ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৪ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬

ঢাকা, শুক্রবার ২৮ মার্চ ২০২৫
১৪ চৈত্র ১৪৩১, ২৭ রমজান ১৪৪৬

শেবাচিমে শিক্ষক সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস
বরিশাল অফিস
শেয়ার
শেবাচিমে শিক্ষক সংকট নিরসনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ছবি: কালের কণ্ঠ

বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক সংকট সংকট নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের গেটের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

এ সময় প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি না মানলে কমপ্লিট সাইট ডাউনের ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

অপরদিকে একই দাবিতে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতি অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে। অধ্যক্ষ বলছেন দ্রুত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা চলছে। 

আরো পড়ুন
লক্ষ্মীপুরে স্বাচিপ নেতাসহ আটক ১৩

লক্ষ্মীপুরে স্বাচিপ নেতাসহ আটক ১৩

 

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দুই দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে অনতিবিলম্বে মেডিক্যাল কলেজের সব ডিপার্টমেন্টে শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক পদায়ন করা।

অবিলম্বে কমিউনিটি মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, প্যাথোলজি ও অন্যান্য ডিপার্টমেন্টের বদলীকৃত শিক্ষকদের তাদের স্ব-পদে পুনরায় পদায়ন করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করার দাবি জানান।

শিক্ষক সমিতি তাদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করে, মেডিক্যাল কলেজ এ কমিউনিটি মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজী, প্যাথলজী এবং কার্ডিওলজী বিভাগসহ প্রায় সব বিভাগেই প্রবল শিক্ষক সংকট বিদ্যমান। অনুমোদিত জনবলের তুলনায় কর্মরত শিক্ষকদের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। এমতাবস্থায় ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান, পরীক্ষা গ্রহণ, হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান, একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে অধ্যক্ষ মহোদয়ের কার্যালয়কে সহযোগিতা প্রদানের জন্য শিক্ষকদের শূন্য পদ পূরণ করা জরুরী।

আরো পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফ্যাশন হাউজকে জরিমানা, ক্রেতা পেলেন প্রণোদনা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফ্যাশন হাউজকে জরিমানা, ক্রেতা পেলেন প্রণোদনা

 

শিক্ষক সংকটের কথা স্বীকার করে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ, অধ্যক্ষ ফয়জুল বাশার জানান, শিক্ষার্থীদের এই দাবি যৌক্তিক এবং তাদের দাবিদাওয়াগুলো নিয়ে মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছি। দ্রুত সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

বাজারের মাংসে টাইফয়েড-ডায়রিয়ার জীবাণু, জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি

বাকৃবি প্রতিনিধি
বাকৃবি প্রতিনিধি
শেয়ার
বাজারের মাংসে টাইফয়েড-ডায়রিয়ার জীবাণু, জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি
সংগৃহীত ছবি

স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ মাংস প্রাপ্তি মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বাংলাদেশের মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু ১৪৩ দশমিক ৭৭ গ্রাম মাংস খেতে পায়। দৈনন্দিন জীবনে আমিষের চাহিদা পূরণে মাংসের অবদান অনস্বীকার্য। তবে, দেশের অধিকাংশ স্থানীয় পোল্ট্রি বাজারে এখনো অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি জবাই করা হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

 

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষকের পরিচালিত গবেষণায় ময়মনসিংহ সদরের বিভিন্ন স্থানীয় বাজারে সাধারণভাবে জবাইকৃত মুরগির মাংসে মিলেছে টাইফয়েড (সালমোনেলা) ও ডায়রিয়া (ইকোলাই) রোগের জীবাণু। এছাড়াও দোকানে মুরগি অসুস্থ হলে বেশিরভাগ দোকান মালিক (৯৬.১৫ শতাংশ) মুরগি আলাদা রাখা বা মেরে ফেলার পরিবর্তে বিক্রি করে দেন বলে ওই গবেষণায় উঠে আসে। 

আরো পড়ুন
বাঘায় পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

বাঘায় পদ্মা নদী থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

 

ময়মনসিংহ সদর ও এর আশেপাশের পোল্ট্রি বাজারসমূহের অবস্থা পর্যেবক্ষণ, বায়োসিকিউরিটি এবং পোল্ট্রি জবাইকরণ সম্পর্কে বিক্রেতাদের মনোভাব যাচাইকরণ এবং সেখানে বিক্রয়কৃত মাংসের গুণগতমান যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্বব্যিালয়ের (বাকৃবি) পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেনের নেতৃত্বে গবেষণা কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়। গবেষণাটি ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ শাখা কর্তৃক আয়োজিত ১৩তম আন্তর্জাতিক পোল্ট্রি সেমিনার -২০২৫-এ উপস্থাপিত হয়।

 

ওই গবেষণায় দেখা গেছে, স্থানীয় বাজারের সাধারণভাবে জবাইকৃত মাংসে ক্ষতিকর ইকোলাই ও সালমোনেলা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ উপস্থিতি রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় মাংসে এগুলো থাকার কথা নয়। এসব মাংসের নমুনায় সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ লগারিদম ৪.০২ থেকে লগারিদম ৫.৫৯ সিএফইউ/গ্রাম এবং ইকোলাই ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ লগারিদম ৪.০১ থেকে লগারিদম ৫.৯৪ সিএফইউ/গ্রাম পর্যন্ত পাওয়া গেছে। স্থানীয় বাজারের নমুনায় মোট কার্যকর ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণও (টিভিসি) ছিল বেশি। 

গবেষণাটিতে ময়মনসিংহ সদরের চরপাড়া বাজার, মিন্টু কলেজ বাজার, মেছুয়া বাজার, নতুন বাজার, সানকিপাড়া বাজার, কেওয়াটখালী বাজার, শেষমোড় বাজার, সুতিয়াখালী বাজার, ভাবখালী বাজার, কে আর মার্কেট, শম্ভুগঞ্জ বাজার এবং গাছতলাসহ ১২টি স্থানীয় বাজারের পোল্ট্রি দোকানের তথ্য নেওয়া হয়।

একটি সুনির্ষ্টি প্রশ্নাবলীর তালিকা অনুসরণ করে এই ১২টি বাজারের ২৪টি পোল্ট্রি দোকানের কর্মীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। এসব বাজারে সাধারণভাবে জবাইকৃত এবং প্রসেসিং ইউনিটের পদ্ধতি অনুসরণ করে পোল্ট্রি ফার্মে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাইকৃত মোট ২৬টি মাংসের (উরু এবং বুকের মাংস) নমুনা এবং ২টি পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। নমুনাগুলো বাকৃবির মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়েছিল বলে জানান অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন। 

গবেষণায় উঠে আসা স্থানীয় বাজারের মুরগির দোকানগুলোর অবস্থা সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, গবেষণার তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে যে ৮৪.৬২ শতাংশ দোকানে মুরগি রাখার পর্যাপ্ত জায়গা নেই, ৯২ শতাংশ দোকানে ময়লা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নেই এবং ৪৬.১৫ শতাংশ দোকানে পর্যাপ্ত আলো ছিল না। এছাড়াও, ৩০.৭৭ শতাংশ দোকানে মাংস কাটার জায়গা অস্বাস্থ্যকর ছিল এবং পরিকল্পিত বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছিল না।

এরকম পরিস্থিতি ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি এবং দূষণের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে।

স্বাস্থ্যকর মাংস প্রাপ্তির বিষয়ে অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোর অধিকাংশ পোল্ট্রি দোকানে অপর্যাপ্ত জায়গায় পাখিগুলোকে রাখা হয় এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মুরগি জবাই করা হয় যা অত্যন্ত স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পন্ন এবং নানা রোগ বিস্তারের কারণ হতে পারে। এর সমাধানে স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্ষুদ্র প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস পৌছে দেওয়া সম্ভব। 

তিনি আরো বলেন, ক্রমবর্ধমান চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় বাজারগুলোতে ক্ষুদ্র প্রসেসিং ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা গেলে তা একইসাথে যেমন নিরাপদ মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে, পাশাপাশি স্থানীয় পোল্ট্রি দোকানগুলো আরো লাভজনকভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবে। উল্লেখ্য যে, প্রসেসিং ইউনিটের মাংসে কোনো সালমোনেলা বা কলিফর্ম সনাক্ত করা যায়নি, যা ইঙ্গিত করে যে প্রসেসিং ইউনিট থেকে পাওয়া মাংস খাওয়ার জন্য নিরাপদ।

প্রযুক্তিগত সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় বাজারের পোল্ট্রি দোকানীদের ক্ষুদ্র প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনে উৎসাহিত করতে হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পোল্ট্রি মুরগি বিক্রি বন্ধ করতে হবে। বাজার থেকে মাংস কেনার সময় ক্রেতাদের সতর্ক হতে হবে। ক্রেতা ও বিক্রেতাকে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জবাইকৃত মাংসের উপকারিতা সম্পর্কে সচেতন করার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে বিভিন্ন জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি করেন ওই অধ্যাপক।
 

মন্তব্য

ঢাবিতে হবে ঈদ র‍্যালি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
শেয়ার
ঢাবিতে হবে ঈদ র‍্যালি
সংগৃহীত ছবি

ঈদুল ফিতর পালন উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঈদ র‍্যালি বের করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান র‍্যালিতে নেতৃত্ব দেবেন।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়, ঈদের দিন ‘সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআ'য় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাতের পর র‍্যালি শুরু হবে।

র‍্যালিটি টিএসসি হয়ে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে গিয়ে শেষ হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ র‍্যালিতে অংশগ্রহণ করবেন।

মন্তব্য

ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শেকৃবিতে কর্মচারীদের ঈদসামগ্রী বিতরণ

শেকৃবি প্রতিনিধি
শেকৃবি প্রতিনিধি
শেয়ার
ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে শেকৃবিতে কর্মচারীদের ঈদসামগ্রী বিতরণ
ছবি: কালের কণ্ঠ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) কর্মরত ৬০ জন কর্মচারীদের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। বৃহস্পতিবার (২৭ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সামনে এ ঈদসামগ্রী বিতরণ করা হয়।  

ঈদ সামগ্রীর মধ্যে ছিল সেমাই, চিনি, গুঁড়া দুধ, কিসমিস, আটা ও নুডলসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। কর্মচারীদের সহায়তা ও ঈদের আনন্দ বাড়াতে ছাত্রশিবিরের এ উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

 

ঈদ সামগ্রী গ্রহণ করে কর্মচারীরা ছাত্রশিবিরের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ঈদের আগে এমন সহযোগিতা আমাদের পরিবারের জন্য খুবই সহায়ক হবে। 

ছাত্রশিবির শেকৃবি শাখার সভাপতি মো আবুল হাসান বলেন, ঈদ উপলক্ষে আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতার হাত বাড়ানোর চেষ্টা করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীরা আমাদের পরিবারের মতো, তাদের পাশে থাকাই আমাদের দায়িত্ব। আমরা বিশ্বাস করি, মানবতার সেবা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং শিক্ষার্থীদের মাঝেও এই চেতনাকে জাগ্রত করতে চাই।

ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

মন্তব্য

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'খিয়াং'

    সপ্তম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ে তোমরা খিয়াং সম্পর্কে জেনেছ। বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র এই নৃগোষ্ঠীর বিষয়ে আরো যা জানতে পারো—
আল সানি
আল সানি
শেয়ার
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী 'খিয়াং'
খিয়াং নারী। ছবি : সংগৃহীত

‘ঙুলুই ও ঙুলুউ ও

ইয়া নে বেং সেন স-ওম?

সেনাইহ্ খিয়াং ঙালা কেসেন স হিয়াহ্‌

লুং পেক পে চলা একেপ নকা।’

বাংলা বর্ণমালা দিয়ে খিয়াং ভাষার ছড়া এটি, যার অর্থ—

‘ও টাকি ও টাকি

কেন গাল লাল?

আমার ইচ্ছায় হয়নি লাল

দিয়েছে পাথরে চেপে।’

খিয়াংদের নিজস্ব বর্ণমালা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খিয়াং ভাষা অস্ট্রো-এশিয়াটিক ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

বাংলা ও মারমা ভাষার সঙ্গে তাদের কিছুটা সংযোগ রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান সদর উপজেলায় এই নৃগোষ্ঠীর জনসংখ্যা বেশি। এ ছাড়া রোয়াংছড়ি, রুমা ও থানচি উপজেলায় ছড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছুসংখ্যক খিয়াং। রাঙামাটি জেলার রাজস্থলী ও চন্দ্রঘোনা এলাকার কয়েকটি পাড়ায় খিয়াং গোষ্ঠীর আলাদা উপস্থিতি আছে।

আমাদের দেশে বসবাস করা খিয়াংদের মধ্যে দুটি আলাদা সম্প্রদায়ের দেখা মেলে—লাইতু ও কুনতু। লাইতু খিয়াংদের বসবাস সমতল অংশে। পাহাড়ি এলাকায় বসবাস বেশি করে কুনতু খিয়াং। লাইতু খিয়াংরা সাধারণত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী, কুনতুরা খ্রিস্টান।

ধারণা করা হয়, খিয়াংরা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এসে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ে বসতি স্থাপন করে। মূলত মঙ্গোলীয় নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত এই জনগোষ্ঠী একসময় বার্মা (বর্তমান মায়ানমার) থেকে অভিবাসিত হয়ে চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে থাকে। ব্রিটিশ শাসনামলে কিংবা তারও আগে তারা পাহাড়ের অন্যান্য আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে একত্রে বসবাস করলেও তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় এখনো আছে অটুট।

খিয়াং সমাজে শিশুর জন্ম নিয়ে অনেক আচার-অনুষ্ঠান করা হয়। গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায় চন্দ্রগ্রহণ ও সূর্যগ্রহণ দেখা নিষেধ।

তাঁদের সন্ধ্যার পর ঘরের বাইরে যেতে দেওয়া হয় না। সন্তান হওয়ার পর একটি অনুষ্ঠান করার রেওয়াজ আছে খিয়াং সমাজে। পুত্রসন্তান হলে পাঁচ দিন এবং কন্যাসন্তান হলে সাত দিনে এই অনুষ্ঠান করা হয়। তাদের ভাষায় এই অনুষ্ঠানকে বলা হয় ‘ওপেল’।

খিয়াংদের প্রধান জীবিকা কৃষি। তারা জুম চাষের ওপর নির্ভরশীল এবং মূলত ধান, ভুট্টা, কচু, আদা, হলুদসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করে। শিকারের ওপরও তাদের নির্ভরতা ছিল, যদিও আধুনিককালে এই অভ্যাস অনেকটাই কমে এসেছে। খিয়াংরা নিজ বংশের বয়োজ্যেষ্ঠ প্রধানের নামানুসারে গোষ্ঠীর নাম দিয়ে থাকে; যেমন—‘ক্রাং দেইপ’ গোষ্ঠী, ‘চুং’ গোষ্ঠী, ‘লই’ গোষ্ঠী প্রভৃতি। খিয়াং সমাজের রীতিনীতি ও প্রথাগত আইন তাদের সামাজিক আচার, লোকবিশ্বাস ও মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ