ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা খাদ্যগুদামে পৌনে দুই কোটি টাকার চাল ও বস্তা আত্মসাতের ঘটনায় দুদকের দায়ের করা মামলায় এক বছরেও গ্রেপ্তার হননি অভিযুক্ত খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা শাকিল আহমেদ। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুদক কিছু দিনের মধ্যেই এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র পেশ করবে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ (৩৯) মুক্তাগাছা খাদ্যগুদামে (এলএসডি) খাদ্য পরিদর্শক ও ভারপ্রাপ্ত হিসেবে ২০২৩ সাল থেকে কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের ১০ অক্টোবর জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জে বদলি করে তাঁর স্থলে খাদ্য পরিদর্শক সাইফুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
কিন্তু সে সময় সাইফুল ইসলাম যোগদান করলেও শাকিল আহমেদ তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দেওয়ায় গুদামের স্বাভাবিক কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলা খাদ্য বিভাগ ২২ অক্টোবর একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি গুদামে থাকা এলএসডির সার্বিক মজুদের শতভাগ ভরা ও খালি বস্তা গণনা করে। এরপর নতুন কর্মকর্তার কাছে গুদাম বুঝিয়ে দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় শাকিল আহমেদ এক কোটি ৭১ লাখ ৯২ হাজার ৩৮২ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এর মধ্যে এক কোটি ৭০ লাখ ৭২ হাজার ২৮২ টাকা মূল্যের সিদ্ধ চালই ছিল। বাকিগুলো ছিল খালি বস্তা। চালের পরিমাণ ছিল ৩২৮.৯৮০ মেট্রিক টন। এ ঘটনায় শাকিল আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক। এত বড় জালিয়াতির পরও অভিযুক্ত শাকিল আহমেদ গ্রেপ্তার হননি। তবে তিনি কোথায় আছেন, তা জানা যায়নি।
এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জানান, শাকিল আহমেদ সাময়িক বরখাস্ত আছেন। দুদকের মামলার ওপরই নির্ভর করছে তাঁর ভবিষ্যৎ।