অনেক দিন আগের কথা। ওই সময় মানুষ বড়শি দিয়ে খাল-বিল আর পুকুরে বড় বড় মাছ ধরত। টেকো মাথার নাদুসনুদুস হরিপদের ছিল মাছ শিকারের নেশা। দিন-রাত ছিপ নিয়ে পড়ে থাকত খালের ধারে।
মাছের বুদ্ধি
- ধ্রুব নীল
অন্যান্য

মাছেরা আগে থেকেই বিরক্ত।
‘অনেক হয়েছে বাপু। এর বিহিত হওয়া চাই।’ বলল বয়স্ক চিতল।
‘ঠিক ঠিক, একেবারে ঠিক’ বলল লিকলিকে বাইম।
‘কিন্তু করব কী? আমাদের কি বুদ্ধি আছে? আমি তো টোপ দেখলেই সব ভুলে যাই। আহা কী সুন্দর লিকলিকে কেঁচো!’ ভাবনায় পড়ে গেল বড় একটা রুই।
‘একজন আছে বুদ্ধি দেওয়ার মতো।’ দাড়ি-চুলকে বলল বোয়াল।
‘ও নিশ্চয়ই মাথামোটা কাতলা নয়।’ সন্দেহ প্রকাশ করল মাগুরমশাই।
‘আরে নাহ। বুদ্ধি দেবে আমাদের পুঁচকে পুঁটি। গতবার ও কেমন করে কাটা শামুক দিয়ে বড়শির দড়ি কেটে দিল দেখিসনি?’
‘তাই নাকি। তবে চলো পুঁটির কাছেই যাই।’
সবাইকে নিয়ে বসল পুঁটি। জানিয়ে দিল পরিকল্পনা। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
টিপটিপ বৃষ্টিতে মাছ ধরা পড়ে ভালো। আকাশে মেঘ ধরতেই বড়শি ও মাছের খাবারদাবারের ঝুড়ি বগলদাবা করে হাঁটা দিল হরিপদ। তার পছন্দের জায়গাটা হলো খালের ওপারের কাশবন। সেখানে বসার মতো একটা জায়গা আছে। অনেকটা ঘুরে ওপারে যেতে হয়। খালের পারে পৌঁছেই দেখল তার ঠিক ২০ হাত ডানে মাছেরা ঘাই দিতে শুরু করেছে।
‘বাহ, পালা! পালা! যত পারিস পালা! তবু আজ তোদের গলায় পরাব বড়শির মালা।’ খালের ওপারে একটা পুরনো ঘাট। ওই ঘাটে সাধারণত যায় না হরিপদ।
ঝোপঝাড় মাড়িয়ে এগিয়ে যেতেই কানে এলো হুটোপুটি। শব্দ আসছে ওই পুরনো ঘাটের দশ হাত দূর থেকে। এক ঝাঁক মাছ এক জায়গায় হুটোপুটি করছে দেখে আনন্দ আর ধরে না। ‘বাহ! মিটিং করা হচ্ছে বুঝি! এবার খাবি আটা-ময়দা-সুজি।’ ওই ঝাঁকের দিকেই হাঁটা দিল হরিপদ।
বড়শিতে টোপ পরাল সময় নিয়ে। এরপর সেটা ছুড়তে যাবে, অমনি মাছের হুটোপুটি গায়েব। মাছের ঝাঁকটা চলে গেল পুরনো ঘাটের কাছে। সঙ্গে বড় একটা ঘাইও চোখ পড়ল। ‘আরে! আমার সঙ্গে হা-ডু-ডু খেলা হচ্ছে বুঝি। আহা, ওটা কী! চার কেজি ওজনের বোয়াল দেখছি! বোকাটা ঘাটের কিনারে কী করছে! দাঁড়া বলছি বোয়াল, আজ ভাঙব তোর চোয়াল।’ ছন্দ কেটে এগিয়ে চলল হরিপদ।
ভাঙাচোরা ঘাটের দুটি ধাপ খালের পানিতে ডুবে আছে। ওটার একটার মধ্যেই ঠায় দাঁড়িয়ে বোয়ালটা। হরিপদকে দেখেও নড়ছে না। বোয়ালটার ঠিক পাশেই আবার হুটোপুটি করছে ছোটখাটো অনেক মাছের দল।
বড়শি দিয়ে সব ধরা সম্ভব নয়। ঝোলায় একটা ছোটখাটো জালি ব্যাগ আছে। ওটা দিয়ে ধরবে নাকি। কিন্তু ব্যাগের হাতগুলো বেশ ছোট।
বিশাল বপু নিয়ে ভাঙাচোরা শ্যাওলা পড়া ঘাটে নামতে ভয় করে। তবু মাছের লোভ বলে কথা। জালটা নিয়ে ধীরে ধীরে নিচের সিঁড়িতে নামল হরিপদ। বোয়ালটা তখনো চুপচাপ ভাসছে।
পিচ্ছিল ঘাটের শেষ সিঁড়িতে পা টিপে টিপে এগোচ্ছে হরিপদ। হাত বাড়ালেই মাছের ঝাঁক। ‘চুনোপুঁটি হবে হয়তো। দু-চারটে বাইম আর তপসে পেলে মন্দ হয় না। উফ...ওহ মাগো!’ পায়ে যেন ভিমরুলের হুট ফুটেছে। ‘উফ...আবারও!’ ব্যথায় উবু হতেই দেখলেন তিন-চারটে ইয়া বড় শিং ঘাটে উঠে এসে তিড়িংবিড়িং করছে আর হরিপদের পায়ে দেদার গুঁতো দিয়ে চলেছে। একে তো পিচ্ছিল ঘাট, তার ওপর এতগুলো শিংয়ের গুঁতো। তাল রাখতে পারল না হরিপদ। ঝপাং করে আছড়ে পড়ল খালে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে ঘিরে ধরল বোয়াল, গজার, বড় রুই, কাতল আর আইড় মাছের ঝাঁক। হরিপদ উঠতে গেলেই কামড়ে টেনে নামাল পানিতে। গুঁতো দেওয়ার জন্য মাথা বাগিয়ে তৈরি আছে গোটা দশেক শিং। দেখে হরিপদের আত্মা উড়ে যাওয়ার দশা। খাবি খেতে খেতে হরিপদ দেখল তার সামনে একটা চুনোপুঁটি।
পুঁটি বলল, ভেবেছ কী শুনি? প্রতিদিন আমাদের শিকার করবে? আজ আমরাই তোমাকে টোপ ফেলে শিকার করেছি! হরিপদ অবাক। ‘অ্যাঁ, তোমরা আবার শিকার করলে কী করে!’
‘কেন! প্রথমে যে ঘাইগুলো দেখলে ওগুলো তোমাকে লোভ দেখানোর জন্য। এরপর তোমাকে ঘাটের কাছে এনেছে কারা? আমার দুঃসাহসী বোয়াল মামা এতক্ষণ ঘাটের কাছে কি এমনি এমনি ভেসেছিল? আর শেওলা ফেলে ঘাটটা পিচ্ছিল করেছে কারা জানো? বাইম মামারা।’
‘হয়েছে বাপু। আমার ভুল হয়ে গেছে। আর জীবনেও মাছ শিকারে আসব না।’
‘বড়শি আর খাবারগুলো ফেলে মানে মানে কেটে পড়। ফের যদি দেখি!’
কোনোমতে খাল ছেড়ে উঠেই এক দৌড়ে বাড়ি গেল হরিপদ। আর সেদিনের পর থেকেই কোনো দিন মাছ শিকার করতে দেখা যায়নি তাকে।

জারা : গোপন নম্বর
- লেখা : ধ্রুব নীল, আঁকা : নাহিদা নিশা

তোমাদের আঁকা

আফীফা সারাফ, দ্বিতীয় শ্রেণি, শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, জামালপুর
জারিন নুদার জারা, পঞ্চম শ্রেণি, এবিসি ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, নারায়ণগঞ্জ
রোজিয়াতুন জান্নাত তুহি, তৃতীয় শ্রেণি, শাহরাস্তি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁদপুর
।
গ্রামে শীতকাল
- নূর সিরাজী

এলে শীত কত গীত পাড়াগায়ে কয়,
জারি, সারি পালাগান সারারাত হয়।
লেপ-কাঁথা কম্বলে শীত যায় বয়ে,
গোসল না করে কেউ ঠাণ্ডার ভয়ে।
কৃষকের মাঠে মাঠে সবজির চাষ,
সরষের ফুলে ফুলে আসে নব সাজ।
খেজুরের রস পাড়া সকালের কাজ,
কুয়াশার বুক চিরে সূর্যের সাজ।
রোপা ধান কাটা-মলা কৃষকের কাম,
ছেলে-মেয়ে খেলা করে ধানখড়ে স্নান।
খেয়ে মজা শীতকালে নানা সবজি,
দুধপুলি পিঠা খাই ডুবিয়ে কবজি।
শহরের পরিবেশ এমন কী হয়?
আমাদের পরিবেশ আনন্দময়।

খোকন খাবে
- আহমেদ জসিম

খোকন খোকন সাঁঝের পাখি,
সেই পাখিটা কোথায় রাখি?
রাখবো মনের কিনারে
তাইতো বাজাই বীণা রে।
বীণার সুরে মাতিয়া
যাচ্ছে খোকন হাতিয়া।
হাতিয়াতে হই-রে হই,
খোকন খাবে মোষের দই।
।