মেক্সিকোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
শেয়ার
মেক্সিকোতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
সংগৃহীত ছবি

মেক্সিকোতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধায় মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়েছে। দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিদেশী কূটনীতিক, বাংলাদেশি প্রবাসী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এ উপলক্ষে সকালে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আইবারো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী তাঁর স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ভাষা কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি জাতির পরিচয়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতিচ্ছবি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে মাতৃভাষার জন্য মানুষ প্রাণ দিয়েছে। ভাষা আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার ভিত্তি। তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভাষার দ্রুত বিলুপ্তির হার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ভাষার মৃত্যু মানে ইতিহাসের মৃত্যু।

এ সময় তিনি ভাষাগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার দৃঢ় আহ্বান জানান। 

আইবারো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডঃ অ্যারিবেল কনটেরাস এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে মেক্সিকোতে নিযুক্ত আইভরি কোস্ট এর রাষ্ট্রদূত লি ডি'জেরো রবার্ট, দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রদূত বেরিল রোজ সিসুলু ও মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত জামাল শরিফ উদ্দিন জোহান তাদের নিজ নিজ দেশের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং বিশ্বব্যাপী ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। এছাড়া, সাবেক মেক্সিকান সিনেটর ও প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী সাচিত গালভেজ রুইজ, আইবারো আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট অধ্যাপক ডঃ জুয়ান ম্যানুয়েল গঞ্জালেজ ও মেক্সিকান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি ফ্রান্সিসকো মস্কেদা ব্রিটো অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মেক্সিকোতে কর্মরত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও প্যালেস্টাইনসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মেক্সিকো সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশ নেন। তাদের সরব উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠানস্থল এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এছাড়া, রাষ্ট্রদূত মুশফিক মেক্সিকো সিটিতে নির্মিত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। এতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। 

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নিয়ে নিউজার্সিতে পাইলট প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নিয়ে নিউজার্সিতে পাইলট প্রকল্প
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি নিয়ে ‘গ্রিন গ্রোথ’ নামের একটি পাইলট প্রকল্প চালু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি সরকার। ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা’—জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের বহুল প্রচলিত এই স্লোগানটিকে প্রকল্পটির মূল স্লোগান হিসেবে রাখা হয়েছে। প্রকল্পের গাড়ি, ব্রুশিয়ার, সদস্য ফর্মসহ সব ক্ষেত্রে স্লোগানটি ব্যবহার করা হয়েছে। 

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিউজার্সি ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনজেইডিএ) অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির (বিএএসজে) তত্ত্বাবধায়নে নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে দুই বছরের জন্য পাইলট প্রকল্পটি পরিচালিত হবে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) সাউথ জার্সির বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্প কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএএসজে প্রেসিডেন্ট জহিরুল ইসলাম বাবুল, গ্রিন গ্রোথের প্রজেক্ট রাইটার ও প্রজেক্ট ইনিশিয়েটর (পিআই) আশিক ইসলাম, বিএএসজের সেক্রেটারি জাকিরুল ইসলাম, ট্রাস্টি চেয়ারম্যান মো. রফিক। দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তি।

প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরে জহিরুল ইসলাম বাবুল বলেন, পিছিয়ে পড়া নারীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আটলান্টিক সিটির খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য।

প্রথম বছরে ৩০ জন নারীকে প্রজেক্টের আওতায় বরাদ্দ দেওয়া হবে। যারা তাদের বাড়ির আঙিনা, খোলা জায়গা, বারান্দার টব, বাড়ির পেছনে সুবিধা অনুযায়ী জায়গা বেছে নিয়ে সবজি উৎপাদন করবে। পরবর্তীতে নিজ পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে সিংহভাগ সবজি গ্রিন গ্রোথের মাধ্যমে বাজারে বিক্রি করা হবে। ফসল উৎপাদনে বিনা মূল্যে সার্বিক সহযোগিতা ও সব প্রকার সরঞ্জামাদি সরবরাহ এবং বিপণনের দায়িত্ব পালন করবে গ্রিন গ্রোথ।
উৎপাদকের বাসা থেকে প্রকল্পের গাড়ি  ফসল সংগ্রহ করবে। ফসলের বিক্রয়মূল্যের ৬৫% ভাগ পাবে উৎপাদক এবং ৩৫% ভাগ পাবে গ্রিন গ্রোথ। প্রতিবছর সেরা ৩ জন উৎপাদনকারীর জন্য থাকবে বিশেষ আর্থিক পুরস্কার।

জহিরুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আমাদের জানা মতে, আমেরিকার অনেক স্টেটেই বাংলাদেশিদের সংগঠন রয়েছে, এর মধ্যে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনই প্রথম, যারা এমন একটি কাজের সাথে নিজেদের যুক্ত করতে পেরেছে। যা অ্যাসোসিয়েশনের সব সদস্যসহ বাংলাদেশিদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের।

আমি বিশ্বাস করি, আমরা যদি সুচারুভাবে আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারি তবে পরবর্তী ধাপে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।’

গ্রিন গ্রোথ প্রকল্পের নেপথ্যের ইতিহাস তুলে ধরে আশিক ইসলাম বলেন, গোটা বিশ্বে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে, বাড়ছে খাদ্যমূল্য। দিশেহারা নিম্ন আয়ের মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়। সরকার নানা উদ্যোগের পাশাপাশি তিন ধাপে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য ৪, ১৩ এবং ৩০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। নিউজার্সির ২১টি কাউন্টির (অনেকটা বাংলাদেশের জেলার মত) মধ্যে প্রাথমিকভাবে আটলান্টিক কাউন্টির আটলান্টিক সিটিকে বেছে নেয়া হয়েছে পাইলট প্রকল্পের জন্য। আটলান্টিক সিটি মুলত ক্যাসিনো এবং পর্যটননির্ভর শহর বিধায় এ অঞ্চলে প্রফেশনাল মানুষের সংখ্যা কম। ৪২ হাজার জনগোষ্ঠীর এই শরের ৩৯% ডাইভার্স কমিউনিটির মানুষ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনসহ মোট ৫২টি নন-প্রফিট প্রতিষ্ঠান তাদের প্রজেক্ট সরকারের কাছে জমা দেয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ জার্সির প্রকল্পটির অনুমোদন পায়।

 ২০০৩ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে ‘একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা’ স্লোগানের কর্মসূচিতে সারা দেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আশিক ইসলাম বলেন, গ্রিন গ্রোথ প্রজেক্টের মাধ্যমে বাজারে খাদ্য সরবরাহ বাড়বে, ফলে মূল্য হ্রাস পাবে। অ্যাসোসিয়েশনের যেসব সদস্য এ কার্যক্রমে যুক্ত থাকবেন তারাসহ উৎপাদনকারী সবাই বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন। তাই মার্কিন সরকারের কাছে এটি একটি ইউনিক প্রজেক্ট হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই সরকারের ৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত ১৩ মার্চ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ও এর কার্যক্রম পরিদর্শন করেছে। গ্রিন গ্রোথ কার্যক্রমের অগ্রগতিতে ভূয়সী প্রশংসা করেছেন তারা।  

অনুষ্ঠানের শুরুতেই আটলান্টিক সিটি মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র, ফিতা কেটে গ্রিন গ্রোথ প্রকল্পের গাড়ির উদ্বোধন করেন। প্রকল্প প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি ভিন্ন ধর্মী প্রকল্প। যা সমাজের তৃণমূল মানুষের কথা চিন্তা করে ডিজাইন করা হলেও সর্বসস্তরের মানুষ এর মাধ্যমে উপকৃত হবেন। তিনি গ্রিন গ্রোথের সাফল্য কামনা করেন। সিটি মেয়রসহ উপস্থিত সাংবাদিকদের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের নিয়মিত ফুড বিতরণ কার্যক্রম দেখানো হয়।

উল্লেখ্য, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের তৃণমূল মানুষকে স্বনির্ভর করার উদ্দেশ্যে ২০০৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয় দেশব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন ও নারী উন্নয়ন কর্মসূচি। একটি উদ্যোগ, একটু চেষ্টা, এনে দেবে সচ্ছলতা স্লোগানের এ কর্মসূচির আওতায় গ্রামে গ্রামে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, মাছের পোনা বিতরণ, বাড়ির আঙিনায় সবজি উৎপাদন, বিনা মূল্যে সার, বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। দেশব্যাপী প্রায় ৩৯৮২টি পরিবারকে সচ্ছলতার আওতায় আনা হয়। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৬১৩টি পরিবার, বরিশালে ৮৬৮, কক্সবাজারে ৭২০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭০২, ঝিনাইদহে ৪৯৮, জামালপুরে ২৩৮, নোয়াখালী ২১৪, শেরপুরে ১২৯টি পরিবার।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

সুইডেনের স্টকহোমে গণহত্যা দিবস পালিত

সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি
সাব্বির খান, স্ক্যান্ডিনেভিয়া প্রতিনিধি
শেয়ার
সুইডেনের স্টকহোমে গণহত্যা দিবস পালিত

সুইডেনের স্টকহোমে ‘গণহত্যা দিবস-২০২৫’ পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এদিন বিকেলে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্য ছাড়াও দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা কর্তৃক প্রেরিত বাণী পাঠ করা হয়। এরপর গণহত্যা দিবস উপলক্ষে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।

আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা তাদের আলোচনায় মহান মুক্তিযুদ্ধের লাখো শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বমানবতার ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। 

বক্তারা বলেন, সেদিনের অতর্কিত হামলায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে সমূলে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু, বাঙালি জাতি এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জন করে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

আলোচনা শেষে স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের, বিশেষ করে এই দিনটিতে যারা শহীদ হয়েছিলেন তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

মন্তব্য

লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে পঞ্চমবর্ষ পূর্তি উদযাপন করবে ১৭ই এপ্রিল

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
শেয়ার
লন্ডনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে পঞ্চমবর্ষ পূর্তি উদযাপন করবে ১৭ই এপ্রিল
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে সংগঠনের পঞ্চমবর্ষ পূর্তি উদযাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল বার্কিং এন্ড দেগেনহাম কাউন্সিল চেম্বারে এই অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে আয়োজিত ইফতারপূর্ব আলোচনায় এমন ঘোষণা দেন সংগঠনের নেত্রীবৃন্দ।

এসেক্সের মেফেয়ার ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার্কিং এন্ড ডেগেনহামের মেয়র কাউন্সিলর মঈন কাদেরী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব ইউকে'র পরিচালনা পরিষদের সদস্য, থার্ড সেক্টর কনসালটেন্ট বিধান গোস্বামী’র সভাপতিত্বে ও পলিটিকা টিভির প্রধান সম্পাদক তানভীর আহমেদের পরিচালনায় সংগঠনের পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের রিস্ক এন্ড ডিজাস্টার রিডাকশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামুছুদ্দোহা, ব্যারিস্টার চৌধুরী হাফিজুর রহমান, অ্যাডভোকেট শাহ আলম সরকার, শওকাত আলী বেনু, মোহাম্মদ রশীদ, লাবনী রেজা, আরিফুর রহমান, ফাতেহা পলি সহ অন্যান্যরা।

আলোচনাকালে বক্তারা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠিত গণহত্যায় নিহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানান। এছাড়াও অনুষ্ঠানে আগত অ্যালামনিরা সদ্য প্রয়াত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে তার স্মৃতিচারণ করেন।  

অনুষ্ঠানে লন্ডন ও ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহর থেকে অ্যালামনিরা অংশ নেন।

ইফতার পার্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সিনিয়র অ্যালামনিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রদীপ মজুমদার, তাসলিমা মীরা, ব্যারিস্টার কাজী আশিকুর রহমান, ইউনূস শেখ, হালিম খাতুন, আনিসুর রহমান, শাফকাত হোসেন সাইয়েদ, ব্যারিস্টার সঞ্জয় কুমার রায়, রেহানা আক্তার, শায়লা শিমলা, আসাদ কিবরিয়া তানিন, রিয়াদ আসিফ আহম্মদ, আয়েশা আক্তার, সামসুন নাহার শোনিমা ও অন্যান্যরা।

প্রাসঙ্গিক
মন্তব্য

ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইফতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ইফতার আয়োজন
সংগৃহীত ছবি

তুরস্কে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন ইন তুর্কিয়ে (বাসাত) প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানে ‘বাসাত গ্র্যান্ড ইফতার ২০২৫’ আয়োজন করেছে। গত রবিবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজন শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি তুরস্কে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মিলনমেলার এক বিশেষ উপলক্ষ হয়ে ওঠে। ইস্তাম্বুলসহ তুরস্কের বিভিন্ন শহরে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, বিভিন্ন নামি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে এই আয়োজনে প্রায় তিন শতাধিক অতিথির মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এবারের আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মিজানুর রহমান এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রবীণ ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদ, ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মেহমেত মাহফুজ সোইলেমেজ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন তুরস্কের সরকারি স্কলারশিপ তত্ত্বাবধানকারী মন্ত্রণালয় (YTB)-এর ইস্তাম্বুল অফিসের প্রতিনিধি ওয়ুজহান তুনজায়, আন্তর্জাতিক ছাত্রসংগঠন ফেডারেশন (উদেফ), বাব-ই-আলেম আন্তর্জাতিক ছাত্রসংগঠন, তুর্কিয়ে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন (তুমেদ)-এর সভাপতি ও প্রতিনিধিবৃন্দ, তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় সিভিল অর্গানাইজেশন তুর্কিয়ে ইয়্যুথ ফাউন্ডেশন (তুগভা), আনাদোলু ইয়্যুথ ফাউন্ডেশন, নতুন বিশ্ব ফাউন্ডেশন (YDV)-এর সভাপতি ও প্রতিনিধিরা।

আরো পড়ুন
মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, শিক্ষককে গণপিটুনি

মক্তবে শিশুকে যৌন নিপীড়ন, শিক্ষককে গণপিটুনি

 

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাসাতের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে আতাতুর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. মুমিন। 

সন্ধ্যা ৬টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাফেজ তানভীর উদ্দিন জামালের তিলাওয়াতের পর মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের মামুনুর রশিদ রেদোয়ানের পরিবেশিত ইসলামী সংগীত উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের পরবর্তী পর্যায়ে ইফতার পরিবেশন করা হয়, যেখানে অতিথিদের জন্য বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু খাবারের আয়োজন ছিল। ইফতারের পূর্বে আমন্ত্রিত প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তারা বাসাতের এই বার্ষিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন তৈরিতে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সুন্দর, মনোমুগ্ধকর ও সুশৃঙ্খল এই ইফতার আয়োজনের জন্য অতিথিরা বাসাতের আয়োজক কমিটি ও সদস্যদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাসাতের সভাপতি ওমর ফারুক হেলালী এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সাইয়্যেদ মাগফুর আহমদ।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ