গরমে সবার ত্বকেরই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। এই ঋতুতে বেশির ভাগ মানুষই মুখ ও হাতের যত্নের দিকে বিশেষ নজর দেন। কিন্তু অনেক সময় পায়ের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যান। ফলে পায়ের গোড়ালি ফাটার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
গরমে সবার ত্বকেরই বিশেষ যত্নের প্রয়োজন হয়। এই ঋতুতে বেশির ভাগ মানুষই মুখ ও হাতের যত্নের দিকে বিশেষ নজর দেন। কিন্তু অনেক সময় পায়ের যত্ন নেওয়ার কথা ভুলে যান। ফলে পায়ের গোড়ালি ফাটার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
শীতে শুষ্ক ত্বকের কারণে পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। কিন্তু গরমেও যদি কারো পায়ের গোড়ালি ফাটতে থাকে, তাহলে তা মাঝে মাঝে চিন্তার বিষয় হতে পারে। এর পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন-পায়ের ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যাওয়া, পানির অভাব, ধুলাবালি, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া এবং ভুল জুতা পরা।
যদি গ্রীষ্মে আপনার গোড়ালিও ফেটে যায়, আর তা যদি যন্ত্রণাদায়ক হয়ে ওঠে, তবে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কয়েকটি ঘরোয়া উপায় মেনে চললে গরমেও ফাটা গোড়ালি সারিয়ে তোলা খুবই সহজ।
পায়ের গোড়ালি ফাটার কারণ
গ্রীষ্মে গোড়ালি ফাটার প্রধান কারণ হতে পারে শরীরে পানির অভাব। যার ফলে ত্বক শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে।
আঁটোসাঁটো সিন্থেটিক বা নিম্নমানের জুতো পরার ফলে গোড়ালি দ্রুত ফাটতে পারে। শরীরে ভিটামিন ই, এ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডের ঘাটতির ফলেও গোড়ালি ফাটতে পারে।
এই ঘরোয়া প্রতিকারগুলো ব্যবহার করে দেখতে পারেন—
নারকেল তেল
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে নারকেল তেল লাগান। এই তেলে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও ময়েশ্চারাইজিং বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ফাটা গোড়ালি দ্রুত সারিয়ে তোলে। তাই রাতে ঘুমোনোর আগে হালকা গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন। গোড়ালিতে নারকেল তেল লাগিয়ে ভালো করে ম্যাসাজ করুন। এরপর সুতি মোজা পরে ঘুমাতে হবে। প্রতিদিন এটা করলে তাড়াতাড়ি পায়ের গোড়ালি নরম হয়ে যাবে।
মধু ও ঈষদুষ্ণ গরম পানি
মধু একটি প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখে। ফাটা গোড়ালি সারায়। এর জন্য একটি পাত্রে হালকা গরম পানি নিন এবং এতে ২-৩ চা চামচ মধু যোগ করুন। এতে ১৫-২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। হালকা হাতে স্ক্রাব করে পা মুছে একটু ক্রিম লাগান। সপ্তাহে ৩ বার এ কাজ করলে পায়ের ফাটা গোড়ালি দ্রুত সেরে যায়।
অ্যালোভেরা ও গ্লিসারিন
অ্যালোভেরায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও নিরাময় বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা ত্বককে নরম করে তোলে। এক্ষেত্রে ফাটা গোড়ালি ঠিক করতে ২ চা চামচ অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ১ চা চামচ গ্লিসারিন মিশিয়ে নিতে পারেন। রাতে এটি গোড়ালিতে লাগিয়ে হালকা হাতে ম্যাসাজ করুন। সারারাত রেখে দিন এবং সকালে ধুয়ে ফেলুন। অ্যালোভেরা গোড়ালিকে ভেতর থেকে পুষ্টি জোগায় এবং দ্রুত সারায়।
কলার প্যাক
পাকা কলা একটি দুর্দান্ত প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার। যা ফাটা গোড়ালি সারিয়ে তোলে। ১টি পাকা কলা চটকে তাতে সামান্য নারকেল তেল দিন। এটি গোড়ালিতে লাগিয়ে ২০ মিনিটের জন্য রেখে দিন। হালকা গরম পানি দিয়ে পা ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ বার এটি করলে গোড়ালি দ্রুত সেরে উঠবে।
সূত্র : টিভি ৯ বাংলা
সম্পর্কিত খবর
খাদ্যরসিকরা কোনো নতুন সুস্বাদু খাবারের সন্ধান পেলেই তার দিকে হাত বাড়ান। তেমনই একটি খাবার কাঠবাদাম। আগে বিশেষ প্রচলন না থাকলেও এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে এই বাদাম খাওয়ার বেশ চল হয়েছে।
কাঠবাদাম বা আমন্ড মূলত মধ্যপ্রাচ্যে উৎপাদিত হয়।
কী উপকার কাঠবাদামে
১০০ গ্রাম কাঠবাদাম থেকে কী কী পুষ্টিগুণ পাওয়া যেতে পারে, দেখে নেওয়া যাক—
এ ছাড়া কাঠবাদাম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা শরীরের কোষগুলোকে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। কাজেই নিয়ম করে কাঠবাদাম খেলে শরীরের ভালোই হয়।
সূত্র : আজকাল
গরমকালে ত্বকের যত্ন নেওয়া খুবই জরুরি। এ সময় বাইরে বের হলে অবশ্যই নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু ত্বকের যত্নে সেটাই যথেষ্ট নয়। গরমের মৌসুমে ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে চাইলে করতে হবে আরো অনেক কিছু।
স্ক্রাব করুন
গরমের দিনে নিয়মিত ত্বকে স্ক্রাব করুন। ঘরোয়া উপকরণের সাহায্যে স্ক্রাব করতে পারলে ভালো। দুধের সর, হলুদ, মধু, অলিভ অয়েল মিশিয়ে সেই মিশ্রণ দিয়ে স্ক্রাব করতে পারেন। মেশাতে পারেন টক দইও।
ময়শ্চারাইজার
গরমকালে ত্বকে ক্রিম, ময়শ্চারাইজার ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে একটু হাল্কা ধরনের ক্রিম কিংবা ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করলে ভালো। না হয় ঘামের জেরে ত্বক চিটচিটে হয়ে যেতে পারে।
গরমকালে সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার স্ক্রাব করুন। আর স্ক্রাবিংয়ের পর অবশ্যই ময়শ্চারাইজার বা ক্রিম লাগাতে ভুলবেন না। না হয় ত্বক খুব রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে যাবে।
ফেসপ্যাক
গরমের মৌসুমে সহজেই ত্বকে ট্যান পড়ে যায়। মুখে ও গলার অংশে ফেসপ্যাক ব্যবহার করুন, যার সাহায্যে কালচে দাগছোপ সহজে দূর হবে।
ফেসমাস্ক
যাদের ত্বক এমনিতেই রুক্ষ, শুষ্ক প্রকৃতির তারা গরমের দিনে ফেসমাস্ক ব্যবহার করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ১৫ মিনিট মুখে ওই ফেসমাস্ক লাগিয়ে রাখুন। তারপর ঠাণ্ডা পানিতে মুখে ধুয়ে ঘুমাতে যান। ত্বক থাকবে মোলায়েম ও উজ্জ্বল।
ফেসমিস্ট
গরমকালে অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে অনেক সময় জ্বালা ভাব অনুভূত হয়। এক্ষেত্রে ফেসমিস্ট ব্যবহার করলে উপকার পাবেন সবচেয়ে বেশি। এতে ত্বকে একটা ঠাণ্ডা অনুভূতির সঙ্গে অনেকটা রিফ্রেশ লাগবে।
বছরের অন্যান্য মৌসুমের মতো গরমকালেও ভালোভাবে ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। না হয় ময়লা জমে ব্রণের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর পাশাপাশি হতে পারে র্যাশ, চুলকানিও।
যেহেতু গরমে ঘাম হয় বেশি, তাই ত্বকের কিছু অংশ নির্দিষ্ট ভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। যেমন মুখের ক্ষেত্রে নাকের চারপাশ পরিষ্কার করে রাখা উচিত।
গরমকালে সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে অনেক সময়েই বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যা অবহেলা না করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নয়তো ত্বকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
সূত্র : এবিপি লাইভ
ফ্রিজ আমাদের রান্নাঘরের অতি প্রয়োজনীয় সঙ্গী। এটি খাবারকে তাজা রাখে ও আমাদের সময় বাঁচায়। তবে কিছু খাবার আছে, যা ফ্রিজে রাখলে তাদের গুণাগুণ কমে যায় বা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো ফ্রিজে রাখা উচিত নয়।
আলু
ঠাণ্ডা তাপমাত্রা আলুর স্টার্চকে চিনিতে পরিণত করতে দ্রুত সাহায্য করে। যা আলুর স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য ভালো নয়। আলু সব সময় শীতল ও শুকনো স্থানে রাখুন। আলু ফ্রিজে না রেখে কক্ষ তাপমাত্রায় অর্থাৎ রান্নাঘরেই রাখুন।
কলা
কলা ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। ঠাণ্ডা তাপমাত্রা কলা নষ্ট করে দিতে পারে। কলা রক্তচাপের জন্য ভালো, তাই কলা খেলে উপকার পাবেন।
আস্ত তরমুজ
তরমুজ ফ্রিজে ভালো থাকে না।
তুলসী
তুলসী একটি জনপ্রিয় ভেষজ, যা ঠাণ্ডা জায়গায় রাখা হলে তার গন্ধ ও গুণ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পানির মধ্যে রেখে এটি সংরক্ষণ করতে পারেন।
পেঁয়াজ
পেঁয়াজ গরম জায়গায় ভালো থাকে এবং বাতাস চলাচল প্রয়োজন। পেঁয়াজের সঙ্গে আলু রাখলে পেঁয়াজ দ্রুত পচতে পারে। তাই পেঁয়াজ ও আলু আলাদা জায়গায় রাখুন এবং ফ্রিজ থেকে দূরে রাখুন।
কফি
কফি ফ্রিজে রাখা উচিত নয়। কফি ঠাণ্ডা, আর্দ্র ও খাবারের গন্ধ থেকে দূরে রাখতে হবে। ফ্রিজে রাখলে কফির স্বাদ কমে যেতে পারে। এটি একটি এয়ারটাইট কনটেইনারে এবং রোদ থেকে দূরে রাখুন।
রসুন
রসুন ফ্রিজে রাখলে এটি দ্রুত শিকড় বের করতে শুরু করে আর্দ্রতা ও মোল্ড সৃষ্টি হতে পারে। তাই রসুন একটি শুকনো, গরম স্থানে রাখুন।
সস
সসের মধ্যে ভিনেগার থাকে। যা তাড়াতাড়ি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমায়। তবে ফ্রিজে রাখলে সসের গুনাগুণ কমে যেতে পারে। তাই সস সাধারণত ফ্রিজের বাইরেই রাখুন।
রুটি
রুটি ফ্রিজে রাখলে দ্রুত পুরনো হয়ে যায় এবং খেতে কঠিন হয়ে যায়। রুটি সাধারণত কক্ষ তাপমাত্রায় রাখুন। তবে ফ্রোজেন রুটি হলে রাখতে পারেন।
মধু
মধু দীর্ঘদিন ভালো থাকে যদি এটি এয়ারটাইট কনটেইনারে রাখা হয়। ফ্রিজে রাখলে মধুর আসল স্বাদ ধীরে ধীরে নষ্ট হতে শুরু করে। এ ছাড়া মধু চিনি হয়ে যায়। তাই মধু কক্ষ তাপমাত্রায় রাখুন।
পিনাট বাটার
পিনাট বাটার ফ্রিজে রাখলে তা শক্ত হয়ে যায় এবং মাখতে কষ্ট হয়। পিনাট বাটার সাধারণত রান্নাঘরের তাকে রাখুন।
আচার
আচার ফ্রিজে রাখলে তার স্বাদ কমে যায়। একটি এয়ারটাইট কনটেইনারে আচার সংরক্ষণ করুন।
সয়া সস
সয়া সস ফ্রিজে রাখলে এর প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ কমে যায়। তাই সয়া সস রান্নাঘরের তাকে রাখুন।
ডিম
ডিম ফ্রিজে রাখা উচিত কিনা, এ বিষয়ে বিতর্ক রয়েছে। তবে ফ্রিজের বাইরে রাখলে ডিমের স্বাদ ও টেক্সচার ভালো থাকে। আর ফ্রিজে রাখলে এর খোসার মেয়াদ বাড়ানো যায়। আপনি যেভাবে পছন্দ করেন, সেভাবেই রাখুন।
সূত্র : কারনভেলস
উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনির সমস্যা ও অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে উচ্চ রক্তচাপ। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণে মাথাব্যথা হতে পারে, যা সাধারণ মাথাব্যথার থেকে কিছুটা আলাদা।
মাথার পেছনে ব্যথা: উচ্চ রক্তচাপের কারণে মাথাব্যথা সাধারণত মাথার পেছনে অনুভূত হয়।
স্পন্দিত ব্যথা: এই ব্যথা অনেকটা বুকের ধুকপুক করার মতো স্পন্দিত হতে পারে।
তীব্র ব্যথা: উচ্চ রক্তচাপের কারণে মাথাব্যথা বেশ তীব্র হতে পারে।
অন্যান্য উপসর্গ: মাথাব্যথার সঙ্গে আরো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন- ঝাপসা দৃষ্টি, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট।
সকালের দিকে ব্যথা: সাধারণত এই ব্যথা সকাল বেলায় বেশি অনুভূত হয়।
তবে মনে রাখা জরুরি যে, অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কারণে মাথাব্যথা নাও হতে পারে। আবার সাধারণ মাথাব্যথাতেও উপরের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে। তাই নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা এবং অস্বাভাবিকতা দেখলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : আজকাল