ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

নতুন দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, এটা হারাতে চাই না : প্রধান উপদেষ্টা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
নতুন দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, এটা হারাতে চাই না : প্রধান উপদেষ্টা
সংগৃহীত ছবি

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে, আমরা এ সুযোগ হারাতে চাই না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন মানুষের ভোটাধিকার হরণ করে দুর্নীতি, গুম ও খুনের মাধ্যমে একটি ফ্যাসিবাদী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দেশে। ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ দূর করে আমাদের নতুন একটি বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে। এই বাংলাদেশ নতুন করে গড়ার সুযোগ আমাদের হাতে, আমরা এই সুযোগ হারাতে চাই না।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে স্বাধীনতা পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি। স্বাধীনতা যুদ্ধে সব বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আরো পড়ুন
ঈদের নির্দিষ্ট তারিখ জানাল মিশরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

ঈদের নির্দিষ্ট তারিখ জানাল মিশরের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

 

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের উদ্দেশ্য ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে আইনের শাসন থাকবে, মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত হবে এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে এখনো ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা যায়নি।

দীর্ঘদিন ধরে এদেশের মানুষকে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দুর্নীতি, লুটপাটতন্ত্র ও গুম-খুনের রাজত্ব চালিয়ে দেশে একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েম করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমাদেরকে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়ার চাইতে জীবদ্দশায় পুরস্কার পেলে যে আনন্দ, দেশের জন্য, পরিবারের জন্য, ব্যক্তির জন্য; তা মরণোত্তর পুরস্কারে পাওয়া যায় না। যাকে আমরা সম্মান দেখাচ্ছি তিনি আমাদের সঙ্গে নেই।

আরো পড়ুন
‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো’ স্লোগান তুলে মাসউদের ওপর হামলা : এনসিপি

‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো’ স্লোগান তুলে মাসউদের ওপর হামলা : এনসিপি

 

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা যেন আগামীতে একটা নিয়ম করতে পারি, যাদের মরণোত্তর পুরস্কার দেওয়ার তাদের পালা শেষ করে দিয়ে যারা জীবিত অবস্থায় আছেন তাদেরকে যেন পুরস্কার দেই। তাদের প্রতি সম্মানটা আমরা দেই।

এবার যারা স্বাধীনতা পুরুস্কার পেলেন তারা হলেন- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম (মরণোত্তর), সাহিত্যে মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ (মরণোত্তর), সংস্কৃতিতে নভেরা আহমেদ (মরণোত্তর), সমাজসেবায় স্যার ফজলে হাসান আবেদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধ ও সংস্কৃতিতে মোহাম্মদ মাহবুবুল হক খান ওরফে আজম খান (মরণোত্তর), শিক্ষা ও গবেষণায় বদরুদ্দীন মোহাম্মদ উমর এবং প্রতিবাদী তারুণ্যে আবরার ফাহাদ (মরণোত্তর)।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

একনজরে আজকের কালের কণ্ঠ (২৭ মার্চ)

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার

অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে রাঙামাটিতে আধার কার্ডসহ দুই ভারতীয় আটক

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে রাঙামাটিতে আধার কার্ডসহ দুই ভারতীয় আটক
সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটির ছোটহরিনা থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে ভারতীয় আধার কার্ডসহ দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আটককৃতরা হলেন- জ্ঞান রঞ্জন চাকমা (৪৫) এবং পিংকু চাকমা (২২)। তারা উভয়েই ভারতীয় নাগরিক।

বুধবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ছোটহরিণা ব্যাটালিয়নের (১২ বিজিবি) টহল দল ছোটহরিণা বাজার এলাকায় টহল পরিচালনার সময় তাদের আটক করে।

তাদের কাছ থেকে ৭২ হাজার ৭০০ টাকা এবং ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটককৃতরা অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ছোটহরিণা বাজারে ভারতীয় পণ্য বিক্রি করত এবং ভারত পাচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মালামাল ক্রয় করত।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরকল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মন্তব্য

সেনাবাহিনীর পেশাদারত্বের প্রশংসা করলেন মার্কিন জেনারেল

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
সেনাবাহিনীর পেশাদারত্বের প্রশংসা করলেন মার্কিন জেনারেল
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্বের প্রশংসা করেছেন ডেপুটি কমান্ডিং জেনারেল ফর ইউএস আর্মি প্যাসিফিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল বি ভওয়েল।

মার্কিন দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, তিনি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য পেশাদার সামরিক বাহিনীর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

গত ২৪ ও ২৫ মার্চ সফরকালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোয়েল বি ভওয়েল সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানসহ বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

আলোচনায় তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্কের প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রতিশ্রুতিকে আরো জোরদার করেন এবং একই সঙ্গে ভাগ করা নিরাপত্তা স্বার্থ এবং চলমান সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।

বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলোতে যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা প্রদান করতে পারে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া গ্রীষ্মে ‘২৫ সালে টাইগার লাইটনিং অনুশীলন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য মার্কিন সরঞ্জামের সম্ভাব্য ক্রয় নিয়েও আলোচনা হয়।

মন্তব্য

শিক্ষার্থীদের বিবৃতি : মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে নেই চারুকলার ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
শিক্ষার্থীদের বিবৃতি : মঙ্গল শোভাযাত্রার সঙ্গে নেই চারুকলার ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা
সংগৃহীত ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা অনুষদের ২৬তম ব্যাচের (চারুকলা ৭০তম) শিক্ষার্থীরা বুধবার (২৬ মার্চ) ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ বিষয়ে স্পষ্ট বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে তাঁরা জানিয়েছেন, এবারের বৈশাখের আয়োজনের সঙ্গে তাঁদের কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। 

শিক্ষার্থীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘মূলত বৈশাখ প্রতিবছর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দিষ্ট ব্যাচের তত্ত্বাবধায়নে এবং সম্পূর্ণভাবে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যৌথ প্রয়াসে আয়োজিত হয়ে থাকে। যে আয়োজনের সম্পূর্ণ অর্থ অনুষদের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের শিল্পকর্ম বিক্রির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়।

চারুকলার রীতি অনুযায়ী যা এ বছর আমাদের ব্যাচের দায়িত্ব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এবারের আয়োজন একেবারেই চারুকলা অনুষদের পূর্বাপর রীতির ব্যতিক্রমীভাবে কোনোরকম শিক্ষার্থীদের সম্মতি ও সম্পৃক্ততা ছাড়া শুধু শিক্ষকদের সিদ্ধান্তে করা হচ্ছে, যা আমাদের বিশ্বাস ও ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। এ ছাড়া এবার একাডেমিকভাবে বৈশাখ আয়োজন করার এই সিদ্ধান্ত অনুষদে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, ছাত্রপ্রতিনিধি কারো সঙ্গে কোনোরকম পূর্ব–আলোচনা ছাড়াই একটি নির্দিষ্ট ছাত্র-শিক্ষক গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততায় খুবই অতর্কিতভাবে নেওয়া হয়েছে।’

শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘শোভাযাত্রার জন্য বানানো স্ট্রাকচারের ডিজাইন এবং আইডিয়া সম্পূর্ণ শিক্ষকদের দেওয়া, চারুকলার আপামর সাধারণ শিক্ষার্থী এর সঙ্গে কোনোভাবেই সংযুক্ত ও অবগত নন।

শহীদ আবু সাঈদকে নিয়ে স্ট্রাকচার সম্পর্কেও আমরা অবগত ছিলাম না এবং কারো ব্যক্তিগত মতাদর্শে আঘাত দেওয়ার পক্ষেও নন তাঁরা। এহেন কুরুচিপূর্ণ ও প্রহসনমূলক সিদ্ধান্ত চারুকলার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নেওয়া হয়নি এবং চারুকলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ছিল না।’

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই অবস্থায় অনলাইনে তৈরি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার দায় সমগ্র চারুকলার নয় বরং দায়িত্বে থাকা নির্দিষ্ট কতিপয় আয়োজক এবং ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ওপর বর্তায়।’

এবারের বৈশাখ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বৈশাখ।

শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে আরো বলেছেন, ‘এ আয়োজনে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গের চাটুকারিতাপূর্ণ মনোভাবের কারণে আমরা শিক্ষকদের আয়োজন করা বৈশাখের আনুষ্ঠানিকতা ও শোভাযাত্রা সমর্থন করছি না। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আমরা এটুকু স্পষ্ট করে জানাতে চাই যে, আমরা মোটাদাগে প্রতিবছর চারুকলা অনুষদে আয়োজিত হয়ে আসা বৈশাখের আয়োজন নয় বরং স্বজনপ্রীতিদুষ্ট ও দেশের পরিবর্তনকালীন রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী এবারের ‘বৈশাখ ১৪৩২’-এর আয়োজন ও আয়োজক কমিটিকে আমরা, চারুকলার সাধারণ শিক্ষার্থীরা বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি আমাদের এই সিদ্ধান্তকে সবাই সমর্থন ও সম্মান জানাবে।’

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ