ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৭ মার্চ ২০২৫
১৩ চৈত্র ১৪৩১, ২৬ রমজান ১৪৪৬

কোরআন থেকে শিক্ষা

  • পর্ব, ৭৩০
শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ : আমি তোমাদের কাছে অবতীর্ণ করেছি সুস্পষ্ট আয়াত, তোমাদের পূর্ববর্তীদের দৃষ্টান্ত এবং মুত্তাকিদের জন্য উপদেশ। আল্লাহ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর জ্যোতি, তাঁর জ্যোতির উপমা যেন একটি দীপাধার, যার মধ্যে আছে একটি প্রদীপ, প্রদীপটি একটি কাচের আবরণের মধ্যে স্থাপিত, কাচের আবচরণটি উজ্জ্বল নক্ষত্রসদৃশ্য; তা প্রজ্বলিত করা হয় পূতঃপবিত্র জায়তুনগাছের তেল দ্বারা, যা প্রাচ্যের নয়, প্রতীচ্যেরও নয়... (সুরা : নুর, আয়াত : ৩৪-৩৫)

আয়াতদ্বয়ে আল্লাহর নুর বা জ্যোতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. কোরআনের মৌলিক দান বা সুফল হলো দ্বিনের অকাট্য প্রমাণ, আবশ্যক জ্ঞান ও উপদেশ।

২. আল্লাহর নুর বা জ্যোতি হলো মানবজীবনের সবচেয়ে বড় পাথেয়।

তা হলো আসমানি হিদায়াত। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হিদায়াত দেন।

৩. পাঁচটি আমল মুমিনের অন্তর্দৃষ্টি তৈরি করে : ক. সুন্নতের অনুসরণ, খ. আল্লাহর স্মরণ ও ধ্যান, গ. হারাম দৃষ্টি থেকে বাঁচা, ঘ. প্রবৃত্তি থেকে বাঁচা, ঙ. হালাল খাদ্য গ্রহণ।

৪. যে ব্যক্তি হারাম বিষয় থেকে নজর বা দৃষ্টি সংযত রাখে আল্লাহ তাঁর চোখে নুর দান করেন।

৫. মুমিনের প্রজ্ঞা হলো জ্যোতি আর তার সঙ্গে যখন কোরআন-হাদিসের জ্ঞান যুক্ত হয় তখন জ্যোতির ওপর জ্যোতি হয়।

(আল কোরআন তাদাব্বুর ওয়া আমল : ১৯/১৩)

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

কোরআন থেকে শিক্ষা

    পর্ব, ৭৩২
শেয়ার
কোরআন থেকে শিক্ষা

আয়াতের অর্থ :  ‘সেসব লোক, যাদেরকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ক্রয়-বিক্রয় আল্লাহর স্মরণ থেকে এবং নামাজ আদায় ও জাকাত প্রদান থেকে বিরত রাখে না, তারা ভয় করে সেদিনকে, যেদিন অনেক অন্তর ও দৃষ্টি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। যাতে তারা যে কাজ করে তজ্জন্য আল্লাহ তাদেরকে উত্তম পুরস্কার দেন এবং নিজ অনুগ্রহে তাদের প্রাপ্যের অধিক দেন। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা অপরিমিত জীবিকা দান করেন।’

(সুরা : নুর, আয়াত : ৩৭-৩৮)

আয়াতদ্বয়ে মুমিন ব্যক্তি ও সৎ ব্যবসায়ীর বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে।

শিক্ষা ও বিধান

১. নামাজ থেকে বিরত রাখে এমন বিষয়গুলোর মধ্যে ব্যবসাকে বিশেষভাবে উল্লেখ করে আল্লাহ ব্যবসায়ীদের সতর্ক করেছেন। কেননা ব্যবসা ইবাদতবিমুখতার বড় কারণ।

২. ফিকহের সব ইমাম এই বিষয়ে একমত যে নারীদের জন্য মসজিদে না গিয়ে ঘরে নামাজ আদায় করা উত্তম। হাদিস থেকে এমনটিই বোঝা যায়।

৩. পুরুষের জন্য মসজিদে গিয়ে জামাতে নামাজ আদায় করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেননা মসজিদই মুসলমানের ধর্মীয়, বুদ্ধিবৃত্তিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র।

৪. আশ্রয়হীন পথিকের জন্য মসজিদে ঘুমানো জায়েজ। শর্ত হলো মসজিদের সব শিষ্টাচার রক্ষা করা।

৫. আয়াত দ্বারা দ্বিনদার ব্যবসায়ীর মর্যাদা প্রমাণিত হয়। কেননা আল্লাহ তাদের জন্য পুরস্কার ও অনুগ্রহ ঘোষণা করেছেন।

(তাফসিরে মুনির : ৯/৫৮৭)

মন্তব্য
পর্ব : ২৫

তারাবিতে কোরআনের বার্তা

শেয়ার
তারাবিতে কোরআনের বার্তা

সুরা আশ-শুরা

ওহি সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। এরপর ফেরেশতাদের কর্মযজ্ঞ নিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। পরে মুসলমানদের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সুরায় রাসুল (সা.)-এর রিসালত ও মুমিনদের সম্পর্কেও কিছু আলোচনা আনা হয়েছে।

এ কথার মাধ্যমে সুরাটি সমাপ্ত হয়েছে যে আসমান ও জমিনের রাজত্ব একমাত্র মহান আল্লাহর।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. জাতি-বৈচিত্র্য আল্লাহর ইচ্ছারই বহিঃপ্রকাশ।

(আয়াত : ৮)

২. বিদ্বেষবশত বিবাদ কোরো না। (আয়াত : ১৪)

৩. কিয়ামত আসন্ন, তা বেশি দূরে নয়।

(আয়াত : ১৭)

৪. জান্নাতিদের সব প্রত্যাশা পূরণ করা হবে।

(আয়াত : ২২)

৫. আত্মীয়দের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করো।

(আয়াত : ২৩)

৬. সম্পদের অবাধ প্রাচুর্য বিপর্যয় ডেকে আনে।

(আয়াত : ২৭)

৭. অশ্লীলতা পরিহারকারীদের জন্য জান্নাত।

(আয়াত : ৩৭)

৮. মীমাংসাকারীদের জন্য পুরস্কার। (আয়াত : ৪০)

৯. অত্যাচারের প্রতিবিধান করো। (আয়াত : ৪১)

১০. বিপদেও অকৃতজ্ঞ হয়ো না। (আয়াত : ৪৮)

১১. ছেলেমেয়ে উভয়ই আল্লাহর দান। (আয়াত : ৪৯-৫০)

সুরা জুখরুফ

আলোচ্য সুরায় কুরাইশ ও আরববাসীদের জাহেলি আকিদা-বিশ্বাস ও কুসংস্কারের সমালোচনা করা হয়েছে।

কোরআনের কসমের মাধ্যমে সুরাটি শুরু হয়েছে। এতে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে এই শিরকের সপক্ষে তোমাদের কাছে কোনো যুক্তি-প্রমাণ আছে? তারা বলে, আমাদের বাপ-দাদার সময় থেকে এ কাজ এভাবেই হয়ে আসছে। অথচ ইবরাহিম (আ.) পূর্বপুরুষদের এমন অন্ধ অনুসরণ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আর আরবরা তো তাঁরই বংশধর।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. পূর্বসূরিদের অন্ধ অনুকরণ কোরো না। (আয়াত : ২২)

২. জীবিকার তারতম্য আল্লাহই করেন। (আয়াত : ৩২)

৩. কোরআন মুসলিম উম্মাহর জন্য সম্মানের বিষয়। (আয়াত : ৪৪)

৪. নবীদের নিয়ে উপহাস কাফিরদের অভ্যাস।

(আয়াত : ৪৭)

৫. ভালো কাজ থেকে বিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ৬২)

৬. তোমরা পরস্পরের সঙ্গে মতবিরোধ কোরো না।

(আয়াত : ৬৫)

৭. জান্নাতে মনের সব ইচ্ছা পূর্ণ হবে। (আয়াত : ৭১)

৮. অবাধ্য পাপীদের উপেক্ষা করো। (আয়াত : ৮৯)

সুরা দুখান

আলোচ্য সুরা শুরু হয়েছে কোরআন নাজিলের ইতিহাস বর্ণনার মাধ্যমে। কোরআন নাজিল হয়েছে রমজান মাসের কদরের রাতে। এরপর অবিশ্বাসীদের ইহকালীন ও পরকালীন শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। সুরার শেষের দিকে নেককার ও বদকারদের পরিণতি বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. জীবন-মৃত্যু আল্লাহর হাতে। (আয়াত : ৮)

২. সংশয়গ্রস্ত লোকেরাই দ্বিন নিয়ে বিদ্রুপ করে।

(আয়াত : ৯)

৩. আল্লাহ পাপীদের কঠোরভাবে পাকড়াও করেন।

(আয়াত : ১৬)

সুরা জাসিয়া

এই সুরায় তাওহিদ ও আখিরাত সম্পর্কে মক্কার কাফিরদের সন্দেহ, সংশয় ও আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে। এতে দেখানো হয়েছে যে পৃথিবীর সব কিছু আল্লাহর অস্তিত্বের সাক্ষ্য দেয়। এই পৃথিবীতে মানুষ যত জিনিসের সাহায্য গ্রহণ করছে এবং বিশ্বে যে অসংখ্য বস্তু ও শক্তি মানুষের সেবা করছে তা আল্লাহই নিজের পক্ষ থেকে দান করেছেন। এরপর মক্কার কাফিরদের হঠকারিতা, অহংকার, ঠাট্টা-বিদ্রুপ সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. মিথ্যাবাদীদের জন্য দুর্ভোগ। (আয়াত : ৭)

২. পাপের পথ থেকে সরে এসো। (আয়াত : ৮)

৩. সমুদ্রে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধান করো।

(আয়াত : ১২)

৪. অবিশ্বাসীদেরও ক্ষমা করো। (আয়াত : ১৪)

৫. মূর্খদের অনুসরণ কোরো না। (আয়াত : ১৮)

৬. কোরআন মানবজাতির জন্য রহমতস্বরূপ।

(আয়াত : ২০)

৭. পার্থিব জীবনকেই শেষ মনে কোরো না। (আয়াত : ২৪)

৮. গৌরব-গরিমা কেবল আল্লাহর। (আয়াত : ৩৭)

সুরা আহকাফ

কোরআনের প্রশংসার মাধ্যমে আলোচ্য সুরা শুরু হয়েছে। কাফিরদের কাছে দুনিয়াটা একটি উদ্দেশ্যহীন খেলার বস্তু। তারা এখানে নিজেদের দায়িত্বহীন সৃষ্টি মনে করে। এ কথার মাধ্যমে সুরা শেষ হয়েছে যে কিয়ামত অনিবার্য সত্য।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. মা-বাবার প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞতা। (আয়াত : ১৫)

২. মানুষ ইহকালে ও পরকালে তাদের কাজ অনুযায়ী সম্মান লাভ করবে। (আয়াত : ১৯)

৩. দুনিয়ার জীবন এক দিনের চেয়েও ক্ষুদ্র। (আয়াত : ৩৫)

সুরা মুহাম্মাদ

এই সুরায় যুদ্ধ, বন্দি, গনিমত এবং বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে। উভয় দলের পরিণতিও বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মুরতাদ ও মুনাফিকের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে। সুরাটি কোনো ভূমিকা ছাড়াই এ কথার মাধ্যমে শুরু হয়েছে যে যারা কাফির এবং যারা মানুষকে আল্লাহর পথে বাধা দেয়, তারা আল্লাহর শত্রু। সুরাটি শেষ হয়েছে যুদ্ধের প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে। এখানে ঈমানদারদের ভীরুতা ও হীনম্মন্যতা দূর করতে বলা হয়েছে।

আদেশ-নিষেধ-হিদায়াত

১. অবিশ্বাসীদের ভালো কাজও নিষ্ফল হয়ে যায়। (আয়াত : ৮)

২. কিয়ামতের আলামত প্রকাশ পেয়েছে এবং পাচ্ছে। (আয়াত : ১৮)

৩. মানুষ ক্ষমতা পেলে আত্মীয়তা ছিন্ন করে।

(আয়াত : ২২-২৩)

৪. কোরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা জরুরি। (আয়াত : ২৪)

৫. দ্বিনবিমুখ মানুষের আনুগত্য কোরো না। (আয়াত : ২৬)

৬. পাপীদের শাস্তি মৃত্যুর সময় থেকে শুরু। (আয়াত : ২৭)

৭. বাকভঙ্গিতে অন্তরের ভাব প্রকাশ পায়। (আয়াত : ৩০)

৮. সত্য জেনেও বিমুখ হয়ো না। (আয়াত : ৩২)

৯. নিজের কাজকে অর্থহীন কোরো না। (আয়াত : ৩৩)

১০. অবিশ্বাস নিয়ে মৃত্যুবরণ কোরো না। (আয়াত : ৩৪)

১১. নিজের ও আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করার ক্ষেত্রে কার্পণ্য করো না। (আয়াত : ৩৮)

 

গ্রন্থনা : মুফতি আতাউর রহমান

 

মন্তব্য

প্রশ্ন-উত্তর

    সমাধান : ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বাংলাদেশ, বসুন্ধরা, ঢাকা
শেয়ার
প্রশ্ন-উত্তর

নাবালক শিশুকে জাকাত দেওয়া

প্রশ্ন : কেউ যদি জাকাত দেওয়ার সময় এমন কিছু শিশুকে জাকাত দেয়, যারা এখনো সাবালক হয়নি। তাহলে কি তার জাকাত আদায় হবে? আমাদের দেশে দেখা যায়, জাকাতের জন্য অনেকেই সঙ্গে তাদের নাবালকদের নিয়ে আসে। মানুষজনও সেই নাবালকদের জাকাত দেয়।

মোখলেসুর রহমান, ময়মনসিংহ

 

উত্তর : জাকাত আদায় হওয়ার জন্য জাকাতের টাকা যাকে দেওয়া হবে সে সাবালক হওয়া শর্ত নয়, বরং স্বেচ্ছায় খরচ করার বুঝ রাখে—এমন হলেই তাকে জাকাত আদায় করা যাবে।

উল্লেখ্য যে নাবালক ছেলের বাবা ধনী হলে ছেলেকে জাকাত দিলে জাকাত আদায় হবে না। তাই নাবালককে জাকাত দেওয়ার সময় এ বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।

(রাদ্দুল মুহতার : ২/৩৪৯, ফাতাওয়ায়ে ফকীহুল

মিল্লাত : ৫/৩৭৬)

 

 

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

যেসব আমলে সদকার সওয়াব মেলে

মাইমুনা আক্তার
মাইমুনা আক্তার
শেয়ার
যেসব আমলে সদকার সওয়াব মেলে

মহান আল্লাহকে খুশি করার অন্যতম মাধ্যম সদকা। সাধারণত আমরা সদকা বলতে বুঝি, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াবের আশায় কাউকে অর্থ-সম্পদ, খাবার কিংবা পোশাক ইত্যাদি দান করা। সদকাকে এই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করা হলে মনে হবে সদকার সম্পর্ক শুধু অর্থ-সম্পদের সঙ্গে। যার কাছে অর্থ-সম্পদ আছে, সেই শুধু সদকা করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে পারে।

যার কাছে নেই, তার সদকার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের কোনো ব্যবস্থা নেই; কিন্তু বিষয়টি আসলে এ রকম নয়। রাসুল (সা.)-এর বিভিন্ন হাদিস দ্বারা বোঝা যায়, যারা অসচ্ছল, যাদের কাছে সদকাযোগ্য অর্থ-কড়ি নেই, তাদের জন্যও সদকা করার রাস্তা খোলা আছে। সদকা মূলত দুই প্রকার১. অর্থ-সম্পদের মাধ্যমে সদকা। ২. আমলের মাধ্যমে সদকা।
নিম্নে কোরআন-হাদিসের আলোকে আমলের মাধ্যমে সদকার ব্যাখ্যা দেওয়া হলো।

আমলের মাধ্যমে সদকা

তাসবিহ, জিকির ইত্যাদি : আবু জার (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.)-এর কিছুসংখ্যক সাহাবি তাঁর কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, ধন-সম্পদের মালিকরা তো সব সওয়াব নিয়ে নিচ্ছে। কেননা আমরা যেভাবে নামাজ আদায় করি তারাও সেভাবে আদায় করে। আমরা যেভাবে সিয়াম পালন করি তারাও সেভাবে সিয়াম পালন করে।

কিন্তু তারা তাদের অতিরিক্ত সম্পদ দান করে সওয়াব লাভ করছে অথচ আমাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি (সা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা কি তোমাদের এমন কিছু দান করেননি, যা সদকা করে তোমরা সওয়াব পেতে পার? আর তা হলো প্রত্যেক তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) একটি সদকা, প্রত্যেক তাকবির (আল্লাহু আকবার) একটি সদকা, প্রত্যেক তাহমিদ (আলহামদু লিল্লাহ) বলা একটি সদকা, প্রত্যেক লাইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা একটি সদকা। (মুসলিম, হাদিস : ২২১৯)

সৎ কাজে আদেশ ও অসৎ কাজে

নিষেধ : মানুষকে সৎ কাজের আহ্বান করা ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য উৎসাহী করাও সদকা সমতুল্য। রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক ভালো কাজের আদেশ দেওয়া এবং মন্দ কাজ করতে দেখলে নিষেধ করা ও বাধা দেওয়া একটি সদকা।

(মুসলিম, হাদিস : ২২১৯)

নম্র ব্যবহারও ভালো কাজ : মহান আল্লাহ প্রতিটি পুণ্যের কাজকেই সদকা হিসেবে গণ্য করেন।

জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, প্রতিটি পুণ্যই

দান-খয়রাতস্বরূপ। তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তোমার হাসিমুখে সাক্ষাৎ এবং তোমার বালতি থেকে তোমার ভাইয়ের পাত্রে একটু পানি ঢেলে দেওয়াও সৎ কাজের অন্তর্ভুক্ত।

(আদাবুল মুফরাদ, হাদিস : ৩০৪)

উল্লিখিত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, সদকা শুধু ধনাঢ্য ব্যক্তিদের আমল নয়, অসচ্ছল দরিদ্র ব্যক্তিরাও কিছু কিছু কাজের মাধ্যমে সদকার সওয়াব পেতে পারে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে। মহান আল্লাহ সবাইকে তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ