সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন নার্সদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকা নার্সিং কলেজের বিক্ষোভরত ইন্টার্ন নার্সরা দুই দিনের বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা নার্সিং কলেজ হোস্টেলে নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (বিএনএ), ডিপ্লোমা নার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিবিএসএ) ছাড়াও আরো দুইটি নার্সিং সংগঠনের সঙ্গে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের বৈঠক শেষে এই কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়।
কর্মসূচির আওতায় প্রথম দিন ২১ মে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও কালো ব্যাচ ধারণ। দ্বিতীয় দিন, ২২ মে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
ইন্টার্ন নার্সদের দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
কালের কণ্ঠ অনলাইন
_2562.jpg)
এর পর ২২ ও ২৩ মে কর্মসূচির প্রেক্ষিতে পর্যবেক্ষণ। যদি দাবি পূরণ না হয় তা হলে ২৫ মে আবারো পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা আসবে বলে জানা গেছে। ঢাকা নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভের সমন্বয়ক নাহিদা আক্তার রাখি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সম্পর্কিত খবর

তালা ভেঙে বাসায় প্রবেশের চেষ্টা, দেখে ফেলায় গুলি ছুড়ে পলায়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানা এলাকার উত্তর মুসলিমাবাদ সৈকত আবাসিক এলাকার জসিমের বিল্ডিংয়ের একটি বাসায় তালা ভেঙে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন দুই যুবক। এই সময় পাশের লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করার পর গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান তারা। বুধবার (২৬ মার্চ) বিকেলের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানান, জসিম বিল্ডিংয়ের যে বাসার তালা ভাঙতে গিয়েছিল দুই যুবক ওই বাসায় কেউ ছিল না।
পতেঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, যে বাসাটির তালা ভাঙতে গিয়েছিল সে বাসায় স্বামী-স্ত্রী থাকেন।

বালুবাহী ট্রাকচাপায় সড়কে প্রাণ গেল ব্যবসায়ীর
হাজীগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

বালুবাহী ট্রাকের চাপায় সড়কে প্রাণ গেল স্বপন (৩৮) নামের এক বালু ব্যবসায়ীর। বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জের এনায়েতপুর-রাজাপুর সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন আলীগঞ্জ এলাকার মৃত জুনাব আলীর ছেলে। তিনি ইট-বালুর ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে পৌরসভাধীন এনায়েতপুর-রাজাপুর এলাকায় শাহ সিমেন্টের একটি ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে পিকআপের যাত্রী ব্যবসায়ী স্বপন গুরুতর আহত হন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এদিন রাত ১০টায় আলীগঞ্জ হযরত মাদ্দাহ খাঁ (রহ.) জামে মসজিদে নিহত স্বপনের জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এদিকে ব্যবসায়ী স্বপনের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, স্বজনসহ স্থানীয় ও এলাকায় এবং আলীগঞ্জে ব্যবসায়ীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহমেদ তানভীর হাসান জানান, স্বপন নামের যুবককে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় পেয়েছি। অর্থাৎ হাসপাতালে আনার পূর্বেই তিনি মারা গেছেন।

বিএনপির কমিটি থেকে ৫ নেতার নাম প্রত্যাহার, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ
নাটোর প্রতিনিধি

নাটোরে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে নাম সংযুক্ত করার পর প্রত্যাহারের ঘটনায় জেলার কমপক্ষে তিন স্থানে আলাদা বিক্ষোভ সমাবেশ এবং সড়ক অবরোধ করেছে বিএনপির বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা।
বুধবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় সদ্য ঘোষিত জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি থেকে ৫ নেতার নাম প্রত্যাহারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরে নাটোরের দিঘাপতিয়া, দত্তপাড়া, কাফুরিয়া এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়াসহ ৯টি স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে শত শত বিএনপি নেতাকর্মী।
বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বলেন, ১৭ বছরের ত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের আহবায়ক কমিটিতে নাম দিয়ে তা প্রত্যাহার করা নেতাদের জন্য অপমানজনক এবং মানহানিকর।
বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, রাজপথের ত্যাগী, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত এবং সংগ্রামী নেতাদের জেলা কমিটিতে যাচাই-বাছাই করে অন্তর্ভুক্ত করার পরে কিভাবে তা প্রত্যাহার করা হলো সেটি তদন্ত হওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, গত ২৪ মার্চ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট নাটোর জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি অনুমোদন করা হয়। কমিটি অনুমোদনের ৩০ ঘণ্টা পর সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত অপর এক চিঠিতে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটি থেকে এ হাই তালুকদার ডালিম, রাসেল আহম্মেদ রনি, ফয়সাল আহম্মেদ আবুল, শামসুল ইসলাম রনি, সানোয়ার হোসেন তুষারের নাম প্রত্যাহার করা হয়।

এনসিপির ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ নেতা, সমালোচনার ঝড়
কালাই (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

জয়পুরহাটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আওয়ামী লীগ নেতা কাজী রাবীউল হাসান মোনেমের উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে ‘সংঘর্ষপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
সোমবার (২৪ মার্চ) জয়পুরহাট শহরের স্বপ্নছায়া কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনে শহীদ পরিবারের সদস্য, পেশাজীবী, আলেম-ওলামা ও বিশিষ্ট নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রাবীউল হাসান মোনায়েম। তিনি সেখানে বক্তব্য দেন এবং এনসিপিকে স্বাগত জানান। তার বক্তব্য ও উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, বিশেষ করে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কাজী রাব্বীউল হাসান মোনায়েম জয়পুরহাট-২ আসন থেকে একসময় জাসদের মনোনীত সংসদ সদস্য ছিলেন।
ফেসবুকে তার বক্তব্য ও উপস্থিতির ছবি প্রকাশিত হওয়ার পর বিতর্ক শুরু হয়। জয়পুরহাট বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক হাসিবুল হক (সানজিদ) তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কাজী রাবীউল হাসানের দুটি ছবি যুক্ত করে একটি পোস্ট দেন।
একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান রকেটসহ দলটির অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে রয়েছেন। অন্য ছবিতে দেখা যায়, তিনি এনসিপির ইফতার মাহফিলে গিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন।
হাসিবুল হক তার পোস্টে লিখেছেন, ‘জয়পুরহাট জাতীয় নাগরিক পার্টির স্বঘোষিত সংগঠকদের নিমন্ত্রণে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ও জাসদের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী রাব্বীউল হাসান মোনায়েম। একটি কুচক্রী মহল জাতীয় নাগরিক পার্টির নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে। এটা কি আপনাদের চোখে পড়বে না? আশা করি সদুত্তর পাব।
এই পোস্টটি ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পোস্টটিতে ৯২টি লাইক, ৩৪টি মন্তব্য এবং ২টি শেয়ার আসে, যেখানে অধিকাংশ মন্তব্যেই সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
একজন মন্তব্য করেছেন, ‘কথিত সংগঠক, তুমি যাদের নিয়ে পথ চলছো, তার ব্যাখ্যা দাও!’
আরেকজন লিখেছেন, ‘যারা এই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের সঙ্গে জড়িত, তাদের হাত কোনো রাজনৈতিক দল দেখতে চায় না। আশা করি, শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
একজন ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। রাজনীতির নামে নাটক চলছে!
বিতর্কের মুখে কাজী রাব্বীউল হাসান সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি আমন্ত্রণ পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। আয়োজকরা আমাকে বক্তব্য দিতে বললে আমি বক্তব্য দিয়েছি। নতুন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের স্বাগত জানিয়েছি। যেকোনো দল আমাকে দাওয়াত দিলে আমি সেখানে যাব। আমাকে নিয়ে অযথা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক হাসিবুল হক বলেন, ‘কাজী রাব্বীউল হাসান আওয়ামী লীগের নেতা। অথচ তাকে এনসিপির ইফতার অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসনের জন্য ছাত্র-জনতা রক্ত দেয়নি এটি রাজনৈতিকভাবে সাংঘর্ষিক ঘটনা।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির জেলা সংগঠক ওমর আলী বলেন, ‘বিশিষ্ট নাগরিক হিসেবে কাজী রাব্বীউল হাসানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি ইফতার অনুষ্ঠানে এসে বক্তব্য দিয়েছেন, এটা সত্য। তবে তার নাম আওয়ামী লীগের কমিটিতে নেই। বিষয়টি নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।