অন্য জীবন

উচ্চশিক্ষায় জার্মানি যাচ্ছেন প্রথম ভূমিজ

পিন্টু রঞ্জন অর্ক, মৌলভীবাজার থেকে ফিরে
পিন্টু রঞ্জন অর্ক, মৌলভীবাজার থেকে ফিরে
শেয়ার
উচ্চশিক্ষায় জার্মানি যাচ্ছেন প্রথম ভূমিজ
জুড়ী উপজেলার ফুলতলা চা-বাগানে মা-বাবার সঙ্গে অঞ্জন ভূমিজ। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাছগাছালিতে ভরা বাড়ি। দুটি মাত্র মাটির ঘর। উঠানটাও খুব সুন্দর করে লেপা। এক পাশে ফুল, অন্য পাশে তুলসী, পেঁপে আর লেবুগাছ।

বেশ সুনসান। ইতিউতি তাকিয়ে কাউকে পাওয়া গেল না। মোবাইলে নেটওয়ার্কও নেই যে কল দেব।

এক প্রতিবেশীকে বললাম, অঞ্জনরা কই বলতে পারেন?

এখন তো ঘরে থাকার কথা না।

মনে হয় ক্ষেতে কাম করছে। ওই দিকে দ্যাখো।

অঞ্জনের নাগাল পাওয়া গেল বাড়ির উত্তর পাশের এক জমিতে। মা-বাবার সঙ্গে আমনের চারা রোপণ করছিলেন।

হাসিমুখে বললেন, তলব (মজুরি) দেয় না বলে অনেক দিন ধরে বাগানের কাজ বন্ধ। বাঁচতে তো হবে। তাই ধানের চারা রোপণ করছি আমরা।

শুধু এখন নয়, ঈদ, পূজা কিংবা যেকোনো ছুটিতে বাড়িতে এলেই কাজে নেমে পড়েন অঞ্জন। এতে সংসারের অভাব যদি একটু ঘোচে।

তবে মা-বাবার সঙ্গে আর বেশিদিন শ্রম দেওয়ার সুযোগ পাবেন না তিনি।

০৪.০২.২০১৮-২২.১২.২০২৪। এর পর থেকে আইনস্টাইনের দেশে।

২২ ডিসেম্বর বিকেলে নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে লিখেছিলেন অঞ্জন। এই পোস্টের নিচে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে অসংখ্য মানুষ। কিন্তু কেন?

এই প্রশ্নের জবাবে একটু হাসলেন অঞ্জন। বললেন, একটা সুখবর আছে। সেদিন আমার স্নাতকোত্তরের পাঠ শেষ হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার স্বপ্ন অনেক দিনের। মাস্টার্স পরীক্ষার আগেই আবেদন করেছিলাম। জার্মানির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি।

অঞ্জনের খুশি হওয়ার বহু কারণ আছে। বাংলাদেশে তাঁর আগে ভূমিজ সম্প্রদায়ের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখেনি। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র তিনি। নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ভূমিজদের প্রথম সন্তান হিসেবে স্নাতকোত্তর পর্ব শেষ করলেন অঞ্জন ভূমিজ। বাংলাদেশের বাইরে পড়তে যাওয়া এই জনগোষ্ঠীর প্রথম ব্যক্তিও তিনি।

ভূমিজ মানে ভূমির সন্তান। এদের আদি নিবাস ভারতের বিহারে। বিশ শতকের প্রথম দিকে তারা সিলেট অঞ্চলে আসে। এখানকার চা-বাগানে কাজ শুরু করে। বর্তমানে মৌলভীবাজারের বিভিন্ন উপজেলায় বাস করছে। দেশে ভূমিজদের সংখ্যা হাজার তিনেক।

 

মায়ের উৎসাহে পড়াশোনা

মৌলভীবাজারের জুড়ি উপজেলার ফুলতলা চা-বাগানে জন্ম তাঁর। বাবা অমৃত সিং, মা রতনমণি সিং। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়।

মা-বাবা দুজনই চা শ্রমিক। দৈনিক ১৭০ টাকা মজুরি। অঞ্জনকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন তাঁর জ্যাঠা নিবারণ। শুরুর দিকে অমৃত সিং বলতেন, লেখাপড়া করে কী করবি, একদিন তো বাগানের কলম কাটবি। কিন্তু নিজে কলম কাটলেও অঞ্জনের মা চাইতেন ছেলে যেন পড়াশোনা করে বাবুদের পাশে দাঁড়ায়। বলতেন, বাবা লেখাপড়া কর, নিজের পায়ে দাঁড়া। তর বাপের যে রুজি, ওইটা দিয়ে সংসার চলে না।

চা-বাগানের বেশির ভাগ শিশুর শৈশব বলতে মার্বেল খেলা, গুটি খেলা বা আড্ডাবাজি। আরেকটু বড় হলে পাতা তোলায় নাম লেখানো। পড়ালেখা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা নেই কারো। কিন্তু রতনমণি সিং খুব করে বোঝাতেন ছেলেকে। তবু প্রায়ই স্কুল কামাই করে মার্বেল খেলত ছোট্ট অঞ্জু। একদিন ভীষণ রাগ হলো মায়ের। অঞ্জনকে রাস্তা থেকে ধরে আনলেন। চোখের জল ফেলতে ফেলতে বললেন, দেখ বাবা, তোর জন্য এত কষ্ট করছি। স্কুল কামাই করলে তো বৃত্তি পাবি না। খাতা-কলম কিনবি কিভাবে?

তখন মাসে দেড় শ টাকা বৃত্তি পেতেন অঞ্জন। টাকাটা খুব দরকার ছিল। কারণ তাদের সংসারে কেবল নাই আর নাই।

 

মায়ের সঙ্গে খাসিয়াপুঞ্জিতে

কখনো স্যান্ডেল পরে স্কুলে যাওয়ার সৌভাগ্য হয়নি অঞ্জনের। প্রাথমিকের পাঠ চুকিয়ে ভর্তি হলেন ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ে। হাই স্কুলে মাসিক বেতন দিতে হতো। তখন তাঁর মা সকালে চা-বাগান আর বিকেলে খাসিয়াপুঞ্জিতে কাজ করতেন। সেখানে ৪০ টাকা মজুরি। ছুটির দিনে তাঁর সঙ্গে যেতেন অঞ্জন। ৩০ টাকা মজুরি মিলত। এ নিয়ে সহপাঠীদের কেউ কেউ তাঁকে বাগানি, লেবার ইত্যাদি বলে খেপাত।

 

মন ভেঙে গেল

তবে শিক্ষকদের অপমান হজম করতে কষ্ট হতো অঞ্জনের। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় দেখতেন, স্যাররা বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের ল্যাবে নিয়ে যাচ্ছেন। তখন থেকে মনের কোণে স্বপ্ন পুষতেন—‘আমিও সায়েন্সে পড়ব। ওই রুমে ঢুকব।

নবম শ্রেণিতে ঠিকই বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেন। একদিন স্যার জানতে চাইলেন, তোমরা কে কে সায়েন্স নিয়েছ? অনেকের সঙ্গে অঞ্জনও হাত তুললেন। স্যার কী মনে করে রেগে অঞ্জনকে বললেন, বর্গের বেসিক সূত্র বলো?

ঘাবড়ে গিয়ে মান নির্ণয়ের সূত্র বলে ফেললেন অঞ্জন। স্যার এসে কষে চড় বসিয়ে দিলেন তাঁর গালে! বললেন, চা শ্রমিকের পোলা আইছে সায়েন্সে পড়তে!

আরো কয়েকজন শিক্ষকও বিমাতাসুলভ আচরণ করতেন। মন ভেঙে গিয়েছিল অঞ্জনের। ফল প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় রসায়নে পঞ্চাশে মাত্র দুই!

প্রধান শিক্ষক ডেকে নিয়ে বললেন, তোর দ্বারা হবে না। পাঁচ হাজার টাকা দিতে পারবি? বোর্ডে গিয়ে সায়েন্স থেকে তোর নামটা বাদ দেব। মাথা নিচু করে চুপ রইলেন অঞ্জন। এতসব প্রতিকূলতার মধ্যেই ২০১৪ সালে এসএসসিতে জিপিএ ৪.১৩ পেলেন।

পরের গন্তব্য তৈয়বুন্নেছা খানম সরকারি কলেজ। বাসা থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। কলেজজীবন কেটেছে চা-বাগানের আত্মীয়দের বাসায় থেকে। তাদের অবস্থাও ভালো না। কখনো কাপনাপাহাড়, কখনো সোনারপা চা-বাগান, শেষে ছিলেন ধামাই চা-বাগানে। প্রতি সপ্তাহে বাসা থেকে চাল, সবজি ইত্যাদি নিয়ে যেতেন। পদার্থ, রসায়নের জন্য প্রাইভেট পড়তেই হতো। বাবা ঋণ নিয়ে প্রাইভেটের ফি দিতেন। ২০১৬ সালে জিপিএ ৩.৯২ নিয়ে এইচএসসি পাস করলেন।

 

ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রথমবার ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। সুযোগ মেলেনি। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলেনযে করেই হোক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া লাগবে। দ্বিতীয়বার আদাজল খেয়ে নামলেন। বাসায় থেকেই প্রস্তুতি চলল। হতাশায় প্রায়ই নীরবে চোখের জল ফেলতেন। মা বোঝাতেন। বাবা একদিন পিঠে হাত রেখে বললেন, আবার পরীক্ষা দে। ভিক্ষা করে হলেও তোকে পড়াব।

পরেরবার সুযোগ পেলেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। মাওলানা ভাসানীতে পদার্থবিজ্ঞানে ভর্তির সিদ্ধান্ত নিলেন। বাগানের এক বাবুর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা ধার নিলেন তাঁর বাবা। ভাইভার সময় তৎকালীন প্রক্টর সিরাজুল ইসলাম সব জেনে ভর্তির ব্যবস্থা করে দিলেন। বন্ধুরা বই-খাতা, জুতা, এমনকি পোশাকও কিনে দিয়েছিল। এলাকার কাওছার ভাই অঞ্জনের জন্য একটা টিউশনি ঠিক করে দিয়েছিলেন। এভাবেই কেটেছে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন।

 

কাজকে ভালোবেসেছেন

একটা সময় তিনটি টিউশনি করতেন। একদিন কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের নিজের জীবনকাহিনি বলে ফেলেন। তিনি ভূমিজ সম্প্রদায়ের সন্তান, চা-বাগানে বড় হয়েছেনএটা সহজভাবে নেননি অভিভাবকরা! পরে একে একে তিনটি টিউশনিই চলে গেল। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে লাগলেন। অঞ্জনের এক বন্ধু ক্যাম্পাসে নাশতা সরবরাহ করতেন। একদিন সেই বন্ধুর কাছে গিয়ে বললেন, আমি তোর কাজে সহযোগিতা করব। না করিস না। পরে হলের রুমে রুমে খাবার পৌঁছে দিতে লাগলেন। দৈনিক ১০০ টাকা করে পেতেন।

ঈদ-পূজাসহ ছুটিতে বাড়ি গেলে খাসিয়াপুঞ্জিতে কাজ করতেন। কখনো অন্যের জমির ধান কেটে দিতেন। মাটি কাটা কিংবা ধান রোপণের কাজও করেছেন। করোনার সময় লোকের পোষা প্রাণীর জন্য পাহাড় থেকে কচু এনে দিতেন। এভাবে নিজের পড়াশোনার খরচ জুুগিয়েছেন।

 

এবার আইনস্টাইনের দেশে

এত কষ্টের মধ্যে বড় হলেও নিজেকে নিয়ে পড়ে থাকেননি অঞ্জন। চেয়েছেন নিজ সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েদের সংগঠিত করতে। তাদের জন্য ফ্রি অনলাইন কোচিংও চালু করেছেন। তাঁর দেখাদেখি এখন ভূমিজ সম্প্রদায়ের আরো ৯ জন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। যতটুকু সম্ভব তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন অঞ্জন। স্বপ্ন দেখেন, একদিন তাঁর মতো ভূমিজ সন্তানদের সবাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে। বাংলাদেশ ভূমিজ সম্প্রদায়ের (জুড়ি ভ্যালি) সভাপতি মহাদেব ভূমিজ বলেন, দেশে ভূমিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া প্রথম ব্যক্তি অঞ্জন। তাঁর দেখাদেখি সামনে আরো অনেকে অনুপ্রাণিত হবে।

গত ডিসেম্বরেই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন হয়েছে অঞ্জনের। সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে কয়েক মাসের মধ্যে জার্মানির উদ্দেশে উড়াল দেওয়ার কথা অঞ্জনের। সেখানকার টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি অব ডার্মস্ট্যাডে ম্যাটেরিয়াল সায়েন্স বিষয়ে পড়বেন তিনি।

তাঁর মা রতনমণি সিং বলেন, অনেক কষ্ট করে পড়াইছি ওরে। এখন দেশের কাজে লাগলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে। বাবা অমৃত সিং বললেন, অঞ্জনের জন্য আমরা গর্বিত। শুধু নিজের জন্য নয়, চাই প্রতিষ্ঠিত হয়ে দশের উপকার করবে সে।

অঞ্জন বললেন, আরো অনেককে সামনে এগিয়ে নিতে চাই।

মন্তব্য

সম্পর্কিত খবর

মির্জা ফখরুল

দুষ্কৃতকারীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
দুষ্কৃতকারীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত
মির্জা ফখরুল

দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই লোমহর্ষক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হচ্ছে। তাই দুষ্কৃতকারীদের কঠোর হাতে দমনের বিকল্প নেই। এ জন্য দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, না হলে ফ্যাসিস্ট শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক নিন্দা, প্রতিবাদ ও শোক বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। গত ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাছির উদ্দিনকে হত্যার ঘটনায় তিনি এ বিবৃতি দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, নাসির উদ্দিনকে সশস্ত্র দুষ্কৃতকারীরা বর্বর ও নিষ্ঠুর হামলা চালিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর পতনের পর দুষ্কৃতকারীরা আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

একই সঙ্গে নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের অপতৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীদের পৈশাচিক হামলায় নাছির উদ্দিন নিহতের ঘটনা সেই অপতৎপরতারই নির্মম বহিঃপ্রকাশ। আর অন্তর্বর্তী সরকারকে বেকায়দায় ফেলতেই এ ধরনের লোমহর্ষক ঘটনা বারবার ঘটানো হচ্ছে। তাই এসব দুষ্কৃতকারীকে কঠোর হাতে দমনের বিকল্প নেই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গণতন্ত্র ও মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠাসহ দেশের মানুষের জানমাল রক্ষায় দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নইলে ওত পেতে থাকা আওয়ামী লীগের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে দেশের অস্তিত্ব বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠবে। নাছির উদ্দিনকে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানান ফখরুল। তিনি বিবৃতিতে নিহতের রুহের মাগফিরাত কামনাসহ শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা জানান।

মন্তব্য
ঈদ যাত্রায় স্বস্তি

বাস ট্রেন লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
বাস ট্রেন লঞ্চে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে ট্রেনে চড়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে শিশুরা। তাই এত আনন্দ! গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে। ছবি : মঞ্জুরুল করিম

আসন্ন ঈদের আগে সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এদিন কর্মঘণ্টা শেষ হতেই ঘরমুখো মানুষের বেরিয়ে পড়ার ব্যাকুলতায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যানজট দেখা দেয়। তবে ঢাকা থেকে সড়কপথে বের হয়ে আর যানজটের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। বাস, ট্রেন ও লঞ্চে উপচে পড়া ভিড় থাকলেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি ঘরমুখো যাত্রীদের।

শেষ কর্মদিবসে যানজট : রাজধানীর মহাখালী, রামপুরা, হাতিরঝিল, বাড্ডা, গুলশান, বনানী, বিভিন্ন স্থানে এই যানজটের চিত্র দেখা গেছে। নীলক্ষেত নিউমার্কেট এলাকা, এলিফ্যান্ট রোড, সায়েন্স ল্যাব, কলাবাগান, ধানমণ্ডি, আড়ং, কলেজগেট, শিশুমেলা শ্যামলী, মত্স্য ভবন এলাকা, শাহবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যানজট ছিল।

রাজধানীর নতুন বাজার এলাকায় কথা হয় ট্র্যাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, অফিস শেষে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে বের হলাম।

আগে থেকেই টিকিট কাটা ছিল। তবে যানজটের কারণে যদি সময়মতো কাউন্টারে (নর্দা) যেতে না পারি, বাস মিস করতে পারি।’

সড়কপথে বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ : ঈদ যাত্রার চতুর্থ দিন বাড়ির পানে ফেরা যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে সড়কপথেও। শুরুর কয়েক দিন বাস টার্মিনালগুলো ফাঁকা থাকলেও এখন বাস মালিকদের মনে যেমন স্বস্তি ফিরেছে, তেমনি নির্বিঘ্নে ঢাকা ছাড়তে পারছে মানুষ।

গতকাল কল্যাণপুর ও গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রীরা গ্রামের যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। চাঁপাই এক্সপ্রেসের সামনে রাজশাহীগামী যাত্রী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘১০ মিনিট হয় কাউন্টারে আসলাম। ১০-১২ জন ছিল সিরিয়ালে। মাত্র টিকিট পেলাম। আশা করছি, আল্লাহ ভালোভাবে গ্রামে পৌঁছে দেবেন।

সায়েদাবাদসহ আশাপাশের কিছু কাউন্টারে বাড়তি ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন যাত্রী। গুলশানের যাত্রী রাজীব আহমেদ শনিবার চুয়াডাঙ্গায় গ্রামের বাড়ি যাবেন। গোল্ডেন লাইনের গোলাপবাগ কাউন্টারে গিয়ে এদিন সকালের কোনো বাসের টিকিট পাননি তিনি। বিকেলের এসি বাসের টিকিট আছে বলে জানান কাউন্টারে থাকা কর্মী ইয়াসিন। কিন্তু ভাড়া এক হাজার ৮০০ টাকা। যাত্রীরা জানান, অন্য সময় এই এসি বাসের ভাড়া এক হাজার ২০০ টাকা হলেও বাড়তি ৬০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

লঞ্চের কেবিনের টিকিট শেষ : লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুটি শুরুর দিন বরিশালের লঞ্চগুলোর কেবিনের প্রায় ৯৫ শতাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। ফিরতি টিকিটেরও চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। ধারণা করা হচ্ছে, ডেকেও যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিকের থেকে কয়েক গুণ বেশি হবে। অন্য লঞ্চগুলোর কেবিনের টিকিটও বিক্রি শেষের দিকে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডেকের যাত্রীর সংখ্যা বলে দেবে এবারের ঈদ যাত্রায় লঞ্চ মালিকদের কত লাভ হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, স্পেশাল সার্ভিসসহ বরিশাল-ঢাকা রুটে এবার মোট ১৯টি বিলাসবহুল লঞ্চ যাত্রী সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এ ছাড়া ভায়া রুটের আরো দুই-তিনটি লঞ্চ যাত্রী বহন করবে। লঞ্চ কাউন্টারগুলোর দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯টি লঞ্চে বিভিন্নমানের প্রায় পাঁচ হাজার কেবিন রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিটি লঞ্চই ডেকে হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে পারে।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত : আবদুল্লাহপুরের বিভিন্ন কাউন্টারে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালিয়েছে বিআরটিএ।

 

মন্তব্য
দ্য ইনডিপেনডেন্টের দাবি

মায়ানমারে ফিরে সশস্ত্র যুদ্ধ করতে চায় রোহিঙ্গারা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
কালের কণ্ঠ ডেস্ক
শেয়ার
মায়ানমারে ফিরে সশস্ত্র যুদ্ধ করতে চায় রোহিঙ্গারা

নিজ মাতৃভূমিতে ফিরতে রোহিঙ্গাদের একটি অংশ সশস্ত্র যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট গতকাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। মোহাম্মদ আয়াস নামের ২৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা যুবক সংবাদমাধ্যমটিকে সশস্ত্র প্রস্তুতির আদ্যোপান্ত জানিয়েছেন। তাঁদের লক্ষ্য, জান্তা বাহিনী ও অন্যান্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে প্রতিহত করে নিজেদের ভূমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা।

তাঁরা এ প্রস্তুতি দীর্ঘদিন ধরে নিচ্ছেন। বিশেষ করে মায়ানমারে ২০২১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকেই এ প্রচেষ্টা ত্বরান্বিত হয়।

২০২৪ সালের জানুয়ারির এক ভোরে ইন্ডিপেনডেন্টের সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন মোহাম্মদ আয়াস। তখন কক্সবাজারের ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে তিনি বনের গভীর দিয়ে যাচ্ছিলেন।

তবে তিনি কোথাও পালাচ্ছিলেন না। ফিরছিলেন মায়ানমারে, যেখান থেকে ২০১৭ সালে পালাতে হয়েছিল তাঁকে।

ওই সময় মায়ানমারের সেনাদের গুলির বৃষ্টিতে তাঁর বাবা প্রাণ হারিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, যারা তাঁর পরিবারকে উচ্ছেদ করেছে এবং তাঁদের এসব দুর্ভোগের জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেই প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তাঁরা।

আয়াস রোহিঙ্গা ক্যাম্পের শিশুদের বার্মিজ ভাষা শেখান। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মতো শত শত যুবক যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। মায়ানমারের সেনাবাহিনী এবং অন্যান্য যেসব সশস্ত্র গোষ্ঠী যারা তাদের পথের বাধা হবে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে তাঁরা সবাই এক।

আয়াস বলেন, আমরা প্রস্তুত। আমি আমার জনগণের জন্য মরতে প্রস্তুত।

নিজ মাতৃভূমিকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। মায়ানমারে আমাদের অধিকার ও স্বাধীনতার যুদ্ধে আমার কী হবে, এ নিয়ে আমি ভাবি না।

কক্সবাজারের ক্যাম্পে কয়েক বছর ধরে থাকা হাজার হাজার রোহিঙ্গা যুবক স্ব ইচ্ছায় সশস্ত্র গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি তাঁর।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট একাধিক রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের মধ্যে নিজেকে কমান্ডার হিসেবে দাবি করা এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, তাঁরা গোপনে মায়ানমারে যান। সেখানে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নেন।

সম্প্রতি, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শরণার্থী ক্যাম্পে গেলে তাঁকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে রোহিঙ্গারা। ২০১৭ সালে বর্বর অত্যাচার ও নির্মম গণহত্যা চালিয়ে মায়ানমারের রাখাইন থেকে রোহিঙ্গাদের উচ্ছেদ করে দেশটির সেনাবাহিনী। ওই সময় জীবন বাঁচাতে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। যারা এখন কক্সবাজারের ক্যাম্পে মানবেতর জীবন যাপন করছে। সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট

 

 

মন্তব্য
লাইলাতুল কদর

ঈমানদারদের জন্য জামায়াতে ইসলামী আমিরের প্রার্থনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
শেয়ার
ঈমানদারদের জন্য জামায়াতে ইসলামী আমিরের প্রার্থনা
শফিকুর রহমান

ঈমানদারদের জন্য পবিত্র লাইলাতুল কদরের নিয়ামত ও বরকত কামনা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অ্যাডমিনের দেওয়া পোস্টে এ প্রার্থনা করা হয়।

পোস্টে বলা হয়, ইয়া রব! আমাদের সব ঈমানদার ভাই-বোনকে পবিত্র লাইলাতুল কদরের পূর্ণ নিয়ামত ও বারাকাহ নসিব করুন। আমাদের ওপর রহম করুন, গুনাহখাতা ক্ষমা করুন এবং দুনিয়া ও আখিরাতের অপমান-অপদস্থতা এবং জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের মেহেরবানি করে মুক্তি দিন।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, দ্বিনের পথে আমাদের সবাইকে অবিচল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

 

 

 

 

মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ