়ের কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে। যদি কিছুদিন সময় দিয়ে কার্যাদেশ দেওয়া হতো, তাহলে হয়তো আমরা তিনটি করে বই দিতে পারতাম। এ ছাড়া আমরা প্রচণ্ড রকমের কাগজের সংকটে ভুগছি। বেশি দাম দিয়েও এত কাগজ কিনতে পারছি না। ফলে ছাপার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।’

পরে শিক্ষা উপদেষ্টা সাংবাদিকদের বলেন, ‘যথাসময়ে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ, বাঁধাই, বিতরণ ও সরবরাহ করে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সরকারের একটি অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক কাজ। এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছি।’

আরো পড়ুন

আজ ২০ ডিসেম্বর, দিনটি কেমন যাবে আপনার?

আজ ২০ ডিসেম্বর, দিনটি কেমন যাবে আপনার?

 

উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বই ছাপানোর কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে এবং যথাসময়ে ছাত্রছাত্রীদের কাছে পৌঁছানো যাবে। তবে মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কাজ একটু ধীরগতির হওয়ায় এই কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পাঠ্যপুস্তক মুদ্রক ও বিপণন সমিতির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম, বছরের শুরুতে যাতে শিক্ষার্থীদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বই তুলে দিতে সেভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। কিন্তু তাঁরা আমাদের কথা শোনেননি। অথচ এখন বাকি আছে ১১ দিন।

সব শ্রেণির বইয়ের কার্যাদেশও দেওয়া হয়নি। অথচ আমাদের কাছে তিনটি করে বই চাওয়া হচ্ছে। কিন্তু এত অল্প দিনে তা সম্ভব নয়। এ ছাড়া বাজারে কাগজেরও সংকট রয়েছে। তবে আমরা এটুকু বলতে পারি, আমরা আমাদের সাধ্যমতো সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিবছর সাধারণত জুলাই-আগস্ট থেকে পাঠ্যবই ছাপার কাজ শুরু হয়। এরপরও ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ বই দেওয়া সম্ভব হয় না। কিন্তু এ বছর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এনসিটিবিতে অনেক পরিবর্তন আসে। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান, সদস্য ও অন্য কর্মকর্তারা পরিবর্তন হন।

এরপর আবার আগের শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়া হয়। পাঠ্যক্রমেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। কিন্তু এনসিটিবির নতুন কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও পরিকল্পনার অভাবে এই পাঠ্যবইয়ের কাজ অনেক পিছিয়ে গেছে। নয়তো আরো অন্তত ১৫ থেকে ৩০ দিন আগে বেশির ভাগ বই ছাপার কাজ শুরু করা সম্ভব হতো। 

২০২৫ শিক্ষাবর্ষের খসড়া শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, আগামী বছর ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ২৪ জুন, চলবে ১০ জুলাই পর্যন্ত। একই সময়ে দশম শ্রেণিতে প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা নেওয়া হবে। ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে অর্ধবার্ষিক ও প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে হবে। দশম শ্রেণিতে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হবে ১৬ অক্টোবর।

এই পরীক্ষা চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। একই সঙ্গে শিক্ষাপঞ্জিতে নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল ১০ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে আগামী শিক্ষাবর্ষে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে ২০ নভেম্বর, যা চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষকরা বলছেন, বছরের শুরুতে যদি নতুন বই শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া না যায়, তাহলে আগামী বছরের এই খসড়া শিক্ষাপঞ্জি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান বলেন, ‘প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সব বই ডিসেম্বরের মধ্যে ছাপা হয়ে যাবে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইও ছাপা শুরু হয়েছে। আর নবম-দশম শ্রেণির বই ছাপার বিষয়ে ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আগামী শনি বা রবিবার ছাপার কার্যাদেশ দেওয়া হতে পারে। মাধ্যমিকের বাংলা, ইংরেজি ও গণিত বই আগে ছাপানোর চেষ্টা করছি। সেটা সম্ভব হলে প্রাথমিকের ১০ কোটি ও মাধ্যমিকের ১০ কোটি বই ১ জানুয়ারি শিক্ষার্থীদের দেওয়া যাবে। বাকি বইগুলো পরে দেওয়া হবে।’

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

ট্রেডমার্ক

    সপ্তম শ্রেণির ডিজিটাল প্রযুক্তি বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তোমরা ট্রেডমার্ক সম্পর্কে জেনেছ। বাংলাদেশে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (DPDT) ট্রেডমার্ক নিবন্ধন দিয়ে থাকে—
আল সানি
আল সানি
শেয়ার
ট্রেডমার্ক
সংগৃহীত ছবি

R, TM, SM এই তিনটি প্রতীক আমরা প্রায়ই বিভিন্ন সুপারশপ বা প্যাকেটজাত পণ্যে দেখে থাকি। মূলত তিনটি প্রতীক দ্বারা ট্রেডমার্কের ধরন বোঝা যায়। ট্রেডমার্ক এমন একটি আইনি স্বত্ব, যা কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নির্দিষ্ট পণ্য বা সেবাকে অন্যদের থেকে স্বতন্ত্র করতে সহায়তা করে। এটি সাধারণত নাম, লোগো, স্লোগান, চিহ্ন বা অনন্য ডিজাইনের মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

যদি কোনো মার্ক, লোগো বা নকশার পাশে একটি বৃত্তের মাঝে ‘R’ ® থাকে, তার মানে এটি রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ দ্বারা নিবন্ধিত বা রেজিস্টার্ড ট্রেডমার্ক। অনিবন্ধিত ট্রেডমার্কে ‘R’ ® প্রতীক ব্যবহার করা অনেক বড় একটি অপরাধ। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নিজে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করতে পারে। অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে ইংরেজি অক্ষর ঞগ ব্যবহার করতে দেখা যায়।

TM (Trademark) ব্যবহার করা হয় একটি পণ্য নিবন্ধিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পণ্যটি ক্রেতা বা ভোক্তার সঙ্গে পরিচিত (ব্যান্ডিং) করার সময়। অনিবন্ধিত সেবার ক্ষেত্রে SM (Service Mark) প্রতীক ব্যবহার করা হয়। সেবা বলতে হাসপাতাল, হোটেল, বিমান পরিষেবা ইত্যাদি বোঝায়।

ট্রেডমার্কের ধারণাটি প্রাচীন কাল থেকেই বিদ্যমান।

প্রাচীন মিসর ও গ্রিসে কারুশিল্পীরা তাঁদের তৈরি পণ্যে স্বাক্ষর বা প্রতীক ব্যবহার করতেন। রোমান সাম্রাজ্যে সিরামিক ও ধাতব সামগ্রীতে নির্মাতার চিহ্ন ব্যবহারের প্রচলন ছিল। ১২৬৬ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম ট্রেডমার্ক আইনের আভাস পাওয়া যায়। বেকাররা তখন তাদের রুটির ওপর আলাদা চিহ্ন ব্যবহার করত। ১৮৮৩ সালে প্যারিস কনভেনশন চালু হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে ট্রেডমার্ক সুরক্ষার প্রথম চুক্তি হিসেবে গণ্য।

ট্রেডমার্কের মূল লক্ষ্য ভোক্তাদের কাছে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পরিচিতি তৈরি করা এবং প্রতিযোগিতার বাজারে অনাকাঙ্ক্ষিত অনুকরণ বা প্রতারণা ঠেকানো। উদাহরণস্বরূপ, বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ড ‘কোকা-কোলা’র লোগো বা অ্যাপলের খাওয়া আপেলের চিহ্ন বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত ট্রেডমার্ক। কেউ যদি অনুরূপ নাম বা চিহ্ন ব্যবহার করে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে, তবে ট্রেডমার্ক আইন অনুযায়ী সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে আইনি জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।

ট্রেডমার্ক নিবন্ধনের জন্য প্রথমে একটি আবেদন জমা দিতে হয়। এরপর কর্তৃপক্ষ যাচাই করে দেখে যে নির্দিষ্ট নাম, লোগো বা চিহ্ন আগে থেকেই নিবন্ধিত কি না। যদি কোনো আপত্তি না থাকে, তবে সেটি নিবন্ধিত হয় এবং মালিকানাস্বত্ব স্বীকৃতি পায়। একবার নিবন্ধিত হলে ট্রেডমার্ক সাধারণত ১০ বছরের জন্য বৈধ থাকে, যা পরবর্তী সময়ে নবায়ন করা যায়।

মন্তব্য

নতুন জাতের টমেটো উদ্ভাবন বাকৃবির গবেষকদের

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবি প্রতিনিধি
শেয়ার
নতুন জাতের টমেটো উদ্ভাবন বাকৃবির গবেষকদের
ছবি: কালের কণ্ঠ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা সম্প্রতি ‘বাউ বিফস্টেক টমেটো-১’ নামে টমেটোর নতুন একটি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন। এই টমেটো শুধু আকৃতিতে বড় নয়, স্বাদে ও পুষ্টিগুণে অনন্য বলে দাবি গবেষকদের।

বাউ বিফস্টেক টমেটো-১ উদ্ভাবনের গবেষণা পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান। গবেষণাটি ২০১৯ সালে শুরু হয়।

সংকরায়ন ও বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতটি উদ্ভাবন করা হয়।

চার বছর জাতটি নিয়ে কাজ করার পর ২০২২ সালে অধিকতর কৌলিতাত্ত্বিক গবেষণার জন্য কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.বি.এম. আরিফ হাসান খান রবিন ও অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান গবেষণার তত্ত্বাবধান করেন।

এ ছাড়া, কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী মেশকুল জান্নাত তাজ তার স্নাতকোত্তর গবেষণার অংশ হিসেবে এই জাতটি নিয়ে দীর্ঘ তিন বছর কাজ করেন।

অধ্যাপক ড. আরিফ হাসান খান রবিন বলেন, ‘বাউ বিফস্টেক টমেটো খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু এবং মিষ্টতা যুক্ত।

সাধারণ টমেটোর তুলনায় এর আকৃতি অনেক বড় এবং গঠনেও পার্থক্য রয়েছে। সাধারণত টমেটোর দুটি কোষ থাকে। কিন্তু এই বিশেষ জাতের টমেটোতে অনেকগুলো কোষ রয়েছে, যা একে অনন্য করে তুলেছে।’

‘কোষবিন্যাস দেখতে অনেকটা গরুর মাংসের মতো হওয়ায় এর নামকরণ করা হয়েছে ‘বাউ বিফস্টেক’।

আকারে এটি অন্যান্য টমেটোর প্রায় দ্বিগুণ। প্রতিটি ফলের ওজন গড়ে ৩০০-৬০০ গ্রাম হয়। যা সাধারণ টমেটোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বার্গার তৈরিতে এটি অত্যন্ত উপযোগী। কারণ এক টমেটোর মাত্র একটি স্লাইস‌ই পুরো বার্গারের জন্য যথেষ্ট।

ফলন সম্পর্কে অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বাউ বিফস্টেক টমেটো-১ গাছের উচ্চতা ৯০ থেকে ১২০ সেমি এবং এটি তুলনামূলকভাবে কম থোকা ধরে। তবে, প্রতিটি ফল আকারে বড় হওয়ায় গড়ে ৩-৪টি টমেটোতেই ১ কেজি ওজন হয়ে যায়। একটি গাছে সাধারণত ১৫ থেকে ২০টি টমেটো ধরে। ফলে প্রতি গাছ থেকে গড়ে ৫-৬ কেজি টমেটো উৎপাদিত হয়, যা সাধারণ টমেটো গাছের তুলনায় বেশি। জাতটি হেক্টরপ্রতি ৪০-৫০ টন ফলন দিতে সক্ষম এবং ৯০-১০০ দিনের মধ্যে ফসল সংগ্রহ করা যায়।’

পুষ্টিগুণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এই টমেটোতে উচ্চ পরিমাণে গ্লুকোজ (১.২%), ফ্রুকটোজ (৩.৭%) ও সুক্রোজ (৩.৬%) থাকায় এটি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং স্বাদেও মিষ্টতা যুক্ত। এসব বৈশিষ্ট্য এই টমেটোকে ভোক্তাদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলবে।’

এই জাতটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বাউ বিফস্টেক টমেটো-১ কম বীজযুক্ত, মাংসল ও উজ্জ্বল লাল রংয়ের হয়ে থাকে। এটি কোনো ধরনের সংরক্ষণ উপায় ছাড়াই সাধারণ তাপমাত্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন সংরক্ষণ করা যায়। পোকা মাকড় ও রোগ বালাই হয় না বললেই চলে। ফলে ক্ষতিকর কীটনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না বলে উৎপাদন খরচ কম হয়। উৎপাদন কৌশল অন্যান্য জাতের তুলনায় অধিকতর পরিবেশবান্ধব। এ ছাড়া, এর পুষ্টি উপাদানের কার্যকর ব্যবহার অত্যন্ত ভালো। এই জাতটি বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির জন্য বেশ উপযোগী এবং এটি স্থানীয় কৃষি ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

মন্তব্য

থানায় বসেই সমন্বয়ক পরিচয়ে ওসিকে বদলির হুমকি

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
থানায় বসেই সমন্বয়ক পরিচয়ে ওসিকে বদলির হুমকি
সাব্বির হোসেন।

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানকে সাত দিনের মধ্যে বদলির হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাব্বির হোসেন নামে একজনের বিরুদ্ধে। তিনি নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয় থানার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া একই সময় তিনি থানার ভেতর ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওসি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জমিসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা সমাধান করতে থানায় আসেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা থানায় সমাধানের জন্য একমত হলেও বৈঠক শেষ হওয়ার পর সাব্বির নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে হট্টগোল শুরু করেন। থানার ভেতর দাঁড়িয়ে এসপি ও ডিআইজিকে কল করে সাত দিনের মধ্যে ওসিকে বদলির হুমকি দেন সাব্বির হোসেন।

ইবি থানার ওসি শেখ মেহেদী হাসান বলেন, ‘ইবি থানাধীন সুগ্রীবপুর জমিসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে থানায় মীমাংসা হয়।

মীমাংসার পর এলাকাবাসী আমার সঙ্গে দেখা করতে এলে সমন্বয়ক পরিচয়দাতা সাব্বির ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন বলে অফিসার ও এলাকাবাসী আমাকে জানান। বিষয়টি আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। একজন শিক্ষার্থী বা সমন্বয়কের কাছ থেকে বিষয়টি প্রত্যাশিত না।’

তিনি আরো বলেন, ‘সাব্বির মাঝেমধ্যেই থানার অফিসারদের হুমকি-ধমকি দেন।

সমন্বয়ক পরিচয়ে তিনি পুলিশ অফিসারদের মাঝেমধ্যেই খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ট্রান্সফারের হুমকি দেন।’

সাব্বির হোসেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ইবিথানাধীন আব্দালপুর ইউনিয়নের সুগ্রীবপুর গ্রামের আবুল হোসেন পুন্টুর ছেলে। তিনি কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজে পড়াশোনা করেন। অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে সমন্বয়ক পরিচয়ধারী সাব্বির হোসেন বলেন, ঘটনাটি গ্রাম্যভাবে সমাধান হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ক্যাম্পাসেই ঈদ, চাকরির স্বপ্নে উৎসবে ভিন্ন রং

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শেয়ার
ক্যাম্পাসেই ঈদ, চাকরির স্বপ্নে উৎসবে ভিন্ন রং
চাকরিপ্রত্যাশী নিয়ন লেখাপড়ায় মন দিতে এবার ক্যাম্পাসেই ঈদ করছেন

বাংলাদেশের তরুণদের বড় একটি অংশের স্বপ্ন সরকারি চাকরি। কিন্তু এই স্বপ্ন পূরণের পথটা সহজ নয়—প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, সময়ের সঠিক ব্যবহার এবং নিয়মিত পড়াশোনা। চাকরির প্রস্তুতির এই চাপে উৎসবের দিনগুলোতেও পড়ার টেবিল ছাড়ার সুযোগ মেলে না। ঈদের মতো আনন্দঘন মুহূর্তগুলো যখন পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়, তখন সেই উৎসবের রংও হয় অন্যরকম।

ঠিক তেমনই এক গল্প শোনালেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ নাজমুল আহসান হলের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান নিয়ন।

নিয়নের মতো অনেক শিক্ষার্থী আছেন, যারা চাকরির প্রস্তুতির জন্য ঈদের ছুটিতেও ক্যাম্পাসে থেকে যান। পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটানোর ইচ্ছা থাকলেও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির তাগিদে নিজেকে পড়ার টেবিলে আবদ্ধ রাখতে হয়। নিয়ন বললেন, 'অনেকেই মনে করেন, উৎসবের দিনে পড়াশোনা করতে কষ্ট হয়।

সত্যি বলতে, কষ্ট তো হয়ই। পরিবার ও প্রিয়জনদের কাছ থেকে দূরে থাকা সহজ নয়। তবে একটা লক্ষ্য সামনে রেখে এগিয়ে চলার জন্য এই ত্যাগ মেনে নিতে হয়।'

ক্যাম্পাসে ঈদ উদযাপনও এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

নিয়ন বলেন, ‘আমার মতো আরো অনেকেই ঈদের ছুটিতে ক্যাম্পাসে থাকেন। বন্ধু, সিনিয়র, জুনিয়র সবাই মিলে একসঙ্গে ঈদের দিনটি কাটানোর চেষ্টা করি। কাছে কোনো পরিচিতজনের বাসা থাকলে, সেখান থেকে আসা খাবার ভাগাভাগি করি, মজার গল্পে সময় কেটে যায়। হলে যারা কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তাদের সঙ্গে গল্প-গুজব হয়। তবুও যখন সন্ধ্যা নামে, পরিবারের কথা আরো বেশি মনে পড়ে।
'

চাকরির প্রস্তুতির তাগিদে পরিবার থেকে দূরে থাকা নিঃসন্দেহে কষ্টকর। তবে নিয়নের মতে, এই কষ্টই ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়। ‘আমরা যারা ক্যাম্পাসেই ঈদ করি, তাদের উৎসবটা হয়তো একটু ভিন্ন; কিন্তু স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলার শক্তি জোগায়। এই সাময়িক কষ্টের পর একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারব—এই বিশ্বাসই আমাদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করে, বললেন নিয়ন।

নিজের স্বপ্ন পূরণ করে পরিবারের হাল ধরার জন্য যারা নিরলস পরিশ্রম করছেন, তাদের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে নিয়ন বলেন, ‘চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিটি তরুণের ত্যাগ যেন তাদের সাফল্যের পথকে সুগম করে, সেই প্রত্যাশা করি। সবার কাছে দোয়া চাই যেন একদিন এই পরিশ্রমের ফল মেলে এবং আমরা আমাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে পারি।’

পরিবার থেকে দূরে থাকলেও স্বপ্নের পথচলায় অনুপ্রাণিত নিয়নদের মতো হাজারো তরুণ। তাদের এই ত্যাগ আর পরিশ্রমই হয়তো বদলে দেবে আগামীর বাংলাদেশ।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ